
বিখ্যাত, স্বল্পখ্যাত, এমনকী সম্পূর্ণ অচেনা অথচ গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অবদান রাখা ব্যক্তিত্বদের নিয়ে অজস্র রিপোর্টাজ লিখেছেন তিনি। সেই তালিকায় তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিষ্ণু দে, ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় থেকে উৎপল দত্ত, শম্ভু মিত্র কে নেই? অথচ এইসব কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বদের পাশে অল্পচেনা অমরেন্দ্র ঘোষ, রমেশচন্দ্র সেন, বিশ্বরঞ্জন দে কখনও-ই খাটো হন না, এমনই হাতযশ দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের! সাংবাদিকতা নিয়ে প্রথাগত পড়াশুনো না থাকলেও এক গভীর অন্তর্গর্ভ ধারণা ছিল তাঁর আয়ত্বে। ফলে চার্লি চ্যাপলিন থেকে শুরু করে সত্যজিৎ রায়, যে কোনও টেক্সট বা ফিল্মের ন্যারেটিভ তাঁর বহুকৌণিক দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্লেষণে সহজেই পেত এক অন্য আলো।
প্রচ্ছদ শিল্পী: দীপঙ্কর ভৌমিক
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুতর অসুস্থ। নীলরতন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মিউনিসিপ্যালিটির ভাঙা অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়েছে। লেখকের মাথার কাছে বসেছেন তিনি। অবাক হয়ে ভাবছেন, আশ্চর্য যে-চোখদুটোর দিকে তাকিয়ে আপামর বাঙালি শ্রদ্ধা করত, বিস্মিত হত, তা কেমন বুজে রয়েছে। তাঁর আরও মনে হচ্ছে, চারিদিকে এই যে তুচ্ছ বেঁচে থাকার নামে ভাঁড়ামি, এর মধ্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিঃশব্দে মারা যাচ্ছেন! না, কান্না পাচ্ছে না তাঁর। বদলে একটা হিংস্র ক্ষোভ টের পাচ্ছেন। কারও যেন ভ্রুক্ষেপ নেই! অথচ, ক’দিন আগেই নামকরা সব কাগজে ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথের সন্তান প্রসবের খবর সমারোহ করে ছাপা হয়েছিল!

দৃশ্য ২
রাষ্ট্রের নির্মম অত্যাচার সয়ে ঢাকার হাসপাতালে শুয়ে আছেন ইলা মিত্র। তাঁকে দেখতে এসেছেন এক যুবক। ভেবেছিলেন, ভেঙে পড়বেন। ভেবেছিলেন, গোটা শতাব্দীর অপরাধবোধ যেন চেপে বসে আছে তাঁর একলা ছোট ঘাড়ে! সঙ্গে রয়েছেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়। অত্যাচারিত, প্রবলভাবে পীড়িত; অথচ দৃশ্যতই অপরাজিত ইলা মিত্রকে দেখে ধীরে ধীরে সাহস ফিরে পেলেন সেই যুবক। দৃপ্ত কণ্ঠে, এক গভীর প্রত্যয় থেকে বললেন, ‘কলকাতায় আপনাকে আমরা নিয়ে যাবই। তখন আবার দেখে হবে। আপনি আবার সেরে উঠবেনই।’

দৃশ্য ৩
জলপাইগুড়ি শহরে ভয়াবহ বন্যা। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে পৌঁছে গেছেন তিনিও। কথা বলছেন ইতিউতি, বন্যার্ত মানুষজনের সঙ্গে। দেশ স্বাধীন হয়েছে ২১ বছর হল। পূর্ব পাকিস্তান থেকে ঢল নেমেছে উদ্বাস্তুদের। সেইসব পরিবারের ফের ঠাঁইনাড়া হওয়ার বেদনাবিদীর্ণ আখ্যান প্রত্যক্ষ করছিলেন তিনি। তাঁদেরই একজন, বৃদ্ধা বুধেশ্বরী ঋজু কণ্ঠে তাঁকে বলেন, ‘আমি ইন্ডিয়া। আমি পাকিস্তান না থাকিস।’ শুনে, চমকে গেলেন তিনি। দেশকে যেন সেই মুহূর্তে নতুন চোখে দেখতে পেলেন।
তিনি, দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। চমৎকার কিছু ছোটগল্প এবং মাত্র চারটি উপন্যাস লিখেছিলেন। চাইলেই হয়তো লিখতে পারতেন আরও। লেখেননি। খুব সচেতন এই সিদ্ধান্ত। কথাসাহিত্য সৃষ্টির বদলে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী এবং ‘পরিচয়’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিজেকে নিরন্তর ক্ষয় করেছেন। পাশাপাশি, দু’হাত ভরে লিখেছেন রিপোর্টাজ। সেখানেও আলগোছে ছড়িয়ে রয়েছে কত মণিমাণিক্য। প্রবল শারীরিক যন্ত্রণা উপেক্ষা করেও সম্পাদনা করেছেন একের পর এক বিশেষ সংখ্যা। আসলে, গা-ছাড়া মনোভাব ছিল না তাঁর যাপনে।
ছোটগল্পেই তাঁর সিদ্ধি। উপন্যাসের পাঠক অপেক্ষাকৃত কম। সিরিয়াস লেখার পাঠক কবেই বা বেশি ছিল! তবে সাহিত্য মহলে সম্পাদক হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা অনস্বীকার্য। দীপেন্দ্রনাথ তাঁর পত্রিকার জন্য লেখা চাইলে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কিংবা অন্য পত্রিকা গোষ্ঠীর লেখক, কেউই ফিরিয়ে দিতেন না। আসলে, দিতে পারতেন না। আন্তরিকতা চিনতে তো ভুল হওয়ার কথা নয়। সমরেশ বসু থেকে শুরু করে মহাশ্বেতা দেবী, শক্তি চট্টোপাধ্যায় থেকে শঙ্খ ঘোষ, সকলের সঙ্গে সাহিত্যের বাইরেও কোনও এক অচিন-বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন তিনি। তাঁদের স্মৃতিচারণা অন্তত সেই কথাই বলে। আর দেবেশ রায়, অমিতাভ দাশগুপ্ত তো ছিলেন ঘনিষ্ঠ সুহৃদ। আজীবন পাশে পেয়েছেন তাঁদের। এইসব হিরণ্ময় সখ্য শুধু সাহিত্যকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল, তা তো নয়। তাঁর সততা ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বও এইসব সম্পর্কের ভিত্তিমূল।
বিচিত্র বিষয় নিয়ে রিপোর্টাজ লিখেছেন তিনি। সমকালীন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ যেমন তাঁকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছে স্মরণীয় কিছু গদ্য, তেমনই শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা দিক: বিশ্লেষণ ও প্রতর্ক-সহ উঠে এসেছে তাঁর লেখনীতে। সেইসব লেখা, কখনও রিপোর্টাজের গণ্ডি পেরিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মায়ানিবিড় ছোটগল্পে আবার কখনও বা যুক্তিনিষ্ঠ প্রবন্ধে। রিপোর্টাজের টানে পাড়ি দিয়েছেন বাংলাদেশে, রাশিয়ায়। লিখেছেন অনন্য সব অভিজ্ঞতার ধারাভাষ্য। ভাষা আন্দোলনের দু’বছর পর, অর্থাৎ ১৯৫৪ সালে একবার, আর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর ১৯৭১ সালে আরেকবার, সফর করেছেন তাঁর অতি-প্রিয় পড়শি দেশটিতে। মাতৃভাষার জন্য ওপার বাংলার আপামর জনগণের নাছোড় স্পিরিট চিরকাল ফ্যাসিনেট করেছে তাঁকে। তবে মৌলবাদকে কাউন্টার করার যে ‘এথিকোপলিটিক্যাল’ চর্চা তিনি আজীবন করেছেন, আজকের বাংলাদেশের চিত্র দেখলে তিনি কী লিখতেন, তা জানতে বড় কৌতূহল হয়।

একইরকম কৌতূহল হয় আরেকটি বিষয় নিয়েও। তাঁর প্রিয়তম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, লেনিনের কর্ম ও মতাদর্শ নিয়ে দীপেন্দ্রনাথ একপ্রকার অবসেসড ছিলেন। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু রিপোর্টাজ। সোভিয়েত পতন বা আজকের রাশিয়াকে তিনি দেখে যেতে পারেননি। আমেরিকার সঙ্গে ঠান্ডা যুদ্ধ কিংবা ইউক্রেনের সঙ্গে দীর্ঘ চাপান-উতোর দেখলে কীভাবে সাজাতেন তাঁর অতি-মৌলিক যুক্তি-বিন্যাস– তা জানতে আগ্রহ হয় বইকি।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক আক্রমণ চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী কারাকাসে হানা দিয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁরই প্রাসাদ থেকে সস্ত্রীক বন্দি করে নিয়ে যায় মার্কিন সেনাবাহিনী। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমেরিকার আগ্রাসন নিয়ে চিরকাল তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দীপেন্দ্রনাথ। ভিয়েতনামের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু তথ্যসমৃদ্ধ রিপোর্টাজ লিখেছেন। সীমিত শক্তি নিয়েও ছোট্ট সেই দেশটির মরণপণ সংগ্রামকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। তাই ভিয়েতনামের প্রতিনিধিদল যখন ভারতে আসে, তখন তাঁদের সফরসঙ্গী হয়ে প্রতিটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন দীপেন্দ্রনাথ। প্রতিনিধিদের হাতে ‘কালান্তর’ পত্রিকার তরফ থেকে কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা তুলে দেন তিনিই। এই অভিজ্ঞতাকে জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি বলে বিবেচিত করেছেন লেখক। অকালে প্রয়াত না হলে কিউবা বা ভেনেজুয়েলার মতো লাতিন আমেরিকার দেশগুলি নিয়ে বেশ কিছু রিপোর্টাজ নিঃসন্দেহে পাওয়া যেত।
বিখ্যাত, স্বল্পখ্যাত, এমনকী সম্পূর্ণ অচেনা অথচ গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অবদান রাখা ব্যক্তিত্বদের নিয়ে রিপোর্টাজ লিখেছেন তিনি। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিষ্ণু দে, ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, কেয়া চক্রবর্তী প্রমুখ পরিচিত মুখের জীবন ও সৃষ্টি নিয়ে যেমন নতুন দিক থেকে আলোকপাত করেছেন; তেমনই অমরেন্দ্র ঘোষ, রমেশচন্দ্র সেন, বিশ্বরঞ্জন দে, বিনয় রায়ের মতো সাহিত্য-সংগীত জগতের অধুনা-বিস্মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে যে রিপোর্টাজগুলি লিখেছেন, তা একপ্রকার ট্রিবিউট দেওয়ার মতোই। তাঁদের সঙ্গে যে ব্যক্তিগত স্তরে আলাপচারিতা ছিল, তাও নয়। অন্তরের তাগিদ আর গভীর মমতাই বহু পরিশ্রমের বিনিময়ে তাঁকে দিয়ে এই ধরনের রিপোর্টাজ লিখিয়ে নিয়েছে।
ক্লাসিক্যাল সংগীত ভালোবাসতেন দীপেন্দ্রনাথ। প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও, ছিল শোনার কান। ছাত্রাবস্থায় শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুষ্ঠানে ঢোকার মতো টাকা থাকত না। তীক্ষ্ণ শীতের রাত্রে অনুষ্ঠান হলের বাইরে ফুটপাথে বসে গান শুনতেন। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেওছেন ‘গান’ নামের একটি অনবদ্য ছোটগল্প। এ ছাড়াও ‘সানাই’, ‘অশ্বমেধের ঘোড়া’, ‘স্বয়ম্বর সভা’, ‘চর্যাপদের হরিণী’ ইত্যাদি নানা গল্পে সুরের, সংগীতের অনুষঙ্গ এসেছে। ‘প্রিয়েরে দেবতা করি’ রিপোর্টাজে তিনি ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ-র সঙ্গীতানুষ্ঠান নিয়ে চমৎকার এক গদ্য উপহার দিয়েছেন। সেখানে পণ্ডিত রবিশঙ্কর এবং ওস্তাদ বিলায়েত খাঁ সাহেবের বাজনা নিয়েও তুলনামূলক আলোচনা করেছেন অভিজ্ঞ সংগীত-সমালোচকের পারঙ্গমতায়।
এই নিষ্ঠা তাঁর চলচ্চিত্র সম্পর্কিত রিপোর্টাজেও লক্ষণীয়। এখানেও প্রথাগত পড়াশোনা ছিল না। কিন্তু সত্যজিৎ রায়ের ‘দেবী’ বা ‘জন অরণ্য’-র মতো সিনেমা নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন শিক্ষায়তনিক আলোচনার থেকে কোনও অংশে কম নয়। আসলে প্রশ্নাতুর মন এবং সমাজ-রাজনীতি বিষয়ে এক গভীর অন্তর্গর্ভ ধারণা তাঁর অনায়াস আয়ত্ব ছিল। ফলে যে কোনও টেক্সট বা ফিল্মের ন্যারেটিভ তিনি বহুকৌণিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্লেষণ করতে পারতেন। একইভাবে, চার্লি চ্যাপলিনের দর্শন নিয়ে, সিনেমা নিয়ে তাঁর লেখা “চার্লি চ্যাপলিন ও ‘কুমারসম্ভব কাব্য’ ” রিপোর্টাজটিও পাঠকের চিন্তনবিশ্বে আলোড়ন তুলতে সক্ষম।
থিয়েটারের প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা উল্লেখ না করলে আলোচনা অসমাপ্ত থেকে যায়। হিন্দমোটর কারখানায় শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার, বঞ্চনা দেখে উৎপল দত্ত ও শেখর চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন ‘স্পেশাল ট্রেন’ নাটক। উৎপল দত্তেরই পরিচালনায় কলকাতায় একই দিনে পাঁচবার পাঁচ জায়গায় অভিনীত হয় এই পথ-নাটকটি। দীপেন্দ্রনাথ প্রতিটি স্থানে ঘুরে ঘুরে নাটকটি দেখেন এবং সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই লেখেন একটি রিপোর্টাজ।
শম্ভু মিত্রের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা কখনও অগোপন থাকেনি। তিনি বিরল সেই দর্শক-শ্রোতার অন্যতম, যিনি শম্ভু মিত্রের একক অভিনয়ে ‘চাঁদ বণিকের পালা’ দেখেছিলেন। সেই নিয়ে লেখেন ‘শম্ভু মিত্র : পাড়ি’ রিপোর্টাজটি। এ ছাড়াও প্রিয়তম এই নাট্যকারকে নিয়ে রয়েছে আরও দুটি রিপোর্টাজ– ‘অভাব নাটক: একটি আবেদন’ এবং ‘আজকের নাটক’। এই দেশে শম্ভু মিত্রের মতো প্রতিভাবান শিল্পী যে যথাযথ সম্মান ও সুযোগ পাননি, সেই নিয়ে দীপেন্দ্রনাথের ক্ষোভের অন্ত ছিল না। তারই বহিঃপ্রকাশ এই রিপোর্টাজগুলি। অকালপ্রয়াত কেয়া চক্রবর্তীকে নিয়েও কলম ধরেছেন। আর সেই লেখা নিছক স্মৃতিচারণায় আটকে না থেকে হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত আলেখ্য।
কোনও পত্রিকা-প্রতিষ্ঠান কিংবা সম্পাদক-প্রকাশক তাঁকে দিয়ে নিজেদের ইচ্ছা মতো লেখাতে পারেনি। না ব্যবসায়িক অভিসন্ধি, না রাজনৈতিক– কোনও ফাঁদে পা দিয়েই তিনি এক লাইনও লেখেননি। নিজে একটি রাজনৈতিক দল এবং কিছু পত্রিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকলেও চিরকাল নিজের টার্মসে থেকেছেন, লিখেছেন। বস্তুত, তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল মানুষের প্রতি, দায়বদ্ধতা ছিল সময়ের কাছে। হয়তো কখনও নিজেকেই রিপিট করেছেন, কিন্তু কখনও-ই অন্য কারও লেখা থেকে ভাব বা ভাষা অনুকরণ করেননি। উপন্যাস, ছোটগল্প তো বটেই প্রতিটি রিপোর্টাজেও তাঁর প্রাতিস্বিকতা খুঁজে পাওয়া যায়। আধুনিক ও গোঁড়ামিহীন একটা মনের চোখ দিয়ে তিনি এই পৃথিবীকে দেখেছিলেন। তাই সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে কিছু কথা বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছিল। দীর্ঘকালের ব্যবধানে তাঁর রচনা পাঠ করলেও তাই সেইসব লেখার প্রাসঙ্গিকতা আজও ফুরায় না।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved