Robbar

শক্তি সামন্তকে নিয়ে একটা গোটা বই লেখা উচিত

Published by: Robbar Digital
  • Posted:January 13, 2026 2:00 am
  • Updated:January 14, 2026 8:40 pm  
interview of Sriram Raghavan about Shakti Samanta | Robbar

মিলেনিয়াম-পরবর্তী হিন্দি সিনেমায় থ্রিলারের সম্রাট, শ্রীরাম রাঘবন; যিনি শক্তি সামন্ত-এর থ্রিলার ও রোমান্সের একান্ত অনুরাগী। ‘মেরি ক্রিসমাস’ ছবিটি শুরুই হয় শক্তি সামন্তকে উৎসর্গ করে। এহেন দ্রোণাচার্যের জন্ম-শতবর্ষ উপলক্ষে, রোববার.ইন-এর তরফে, একলব্য শ্রীরামের সঙ্গে আড্ডায় বসলেন উদয়ন ঘোষচৌধুরি।

উদয়ন ঘোষচৌধুরি

শক্তি সামন্তের সিনেমার সঙ্গে আপনার পরিচয় কি একেবারে ছোটবেলা থেকেই?

হ্যাঁ, ছোটবেলায় একের পর এক দেখেছি ‘আরাধনা’, ‘কাটি পতং’… মানে, ওইসব রোম্যান্টিক সিনেমা দিয়েই শক্তিদার সিনেমার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিল। পরে যখন আরও ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করেছি, সেই সময়ে শক্তিদার আগের সিনেমাগুলো প্রায় আবিষ্কার করেছি। সত্যি বলতে, ‘হাওড়া ব্রিজ’, ‘চায়না টাউন’, ‘জালি নোট’– এইসব থ্রিলার দেখেছি বড় হয়ে। বলা যায়, এই রাস্তায় আমার হাঁটাটা উলটো দিক থেকে হয়েছে।

আচ্ছা, তাহলে রাজেশ খান্নার অভিনয় করা সিনেমাগুলো আগে দেখেছেন…

হ্যাঁ, ছোটবেলায় তো বড়রা ট্যাঁকে গুঁজে আমাদের সিনেমাহলে নিয়ে যেতেন। তাই, ওঁরা তখন যেগুলো দেখছেন, সেগুলোই আমিও দেখছি… এই আর কী…

শাম্মি কাপুরের অভিনয় করা সিনেমাগুলো আপনার কেমন লেগেছে? যেমন, ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’…

সাংঘাতিক! ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’ আর ‘দ্য গ্রেট গ্যাম্বলার’। শক্তিদার এই দুটো সিনেমা আমাকে খুব টানে। বিন্দাস গল্প, দুর্দান্ত মিউজিক, অসাধারণ স্টার কাস্টিং। মেইনস্ট্রিম কমার্শিয়াল ফিল্মে স্টার ভ্যালু খুব গুরুত্বপূর্ণ। উনি পাক্কা সেটা বুঝতেন। তাছাড়া, এইসব ছবিতে কস্টিউম দেখো! লোকেশন দেখো। উফ! বড় পর্দায় কালার্ড ফিল্মে সবকিছু মিলিয়ে-মিশিয়ে এত চমৎকার এই দুটো ছবি আমি তো বারবার দেখতে পারি!

অমর প্রেমছবিতে নায়কনায়িকার যেরকম সম্পর্ক দেখানো হয়েছে, ভারতীয় সিনেমায় এরকম ব্যাপার তার আগে বা পরে বিশেষ দেখা যায়নি। যেটাকে বলে, ‘প্লেটোনিক লাভ। তাদের মধ্যে প্রেমজ টানাপোড়েন বা যৌন আকর্ষণ, যেটাই বলুন, সেটা আছে। কিন্তু, পর্দায় সেটার কোনও স্পষ্ট প্রকাশ নেই

হ্যাঁ, এখানে প্রেমকে একটা শিশুর চোখ দিয়ে দেখানো হয়েছে। আহা, এখানে কী সুন্দর সব গান রয়েছে! অনেক পরে, শক্তিদার একটা সাক্ষাৎকারে পড়েছিলাম, উনি কীভাবে এই ছবির শুটিং করেছিলেন। ওই যে বিখ্যাত গানটা, ‘চিঙ্গারি কোই ভড়কে…’ ওটা আসলে কলকাতায় হুগলি নদীতে শুট করেননি। বম্বেতে তখন নানা জায়গায় ছোট-বড় পুকুর বা দীঘি ছিল। বম্বে শহরের আশপাশেই কোথাও কোনও দীঘিতে বা জলাশয়ে ওই সিকোয়েন্সটা শুট করেছিলেন। ফিল্মমেকিংয়ের জগতে, আমরা জানি, এটাকে বলে ‘চিটিং’। কিন্তু, সেটার মানে এই নয় যে, তাতে ছবিটার গুরুত্ব কমে গেল বা দর্শক সেটাকে অসম্মান করল।

রাজেশ খান্না ও শক্তি সামন্ত

রাজেশ খান্নার সঙ্গে শক্তি সামন্তের একটা যুগলবন্দি ছিল। দু’জনের একটা যুগ ছিল বলা যায়। পরপর সাংঘাতিক সব হিট ছবি… আর, সেইসব ছবিতে শচীন দেববর্মণ আর রাহুল দেববর্মণের অসামান্য সব গান…

যেটা বলছিলাম, ‘মেরি ক্রিসমাস’-এ প্রথম প্রায় ঘণ্টা খানেক প্রধানত দেখানো হয় অ্যালবার্ট (বিজয় সেতুপতি) আর মারিয়াকে (ক্যাটরিনা কাইফ)। দর্শক আশা করে বা আশংকা করে, দুজনের মধ্যে কোনও আকর্ষণ বা টানাপোড়েন আছে বা হবে; কিন্তু, পর্দায় কিছু ঘটে না। একটা দৃশ্যে, লিফটের ভেতরে দুজনে একটু কাছাকাছি আসে; আবার পরক্ষণেই তারা সরে যায়। অমর প্রেম’-এও নায়কনায়িকার এরকম সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। এই ব্যাপারটা কি কাকতালীয়, না কোনও সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল?

না, এরকম সচেতন হয়ে ভাবিনি। তবে, ‘মেরি ক্রিসমাস’ বানানোর আগে কাস্টিং নিয়ে খুব চিন্তা-ভাবনা করেছিলাম। একটা সময়ে মাথায় এসেছিল, এটাই যদি শক্তিদা বানাতেন, তাহলে তিনি কীভাবে বানাতেন! এই গল্পটায় আলাদা করে ক্যামেরার চটকদার কারিকুরি এইসব দরকার নেই। তারপর, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গেও আলোচনা করে দেখলাম যে, তারাও বিষয়টাতে একমত।

নির্দিষ্টভাবে মেরি ক্রিসমাসছবিটাই শক্তি সামন্তকে উৎসর্গ করেছেন কেন?

এই ছবির মূল গল্পটা ছিল ফ্রেডেরিক ডার্ডের লেখা ‘Le Monte-charge’ (খাঁচায় বন্দি পাখি) থেকে। ওখানে কাহিনিটা আছে ছয়ের দশকে। ভাবতে বসে দেখলাম, ওটাকে এখনকার সময়ে রাখা যাবে না। কারণ, এখন রোজকার জীবনে প্রযুক্তির দিক থেকে আমরা অনেক অনেক এগিয়ে গিয়েছি। শেষমেশ কাহিনিটা রাখা হল আটের দশকের শেষে বা নয়ের দশকের একদম শুরুর সময়ে।

ফ্রেডেরিক ডার্ড

ওটার কাজ চলাকালীন কোভিড এল। ভাবনা-চিন্তা করার জন্য হাতে অফুরন্ত সময়। তো, ওই মূল নির্দিষ্ট সময়কালটা ধরার জন্য ভাবার মতো অনেক সময় পেয়েছিলাম। তখন মাথার মধ্যে ঘুরছিল যে, এই গল্পটাকে নিয়ে যদি ছয়ের বা সাতের দশকের কোনও ‘ফ্ল্যামবয়ান্ট’ স্টারকে কাস্ট করে শক্তিদা একটা ছবি বানাতেন, তাহলে কী করতেন। আমার মনে হয়েছিল, এরকম ছবির সঙ্গে শক্তিদার একটা যোগাযোগ, তাঁর সিনেমার একটা আমেজ থাকতে পারে। তখন একদিন অসীমের (শক্তি সামন্তের ছেলে) সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। বললাম, শক্তিদার একটা হাই-কোয়ালিটি ফোটো চাই; শুরুতে ওটাই বসাব। ফোটোটা পেয়ে আমি ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। তারপর, আশা পারেখের ওই চিৎকার করে ‘নেহিইইই’ বলার এক্সপ্রেশনটা ব্যবহার করলাম। ওটা দারুণ মজা লেগেছিল। শক্তিদার সব সিনেমার মধ্যে ওটা একটা বৈশিষ্ট্য বলে মনে হয়েছিল আমার।

যদিও শক্তি সামন্তের ছবি নয়, তবে আপনি রাজা রানি’-রও গান ব্যবহার করেছেন এখানে

হ্যাঁ, ওটা শচীন ভৌমিকের পরিচালনা করা একমাত্র ছবি। কিন্তু, অনুভব করতে পারবে ওখানে শক্তিদা’র একটা ছোঁয়া আছে, ওই সময়কালটা আছে। রাজেশ খান্না, শর্মিলা ঠাকুর, রাহুল দেববর্মণের মিউজিক– সব মিলিয়ে সাতের দশকের গোড়ায় একটা ঠিক ওই ধাঁচের ছবি ছিল ‘রাজা রানি’।

আপনার সঙ্গে শক্তি সামন্তের কখনও দেখাসাক্ষাৎ বা কথাবার্তা হয়েছিল?

হ্যাঁ, অনেক পরে, মাত্র একবার কথা হয়েছিল। তখন উনি বোধহয় মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে কোনও সিনেমা করছিলেন। আমি সেই সময়ে একটা ইংরেজি পত্রিকায় কাজ করছিলাম। তো, একটা সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য দেখা করেছিলাম শক্তিদার সঙ্গে। কিন্তু, আমার দিক থেকে সেটা একেবারেই একজন ‘ফ্যানবয়’ মার্কা কথাবার্তা ছিল। মানে, যাঁর কাজ দেখতে দেখতে বড় হয়েছি, তাঁকে সামনে দেখলে যা অবস্থা হয় আর কী! আরও পরে ওঁর ডাবিং স্টুডিও ইত্যাদিতে গিয়ে কাজ করেছি বটে। নিজে সিনেমা বানানো শুরু করার পর ওখানে বহুবার গিয়েছি। কিন্তু, তখন আর ওঁর সঙ্গে দেখা হয়নি।

কোন কোন ছবি আপনাকে শক্তি সামন্তের ফ্যানবয়করে তুলেছে?

এরকম নির্দিষ্ট করে বলা খুব মুশকিল। আমি শক্তিদা’র সম্পূর্ণ ফিল্মোগ্রাফির অনুরাগী। শক্তি সামন্তের সিনেমা আমাকে আলাদা একটা তৃপ্তি দেয়। সাতের দশকে শক্তি সামন্তের পাশাপাশি আরও অনেকেই ছিলেন– মনমোহন দেসাই, প্রকাশ মেহেরা, যশ চোপড়া… এঁরা প্রত্যেকেই যে যার জায়গায় স্বকীয়। কিন্তু, শক্তিদা একজনই। গল্প আর ছবির বুনোট তো বটেই, সংগীত সম্বন্ধে ওঁর জ্ঞান বা বোধ খুবই উঁচু ছিল। ‘কোয়ালিটি’ আর ‘কোয়ান্টিটি’– দুটোই সমান তালে বজায় রাখতে পারতেন। শক্তিদার সব সিনেমাই যে খুব হিট হয়েছে, তা তো নয়। কিন্তু যেগুলো চলেনি, সেগুলো দেখলেও মজা পাবে।

শক্তি সামন্তের কেরিয়ারে আরেকটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার ছিল– দ্বিভাষিক ছবি। বাংলা আর হিন্দি, দুটো ভাষাতে একই ফিল্ম তৈরি করেছেন। তাঁর আগে বা সমসময়ে সাধারণত এটা আর কেউ করেননি। পরে, কেউ কেউ করেছেন বটে।

শক্তিদার সিনেমা দুটো ভাষাতেই খুব হিট হয়েছে। মজার ব্যাপার হল, আমিও ‘মেরি ক্রিসমাস’ বানালাম দুটো ভাষায়– হিন্দিতে আর তামিলে। দুটোতেই পুরো ফ্লপ হয়ে গেল। [হাসি]

বাংলার আরেক শক্তি, আরেক চিয়ার্স

শক্তি সামন্তের হাত ধরেই অমানুষ’-এর জন্য উত্তমকুমার বাংলার বাইরে পরিচিতি পেলেন…

শুধু উত্তমকুমার নয়, উৎপল দত্তেরও পরিচিতি বদলে গেল ‘অমানুষ’-এর জন্য। নইলে, তার আগে ভারতীয় দর্শকের কাছে তাঁর ইমেজ ওই ‘গোলমাল’ গোছের ছিল।

Image

ছোটবেলায় শক্তি সামন্তের সিনেমা দেখার জন্য বাড়িতে কখনও বকা খেয়েছেন?

না না, ঠিক বকাঝকা নয়। তবে, একটা জিনিস শিখে নিয়েছিলাম যে, বাড়িতে যেন জানতে না পারে আমি লুকিয়ে কোনও সিনেমা দেখতে গিয়েছি। ওটা শুধু শক্তিদা’র সিনেমা বলে নয়, সব সিনেমার ক্ষেত্রেই লাগু হত।

আপনার ছোটবেলায়, ‘আরাধনানিয়ে সত্যি সত্যি কীরকম উন্মাদনা চাক্ষুষ করেছেন?

রাজেশ খান্নাকে নিয়ে তো একটা আলাদাই পাগলামি ছিল। ‘আরাধনা’ ছাড়ো, ‘অনুরাগ’-এর কথাটা ভাবো। নায়ক বিনোদ মেহেরা, আর নায়িকা একটা আনকোরা মুখ– মৌসুমি চ্যাটার্জি। রাজেশ খান্নার খুব ছোট্ট একটা ভূমিকা ছিল ওটায়। কিন্তু, তাতেই সিনেমাটা পয়সা উশুল করে নিয়েছিল।

‘আরাধনা’র সেট

পরবর্তীকালে, যখন আপনি সিনেমা তৈরির কাজে হাত দিলেন, তখন কি নিজের মধ্যে সচেতনভাবে শক্তি সামন্তের কোনও প্রভাব টের পেয়েছেন?

না, আমি এইভাবে কোনও গণ্ডিতে নিজেকে রাখতে চাই না। আরও অনেকের সিনেমা দেখেছি, সেগুলোও ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়, শক্তিদার কাজের মধ্যে নানা বৈচিত্র ছিল। শুরুর দিকে থ্রিলার বানিয়েছেন; নয়ার বানিয়েছেন; তারপর এমন রোমান্স বানিয়েছেন, যা দেখে দর্শক কান্না আটকাতে পারবে না। এককথায়, উনি ছিলেন খুব ভালো মেইনস্ট্রিম স্টোরিটেলার।

আমার মনে হয়, সিনেমা বানানোর দিক থেকে আমার মধ্যে বিজয় আনন্দের প্রভাব অনেক বেশি আছে। তাঁর সিনেমা থেকে একদম সরাসরি অনেক কিছু শিখেছি। আমার কাজের মধ্যে শক্তিদার প্রভাব বোধহয় ওরকমভাবে নেই। তবে, ওঁর সম্পূর্ণ কাজ যখন দেখি– শুরুর দিকের সাদা-কালো থ্রিলার, তারপর ডিটেকটিভ জঁর, তারপর রঙিন ছবিতে রোমান্স– সেইসব মিলিয়ে খুব আকর্ষণীয় লাগে আমার।

বিগ বি ও শক্তি সংলাপ

আপনার মতে, শক্তি সামন্তের সিনেমায় কোন জায়গাটা তাঁকে তাঁর সমসাময়িকদের থেকে আলাদা করেছে?

আমি খুব স্পষ্টভাবে প্রথাগত কায়দায় ব্যাখ্যা করতে পারব না যে, ঠিক কোন কোন জায়গা তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। শক্তিদার ফিল্ম দেখলে যে মজাটা আমি পাই, সেটা কীভাবে কাউকে বোঝাব জানি না। কীসব টুকরো টুকরো রোমাঞ্চকর দৃশ্য! বৃষ্টির রাত! নায়িকার হ্যান্ডব্যাগের একটা ঝলক! তারপরেই দেখলে, নায়ক সাঁ করে জিপের স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে দিল! সামনে ভিলেন! একটা মারামারির সিকোয়েন্স শুরু হল! পর্দায় ওসব দেখলে আমার কেমন আনন্দ লাগে, সেটা কীভাবে বর্ণনা করব, আমি জাস্ট জানি না! উফ! পারব না!

বড় হওয়ার পর, সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা করার পর, নিজে সিনেমা বানানোর পর, পরিণত বয়সে আবার কখনও শক্তি সামন্তের সিনেমা দেখেছেন বা দেখতে ইচ্ছে করে?

প্রচুর দেখেছি, অনেকবার দেখেছি। বিশেষত শক্তিদা’র সিনেমার গান আমি প্রায়ই শুনি। ধরো, দিন দুয়েক ছাড়া ছাড়াই শুনতে থাকি ‘প্যার দিওয়ানা হোতা হ্যায়, মস্তানা হোতা হ্যায়…’ বা ওই ধরনের সব গান। কখনও কখনও কোনও বিশেষ জায়গা নির্দিষ্ট করে বোঝানোর জন্য আমার টিমকে বা অ্যাসিস্ট্যান্টদের ওঁর সিনেমার কোনও গান শুনতে বলি। ওই বিশেষ সময়কালটাকে বুঝতে হলে বা ধরতে হলে এর থেকে চমৎকার উপায় আর নেই। মানে, এরকম আমার মনে হয়।

আচ্ছা, এখন যখন আপনি একজন সচেতন ফিল্মমেকার হয়ে উঠেছেন, আর তাঁর সিনেমা আবার ঘুরে-ফিরে দেখছেন– তখন কোথাও কখনও কি মনে হয় যে, আগের মতো আর মজা লাগছে না?

উঁহু! একেবারেই এরকম মনে হয় না! আমার তো বরং উল্টোই মনে হয়! যখন ওই সময়ের সিনেমা দেখতে বসি, তখন আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে থাকি যে, সেই অতীতের সময়টা দেখব। ওগুলো দেখলে সত্যিই অনেক কিছু শিখতে পারি।

আপনার সিনেমা দেখলে দর্শক হিসেবে আনন্দ পাই; মজা লাগে; অথচ, পাশাপাশি খুব সোচ্চারে না হলেও, আপনার একটা বিশ্ববীক্ষণ বা প্রথাগত রাজনীতির বাইরে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক চেতনা টের পাই। নির্দিষ্টভাবে শক্তি সামন্তের সিনেমা ছাড়াও, ওই সময়ের অন্যান্য জনপ্রিয় মেইনস্ট্রিম সিনেমা থেকে আপনার সিনেমা এই অর্থে আলাদা বলে মনে হয়। সেটা কি আপনার প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার জন্য হয়েছে, না খুব স্বাভাবিকভাবে ব্যক্তিগত স্তর থেকে উঠে এসেছে?

এটার নেপথ্যে  হয়তো দুটো বিষয়েরই হাত আছে। ফিল্ম ইন্সটিটিউটে পড়াশোনা করার ফলে আন্তর্জাতিক সিনেমার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। অনেক কিছু জানতে, শিখতে, বুঝতে পেরেছি। কিন্তু, সেটাই আবার সব নয়। সেই শেখাটা অনবরত চালিয়ে যেতে হয়। কারণ, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়ার সবকিছুর মতো সিনেমাও ক্রমাগত বদলায়। সেইজন্য সব সিনেমা টিকে থাকতে পারে না। পুরনো সিনেমাই নতুন করে বানালে কত কী রাখা যাবে না! ধরো, বম্বেই কত পাল্টে গিয়েছে! আগেকার সিনেমাতে দেখো, বম্বের রাস্তা কত ফাঁকা ছিল, কত কম গাড়ি চলত, মানুষের জীবন কত সহজ ছিল!

অনেক অনেক ধন্যবাদ, শ্রীরাম, আপনার সময় দেওয়ার জন্য।

একটা কথা বলতে চাই, শক্তি সামন্তকে নিয়ে একটা গোটা বই লেখা উচিত। তাঁর জীবন, সম্পূর্ণ কাজকর্ম– সব মিলিয়ে এখনকার প্রজন্মকে তাঁর কথা বলা দরকার। এখন এই কথাবার্তা বলতে বলতে আমারই খুব ইচ্ছে করছে বা বলতে পারো লোভ হচ্ছে, শক্তিদা’র বা ওইসময়ের কয়েকটা পুরনো ছবি আজ আবার দেখতে বসি।