evolution of menu and foodings of bengali marriage | Robbar
Robbar
  • ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬

বিয়েবাড়ির ভোজবদল

ক’দিন আগে এক বিয়ের ভোজে দেখা গেল হাতাহাতির উপক্রম। অভিযোগ গুরুতর। ক-বাবু ব্যুফে থেকে যে ফ্রাই-টি নিয়েছেন, তাঁর অন্যমনস্কতার সুযোগে সেটি নিজের পাতে চালান করেছেন পাশে বসা খ-বাবু। অভিযুক্ত আস্তিন গুটিয়েছেন, ‘এত বড় কথা! জানেন আমি মামলা করতে পারি আপনার নামে! প্রমাণ করতে পারবেন, এই ফ্রাইটা আপনার?’ ইতিমধ্যে কেটারারের লোক এসে মেয়ের বাবার কানে কানে বলে যায়, একজন গেস্ট নাকি তাদের রান্নাঘরে ঢুকে ‘কী ভেবে’ আধ বোতল অলিভ অয়েল খেয়ে ফেলে এখন অসুস্থ বোধ করছেন। বেরনোর সময়ে শুনতে পেলাম, আলোচনা হচ্ছে, রাত হলে গাড়িতে যেমন নাকা চেকিং চালু হয়েছে, তেমনই রাত দশটার পর বিয়েবাড়ির দরজায় যাঁরা অভ্যর্থনার দায়িত্বে থাকবেন, তাঁদের হাতেও ব্রেথ অ্যানালাইজার দেওয়া হোক। ফ্রাই-কান্ডের বিবাদীপক্ষ তাঁদের সচেতন করে বলে গেলেন,  তাতে ডিফেমেশনের আশঙ্কাই বাড়বে শুধু, কাজ হবে লবডঙ্কা!

Published by: Robbar Digital

Posted:January 21, 2026 7:19 pm | Updated:January 21, 2026 7:19 pm  
Facebook WhatsApp Messenger

পিলে-চমকানো আওয়াজটা এসেছিল খাবার জায়গা থেকেই! ছুটে এলেন বরকর্তা মৃন্ময়বাবু। লাস্ট ব্যাচের খাওয়া চলছিল। মাংসটা রিপিট করতে বলে এই সবে একটু নিচে নেমেছিলেন তিনি। এসে দেখেন তাজ্জব কাণ্ড! আস্ত একটা টেবিল, কাচের থালা, গ্লাস সমেত উল্টে মাটিতে পড়ে। সামনে ভ্যাবাচ্যাকা হয়ে দাঁড়িয়ে বেশ কিছু নিমন্ত্রিত, ডালে-ঝোলে যাঁদের বেশবাস চিত্রবিচিত্র।

‘কী করে হল?’ প্রশ্নটা করামাত্র সবক’টা চোখ ঘুরে গেল যার দিকে, বছর সাতেকের সেই খলনায়ক আইসক্রিমের কাপ নিয়ে প্রাণপণে মায়ের পিছনে লুকনোর চেষ্টা করছে, আর তার মা তারস্বরে চিৎকার করছেন, ‘বাঁদর ছেলে, আর কোনও দিন যদি তোমাকে বিয়েবাড়িতে এনেছি! শুরু থেকে বারণ করছি, তবু শোনে না। আবার হা-ঘরের মতো আইসক্রিম তুলে খাচ্ছে। বাড়িতে চল, আজ তোরই একদিন কি আমারই একদিন!’ শোনা গেল খেতে বসা ইস্তক ছেলেটি টেবিলের পায়ায় সেলাই মেশিনের মতো প্যাডেল করে গিয়েছে। কমজোর তক্তা একসময়ে জবাব দিয়েছে। পুরো ব্যাপারটা ঘটেছে মুহূর্তের মধ্যে। কেউ হয়তো মাংসের পিসটা নিমীলিত চোখে মুখে পুরতে যাচ্ছেন, কেউ হাড় চিবোচ্ছেন জুত করে। চাটনি, পাঁপড়, আইসক্রিম যথাবিহিত এসে জমা হয়েছে পাতের পাশে। এঁরা বেশিরভাগই নিকটাত্মীয় বা পাড়ার লোক, দূরের যাত্রী কেউ নন, তাই খুব তাড়া কারওরই নেই। ভরপেট খেয়ে পাঁপড়কে চামচ বানিয়ে সুড়ুৎ সুড়ুৎ করে চাটনি খাওয়ার তূরীয় পর্যায়ে যিনি ছিলেন, তিনিই প্রথম খেয়াল করলেন টেবিলটা যেন নেমে যাচ্ছে। প্রথম রিফ্লেক্সে থালার সঙ্গে সঙ্গে তিনিও নিচু হতেই যাচ্ছিলেন, সম্বিৎ ফিরেছে সশব্দ পতনে! যিনি হাড় চিবোচ্ছিলেন তিনি বিস্ফারিত নেত্রে শিল্পীর তুলি ধরার মতো তিন আঙুলে হাড়টি ধরেই হতভম্ব বসে আছেন। অপরাধী অবশ্য ততক্ষণে টুক করে নিজের মাটিতে গড়াগড়ি যাওয়া আইসক্রিমের কাপটা ঠিক তুলে নিয়েছে। বড়দের অনেকের সে ইচ্ছে থাকলেও চক্ষুলজ্জায় সেটা পারছেন না বলে আরও রেগে যাচ্ছেন।

 

শিশুটির ভয় পাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে বড় মায়া হয় মৃন্ময়ের। পাড়াতুতো নাতি। বেচারা বাড়ি ফিরে কত মার খাবে, কে জানে! পরিস্থিতি হালকা করতে তিনি বলেন, ‘জানো তো দাদুভাই, তোমাদের বয়সে বিয়েবাড়িতে আমাদের কী কাজ ছিল? তখন তো এরকম কাচের প্লেট ছিল না, কলাপাতায় খাওয়া হত, আমরা ছোটরা সেই পাতের কোণে নুন-লেবু-লঙ্কা দিতাম। মনে হত যেন কী বিরাট দায়িত্ব! যারা একটু বড়, তাদের কাজ ছিল গ্লাসে গ্লাসে জল দেওয়া। কাচের গ্লাস নয়, মাটির খুরি। অনেকসময়েই তাতে আবার ফুটো থাকত, জল পড়ে জামা ভিজলে লোকে আমাদেরই বকত।’ যাওয়ার সময়ে ছেলেটা পিছন ফিরে বলে যায়, ‘দাদু, কলাপাতা ভালো।’ মৃন্ময় মনে মনে বলেন, ভালো তো বটেই, কিন্তু এখন কোথায়ই বা সেই বিশাল সব ছাদ, উঠোন, পাড়ার মাঠ, যেখানে শতরঞ্চি পড়বে পঙক্তিভোজনের? নিজেদের বসতবাড়ি বা পায়রার খোপের মতো সাজানো ফ্ল্যাটে এসব ‘ঝামেলা’ করতে চায় না কেউ।

কেটারিংয়ের ভোজ কলকাতার খুব হাতেগোনা বর্হিষ্ণু পরিবারে আগে থেকে চালু থাকলেও যতদূর মনে হয়, ‘৭৫-এর  জরুরি অবস্থার সময়ে গৃহস্থ যখন অনুষ্ঠানবাড়ির নিমন্ত্রিতের সংখ্যা কমাতে বাধ্য হলেন, তখন থেকেই সম্ভবত মধ্যবিত্ত পরিসরেও এই ঘরোয়া পরিষেবাটির আউটসোর্সিং শুরু হয়। হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়ে আসা ছাত্রছাত্রীদেরও তাতে একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হল। তবে তখন থেকেই আস্তে আস্তে উবে যেতে লাগলেন বিয়েবাড়ির সেই প্রবাদপ্রতিম খাইয়েরা, স্তূপ করা ভেটকি-পাতুরির পাতার আড়ালে যাঁরা প্রায় হারিয়ে যেতেন, বাজি ধরে মিষ্টি খেয়ে নাম কিনতেন বন্ধুমহলে।

কোমরে গামছা বেঁধে এমন পরিবেশনের সুখস্মৃতি মাঝবয়সিদের অনেকেরই আছে। ছাদে খাওয়ানোর একটা মুশকিল ছিল, জোরে হওয়া দিলে কলাপাতা বা লুচি উড়ে যেত। সে এক কেলেঙ্কারি! বরযাত্রীরা খেতে বসলে স্পেশাল অ্যাটেনশন। তখন বিয়েবাড়িতে ‘ডিভিশন অফ লেবার’। দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হত। কিছু কাজ অবশ্য স্বতঃসিদ্ধ। যেমন শ্রীরামপুরের পিসিমা এসে পড়লে আর ভিয়েনঘরের চাবিটা তাঁর আঁচলের গিঁটে বাঁধা পড়লে সবাই নিশ্চিন্ত। রান্নার হালুইকর বামুন সকালে এসেই রিপোর্ট করবে পিসির কাছে। কোন বেলায় কী রান্না হবে, কতটা চাল, ডাল, তেল, মশলা লাগবে সেসবের এক্সক্লুসিভ সিদ্ধান্ত তাঁর। যুগ যুগ ধরে যেমন আমাদের বাড়ির যাবতীয় অনুষ্ঠানে রাঙাকাকামণিই বাজার সরকার। মুটের মাথায় ধামা ভরা বাজার নিয়ে তাঁর সগর্ব প্রবেশ। এমন দক্ষ বাজারু নাকি আমাদের পরিজন পরিমণ্ডলে আর কেউ ছিল না। কাজেই ‘তুতো’ কারওর বাড়ির কাজেও তাঁর ডাক পড়ত। হাসিমুখে চলেও যেতেন। এই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের বাজারে বড় কদর হতে পারত এমন করিৎকর্মা মানুষদের।

বাড়িতে বিয়ে লাগলে তখন দফায় দফায় মিটিং। মেয়ের বাড়ির বিয়েতে কাজের দফতর ভাগের সময়ে কনের ভাই আর তার বন্ধুবাহিনীর বিরাট গুরুত্ব। এরকমই একবার বরযাত্রীর অ্যাটাচমেন্ট ডিউটি পেল রমেন। তখন সবে কলেজের ফার্স্ট ইয়ার। পড়ার চাপ কম, মনে পলাশের ওড়াউড়ি। উত্তেজনায় ফুটছে এক পক্ষকাল আগে থেকেই। চুলে স্পেশাল ছাঁট, মুখে নরম দাড়ির রেখা। ঝুড়িতে লুচি, বারকোশে ভাজাভুজি, ডাল বা মাংস বড় কানওয়ালা নৌকো থেকে বালতিতে তুলে পরিবেশন। বরযাত্রীতে মেয়েরাও আসেন। তাঁদেরই মধ্যে কমবয়সি কাউকে হয়তো ভালো লেগে থাকবে রমেনের। চোখ যেই মনের পথ ধরেছে, পা পড়েছে আগের পরিবেশনকারীর অসাবধানতায়  ফেলে যাওয়া এক হাতা ডালে এবং পা হড়কেছে অবধারিতভাবেই। পায়ে যত না লেগেছে, প্রেস্টিজে লেগেছে তার চেয়ে বেশি। তবে শোনা যায়, তারপর মাসখানেক নাকি তার কুশল জানতে একটি চিকন গলার ফোন আসত বাড়িতে। গল্পের শেষটুকু আমাদের অজানা। আবার গভীর নিষ্ঠায় বরযাত্রীদের আপ্যায়ন করতে গিয়ে কেলেঙ্কারি বাধিয়ে বসেছিল গদাই। তাকে বলা হয়েছিল বরযাত্রীদের প্রত্যেককে দেখেশুনে তাঁদের পছন্দমতো সব পদ দু’-একবার রিপিট করাতে। মধ্যবয়সি এক ভদ্রলোককে চিংড়ির মালাইকারি দ্বিতীয়বার নিতে দেখে প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে গদাই তাঁকে তৃতীয়বার পদটি নিতে অনুরোধ করে। তিনি সহাস্যে আপত্তি করায়, সে আরও আকুল হয়ে বলে ফেলে, ‘খান খান, বাড়িতে কী-ই বা খান!’ এ কথায় সেই ভদ্রলোক (পরে জানা গিয়েছিল তিনি বরের মেসো) তো বটেই, আশপাশের অনেকেও ভয়ানক রেগে যান– ‘তোমার তো আস্পর্ধা কম নয় হে ছোকরা, আমরা কি বাড়িতে খেতে পাই না বলে এখানে খেতে এসেছি নাকি, অ্যাঁ!’ বেচারা গদাই তাঁদের জোড়হস্তে বোঝাতে গিয়ে প্রায় কেঁদেই ফেলেছিল যে, সে কিন্তু আদপেই এমন গর্হিত কথা বলতে চায়নি। তার বলার উদ্দেশ্য ছিল সাধারণত বাবা-জ্যাঠারা বাড়িতে তো বেশিরভাগ ঘরোয়া আর নিরাপদ খাবারদাবারই খেয়ে থাকেন, বিয়েবাড়িতে সামান্য একটু অনিয়ম হলে ক্ষতি কিছু হবে না।

সেই গদাইয়ের সঙ্গে সম্প্রতি দেখা হল এক বিয়েবাড়িতেই। এগিয়ে এসে পরিচয় দিতে জিজ্ঞেস করেছি, ‘তুই কি বরপক্ষ না কন্যাপক্ষ?’ গদাই মুচকি হেসে বলল, ‘কোনওটাই নই। আমার কেটারিং কোম্পানিকে বুক করেছেন এঁরা। খেয়ে বোলো কেমন লাগল।’ বিরাট হল জুড়ে সুবেশ নারী-পুরুষের হাতে হাতে তখন স্টার্টারের ছোট ছোট প্লেট। গদাই বলল, মোট ১৮ রকমের শুরুয়াত রেখেছি। বাইরে লনে চল, ওখানে লাইভ কাউন্টারও আছে। তোমার চোখের সামনে গরম গরম কাবাব, তাওয়া-পরোটা ভেজে দেবে। চাইলে চিকেন ডিমসাম, কী ইতালিয়ান পাস্তাও চেখে দেখতে পারো। শেষপাতে রাবড়ির সঙ্গে গরম জিলিপিটা ভুলো না, আর যদি সুগার না থাকে, তাহলে নলেন গুড়ের গরম সন্দেশ। এদের আবার পাত্র ‘ভেগান’ বলে নিরামিষ স্প্রেডটা খুব ভালো। জাপানি ভেজ সুশিটা দেখতে পার, না হলে দক্ষিণী ধোসা কাউন্টার কিংবা গুজরাটি ধোকলা তো আছেই। অবশ্য নন-ভেজে চিতলের মুইঠ্যা, মাটন কোর্মা ছেড়ে তুমি ওসব খেতে যাবেই বা কেন?’ আমার মুখ ফসকে গদাইয়ের সেই ঐতিহাসিক বচনামৃত বেরিয়ে যাচ্ছিল প্রায়, ‘খান, খান, বাড়িতে কী-ই বা খান!’ সামলে নিয়ে বললাম, ‘হ্যাঁ রে, এত খায় লোকে?’ গদাই হেসে ফেলে, ‘‘খাচ্ছে তো। শুধু আজ নয়, খাওয়াদাওয়া শুরু হয়েছে ‘সাঙ্গীত’ আর ‘মেহেন্দি’ দিয়ে। চলবে আরও অন্তত দু’তিনদিন।’’ লনে বেরতে যাচ্ছি, এমন সময়ে সামনে এসে দাঁড়াল ভিডিও শিকারির দল। ‘কী খেলেন, কেমন খেলেন, একটু বলুন প্লিজ। কোন আইটেমটা সবচেয়ে ভালো লাগল?’ প্রশ্নবাণ থামলে হাতজোড় করি, ‘একটু সময় দিন। এইমাত্র এসেছি। চা পর্যন্ত চেখে দেখিনি।’ এও এখন এক ধরনের প্রমোশন। টের পাই, শুধু মুখ নয়, সমস্ত অস্তিত্বটাই ক্রমশ বিজ্ঞাপনে ঢেকে যাচ্ছে আমাদের।

মনে পড়ল, আমাদের ছোটবেলাতেও বাড়িতে বিয়ে লাগা মানেই ছিল অন্তত এক সপ্তাহের আয়োজন। দূরের আত্মীয়স্বজন আসতে শুরু করলেই সকালে মুড়ি-চিঁড়ের জলখাবারের উত্তরণ ঘটত লুচি-পরোটা আর আলুরদম কি সাদা আলুর তরকারিতে। দুপুরে সাদা ভাত, মাছের মাথা দিয়ে ডাল, কুমড়োর ছক্কা। বিয়ের দিন সকাল অবধি উৎসববাড়ির ওই ঘরোয়া খাওয়াটাকেই বোধহয় ‘ন্যাড়া যজ্ঞি’ বলত। তবে তখন না ছিল এত বৈভব, না তার দেখনদারি। দু’-তিনটে খুপরি ঘর আর একটা এজমালি কলঘর সম্বল করে অতগুলো মানুষ কীভাবে যে নিজেদের সানন্দে আঁটিয়ে নিত, আজ ভাবতেই অবাক লাগে!

বীরভূমের গ্রামে এক সম্পন্ন চাষি পরিবারের বিয়েতে গিয়েছিলাম। পৌঁছোনোর সঙ্গে সঙ্গে হাতে একটা করে ছোট বাক্স ধরিয়ে দেওয়া হল। তারমধ্যে কচুরি, নিমকি, সন্দেশ, নাড়ু। তারপর গল্পটল্প  হচ্ছে। রাতের লগ্ন। খাওয়ার কথা কেউ আর বলে না । ভাবছি, কোয়ার্টার্সে ফিরে বোধহয় সেদ্ধভাত করে নিতে হবে। ইতিমধ্যে ডাক পড়ল। গিয়ে দেখি বিশাল প্যান্ডেল। লাইন দিয়ে লোক ঢুকছে। শুনলাম গ্রামের প্রতিটি ঘরে নিমন্ত্রণ করতে হয়। সবাই সপরিবার আসেন। গোটা গ্রামে সেদিন অরন্ধন। খাওয়াদাওয়া শেষ হতে মাঝরাত হওয়াও বিচিত্র নয়।

সবশেষে যে ঘটনাটা না বললেই নয়, ক’দিন আগে এক বিয়ের ভোজে দেখা গেল হাতাহাতির উপক্রম। অভিযোগ গুরুতর। ক-বাবু ব্যুফে থেকে যে ফ্রাই-টি নিয়েছেন, তাঁর অন্যমনস্কতার সুযোগে সেটি নিজের পাতে চালান করেছেন পাশে বসা খ-বাবু। অভিযুক্ত আস্তিন গুটিয়েছেন, ‘এত বড় কথা! জানেন আমি মামলা করতে পারি আপনার নামে! প্রমাণ করতে পারবেন, এই ফ্রাইটা আপনার?’ ইতিমধ্যে কেটারারের লোক এসে মেয়ের বাবার কানে কানে বলে যায়, একজন গেস্ট নাকি তাদের রান্নাঘরে ঢুকে ‘কী ভেবে’ আধ বোতল অলিভ অয়েল খেয়ে ফেলে এখন অসুস্থ বোধ করছেন। বেরনোর সময়ে শুনতে পেলাম, আলোচনা হচ্ছে, রাত হলে গাড়িতে যেমন নাকা চেকিং চালু হয়েছে, তেমনই রাত দশটার পর বিয়েবাড়ির দরজায় যাঁরা অভ্যর্থনার দায়িত্বে থাকবেন, তাঁদের হাতেও ব্রেথ অ্যানালাইজার দেওয়া হোক। ফ্রাই-কান্ডের বিবাদীপক্ষ তাঁদের সচেতন করে বলে গেলেন,  তাতে ডিফেমেশনের আশঙ্কাই বাড়বে শুধু, কাজ হবে লবডঙ্কা!

bengali marriage Marriage marriage food Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar বিবাহ অভিযান

Share this article on