Chowringhee and the Art of Book Marketing। Robbar
Robbar
  • ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬

শংকর এবং পণ্যসাহিত্যের ব্যাগ

সমকালীন বিতর্কে ‘এক ব্যাগ শংকর’-এর ‘বেস্টসেলার’ হওয়া আটকায়নি, সমস্ত বিতর্কে জল ঢেলে আজ অবধি বইটির মোট বিক্রিত কপির সংখ্যা এক লক্ষ কুড়ি হাজারের বেশি। স্পষ্ট ইঙ্গিত, এই বই-বিতর্কের একদিকে ‘জনপ্রিয়তা’ ও ‘বিক্রি’ থাকলে অন্যদিকে ছিল ‘রুচি’ ও ‘সাহিত্যনীতি’র প্রশ্ন, যাতে কালের ব্যবধানে প্রথম পাল্লাটিই ভারি বলে প্রমাণিত হয়েছে।

Published by: Robbar Digital

Posted:April 19, 2026 9:18 pm | Updated:April 19, 2026 9:18 pm  
Facebook WhatsApp Messenger

সাহিত্য কি পণ্য আদতে? চাল-ডাল-আলু-পটলেরই মতো? নাকি বাজার-অর্থনীতি-পুঁজির ঊর্ধ্বে মহত্তর উচ্চমার্গীয় কোনও কিছু? যা ‘খরিদ’ নয়, ‘সংগ্রহ’ করা যায় কেবল? সাতের দশকে তর্কটা জমে উঠেছিল এক ‘জনপ্রিয়’ লেখককে ঘিরে, এবং মৃত্যুর পরেও তা পিছু ছাড়ল কই। ১৯৭৭ সাল, কলেজ স্ট্রিটের এক উঠতি প্রকাশক প্রকাশ করেন একটি ব্যাগ, থুড়ি বই– শংকরের ছোটদের কাহিনি-সংকলন ‘এক ব্যাগ শংকর’। আক্ষরিক অর্থেই বইটি প্রকাশক বাজারজাত করেছিলেন একটি নীল স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ব্যাগে পুরে দিয়ে– যেন সব মিলে একটা ‘প্যাকেজ’। এর কিছু বছর আগে ওই প্রকাশনা থেকেই লেখকের তিনটি উপন্যাসের এক ত্রয়ী সংকলন বাজারে এসেছে। বই তিনটে আলাদাভাবে কিনলে মোট দাম যেখানে ৩২ টাকা, ত্রয়ী সংস্করণে সেটাই ১২ টাকা মাত্র। মার্কেটিং, সুলভ মূল্য আর লেখকের নামযশ– এই ত্রহ্যস্পর্শে সেই বইয়ের দারুণ কাটতি। এবারও অব্যাহত থাকল ট্রেন্ড, পাঠকদের পছন্দ হল প্যাকেজ। ‘কত অজানারে’, ‘চৌরঙ্গী’, ‘এপার বাংলা ওপার বাংলা’, ‘স্বর্গ মর্ত পাতাল’-এর সূত্রে মণিশংকর মুখোপাধ্যায় ততদিনে বাংলার সাহিত্য মানচিত্রে ‘শংকর’ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত, ‘এক ব্যাগ শংকর’ নামে এই পূর্বপ্রতিষ্ঠারই রেফারেন্সিং। নাম থেকেই বোঝা যায় লেখকনাম ‘শংকর’– যেন এখানে বইয়ের নামে জুড়ে যাওয়া একটা বিজ্ঞাপনী আইডেনটিটি, যেন-বা খোদ ‘শংকর’ই এখানে পণ্য, যা পরিবেশিত হচ্ছে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভিতর।

প্রকাশক জানাচ্ছেন, “বইকে জনপ্রিয় করার যে বিষয়টা, মার্কেটিং-এ ওটাকে অস্বীকার করা যায় না। ‘এক ব্যাগ শংকর’-টা বাচ্চাদের বই ছিল… ব্যাগের মধ্যে জিনিসটা দেওয়ায় সেটা বাচ্চাদের কাছে বাড়তি কৌতূহল জাগায়। … এটা প্রকাশনায় আগে কেউ করেনি। …ওই সময় প্লাস্টিক-ব্যাগের বাজারে আসা, সেটাকে বই বিপণনে ব্যবহার করা– এটা বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।”

বিপণনের এই চমক একইসঙ্গে যেমন ক্রেতাদের আকর্ষণ করে, বাড়ায় বিতর্কও। ‘বই’– যা একটি উচ্চসংস্কৃতির জ্ঞানতাত্ত্বিক অভিজ্ঞান, তাকেই কি না ব্যাগের মধ্যে ‘মাল’ হিসেবে হাজির করা? সাহিত্যের অবমাননা হিসেবেই ব্যাপারটা দেখেছিলেন তৎকালীন অনেক পাঠক এমনকী, সাহিত্যিকও। যেমন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় সেইসময় ‘কলকাতা’ পত্রিকায় লেখেন– “একজন প্রকাশক জনৈক দিগ্বিজয়ী গ্রন্থকারের একটি পুস্তক প্রকাশ করেছেন। গ্রন্থটি একটি নীলাভ প্ল্যাস্টিক ব্যাগে ক’রে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাগের গায়ে সোনালি রঙে সিল্ক-স্ক্রীন প্রিন্টিং-এ লেখা এক ব্যাগ শংকর।” পাশাপাশি বইটির বিজ্ঞাপনে (‘এতে আছে একটি ঢাউস উপন্যাস’) ব্যবহৃত ‘ঢাউস’ শব্দটি উল্লেখ করে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ব্যঙ্গ করেন, “…‘ঢাউস’ শব্দটি ট্র্যাডিশনালি মালের আগেই বসে থাকে, আমরা জানতাম। … জনৈকা গৃহিণীকে ওই নীল ব্যাগ ফাঁক করে আধ কেজি তেলাপিয়া কিনতে আমি স্বচক্ষে দেখেছি।”

zoom
সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়। আলোকচিত্র: সন্দীপ কুমার

প্রসঙ্গত বলা দরকার, বিজ্ঞাপনী প্রচারকৌশলের নিরিখে শংকরের যতই শুদ্ধতাবাদী সমালোচনা করুন সন্দীপন, এ বিষয়ে তাঁর নিজের পারদর্শিতা কিছু কম ছিল না। কবিতা-পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’-এর বিজ্ঞাপন বিভাগের দায়িত্বে থাকা সন্দীপন এককালে শরীরী আহ্বানময় ভুয়ো চিঠিপত্র ছাপিয়ে কবিতা পত্রিকার সার্কুলেশন বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং সেই কারণে এমার্জেন্সির সময়ে পত্রিকা অফিসে লালবাজার পুলিশের পক্ষে শ্রী পঞ্চানন ঘোষালের পদার্পণ ঘটেছিল বলে ‘কৃত্তিবাস’, ১ নভেম্বর ২০২৪-সংখ্যায় সমরজিৎ সিংহের একটি স্মৃতিচারণে জানা যায়। এরপর থেকেই ‘কৃত্তিবাস’ অচেনা যুবতীর ‘নিঃসঙ্গ তরুণ কবির বাড়িতে, রাত্রে গিয়ে, রান্না করে’ দিতে চাওয়ার মতো বিজ্ঞাপন বন্ধ করে। ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে আমাদের বক্তব্য নৈতিক ভালো-মন্দ নিয়ে নয়, বরং এইটুকুই যে, উক্ত তথ্য সত্যি হলে সাহিত্য ব্যবসার নৈতিকতা-সংক্রান্ত তর্কে ‘মাল’ বেচার দায়ে, সন্দীপনের অন্তত, পীড়িত না হওয়াই উচিত ছিল-না কি? এ কি তাহলে ‘জনপ্রিয়তা’-কে ঈর্ষা, তাই কি ‘দিগ্বিজয়ী লেখক’ বলে তোপ? চণ্ডীমণ্ডপে বসে কথকতা শোনার দিনে তো আমরা আর নেই, আজকের সাহিত্যকে মাথা পেতে নিতে হয় বাজার ও বিক্রির দায়। আত্মবিজ্ঞাপন ও বিক্রিতে যে কোনও মাত্রা অবধি মেধাকে ব্যবহার করতে পারাই আজকের যুগধর্ম।

zoom
সাহিত্যিক শংকর

যদিও শংকরকে ঘিরে সাংবাদিক ও সাহিত্যিকমহলের বিরাগ নতুন কিছু নয়। শংকর-এর লেখাতেই জানা যায় তাঁর প্রথম বইয়ের প্রকাশের পর নামকরা এক ইংরাজি সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছিল ব্যঙ্গোক্তি– ‘জেলের প্রহরী, উকিলের মুহুরী, রঙ্গালয়ের নট সবাই ভদ্র গৃহস্থ সেজে সাহিত্যমন্দিরে ঢুকছে’। প্রসঙ্গত, ইঙ্গিতের লক্ষ্য জরাসন্ধ, শংকর এবং ধীরাজ ভট্টাচার্য; এঁরা প্রত্যেকেই সাহিত্যক্ষেত্রে এসেছিলেন অন্য পেশা থেকে এবং নিজস্ব কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার ডালিতে সাজিয়েছিলেন সাহিত্যের পসরা। সাহিত্যিক পরিসরে এঁদের ‘বহিরাগত’ হিসেবে চিহ্নিত করা সহজ হয়েছিল লেখার তথাকথিত সংরূপহীনতা বা ‘রম্যরচনা’-ধর্মিতা জন্যে। সব রচনাই রম্য– উদ্বিগ্ন শংকরকে মুজতবা আলি আশ্বস্ত করেছিলেন। ১৯৬২-সালে ‘চৌরঙ্গী’র ধারাবাহিক প্রকাশের সময় জনৈকা রবীন্দ্রসান্নিধ্যপ্রাপ্ত জনপ্রিয় লেখিকাও নাকি দেশ-সম্পাদকের দফতরে চিঠি লিখে অনভিজ্ঞতার অভিযোগে বিদ্ধ করেছিলেন করেছিলেন শংকরকে। আসলে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে শংকরকে সহ-সাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়েও রয়েছে একটি প্রচ্ছন্ন চাপান-উতোর। ‘বোধোদয়’, ‘নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি’– ইত্যাদি প্রকাশের পর তর্কটা ‘সাহিত্যগুণ’-সংক্রান্ত প্রশ্ন থেকে সরে স্পর্শ করেছিল ‘বিপণন’ এবং ‘বাণিজ্যিক মূল্যবোধ’-সংক্রান্ত প্রশ্নকে। আজ মনে হয়, নামের সঙ্গে প্রথমাবধি ‘জনপ্রিয়’ ট্যাগটি জুড়ে যাওয়াই ছিল এই স্বোপার্জিত ঈর্ষার আসল ও অনুচ্চারিত কারণ, এই অস্বীকারের রাজনীতির সঙ্গে আজীবন লড়ে গেছেন শংকর। হালের এক বিখ্যাত সাহিত্যিকের নেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘এক ব্যাগ’-বিতর্ক প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হয়ে তিনি লঘুচালে জানান, এই তুখড় মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিটি তাঁর নিজের হলেও অনুপ্রেরণাদাতাটি স্বয়ং দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার। তিনি ‘ঝুলি’-কে ‘ব্যাগ’ করেছেন মাত্র! বাঙালির স্মৃতিতে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’-র প্রসঙ্গ উসকে নিজের ডিফেন্সে এমন কাউন্টার ন্যারেটিভটি আর কে দিতে পারেন শংকর ছাড়া! নীতি বদলে যায়। আজকের বই-বিপণনে ‘বক্স সেট’ ব্যাপারটা এতদূর ডালভাত হয়ে গিয়েছে, তা নিয়ে নৈতিকতার তর্ক উঠবে এমনটা ভাবাই যায় না।

সমকালীন বিতর্কে ‘এক ব্যাগ শংকর’-এর ‘বেস্টসেলার’ হওয়া আটকায়নি, সমস্ত বিতর্কে জল ঢেলে আজ অবধি বইটির মোট বিক্রিত কপির সংখ্যা এক লক্ষ কুড়ি হাজারের বেশি। স্পষ্ট ইঙ্গিত, এই বই-বিতর্কের একদিকে ‘জনপ্রিয়তা’ ও ‘বিক্রি’ থাকলে অন্যদিকে ছিল ‘রুচি’ ও ‘সাহিত্যনীতি’র প্রশ্ন, যাতে কালের ব্যবধানে প্রথম পাল্লাটিই ভারি বলে প্রমাণিত হয়েছে। সেদিন সন্দীপনের বিরুদ্ধে শংকরের পক্ষ নিয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ও সমালোচক অমিয় দেব। ১৯৮৭ সালে ‘প্রমা’ পত্রিকায় ‘এক ব্যাগ শংকর’ লেখায় তিনি সন্দীপনের সমালোচনার জবাবে প্রকাশকের বিজ্ঞাপনী কৌশলকে সাধুবাদ দিয়ে জানান– ‘আমাদের মন না-মানলেও সৎ সাহিত্যও আদতে পণ্যই। সাহিত্য যদি বেচতেই হয় তাহলে রাখঢাকহীনভাবে চালডাল আলুপটল শাড়িজামার মতো বেচাই ভালো কারণ তাতে থাকে না আত্মপ্রবঞ্চনার বিবেকদংশন।’ আরেক জনপ্রিয় সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার, ‘কইতে কথা বাধে’ বইয়ে শংকরের বিপণন কৌশলের সমর্থনে লেখেন, ‘বড় বড় বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো যখন তাদের পণ্যের সঙ্গে আর একটা জিনিস ফাউ হিসেবে দিয়ে বাজার তৈরী করতে পারেন তখন বই কী দোষ করল?’

zoom
সমরেশ মজুমদার

বিশ শতকের ‘জনপ্রিয় সাহিত্য’ বৃহৎ প্রকাশনা সংস্থা ও পুঁজির কল্যাণে মূলধারার সাহিত্যস্রোতে মিশে গেছে, এর বিপরীতে ‘মননশীল সাহিত্য’ অনেকাংশেই খুঁজে নিয়েছে লিট্‌ল ম্যাগাজিন নামের ছোট বাজারের আশ্রয়। বড়ো প্রকাশনাগোষ্ঠীর আলোতে থাকা শংকরকে ছোট প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান-স্পর্ধী লিট্‌ল ম্যাগাজিন নিজস্ব রাজনীতিতে দেখতে চেয়েছে সন্দেহের চোখে। যেমন ১৪০৬ সালে শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক ত্রৈমাসিক ‘অর্কিড’-এ সম্পাদক অলোককুমার ঘোষ ‘শংকর প্রতারক!’ নামের একটি সম্পাদকীয় লেখায় ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ রহস্যামৃত’ নামক উপন্যাসের বিরূপ পাঠ-প্রতিক্রিয়া দিয়েই ক্ষান্ত হন না, ‘যিনি প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার, স্বদেশ থেকে বিদেশের দাক্ষিণ্য-আনুকূল্য পেয়ে আসছেন… যিনি ট্রিলিজি, একব্যাগ প্রভৃতি বাজারে ছেড়ে অর্থ আর প্রচারের জোরে বেস্টসেলারে নাম তুলে, বাজারে হৈ চৈ ফেলে দিতে পারেন’ সেই শংকরের মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিতে খুঁজে পান ‘প্রতারণা’। কারণ? নতুন বা গোপন কিছু অনাবিষ্কৃত অপ্রকাশিত তথ্যের আশায় উক্ত বইখানি কিনে, কিছুটা পড়ে বুঝতে পেরেছেন রামকৃষ্ণদেবের অফসেট ছবিকে প্রচ্ছদ করে ধর্মীয় মোড়কের আড়ালে সত্য কাহিনির আভাস দিয়ে বাজারে চালান করা হয়েছে একটি বানোয়াট রহস্য-গল্প। ‘কীসের লোভে এই জালিয়াতি? ফেরেপবাজি, ঠকবাজি করা– শংকরের? নামের জন্য? অর্থের জন্য?… উনি আরও অর্থ উপার্জন করুন তাতে আমাদের কিছু বলার নেই। তা উনি পারেনও। কিন্তু এভাবে কেন?…’ ইত্যাদি। মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির সমালোচনার চেয়েও, অলোকবাবুর অভিযোগে বারবার অপ্রাসঙ্গিকভাবে ফিরে আসে শংকরের প্রতি অক্ষম ঈর্ষা, অর্থসন্ধানী বাণিজ্যিক মনোভাবের প্রতি সন্দেহ, সর্বোপরি ‘গ্রন্থ-সংস্কৃতি যে পণ্য-সংস্কৃতি হতে পারে না’ এমত মূল্যবোধের পুরাতন প্রশ্নটিও– সুতরাং যে কারণেই হোক শংকরের প্রচারকৌশল সেদিন ভালোভাবে নেয়নি ছোট-পত্রিকা। কলকাতা বইমেলায়, প্রকাশকের স্টলে বসে লেখকদের ‘বই-ছবি-সই’– এখন বিপণনের নয়া প্যাকেজ। হালেও ২০২৫ সালের পাঠককে দেওয়া অটোগ্রাফে নবতিপর শংকর-এর বয়সজনিত তারিখ-ভ্রান্তি ছোট পত্রিকার বুলেটিনে হয়ে ওঠে আলগা মশকরার বিষয়।

এসবই আসলে সাহিত্য আর পণ্য-সংস্কৃতিকে মেলাতে না-পারার নজির, গ্রন্থ-সম্পর্কিত তামাদি ভাবাদর্শের পুনরুৎপাদন। ‘শংকর’ পণ্য হিসেবে সার্থক বলেই পণ্যসাহিত্যকেন্দ্রিক তর্কটা তাঁকে ঘিরে রেখেছিল আগাগোড়া। মনোবিকলন বলবে, এর কারণ– প্রাতিষ্ঠানিক জনপ্রিয়তাকে ঈর্ষা, ফলত অস্বীকার। সম্প্রতি পণ্যপসরা নামিয়ে রাখলেন শংকর, এবং এই অস্বীকারই চিরস্বীকৃতি হয়ে রইল তাঁর।

mani shankar mukherjee Samaresh Majumdar Sandipan Chattopadhya Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar চৌরঙ্গী শংকর

Share this article on