
সুনীতিকুমার লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯১৭ থেকে ১৯২১-এর মধ্যে গবেষণা করে, তা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি. লিট. উপাধির জন্য পেশ করেন এবং সগৌরবে সেই উপাধি অর্জন করেন। বইয়ের ভূমিকায় স্যর জর্জ অ্যাব্রাহাম গ্রিয়ার্সন (যিনি সমস্ত ভারতীয় ভাষাগুলির জরিপ করেছিলেন ‘লিঙ্গুইস্টিক সার্ভে অব ইন্ডিয়া’ নামে একটি অবিশ্বাস্য সিরিজে) সুনীতিকুমারকে ‘নবযুগের পাণিনি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে বইটি দু’-খণ্ডে ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
লেখাপড়া-করা বাঙালিরা কেউ-কেউ জানেন এটা, এই ২০২৬, ‘ওডিবিএল’ প্রকাশের ১০০ বছর। যাঁরা ‘ওডিবিএল’ শুনে ভুরু কোঁচকাবেন– না, আমি বলছি না ভুরু কোঁচকানো অপরাধ– তাঁদের বলি, ‘ওডিবিএল’ প্রথমত একটা দু’-খণ্ডের ইংরেজি বইয়ের নামের সংক্ষেপ। নামটা হল ‘দ্য অরিজিন অ্যান্ড ডিভেলপমেন্ট অব দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুইজ’, লেখক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৮৯০-১৯৭৭)। এটি হল বাংলা ভাষার ইতিহাসের সেই মহাগ্রন্থ, যা সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত। ইংরেজি ছাড়া আর খুব কম ভাষার ইতিহাস এমন মহাকাব্যিক পরিসর পেয়েছে।

সুনীতিকুমার লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯১৭ থেকে ১৯২১-এর মধ্যে গবেষণা করে, তা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি. লিট. উপাধির জন্য পেশ করেন এবং সগৌরবে সেই উপাধি অর্জন করেন। বইয়ের ভূমিকায় স্যর জর্জ অ্যাব্রাহাম গ্রিয়ার্সন (যিনি সমস্ত ভারতীয় ভাষাগুলির জরিপ করেছিলেন ‘লিঙ্গুইস্টিক সার্ভে অব ইন্ডিয়া’ নামে একটি অবিশ্বাস্য সিরিজে) সুনীতিকুমারকে ‘নবযুগের পাণিনি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস থেকে বইটি দু’-খণ্ডে ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। পরে লন্ডনের ‘জর্জ অ্যালেন অ্যান্ড আনউইন’-এর প্রতিচিত্র সংস্করণ প্রকাশ করে এবং আরও পরে কলকাতার রূপা কোম্পানি একটি ছোট বাড়তি খণ্ড-সহ আনউইনদের সংস্করণটির প্রতিমুদ্রণ করে।
এ-বইটি বাংলা ভাষার সবচেয়ে বৃহৎ ও প্রামাণিক ইতিহাস। এমন বৃহৎ পরিসরে (প্রথম খণ্ড, পাঠবিষয় ৬৪৮ পৃ, দ্বিতীয় খণ্ড, ৬৪৯-১১৭৯) তারপরে আর কেউ এই ভাষার ইতিহাস লিখতে, কোনও ভাষাতেই সাহস করেননি। সংক্ষিপ্ততর পরিসরে বাংলায় লিখেছেন সুকুমার সেন ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। অন্য যাঁরা লিখেছেন, তাঁরা সিলেবাসের পাঠ্য বা নোট বইয়ের চাহিদাপূরণ করেছেন মাত্র। ড. শহীদুল্লাহ আর সেনই একটু নিজস্ব পথে এগিয়েছেন। এ-বইয়ে বাংলা ভাষার বয়স মোটামুটি ১০০০ বছরের মতো ধরা হয়েছে। অবশ্য সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান, বাংলা ভাষার ‘ক্লাসিকাল’ মর্যাদা উপার্জনের জন্য তার বয়স অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে, বোধ হয় ১৫০০ বছরের বেশি করেছে, কিন্তু তাদের সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণগুলি আমাদের কাছে নেই বলে, তার গ্রহণযোগ্যতা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে অপারগ। সুনীতিকুমার ১১ শতাব্দী থেকে বাংলার শুরু ধরেছিলেন।
এমন বৃহৎ পরিসরের একটি বইয়ে নানা বিষয়ে বিতর্ক ও মতদ্বৈধের সুযোগ আছে, বলা বাহুল্য। সমস্ত বিতর্কের সংকুলান একটি ছোট নিবন্ধে হওয়া সম্ভব নয়। যেমন, কবে বাংলা ভাষার শুরু হল, তা নিয়ে তখনও শহীদুল্লাহ বিতর্ক তুলেছিলেন, তিনি আরও দু’-তিনশো বছর পিছিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, আর এখনকার ক্লাসিকপন্থীরা তো আরও পিছিয়ে দিয়েছেন বাংলা ভাষার উৎপত্তি। তবে এটুকু বলা যায় যে, সুনীতিকুমার যেখানে প্রাচীন গ্রন্থ ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ বা চর্যাপদগুলিকে এ-ব্যাপারে একটি ভিত্তি ধরেছিলেন, লিখিত সাহিত্যই ভাষার প্রমাণ সেই তত্ত্ব থেকে, সেখানে অন্যরা লিখিত শিলালিপি, রাজার অনুশাসন ইত্যাদিকে প্রমাণ মেনেছেন। তাঁদের কথাও ফেলে দেওয়ার মতো নয়।

বিতর্ক কমবেশি আরও আছে। একটা হল, বাংলা ভাষার উৎস বা ‘গোত্র’ নিয়ে। পৃথিবীর ২৯টি ভাষাবংশের ঠিক কোন বংশে বাংলা ভাষার জন্ম? শতকরা ৯৯ জন মানছেন যে ‘আর্য’ ভাষা বংশে। এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর প্রভাবশালী এবং একাধিক মহাদেশে বিস্তারিত ভাষা-বংশ। ‘আর্য’ মানে ইংরেজিতে ‘এরিয়ান’, বাংলা এই মতে একটি নব্য ভারতীয় আর্য (নিউ ইন্দো-এরিয়ান) ভাষা।
এই ইন্দো-এরিয়ান এল কোথা থেকে? ভাষাবিজ্ঞানীরা বলেন, এল প্রায় ৪৫০০ বছরে আগেকার লুপ্ত ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে, যা ওই সময়ের আগে এশিয়ার ককেশাস অঞ্চলের লোকেরা বলত। তারা পশু চরাত। তারপর পশুর খাবার ফুরিয়ে যেতে নতুন চারণভূমির সন্ধানে তাদের একটা দল পশ্চিম দিকে ইউরোপে সরে যেতে থাকে, যেতে যেতে ওই পশ্চিম দিকেই তাদের দল ভাগ ভাগ হয়, ভাষাও আলাদা হতে থাকে। এইভাবে ওই ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে গ্রিক, লাতিন, বাল্তো-স্লাভিক, জার্মানিক, আর্মানীয়, আলবেনীয় ইত্যাদি প্রাচীন ভাষার জন্ম হয়, সেগুলি আবার সময় ক্রমে নতুন নতুন ভাষার খণ্ড খণ্ড হয়ে যায়। যেমন, জার্মানিক (অন্য নাম টিউটনিক) থেকে হয় ইংরেজি, জার্মান, ডাচ্, সুইডিশ ইত্যাদি ভাষা, বাল্তো-স্লাভিক থেকে চেক, পোলিশ আর রাশিয়ান, লাতিনীয় থেকে ফরাসি, স্প্যানিশ, ইতালীয়, রোমানীয় ইত্যাদি। গ্রিক, আরমানীয়, আলবেনীয় আর বেশি খণ্ড খণ্ড হয়নি।
এই পশ্চিমের ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে বাংলা ভাষা আসেনি। কিন্তু দূরের সম্পর্ক তো থেকেই যায়। এসব ভাষাকে বাংলার দূর-সম্পর্কের মাসতুতো বোন বলা যেতেই পারে, দীর্ঘদিন দেখাসাক্ষাৎ হয়নি, এই যা। পরে ইংরেজ ভারতে উপনিবেশ স্থাপন করলে দেখাসাক্ষাৎ হবে। বোনদের মধ্যে নানা মিলও খুঁজে পাওয়া যাবে।
মূল ভাষাটার জন্ম ভারতে নয়, তবু ইন্দো-ইউরোপীয় নামে ‘ইন্দো’ কথাটা এল কেন? তার কারণ, ওর সন্তান-সন্ততি হিসেবে যে ভাষাগুলি তৈরি হয়েছিল, তার একটি প্রচুর অংশ এই ভারতে, বিশেষ করে উত্তর ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল। তারই মধ্যে আছে মারাঠি, গুজরাত, হিন্দি, ওড়িয়া, বাংলা, অসমিয়া ইত্যাদি। তা যেভাবে হল এবার সেটা দেখি।
পশ্চিম দিকের অর্থাৎ, ইউরোপের কথা আমরা ওপরে বলেছি। কিন্তু পুবদিকে লুপ্ত ইন্দো-ইউরোপিয়ানের যে যাযাবর দলগুলি গিয়েছিল তারা প্রথমে গেল ইরান বা পারস্যে। তাদের ভাষা যা খাড়া হল, তার নাম হল ইন্দো-ইরানীয়। কিছু লোক ইরানে থেকে গেল, তাদের ভাষাও বদলাতে লাগল, অন্যান্য নাম পেল। কিন্তু ইরানেও যখন তাদের ধরল না, তখন তারা আফগানিস্তান পেরিয়ে ভারতে অভিযান করল। আফগানিস্তান পার হল, সেখানে পশ্তু, বেলুচ্, দর্দি ইত্যাদি ভাষা তৈরি হল, আর ভারত ভূখণ্ডে এসে তৈরি করল প্রাচীন ভারতীয় আর্য।
এই প্রাচীন ভারতীয় আর্যের প্রথমদিকের ভাষার সঙ্গে বেদের পুরনো ভাষার মিল আছে। আর তদ্দিনে লেখাও ভারতে এসে গিয়েছে (খ্রি.পূ. অষ্টম শতক)। তার থেকে একটা সাহিত্য রচনার বিশ্ববিখ্যাত ভাষা তৈরি হয়ে গেল, যার নাম সংস্কৃত। তাতে গড়ে উঠল এক বিশাল জ্ঞান ও সাহিত্যগ্রন্থের ভাণ্ডার। তা পরে লিখিত হয়ে সারা পৃথিবীর মনোহরণ করবে, আর তার সঙ্গে গ্রিক-লাতিন-প্রাচীন-ইরানীয় ইত্যাদি ভাষার মিল দেখেই উইলিয়াম জোন্সের মতো পণ্ডিতরা ১৭৮৬ সালে ওই প্রাচীন ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার যে একটা ছিল, তা কল্পনা করবেন।
কিন্তু আমাদের চেনা বইপত্রের সংস্কৃত একটা কৃত্রিম বা নির্মিত সাহিত্যের ভাষা, অনেকটা আমাদের সাধু বাংলা গদ্যভাষার মতো। তা বদলাতে পারে না, কারণ তা মুখে বলা হয় না। বদলাতে লাগল ওই সময়কার মুখের ভাষা, যার আভাস পাওয়া গিয়েছিল বেদের কবিতায়, ছান্দস্ নামেও তাকে কেউ কেউ ডাকতেন। তা প্রাচীন ভারতীয় আর্যের (খ্রি.পূ. ১৫০০-খ্রি.পূ. ৬০০) একটা রূপ। প্রাচীন ভারতীয় আর্য বদলে হল মধ্য ভারতীয় আর্যের নানা ভাষা (খ্রি.পূ. ৬০০-খ্রিস্টাব্দ ৬০০)। মুখের ভাষাগুলির নাম হল প্রাকৃত, যা উত্তর ভারতের নানা অঞ্চলে বা প্রদেশে মুখে বলা হত। তারও সংস্কৃতের মতো সাহিত্যিক রূপও ছিল, সেগুলি নানা অঞ্চলের সূত্রে (উত্তর-পশ্চিম, মধ্য, উত্তরপুর, পুব) মাহারাষ্ট্রী, শৌরসেনী, মাগধী ইত্যাদি নাম পেয়েছিল, বিশেষত নাটকে তার ব্যবহার পাওয়া যায়। বৌদ্ধধর্ম একটা সাহিত্যিক ভাষা তৈরি করে তার নাম পালি, আর জৈনধর্ম ব্যবহার করে আর একটা সাহিত্যিক ভাষা, তার নাম জৈন অর্ধমাগধী।
কিন্তু মুখের ভাষা তো থেমে থাকবে না, ক্রমে আরও বদলাবে। তাই ওই মুখের প্রাকৃতগুলি বদলে হল অপভ্রংশ। তখনও সেগুলি মধ্যভারতীয় আর্যেরই আওতায়। তার পরে ষষ্ঠ শতাব্দীর পরে অপভ্রংশগুলি একে একে নব্য ভারতীয় আর্যে, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি ইত্যাদি ভাষার প্রাথমিক রূপ নিতে লাগল, নবম থেকে একাদশ শতাব্দীতে তাদের আলাদা আলাদা চেহারা স্পষ্ট হতে লাগল। যেমন বাংলা আর ওড়িয়ার সীমানা তৈরি হল ওই সময়ে। আরও বেশি সময় লাগবে অসমিয়া আর বাংলার তফাত স্পষ্ট হতে।
এখন ‘ক্লাসিকাল’ এসে এই সময়ক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আমি ভাষার ইতিহাসের পণ্ডিত নই, আশা করি যাঁরা ভাষার ইতিহাসের চর্চা করেন, তাঁরা এ-বিষয়ে আমাদের পাকাপাকি সিদ্ধান্ত দেবেন।
আরও নানা ছোটখাটো বিতর্ক আছে, ‘ওডিবিএল’ বা ভারতীয় আর্যভাষার এই মহা-আখ্যানের সিদ্ধান্তগুলিকে ঘিরে। বাংলা বংশানুক্রমের দিক থেকে ‘আর্য’ ভাষা, কিন্তু এটা তো সবাই জানে যে, বাংঙালি নৃতাত্ত্বিকভাবে ‘আর্য’ জাতি নয়। অর্থাৎ, তারা নর্ডিক গোত্রের মানুষ নয়। তাদের বেশিরভাগের রং কালো বা শ্যামলা, তারা লম্বা নয়, তাদের চুল লাল নয়, তাদের চোখের রং নীল নয়, ইত্যাদি ইত্যাদি। যে-কোনও নৃতত্ত্বের বইয়ে খুঁজলেই তা জানা যাবে। তবে তার ভাষা কতটা ‘আর্য’?

এখানে যেন এই জেনে সতর্ক হই যে, নৃবিজ্ঞানের ‘আর্য’ আর ভাষার ‘আর্য’ (এরিয়ান) কথা-দু’টির অর্থ এক নয়। ভাষার আর্য কথাটা এসেছে ইরান (আর্যদের দেশ হল তার প্রাচীন নাম– ওইরিয়ানাম বএজো) থেকে। আর নৃতত্ত্বে ‘আর্য’ বলতে লৌকিকভাবে বোঝায় ওই ‘নরডিক’ গঠনের লোককে। ভারতে তথাকথিত ‘আর্য’ভাষা যার বলে, তাদের মধ্যে অনার্য রক্ত আর শারীরিক উপাদানই বেশি। বাঙালির মধ্যেও তাই। বাঙালির বাংলা বলার আগে অস্ট্রিক বা সাঁওতাল মুন্ডাদের ভাষা বলত, হয়তো একটা অংশ দ্রাবিড় ভাষা (তামিল-তেলুগুও) বলত। সে-সব ছেড়ে চতুর্থ শতাব্দীর পরে ‘আর্য’ভাষা মুখে তুলে নিয়েছে, আগের ভাষা ভুলে বা ছেড়ে দিয়ে। তাই বাংলাতে সাঁওতালি ইত্যাদি ভাষার প্রচুর শব্দ আছে, কিছু দক্ষিণি ভাষারও শব্দ বা বৈশিষ্ট্য আছে। সেটা সুনীতিবাবুই দেখিয়েছেন তাঁর বইয়ের প্রথম খণ্ডে। বাংলায় ক্রিয়াপদ ছাড়া বাক্য আছে, যা হিন্দি, মারাঠি ইত্যাদি ভাষায় নেই। ফলে বাংলায় অস্ট্রিক বা দ্রাবিড় প্রভাব যথেষ্ট, তাকে পুরোপুরি ‘আর্য’ভাষা বলা চলে কি না সন্দেহ। কোনও ভাষারই বংশগত বিশুদ্ধতা অক্ষুণ্ণ থাকে না, কারণ তাতে নানাভাবে নানা ভাষার শব্দ এসে ঢুকে পড়ে।
তবু প্রচুর সংস্কৃত শব্দের পরিবর্তিত রূপ অর্থাৎ, তদ্ভব বাংলা শব্দভাণ্ডারের মূল স্তম্ভ বলে বাংলাকে ওই আর্যবংশের ভাষা বলা হয় এবং তাতে অন্যায় কিছু নেই। আর তাছাড়া, বাংলা সাহিত্যের ভাষায় প্রচুর তৎসম শব্দের ব্যবহার হয়। সেগুলি সাহিত্য থেকে ধার করা শব্দ। তাই ‘আর্য’ ভাষার শ্রেণিতেই বাংলার স্থান।
আরও তর্ক আছে। বাংলার ক’টা ‘উপভাষা’, তাই নিয়ে। সুনীতিবাবুর মতে চারটি, সুকুমার সেন একটি (ঝাড়খণ্ডী) বাড়িয়েছেন, শহীদুল্লাহ আরও। ভাষা বদলাবে, তর্কও চলতে থাকবে। তবে এখন লেখাপড়া, ইংরেজির দাপট, সাহিত্য আর বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের দাপটে উপভাষাগুলির অবস্থা খুব খারাপ। সেগুলির দিন ঘনিয়ে এসেছে মনে হয়।
সে-যাই হোক, ‘ওডিবিএল’-এর মতো একটি মহাগ্রন্থ সব বিতর্কের মধ্যেও একটি অবিশ্বাস্য রকমের শ্রমসাধ্য গবেষণা ও সুদৃঢ প্রামাণিক ভিত্তির জন্য দীর্ঘদিন আমাদের সম্ভ্রম ও নির্ভরতার আকর হয়ে থাকবে। শতাব্দী পার হবে, কিন্তু ওই ভিত্তি তার সহজে টলবে বলে মনে হয় না।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved