

মেদিনীপুরে যাওয়ার অনেক আগেই সেই ১৮৪৬-এ বিস্কুট আর শেরি-সহযোগে আরও দুই বন্ধুর সঙ্গে রাজনারায়ণের ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ সারা। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই শেভালোয়র র্যামজের ‘ট্র্যাভেলজ অফ সাইরাস’ পড়ে প্রচলিত পৌত্তলিক ধর্মের প্রতি তাঁর মনে অনাস্থা তৈরি হয়। নন্দকিশোর মনে-মনে বিরক্ত হলেও পুত্রকে নিষেধও করেননি। অপৌত্তলিক ব্রাহ্মধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা।
ইংরেজিনবিশ বন্ধুটি ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনা করে বিশেষ সুবিধা করতে না-পেরে দেশে ফিরে বাংলায় একখানি কাব্য লিখেছেন। কিন্তু প্রকাশের আগে কাউকে শুনিয়ে মতামত নিতে হবে। কিন্তু শোনাবেন কাকে? এমন কাব্য লিখেছেন, তাতে মিলটনীয় প্রভাব ছত্রে-ছত্রে; যে-কেউ বুঝবে না। শেষে এক বন্ধুকে ধরলেন। শ্রোতা সেই বন্ধু এবং বিদুষী বন্ধুপত্নী, স্বামীর কাছেই তাঁর লেখাপড়া শেখা এবং ইংরেজি শিক্ষারও সূত্রপাত। কবিযশোপ্রার্থীকে নিরাশ করলেন না দু’জনেই। কাব্যপাঠ শুনে বন্ধুপত্নী ভূয়সী প্রশংসা করলেন। বন্ধুর তো কথাই নেই। পজেটিভ রিভিউ। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন নবীন কবি। কাব্য প্রকাশিত হল এবং সকলে চমকে উঠল। সেদিনের সেই নবীন কবি হলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত আর তাঁর বন্ধুটি হলেন রাজনারায়ণ বসু, যিনি জন্মের দ্বিশতবর্ষ পরেও বুদ্ধিজীবী বাঙালির অন্যতম আইকন হিসাবে প্রাতঃস্মরণীয়।

রাজনারায়ণের শৈশব কেটেছে কলকাতার অনতিদূরে বোড়াল গ্রামে। পরে লেখাপড়া শেখার জন্য কলকাতায় আসেন। উত্তরকালে রাজনারায়ণের ‘বিশিষ্ট’ হয়ে ওঠার বীজ নিহিত ছিল তাঁর পারিবারিক আবহাওয়ার মধ্যেই। কাকা হরিহর বসু ছিলেন উনিশ শতকের প্রথম বাঙালি বুদ্ধিজীবী রামমোহন রায়ের অনুবর্তী। গ্রামের ব্রহ্মজ্ঞানী দলের ‘কর্তা’। শ্রীরামপুর মিশনের মার্শম্যান সাহেবের কাগজ ‘সমাচার দর্পণে’ চিঠি প্রকাশ করে গ্রামের একদল তোলাবাজকে শায়েস্তা করেছিলেন। রাজনারায়ণের পিতা নন্দকিশোর বসু রামমোহন রায়ের স্কুলে ইংরেজি শিখেছেন। ভালো বলতে না-পারলেও লেখেন বেশ ভালোই। বেঙ্গল সেক্রেটারি হ্যালিডে সাহেব অনেক পরে ডেপুটি-পদপ্রার্থী রাজনারায়ণকে রেকগনাইজ করেছিলেন, নন্দকিশোরের ইংরেজির সূত্রেই। যদিও তাতে রাজনারায়ণের ডেপুটি-পদপ্রাপ্তি ঘটেনি। নন্দকিশোর কিছুদিন রামমোহন রায়ের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন, চেয়েছিলেন হেয়ার স্কুলে পড়ে ছেলে কোম্পানি ‘হৌসে’ চাকরির উপযুক্ত হয়ে উঠুক।

উনিশ শতক জুড়ে আলোকপ্রাপ্ত বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা দু’টি জিনিসের চর্চা করতেন– এক, ইংরেজি-সাহিত্য এবং দুই, ইতিহাস বা পুরাবৃত্ত। পরবর্তীকালে যিনি হয়ে উঠবেন বাঙালির অন্যতম ইন্টেকচুয়াল আইকন, তাঁর এ-ধরনের চর্চার সূত্রপাত ঘটে হেয়ার স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। এই সময়ই তিনি শিক্ষক হিসাবে পেয়েছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির পিতা দুর্গাচরণ ব্যানার্জিকে, যাঁর কাছে থেকে তিনি পেয়েছিলেন জ্ঞান ও অনুসন্ধানের খিদে। এঁর সঙ্গে আবার রাজনারায়ণের দেখা হবে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণের পর, দেবেন্দ্রনাথের তত্ত্ববোধিনী সভায়, এককালের সংশয়বাদী দুর্গাচরণ তখন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার এবং ব্রাহ্মসভার তরফ থেকে উপনিষদের ইংরেজি অনুবাদক। রাজনারায়ণের অনুপ্রবেশের সঙ্গে-সঙ্গে অবশ্য দুর্গাচরণের কাজটি বর্তায় রাজনারায়ণের কাঁধে এবং বলাই বাহুল্য নিজের কাজটি তিনি মনপ্রাণ ঢেলে করেছিলেন। হেয়ার স্কুলের হেডমাস্টার ছিলেন উমাচরণ মিত্র, তিনি মনের মধ্যে জাগিয়ে দিয়েছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা। স্কটের ‘আইভানহো’, পোপের কবিতা, ম্যাথু প্রিয়রের ‘হেনরি টু এমা’, স্যুইফ্টের ‘রবিনসন ক্রুশো’ দিয়ে শুরু; উত্তরকালে হিন্দু কলেজে একে-একে পড়বেন শেকসপীয়র, মিল্টন, বেকন, পোপ, গ্রে, হিউম, গিবন, মিটোফোর্ড, ফার্গুসন, এলফিনস্টোন, রাসেল আরও কত কী! এখানেই শেষ নয়। স্কুলে থাকতে-থাকতেই সহপাঠীদের নিয়ে প্রতি সোমবার হাতে-লেখা সংবাদপত্র ‘ক্লাব ম্যাগাজিন’ প্রকাশ করতেন। মূল উদ্যোক্তা রাজনারায়ণ, বলাই বাহুল্য। হিন্দু কলেজ তাঁর বৌদ্ধিক-চর্চার ক্ষেত্রটিকে আরও প্রসারিত করে। সেকালের রীতি অনুযায়ী সেরা উত্তরপত্র হিসাবে বেশ কয়েকবার রাজনারায়ণের লেখা সাহেবি-সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। অ্যাডাম স্মিথের ‘থিয়োরি অফ মোরাল সেন্টিমেন্টস্’ গ্রন্থের ওপর লেখার জন্য রূপোর মেডেলও পান তৎকালীন গভর্নর জেনারেলের কাছ থেকে। আর বন্ধুরা? তাঁরা সব এক-একজন জ্যোতিষ্ক। মধুসূদন ছাড়াও ছিলেন জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, প্যারীচরণ সরকার প্রমুখ। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন সিনিয়র ছাত্র। একেবারে যাকে বলে, চাঁদের হাট। তাঁদের মাঝে স্বমহিমায় রাজনারায়ণ তখন থেকেই ঝলমল করছেন। সাধে কি মধুসূদন এই বন্ধুর সঙ্গেই কেবল সাহিত্যের আলোচনা করতেন? বলতেন, ‘There is no man whose opinion I value more than that of a certain Midnapore pedagogue.’

মেদিনীপুরের শিক্ষাগুরুই বটে। সংস্কৃত কলেজ থেকে তখন তিনি বদলি হয়েছেন মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে। মফস্সলের সরকারি স্কুল। উপেক্ষিত, অবহেলিত। কোমর বেঁধে লাগলেন রাজনারায়ণ। তখন তিনি ছেড়ে এসেছেন, ব্রাহ্মসভার মাসিক ৬০ টাকা মাইনের অনুবাদকের কাজ। বন্ধুরা ভাবছেন, কলকাতার বেড়ে ওঠা রাজনারায়ণ ক’দিনই বা মেদিনীপুরের মতো হদ্দ মফস্সলে থাকতে পারবেন! অথচ হল উল্টোটা। ১৮৫১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেই-যে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে হেডমাস্টার হিসাবে যোগ দিলেন, তারপর পাক্কা ১৮ বছর কাটিয়ে অবসর গ্রহণের পরে তবেই ফিরলেন কলকাতায়। মাঝে প্যারীচরণ সরকারের মতো বন্ধুরা কত চেষ্টা করেছেন অন্য নানা লোভনীয় সরকারি চাকরিতে তাঁকে টেনে আনার, কিন্তু রাজনারায়ণ নিজের সিদ্ধান্তে অনড়, অটল। আজ মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল যে গরিমায় সমাসীন, তার প্রকৃত যাত্রা শুরু রাজনারায়ণের অক্লান্ত প্রচেষ্টার হাত ধরে। স্কুল পরিচালনায় তাঁর কৃতিত্ব দেখে বর্ধমানের কমিশনার এবং রেভিনিউ হ্যান্ডবুকের লেখক জে. এইচ. ইয়ং সাহেব রিপোর্টে তাঁকে ‘কৃতী ভদ্রলোক’ তথা ‘a gentleman of superior attainments’ বলেছিলেন। তবে কেবল স্কুলের উন্নতি নয়, মেদিনীপুরে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন, খেটে-খাওয়া মানুষদের জন্য নৈশ বিদ্যালয় এবং একটি গ্রন্থাগার স্থাপন তাঁর অনন্য কীর্তির মধ্যে কয়েকটি। আবার পরবর্তীকালে নিজের হিন্দু অথবা প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রথম পুনর্মিলন-উৎসবের সূচনাও তাঁর হাত ধরে, তাঁরই উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। এমনই বহুমুখী ছিল তাঁর ভাবনা-চিন্তা এবং কর্মকাণ্ড। সাধে-কি তাঁর মতো একজন মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীর রূপকথা লিখতে বসেছি আমরা?

মেদিনীপুরে যাওয়ার অনেক আগেই সেই ১৮৪৬-এ বিস্কুট আর শেরি-সহযোগে আরও দুই বন্ধুর সঙ্গে রাজনারায়ণের ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ সারা। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই শেভালোয়র র্যামজের ‘ট্র্যাভেলজ অফ সাইরাস’ পড়ে প্রচলিত পৌত্তলিক ধর্মের প্রতি তাঁর মনে অনাস্থা তৈরি হয়। নন্দকিশোর মনে-মনে বিরক্ত হলেও পুত্রকে নিষেধও করেননি। অপৌত্তলিক ব্রাহ্মধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা। আর এই সূত্রেই বয়সে ১০ বছরের বড় দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে সখ্যতার শুরু। কলেজের ইন্টেকচুয়াল অনুজকে চিনতে ভুল হয়নি দেবেন্দ্রনাথেরও। রাজনারায়ণ ব্রাহ্মসভার কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে গেলেও সখ্য বজায় ছিল আজীবন। উত্তরকালে রবীন্দ্রনাথ-সহ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির ছোটদের গৃহশিক্ষক ছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর নাড়ির যোগ স্থাপিত হয়েছিল তখন থেকেই। কেউ-কেউ মনে করেন, ‘গোরা’র পরেশবাবু আসলে রাজনারায়ণ বসুরই রেপ্লিকা। জীবনের শেষদিকে পীড়িত অবস্থায় অনেককাল দেওঘরে বাস করেছিলেন রাজনারায়ণ। তখন ঠাকুরবাড়ি থেকে ‘বালক’ প্রকাশের কাজ চলছে। ব্যস্ততার মধ্যেও রবীন্দ্রনাথ দেওঘরে গিয়ে তাঁর বাল্যকালের শিক্ষককে দেখে এসেছেন। গান শুনিয়েছেন।

উনিশ শতকে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের জাতে ওঠার জন্য সভাসমিতি গঠন ছিল আবশ্যিক। মুক্ত-স্বাধীন চিন্তার আঁতুরঘর হিসেবে এগুলির প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার না-করেও বলা যায়, গড়ে ওঠা সভাসমিতির বেশিরভাগই ছিল সাময়িক হুজুগ। রাজনারায়ণ অবশ্য যা করতেন, অন্তরের গভীর বিশ্বাস থেকে করতেন। ব্রাহ্মদের রীতি মেনে যেমন মেদিনীপুরে ব্রাহ্মসভা স্থাপন করেছেন, তেমনি সুরাপান নিবারণী সভার কার্যকলাপকেও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। এই আন্দোলনের উদ্গাতা বন্ধু প্যারীচরণ সরকারের যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন তিনি। ভাবা যায়, যাঁরা নিজেরাই একসময় টুপভুজঙ্গ হয়ে থাকতেন, তাঁরাই কি-না হয়ে উঠলেন সুরাপান-নিবারণের অগ্রদূত!

নিজের চারপাশের মানুষজনের ভালো করলে দেশেরও ভালো করা হয়– এই কথাটি বিশ্বাস করতেন তিনি। এই সূত্রেই ১৮৬৭-তে লেখেন একটি পুস্তিকা– ‘শিক্ষিত বাঙালিদের মধ্যে জাতীয় গৌরব সঞ্চারিণী সভা সংস্থাপনের প্রস্তাব’, যার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ঠাকুরবাড়ির প্রত্যক্ষ সহায়তায় নবগোপাল মিত্রের ‘চৈত্র মেলা’ বা পরবর্তীকালের ‘হিন্দুমেলা’র সূচনা। একইসঙ্গে স্বদেশপ্রেম, অন্যদিকে স্বদেশীয় শিল্পসংস্কৃতির প্রসারে হিন্দুমেলার ভূমিকা অগ্রণীর। এই সভা থেকেই রাজনারায়ণ ইংরেজি ভাষার প্রতি নির্ভরতা কমিয়ে স্বদেশি ভাষা-সাহিত্যের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন। কারণ, স্বদেশের দিকে দৃষ্টি না দিলে, স্বদেশীয়দের মঙ্গলবিধান অসম্ভব, এই বিশ্বাস তাঁর মধ্যে বদ্ধমূল ছিল। নিজে ইংরেজির শিক্ষক হয়েও বাংলা ভাষা-সাহিত্যের প্রতি এই গভীর অনুরাগকে কেউ স্ব-বিরোধিতা বলতে পারেন, কিন্তু আসলে এ-হল অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাস থেকে জন্ম নেওয়া বোধি, যা দেশ-কাল-আধারের সঙ্গে-সঙ্গে পরিণত হয়, রূপান্তরিত হয় গভীর প্রত্যয়ে। পাশ্চাত্য শিক্ষার হাত ধরে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে যাঁরা অর্জন করেছিলেন ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, যা আসলে নবজাগরণের অন্যতম লক্ষণ (নবজাগরণ আসলে চৈতন্যের জড়তা থেকে মুক্তি), রাজনারায়ণ বসু তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ফলে তাঁর সেকাল-একালের দ্বিধাবিভক্ত ভাবনাকে স্ব-বিরোধিতা না বলে সেই নতুন চেতনার বহিঃপ্রকাশ বলে ভাবতে হবে। তাঁর কাজকর্মই এর প্রমাণ। সেই কারণে পরাধীন ভারতে দেশীয়দের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন ১৮৭৬-এর ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’, যা ছিল ‘হিন্দু মেলা’র উত্তরাধিকার, রাজনারায়ণ ছিলেন তার প্রত্যক্ষ কাণ্ডারী-কর্মকর্তা। জাতীয়তাবাদের বিকাশের দিনে তাঁর কাজকর্ম প্রমাণ করে ধীরে-ধীরে দেশহিতৈষণাকে জীবনের ধ্রুবতারা করে তুলেছিলেন। ১৮৭৬-এ ‘সঞ্জীবনী সভা’ নামের গোপন সভা স্থাপন করে দেশীয় পদ্ধতিতে দেশলাই কাঠি কিংবা তাঁতে বোনা স্বদেশি পোশাক তৈরিও এই দেশহিতৈষণার লক্ষ্যেই। একে কেউ বিপ্লবীদের গুপ্ত সমিতির অগ্রদূত বলতে পারেন, না-ও পারেন; স্বাধীন ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখার তখনও সূচনা হয়নি, অতএব বড় প্রেক্ষিতে বিষয়টিকে না দেখাই সঙ্গত। কিন্তু এর দ্বারা স্বদেশের কর্মজীবী কারিগর-শিল্পীদের মঙ্গল হবে, দেশের উন্নতি হবে– এই স্বপ্ন দেখার মধ্যে কোনও ফাঁক-ফাঁকি ছিল না। উনিশ শতকে বাঙালিদের মধ্যে যাঁরা সচেতনভাবে এই স্বপ্ন বোনার কাজ করেছিলেন, রাজনারায়ণ বসু তাঁদের মধ্যে অন্যতম। উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি বুদ্ধিজীবী হিসাবেও তাঁর স্থান চিরকালের জন্য আমাদের হৃদয়ে পাকা।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved