Robbar

করিডরে তোয়ালে পরে ক্রিকেটাররা, পুরোহিত ঠিক করে দেন সময়সূচিও

Published by: Robbar Digital
  • Posted:August 16, 2023 6:39 pm
  • Updated:March 7, 2026 6:43 pm  

আইপিএল টিমের মালিকরা, যে-যাঁর নিজস্ব কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন, যা ক্রমে তাঁর দলের মধ‌্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এমনকী, শচীন জানাচ্ছেন, এই দলগুলোর মধ‌্যে এমন একখানা দলও রয়েছে যার পুরোহিত একটা সময়সূচি ঠিক করে দেন। কী ব‌্যাপারে? কোন সময় খেলোয়াড়দের হোটেল রুমে আসতে হবে। এবং কোন সময় হোটেল রুম ছাড়তে হবে তাদের! সেটা দিনের যে কোনও সময়ই হতে পারে, এবং ব‌্যাপার হল, এ ব‌্যাপারে কারও কোনও গাঁইগুঁইও শোনা হবে না। লিখছেন বোরিয়া মজুমদার।

বোরিয়া মজুমদার

আইপিএলের ভরা বাজারে, সাজঘরে, টিম মালিকদের আচরণের বিচিত্র রকমসকম দেখা যায়। শচীন তেণ্ডুলকরের ‘প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে’-তে এ-বিষয়ে খানিক টীকাটিপ্পনি রয়েছে।

শচীন জানাচ্ছেন, আইপিএল টিমের মালিকরা, যে-যাঁর নিজস্ব কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন, যা ক্রমে তাঁর দলের মধ‌্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এমনকী, শচীন জানাচ্ছেন, এই দলগুলোর মধ‌্যে এমন একখানা দলও রয়েছে, যার পুরোহিত একটা সময়সূচি ঠিক করে দেন। কী ব‌্যাপারে? কোন সময় খেলোয়াড়দের হোটেল রুমে আসতে হবে। এবং কোন সময় হোটেল রুম ছাড়তে হবে তাদের! সেটা দিনের যে কোনও সময়ই হতে পারে, এবং ব‌্যাপার হল, এ ব‌্যাপারে কারও কোনও গাঁইগুঁইও শোনা হবে না। সে যে অবস্থাতেই ক্রিকেটাররা থাকুক না কেন! পুরোহিত যখন বলেছেন, ধরে নিতে হবে সেটাই শেষকথা।

শচীন লিখছেন, “ক্রিকেটারদের হতভম্ব হয়ে করিডরে স্রেফ এক টুকরো তোয়ালে পরে ঘুরে বেড়াতে দেখেছি আমি। আবার এমনও হয়েছে যে, খেলোয়াড়দের খিদে-টিদে কিস‌্যু পায়নি, কিন্তু জোর করেই তাদের ‘ব্রাঞ্চ’ (ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চ একযোগে) করতে পাঠানো হচ্ছে! কারণ একটাই– হোটেল রুমে ওই সময়টায় থাকা যাবে না!” আরেকজন আইপিএল টিম মালিকের ঘোর বিশ্বাস বাস্তুতে। তাদের সাজঘর বাস্তুমতে যথাযথভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা– আয়নাগুলোও নির্দিষ্ট কোণের ছক মেনে রাখা।

ড্রেসিংরুমে মাস্টার ব্লাস্টারের মহড়া

ফেরা যাক তেণ্ডুলকরের কথায়। শচীন লিখছেন, ‘একবার আমাদের (মুম্বই ইন্ডিয়ান্স) বিরুদ্ধে একটি ম‌্যাচ, মুম্বইতেই, এই সংস্কারের ব‌্যাপারটা বোধহয় মাত্রাছাড়া হয়ে গিয়েছিল। ওয়াংখেড়েতে আমাদের সাজঘরের চেহারাটাই বদলে ফেলা হয়েছিল! ঘরের মাঠে খেলা থাকলে যেরকম থাকে আয়নাগুলো, তাদের অবস্থান বদলে ফেলা হয়েছিল। যেহেতু এটাও ছিল আমাদের ঘরের ম‌্যাচ, এই বদলটা ঘটেছিল রাত্তিরবেলায়। আয়নাগুলো ঢেকে রাখা হয়েছিল তোয়ালে দিয়ে, এটাই নিশ্চিত করতে যে, বিপক্ষকে তাদের স্বাচ্ছন্দ‌্যের লক্ষ্মণরেখা থেকে বের করে দেওয়া যাবে।’

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ড্রেসিংরুম

তবে, এই সংস্কারের ঝোঁকে অসংখ‌্য মজার ঘটনাও ঘটে।

একবার, কোনও এক বিশেষ মুহূর্তে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ক্রিকেটারদের বলা হয় যে, সাজঘরের বাথরুম তাঁরা ব‌্যবহার করতে পারবেন না। এমনকী, সেই বাথরুমের বাইরে ঝোলানো ছিল একটি সাইনবোর্ড, যেখানে লেখা: ‘বাথরুম আউট অফ অর্ডার’। একবার, দু’বার নয়, প্রায়শই এমনটা ঘটছিল। বারবার এহেন ঘটায়, নেহাতই কৌতুহলবশে এক ক্রিকেটার সেই আদেশ অমান‌্য করে বাথরুমে ঢুকে দেখেছিলেন– কোনওরকম সমস‌্যাই নেই, বরং দিব‌্যি ব‌্যবহারযোগ‌্য!

টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিংরুমে বক্তব্য রাখছেন কোচ গৌতম গম্ভীর

শচীনের স্মৃতি বলছে, ‘অবশেষে এইবার, দলের প্রত‌্যেকেই ঠিক করেন যে, এই বাথরুমই ব‌্যবহার করব আমরা। এই ব‌্যাপারখানা মোটেই আমাদের ম‌্যাচ জেতা আটকাতে পারবে না!’

…………………………

রোববার.ইন-এ পড়ুন বোরিয়া মজুমদার-এর অন্যান্য লেখা

…………………………