অলকানন্দা সেনগুপ্তের এই একক প্রদর্শনী আমাদের সময়ের এক দর্পণ। এখানে ক্ষমতার বর্বরতা যেমন উন্মোচিত, তেমনি মানুষের আর্তি ও প্রতিবাদও স্পষ্ট। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দাঁড়িয়ে অলকানন্দার শিল্পভাষা একদিকে উত্তরাধিকার বহন করে, অন্যদিকে সমকালীনতার এক স্বতন্ত্র ও প্রাসঙ্গিক অধ্যায় নির্মাণ করে।
সম্প্রতি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে হয়ে গেল নরেন্দ্রচন্দ্র দে সরকারের ছবির প্রদর্শনী। সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। আজ ৯৪ বছরেও তাঁর তুলি সমানভাবে সচল। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ– একটি চোখে প্রায় দেখতে পান না বললেই চলে। তবুও ছবি আঁকায় বিরতি নেই।
ছবির ভাবের সঙ্গে চিত্রশিল্পীর নিজস্ব ভাব মিশে থাকে, সেই ব্যাপারে ক্যামেরার যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা নিয়ে শিল্পীদের কোনও দ্বিমত ছিল না। ভারতশিল্পের অন্যতম রূপকার নন্দলাল বসু রাখঢাক না-করেই বলেছিলেন, ‘ক্যামেরা যন্ত্রমাত্র, হৃদয় ও বুদ্ধি নাই বলে তাতে প্রকৃতিতে যা আছে তার নিখুঁত ডিটেল উঠে মাত্র।’
এগজিবিশনের ব্যাপারটায় যে আভিজাত্য, প্রকাশই তা প্রথম ভাঙল। চারুশিল্পর ক্ষেত্রে শিল্পীর অন্তর্দৃষ্টি সাধারণ মানুষের বোধগম্যের বাইরের কিছু, সেটাও বোধহয় সে মানতে চায়নি। সেই কারণেই তো বলেছিল, তার আর্ট জনগণের আর্ট, ফুটপাতও তাদের সামনে আর্টকে তুলে ধরার উপযুক্ত স্থান হতে পারে এবং শিল্পী সমাজের তথাকথিত আভিজাত্যের লক্ষণে আঘাত করতে চায়।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved