Robbar

Folklore

ঢেঁকি মোটেই অকম্মার নয়

ঢেঁকির সঙ্গে শিবের গাজনের যোগ ছিল। কাঠের তৈরি বাণেশ্বরের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকার জন্য লোকে বলত ‘ঢেঁকি বাণেশ্বর’। উত্তর রাঢ়ের শিবগাজনে ভক্তদের সঙ্গে অনেকে মাথায় ঢেঁকি চাপিয়ে নাচতেন। আবার শিবতলায় গিয়ে কোনও ভক্তকে ঢেঁকির উপর বসিয়ে সাতপাক ঘোরাতেন।

→

হারানো সময়ের খেলাচ্ছড়া

‘টায়োস্কোপ’-এর মতো অপূর্ব অন্ত্যমিল বাংলা ছড়া ছাড়া আর কোথায় সম্ভব! শৈশবের ‘ইকড়ি মিকড়ি’ জনৈক ‘দামোদর’-এর ঘরদোর নিয়ে টুকরো অসংলগ্ন ছবিতে কত গল্পই বলে গেল; এইসব ছড়া বাংলা মৌখিক ধারায় ‘ননসেন্স রাইম’-এর আদিরূপ যেন।

→

বাঙালিনীর মৎস্য পুরাণ

বাঙালি মেয়ের সঙ্গে মাছের সম্পর্ক বেশ পুরনো। কোটা-রাঁধা-বাড়া কিংবা বেচাকেনা– দুই ক্ষেত্রেই মাছের সঙ্গে মেয়েদের সম্পর্ক নানাভাবে নানা স্তরে, আজও রয়েছে। আর তার সাক্ষ্য ধরা আছে মেয়েদের নিজস্ব গানে। মেয়েদের মৎস্যপুরাণ তাই অন্দর-বাহিরের নানা জানলা খুলে দেয়।

→

অসুরদের ফসল বলেই কি আখ বলিপ্রদত্ত?

আখের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসুর সংস্কৃতির প্রসঙ্গ। অনেকেই বলেন, আখ প্রথম লাগায় অসুররা। অসুররাজ বলির পাঁচ পুত্র– অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, সুহ্ম, পুণ্ড্র। তাদের নাম অনুসারে পাঁচটি দেশের মধ্যে অন্যতম হল পুণ্ড্র বা উত্তরবঙ্গ। পণ্ডিতদের মতে ‘পুণ্ড্র’ শব্দের অর্থ এক জাতের আখ। যেমন দেশি আখের নাম ‘পুঁড়ি’।

→

‘ঠাকুরমার ঝুলি’-তে মেয়েরা কি কেবলই দুয়োরানি?

একদিকে ঘুমন্ত পুরীর রাজকন্যারা। আক্ষরিক অর্থেই স্বরহীন আর ঘরবন্দি। রাজপুত্তুরেরা উদ্ধার না করলে এ জীবনের সব রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ যাদের অধরাই থেকে যেত। আর-একদিকে ঘুঁটেকুড়ুনি ছোটোরানি, কুঁড়েঘরে থাকা দুয়োরানিরা। ড্যামসেল ইন ডিস্ট্রেস। তবে সুন্দরী, দুঃখিনী, প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি এরা আদর্শ সন্তানের মা।

→

মুর্শিদাবাদের কালোবরন লোকদেবী কৃষ্ণাচণ্ডী

একটা বটবৃক্ষের ভিতর একটা কালো পাথরের পুজো হচ্ছে। তিনি কৃষ্ণাচণ্ডী। আগে মুখের একটা অবয়ব বোঝা গেলেও, এখন সিঁদুর লেপে মুখ আর বোঝা যায় না। তবে দেখে মনে হচ্ছিল কিছুটা বৌদ্ধদেবীর আদল।

→

বাংলার মনসা ও চণ্ডীপুজোর ধারা এসে জগৎগৌরীতে মিলেছে

সর্পদেবী হিসাবে বাংলায় বৌদ্ধদেবী জাঙ্গুলি অতি জনপ্রিয় দেবী ছিলেন। সাপের ওঝাকেও একসময় জাঙ্গুলিক বলা হত। সেইদিক থেকে দেখলে জগৎগৌরী আসলে চণ্ডী, মনসা ও জাঙ্গুলি তারার সমন্বয়ী দেবী।

→

লোকখেলার মধ্যে মিশে রয়েছে হাজার বছরের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতি

আনন্দ-বিনোদন খেলার মুখ্য বৈশিষ্ট্য হলেও হাজার হাজার বছরের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতিকে প্রকাশ করার স্বভাবগত তাগাদা খেলার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়। অনেক সময় গোষ্ঠী বা জাতির ঐতিহ্য প্রকাশের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

→

তেনাদের পুজো, তেনাদের মেলা-মোচ্ছব

প্রাচীন ভারতবর্ষে সবচেয়ে জনপ্রিয় লোক উৎসব অর্থাৎ ‘মহামহ’ পরব ছিল চারটি– ইন্দ্রমহ, স্কন্দমহ, যক্ষমহ এবং ভূতমহ। প্রাকৃত ‘মহ’ শব্দ থেকে একালের ‘মেলা’ কথাটি এসেছে। ভূতমহ পালিত হত চৈত্র পূর্ণিমায়। ভূতমহ লুপ্ত হলেও, এখনও ভূত বা রাক্ষস-রাক্ষসীর পুজো হয় বাংলার বিভিন্ন স্থানে।

→

কেবল কালী নন, লৌকিক লক্ষ্মী ঠাকরুনও দাঁড়ান স্বামী নারায়ণের বুকে পা রেখেই

রাঢ় অঞ্চলে মরাই-লক্ষ্মীকে নিত্যদিন সকাল-দুপুর-সন্ধে ধূপধুনো দেখানো হয়। মরাই-লক্ষ্মীর বিশেষ পুজো হয় পৌষমাসে ‘পৌষলক্ষ্মী’ হিসাবে। আউশ ধান কুলীন নয়। আউশ ধানের দেবী হলেন লোকায়ত ভাদু-লক্ষ্মী। ভাদু-লক্ষ্মী নাচে গানে সন্তুষ্ট হন।

→