কবি হিসেবে জয়ের প্রতিষ্ঠা বাইরের দিক থেকে যতটা বিস্ময়কর, ততটাই বিস্ময়কর তাঁর কবিতা নিয়ে অনবরত সংশয়ী প্রশ্ন করে চলা। তিরবিদ্ধ হরিণ যেমন বাঁচার পথ খোঁজে, কবিতাবিদ্ধ শরীরেরও তেমনই রক্তাক্ত পথ-সন্ধান জরুরি। তা কবির জন্য যেমন সত্য, কবিতা পাঠকের জন্যও তা-ই।
মাথা-বোঝাই ধান নিয়ে বাড়ি চলেছে চাষি। কাজ থেকে ফেরার পথে বানি-গরান-ঝাউয়ের জঙ্গলে, গাছের ছায়ায় মেয়েরা আজকাল জিরিয়ে নিতে পারে একটু। ওরা মনে মনে কুর্নিশ করে সেই মানুষকে, যিনি কবিতা লিখতে লিখতে ছায়াটুকুও আনিয়ে দিয়েছেন নোনা জলের মাটিতে। মেরু দেশের বরফ গলছে। পায়ের নিচে মাটি কতক্ষণ? স্মৃতি শুধু বলে যাবে– চেষ্টা চলেছিল সৃজনের।
হিন্দি কবি ও কথাকার বিনোদ কুমার শুক্ল গত ২৩ ডিসেম্বর চলে গেলেন। তাঁর যাওয়ার সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে জুড়ে গেল আরাবল্লি বাঁচানোর আন্দোলন। প্রকৃতির ওপর শ্যেন দৃষ্টির কারণ যে মানুষের সীমাহীন চাহিদা আর প্রাকৃতিক সম্পদের চড়া বাজারদর, সেই কথাটা তিনি আমাদের অনেক দিন আগে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।
এই কাব্যগ্রন্থের শীত দুঃসহ, রিক্ত, জীর্ণ পাতা ঝরাবার বেলা নিশ্চয়ই। আবার মনে হয় কবিজীবনের দিকে তাকালে মধ্যবয়সের এক অকাল বৈধব্য। আবার এই শীত জন্মান্তর। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নতুন বীজের বসন্তের বার্তা।
বরানগর এলাকার বাসিন্দা নকশাল আন্দোলনের তীব্রতা, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন থেকে তিনি কি কোনও রসদ পাচ্ছেন না? ওই ‘ব্যাঙের রক্ত’, ‘বাজি পোড়ানো’, ‘হৈ হল্লা’ ভাস্করের মতো নির্জনতা-প্রিয় কবিকে উত্যক্ত করছে না? হতেও তো পারে শীতের অপেক্ষায় আছেন, যাতে এই হাইবারনেশনে তিনমাস রক্ত হত্যা শব্দবাণ থেকে মুক্তি পেতে পারেন কিছুটা?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved