যখন চারিদিকে এই ঘৃণার পরিবেশ, যখন আমাদের চেনা শহরেও চিকেন প্যাটিস বিক্রি করার অপরাধে হেনস্তা হতে হচ্ছে, যখন একটি কলকাতার বিখ্যাত রেস্তরাঁতে একজন মুসলমান বেয়ারাকে, একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তাঁর ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ শুনতে হচ্ছে তখন উত্তরাখণ্ডের ‘মহম্মদ দীপক’ যেন রূপকথার চরিত্র হিসেবে সামনে আসছেন।
যারা আজকের বাংলাদেশকে এই হিংসা আর মূঢ়তার অন্ধকারে নিয়ে যেতে চাইছে, তারা ‘মৌলবাদী’ বা সাম্প্রদায়িক শুধু নয়, তারা জেহাদি এবং কোনও ধর্মের জেহাদিদের দ্বারাই কোনও সদর্থক কাজ হতে পারে না।
আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি প্রতিদিন এই সমাজটাকে সুস্থ মানুষ-বান্ধব করে তোলার। তবুও আমরা সমষ্টির হাতে মারা পড়ছি, সমষ্টির বোধের মৃত্যু ঘটছে। ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের অবিশ্বাসের ফল এই নিদারুণ পরিকল্পিত ক্ষুব্ধ হত্যাগুলি।
পকেটমারকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মারতে দেখেছে শৈশব, তার থেকে পালিয়ে আমরা যাব কোথায়?
কিন্তু কেন আমরা এত হিংস্র হয়ে উঠলাম? কেন তাকে পিটিয়ে মারার আগে খেতে দিলাম? কী জানি, একেক সময় মনে হয়, পথের ধারে যে মাংসর দোকানের সামনে দিয়ে আমরা যাতায়াত করি আর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, সেখানেও কাটার আগে পাঁঠাকে কাঁঠাল পাতা খেতে দেওয়া হয়।
সমষ্টির সদর্থক ভূমিকা উদযাপনের কালে যেন আমরা সমষ্টির এই কদর্য মুখও না ভুলি।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved