কিছু কিছু ‘ভিড়’ হয়ে ওঠে রাজনৈতিক আগ্রাসনের আরেক চতুর মুখচ্ছবি। ভিড়ের মধ্যে সেই মিশে থাকা ভিড় আনন্দজল-ভরা চোখের চিৎকৃত ‘ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া’ বা ‘জনগণমন’র মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চায় ‘ভারতমাতা কি জয়’ কিংবা ‘জয় শ্রীরাম’। ভিড় থেকে আলাদা হয়ে ওঠে আরেক ভিড়।
আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে সবাইকে তাজ্জব করে দিয়ে হাজির হয়েছিলেন ‘অগ্রন্থিত’ এক ‘শক্তি চট্টোপাধ্যায়’! কবিতা নয়, কবি স্বয়ং। কারণ তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন তাঁর ‘আমি’র আর কোনও অস্তিত্ব নেই, বিবরণ নেই, সত্তাভেদ নেই, একমাত্র তাঁর কবিতা ছাড়া। তিনি নিজেই দীর্ঘ এক কবিতা। অগ্রন্থিত।
জীবনের ব্যক্তিগত স্তরেও আসলে আমরা বহু তালা বয়ে বেড়াই। অভিমান, ভয়, অপরাধবোধ। এসব আমাদের ভিতরের কক্ষগুলো বন্ধ করে রাখে। বাইরে থেকে কেউ জোর করলে দরজা ভাঙতে পারে, কিন্তু ভাঙা দরজা নিরাপত্তা দেয় না। দরকার হয়, সমঝোতা, ক্ষমা, ভালোবাসার মতো একটি উপযুক্ত চাবি।
এই ভারতে আজ সারারাত বাজি পুড়বে। উৎসব হবে। বলা ভালো ‘উদযাপন’। এ জয় যে রিডেম্পশানের, ফিরে আসার। রিঙ্কু সিং বিশ্বকাপের মাঝে পিতৃহারা হলেন। সেই রিঙ্কু দিন ঘুরতে না ঘুরতেই দলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গাইলেন রবীন্দ্রনাথ– 'পঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মারাঠা দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ...’, ফিল্ডিং করতে নেমে প্রাণপণ ছুটলেন, যেন বোঝাতে চাইলেন– এই বিশ্বজয়ী ভারতের অংশ হিসেবে তারও কিছু খড়কুটো থেকে যাক। এ দলে, তিনিও তো আছেন।
শিবরামের সঙ্গে প্রেমেন্দ্র মিত্রের বন্ধুত্ব কিন্তু তাতে নষ্ট হয়নি। বন্ধু ‘শিব্রাম’কে নিয়ে একাধিক লেখা লিখেছেন প্রেমেনদা। আবার ‘পাতালে পাঁচ বছর’ প্রথমবার প্রকাশের পরে শিবরাম লিখেছিলেন– ‘পাতালে বছর পাঁচেক’ নামে একটি গল্প।
অরুণিমা চৌধুরী শিল্পী। তাঁর ছবির বিষয় নারী ও প্রকৃতি। ছবি আঁকেন মূলত প্রাকৃতিক রঙে। দীর্ঘদিন ধরে ফুল-ফল-পাতা থেকে তৈরি রং নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে চলেছেন। ৭৫ পেরিয়েও শিখে চলেছেন নিত্যনতুন মিডিয়াম। তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এল বিকাশ ভট্টাচার্য, কে জি সুব্রহ্মণ্যম থেকে সমরেশ বসু, প্রদ্যুম্ন ভট্টাচার্যদের কথা। উঠে এলেন রবীন্দ্রনাথ, পৃথিবীর ভবিষ্যৎ ও আশঙ্কার কথা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশেষ এই সাক্ষাৎকার।
ছবি তোলা আজ শিল্পের স্বীকৃতি পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রত্যহ অগুনতি ছবির ছড়াছড়ি, কতরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা আজ ফোটোগ্রাফি নিয়ে। আজ তাই স্মৃতিমেদুর দীর্ঘ দৃষ্টিপাত সেই মানুষগুলোর যাপনের ওপর যাঁরা নিজস্ব প্রত্যয়ে ঘরের সঙ্গে সেতু বেঁধেছিলেন আরও অনেক ঘরের। নিজের অজান্তেই নাম লিখিয়েছিলেন সেই প্রথমাদের দলে, যারা নিঃশব্দে নীরবে লিখে গিয়েছেন যুগবদলের খতিয়ান। একান্ত চারণে আগামীর জন্য তুলে রাখে সমকালের চালচিত্রখানি।
২০২৬ সালের ‘আন্তর্জাতিক মহিলা কৃষকবর্ষ’-কে সামনে রেখে সম্পত্তির মালিকানা, লিঙ্গবৈষম্য নিরসন এবং কৃষি উপকরণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলে বিশ্ব-কৃষিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
‘আমার কাছে খবর আছে’– বলতে বলতে এই প্যাটার্নে অনেকেই মৃত্যুসংবাদ আগে জেনে এবং জাঁকজমক সহকারে ফোনে বা পাড়ার মোড়ে বলে অকারণ এক আজব গুরুত্ব পেতে চায়। এটা একটা সামাজিক ক্ষমতা দেখানোর বিচিত্ বহিঃপ্রকাশ।
১৯৭২-এর শুরু থেকে সে বাড়িছাড়া। তার কথার আভাস থেকে বাহাত্তরের কলকাতার ত্রাস গোপন রইল না। কলকাতা থেকে সে কোনও রকমে চেন্নাই, সেখান থেকে ভাগ্যের সঙ্গে ভেসে পড়ে পোর্ট ব্লেয়ার। গত সাত বছরে সে মায়ের কোনও খোঁজ জানে না। মাকে সে জানাতে চায় যে সে বেঁচে আছে, ভালো আছে।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved