জপমালার প্রতিটি দানা শরচ্চন্দ্র ব্যবহার করতেন পথ মাপার জন্য। প্রতি ১০০ কদম হাঁটার পর তিনি একটি করে দানা সরাতেন। তাঁর প্রার্থনাচক্র বা জপযন্ত্রের ভেতরে পবিত্র মন্ত্রের বদলে লুকনো থাকত কম্পাস এবং জরিপের মানচিত্র। এমনকী তাঁর লাঠির খোপে লুকনো থাকত থার্মোমিটার।
গত বছর এই ক্যালেন্ডারের বিষয় ছিল, আমাদের দেশের মানুষের খাবারের বৈচিত্র। ২০২৬ সালকে ধরলে, এই ক্যালেন্ডার এবার পঞ্চম বছরে। এবারে এই ক্যালেন্ডার চেষ্টা করেছে শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের জীবন্ত গল্পগুলিকে তুলে ধরতে।
যখন কার্টুনিস্ট চণ্ডী লাহিড়ীর সঙ্গে কাজ করতাম, তখন একটা অদ্ভুত জিনিস জানলাম। ওঁর লেখা, মানুষ কী করে মানুষ হল– এই বিষয়ের ওপরে একটা বইয়ে বলেছেন: কড়ি যেমন ছোট ছোট পয়সা, তেমনই তার চেয়ে বড় পয়সার জন্য কাঠঠোকরার মাথায় আয়োজন। আশ্চর্য! কাঠঠোকরার মাথার খুলি না কি ছিল কড়ির চেয়ে দামি মুদ্রা!
গত শতকের আটের দশকের সূচনায় শান্তিনিকেতনের গুরুপল্লীতে এক পৌষসন্ধ্যায় নির্বাপিত হল নিভৃত বিপ্লবী সত্যেন সেনের প্রাণপ্রদীপ। কিছু নিকট আত্মীয়স্বজন ছাড়া শান্তিনিকেতনে তাঁর আট বছর অবস্থানের কথা জানবার চেষ্টা করেননি কেউ। অথচ উভয় বঙ্গের কমিউনিস্ট আন্দোলনের, কৃষক আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ছিলেন এই অকৃতদার মানুষটি।
ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। জন্মাবধি দৃষ্টিহীন। পেশায় শিক্ষক। ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে জড়িয়ে রয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকাডেমির দৃষ্টিহীন ছাত্রদের শিক্ষাদানের সঙ্গে। জড়িয়ে রয়েছেন পূর্ব ভারতের প্রাচীনতম ব্রেইল প্রেসটির সঙ্গেও। বিশ্ব ব্রেইল দিবস উপলক্ষে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তায় উঠে এল দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, মানসিক বিকাশ থেকে শুরু করে বাংলা ভাষায় ব্রেইল ছাপার বহু অজানা ইতিহাস।
নীতি আয়োগের ২০১৮ সালের রিপোর্ট বলছে, অনিরাপদ পানীয় জলের কারণে এ দেশে প্রতি বছর গড়ে দুই লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডের মতো জলবাহিত রোগই এর প্রধান কারণ। প্রতিবেদনটির কম্পোজিট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনডেক্স-এ বলা হয়েছে যে, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জলের উৎসই কোনও না কোনওভাবে দূষিত, ৭৫ শতাংশ পরিবারেই নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই এবং প্রায় ৬০ কোটি মানুষ তীব্র জল সংকটে ভুগছেন।
সত্যজিৎ রায় বিশ্বাস করতেন, মানুষের সত্য আত্মপ্রকাশ ঘটে তখনই, যখন সে সামাজিক মুখোশের বাইরে থাকে। অপুকে তাই তিনি কোনও নাটকীয় প্রবেশে পরিচয় করাননি। কেবল একটি মাত্র চোখই যথার্থ সেখানে।
তিনি মহাভারতের সঞ্জয়ের উত্তরসূরি, যুদ্ধক্ষেত্রে কী ঘটে যাচ্ছে তার বিশ্বস্ত বর্ণনাই তার কাজ। একেবারে আলাদা, অন্য লিখনরীতি, তবুও বাংলা ছোটগল্পের স্পন্দিত ভুবনে ‘মহেশ’, ‘আদাব’, এমনকী, ‘একটি তুলসী গাছের গল্প’ পাঠক যতটা মনে রাখেন, দিব্যেন্দুর ‘হিন্দু’ ততটা মনে থাকে কি?
আত্মপরিচয়ের রাজনীতির সুত্রপাতেই কবিরা যদি, আমি একজন কবি– একজন নিগ্রো কবি নই– এই দাবি করেন, শিল্পীরা যদি নিজেদের শুধু শিল্পী হিসেবে দাবি করতে যান, তাহলে আফ্রিকি উত্তরাধিকার ছেড়ে তাঁরা সমসত্ত্ব ও হেজিমনিক আমেরিকি আধুনিকতায় গ্রস্ত হয়ে যেতে পারেন।
আমার তরুণ বয়সকে মাতিয়ে ছিলেন তিনি! এখনও জীবনপ্রান্তে সেই তরুণী আমার অনিরুদ্ধ অভিযান!
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved