গত শতকের আটের দশকের সূচনায় শান্তিনিকেতনের গুরুপল্লীতে এক পৌষসন্ধ্যায় নির্বাপিত হল নিভৃত বিপ্লবী সত্যেন সেনের প্রাণপ্রদীপ। কিছু নিকট আত্মীয়স্বজন ছাড়া শান্তিনিকেতনে তাঁর আট বছর অবস্থানের কথা জানবার চেষ্টা করেননি কেউ। অথচ উভয় বঙ্গের কমিউনিস্ট আন্দোলনের, কৃষক আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ছিলেন এই অকৃতদার মানুষটি।
শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের নিরন্তর আসা-যাওয়া পাঠগ্রহণ দুই বাংলার মধ্যে সেতু রচনা করে আসছে নিরন্তর। ছায়ানটের সঙ্গে প্রতিনিয়তই সেই বিনিময় ও বন্ধন অটুট রয়েছে। কারণ, আমরা রবীন্দ্রনাথকে আমাদের ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি ও মানবতার বটবৃক্ষ রূপে জানি।
আজ যদি শান্তিনিকেতনের উপাসনাগৃহ আঘাত পায়, আমি মনে করি, ঠিক তেমনই আঘাত পেয়েছে ছায়ানট।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মা ছেলেমেয়ে নিয়ে আগরতলা কলকাতা হয়ে শান্তিনিকেতনে। ঈদের সময় মায়ের কিপটের মতো শুধু জর্দা পোলাও রান্না। দু’-একজন বন্ধু আসে কি আসে না। ব্যস ওইটুকুই। স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরার পরে নানুর আশ্রয়ে কিছুদিন থেকে মা থিতু হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকায়। প্রায় দুই দশক অন্য এক ঈদের স্বাদ।
আমাদের এই ভাগ হয়ে যাওয়া দুই বাংলার দুই ব্যক্তিত্ব। একজনের হাতে কলম, অন্য জনের গলায় শুধু গান। দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্জীদা খাতুন। দু’জনের মধ্যে ছিল এক আশ্চর্য ভালোবাসার সম্পর্ক। আজ, সন্জীদা খাতুনের জন্মদিন উপলক্ষে দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা সন্জীদা খাতুনের তিনটি অপ্রকাশিত চিঠি, রোববার ডিজিটালে।
এই শতকের সূচনায় সন্জীদা খাতুন ফিরে এসেছিলেন শান্তিনিকেতনে। গবেষণার বিষয় করলেন রবীন্দ্রসংগীতের স্বরলিপির ইতিবৃত্তকে। তখন তাঁর অবস্থান পূর্বপল্লীর পঞ্চবটি বাসগৃহে।
শান্তিনিকেতনের সবার গলায় গান, সবার কানে সুর। রবীন্দ্রনাথ থাকবেন– অথচ সেখানে আশ্রমকন্যাদের গানের কথা থাকবে না!
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved