Robbar

মৃণালের অঞ্জন, অঞ্জনের মৃণাল

‘চালচিত্র এখন’ ছবিতে অভিনেতার ক্যানভাস রঙিন হয়ে উঠেছে অঞ্জনের চোখে ‘মৃণালদা’র যে প্রতিফলন হয়েছিল, তাই দিয়ে। সম্পূর্ণ মানুষটাকে নয়, বরং তাঁদের নিবিড় গুরু-শিষ্যের সম্পর্কটিকে অঞ্জন দত্ত তুলে ধরতে চেয়েছেন।

→

মৃত্যুর সঙ্গে একদান

মৃত্যু। তার সঙ্গে একদান। দাবায়। এ দৃশ্য তৈরি করেছিলেন বার্গম্যান। মৃত্যু কি এতই সহজ? এতই সহজ তার সঙ্গে সংলাপ? মৃত্যুর সৌন্দর্য ও ভয়াবহতার মিশেলে গড়ে উঠেছিল চলচ্ছবির এক নতুনতর ভাষ্য। বার্গম্যানের জন্মদিনে রইল তাঁর ছবির মৃত্যুর দর্শন।

→

নির্বাকের রূপদক্ষ শিল্পী

চ্যাপলিন শব্দের বিড়ম্বনাকে মূকাভিনয়েরই একটা এক্সটেনশন বানিয়ে ফেলেন, হিঙ্কলের ভাষার মর্মার্থ অভিধানের মুখাপেক্ষী থাকে না। টুথব্রাশ গোঁফে তা দিয়ে চ্যাপলিন বলতে চান, ‘একঘেয়ে লাগল নাকি?’

→

তারা ফরাসি জার্মান জানে না, কাঁদতে জানে

আজ ইরান যে মুক্তি চায়, তার আলো তেহ্‌রানের হাইরাইজে কার্পেটে-মোড়া লিভিং রুমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার স্বাদ ও সম্ভাবনা পৌঁছে দেবে সেই প্রত্যন্তবাসিনীদের অবগুণ্ঠনের অন্তঃপুরেও– কবিগুরুর কলম ধার করা বাংলার সেই ‘সাধারণ মেয়ে’র মতোই যারা ‘ফরাসী জর্মান জানে না, কাঁদতে জানে’।

→

বন্দে মাতরম্‌-এ ভাষা যা হইলেন

ভবানন্দ গাইছিল দেবভাষায়, যেন স্তবগীতি। আন্দাজ করি, আরাধ্যার রূপ-মাধুর্য বর্ণনার পরে তার কণ্ঠ ক্রমশ উদ্দীপনার তীব্রতায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠেছিল, ‘সপ্তকোটিকণ্ঠকলকলনিনাদকরালে–’; হঠাৎ নেহাৎ প্রাকৃতভাষায় বালকোচিত অনুযোগে সে আত্মধিক্কার ব্যক্ত করে বসে– ‘অবলা কেন মা এত বলে?’ স্তোত্র নেমে আসে স্লোগানে। দার্শনিকের অধ্যাত্ম সশস্ত্র বিপ্লবের উপযোগী হয়ে ওঠে।

→

গদারের ‘পেনেলোপি’

ব্রিজিট বার্দোর ক্যামিল চরিত্রটি প্রেম, নির্ভরতা ও স্বায়ত্তশাসনের টানাপোড়েনের প্রতীক। ‘লে মেপ্রি’-তে গদার দেখান, কীভাবে গ্রিক পুরাণের ওডিসি আধুনিক পুঁজিবাদী প্রযোজনার ভেতর পুনর্লিখিত হয়। বাস্তবের দুনিয়ায় দেবতারা নেই– আছে প্রযোজক, বাজার, আর আপসের নীরব হিংসা।

→

বিধাতার চিত্রনাট্যকে শোধরানোর চেষ্টা করেননি গদার

সুমনের ‘পাগল’ বিধাতার সঙ্গে সাপ-লুডো খেলছিল– আমরা সবাই খেলছি। গদার হেরে-যাওয়া খেলায় শেষ পর্যন্ত ‘ছায়ার সঙ্গে কুস্তি’ লড়েননি– তিনি ‘এই মাত্র! আর কিছু নয়’-কে ডিঙিয়ে যেতে চেয়েছেন। বোর্ড উল্টে দিয়েছেন অতর্কিত ‘কাট্’-এ।

→

মহাকালের চিত্রনাট্যে ক্রমেই বাদ পড়ছে ঋত্বিক ঘটকের স্বপ্ন

বিখণ্ডিত বাঙালি জাতির জন্য কি মিলনান্তিকতা আশা করেছিলেন ঋত্বিক? ‘কোমল গান্ধার’-এ অবুঝ অনসূয়া তো শুরুতে চেষ্টা করেছিল দুই দল একসঙ্গে একটা প্রোডাকশনের ব্যবস্থা করতে, ঋত্বিকের নিজের চিত্রনাট্যেই কি তার পরিণতি শুভ হয়েছিল। মহাকাল যে আরও নির্মম এক চিত্রনাট্যকার।

→