যুদ্ধের প্রভাব থেকে জাত শিল্পের ভাষা প্রতিমার মুখের মতো নির্মল নয়। তা বক্র; তির্যক; জটিল। কারণ সত্য প্রকাশের ভাষা নিটোল হয় না। এই truth of art-এর কথাটা মনে রাখাটা আমাদের আশু কর্তব্য। না হলে সত্যনিষ্ঠ শিল্প প্রান্তিক হয়ে পড়ে। তার জায়গা নেয় falsity of art।
১৫০ বছর আগের একটা মানুষ যেন ঘাড়ের কাছে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। শুরু থেকে একজন ব্যক্তি এবং তাঁর সঙ্গে সময়ের সম্পর্কের কথা পাঠকের অনুমান, যোগফল, সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারার স্বাধীনতা দেয়। এক নিঝুম দুপুরে আপন মনে হঠাৎ আবিষ্কারের সেই সুপরিচিত পদ্ধতিটিকে উসকে দেয় ছাপাইয়ের উৎকর্ষ।
মাথা-বোঝাই ধান নিয়ে বাড়ি চলেছে চাষি। কাজ থেকে ফেরার পথে বানি-গরান-ঝাউয়ের জঙ্গলে, গাছের ছায়ায় মেয়েরা আজকাল জিরিয়ে নিতে পারে একটু। ওরা মনে মনে কুর্নিশ করে সেই মানুষকে, যিনি কবিতা লিখতে লিখতে ছায়াটুকুও আনিয়ে দিয়েছেন নোনা জলের মাটিতে। মেরু দেশের বরফ গলছে। পায়ের নিচে মাটি কতক্ষণ? স্মৃতি শুধু বলে যাবে– চেষ্টা চলেছিল সৃজনের।
ভারতে ‘কমার্শিয়াল আর্টের জনক’ অন্নদা মুন্সীকে নিজের অজান্তেই আত্মস্থ করেছি আশৈশব। অন্যভাবে বলতে গেলে, সত্যজিৎ রায়ের পর আরও দু’-প্রজন্ম (কী তারও বেশি) পার করেও অন্নদা মুন্সীর প্রভাব অটুট।
দুর্গাপুজোকে ‘আর্ট’ হিসেবে ভাবতে চাইলে তার একটা দীর্ঘস্থায়ী, যুক্তিযুক্ত, অবিচলিত দর্শন প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা সাইট-স্পেসিফিক আর্টের সঙ্গে তার বাণিজ্যিক দর্শনে বৈরিতা রয়েছে। আর ‘পাবলিক আর্ট’-এর দর্শক নিষ্ক্রিয় নন, মূক নন। শুধু দেখে চলে যাওয়া তাঁদের কাজ নয়। ‘পাবলিক আর্ট’-এর দর্শক সক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট শিল্পকর্মটির অঙ্গ হয়ে ওঠেন।
যে যুগে বাংলা ভাষা নিজেকে প্রকাশ করতে ভয় পায়নি, এ বই সে যুগের। যে যুগে রীতির বিপরীতে বাংলা সাহিত্য দুর্দান্ত স্পর্ধায় নিজেকে কেটেছে-ছিড়েছে, শার্টের বোতাম খুলে উন্মুক্ত বুকে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে মাঝরাতে টহল দিয়েছে রাস্তায়, বিনা তোয়াক্কায়, এ বই সে যুগের।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved