মোবাইল ফোন এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার শুধু পড়াশুনা বা খেলাধূলা নয়, শারীরিকভাবেও অসুস্থ করে তুলছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, একজন মোবাইল আসক্ত কিশোর কিংবা কিশোরীর খিদে কমে যাওয়া এবং ঘুমের সমস্যা হওয়া একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যখন চারিদিকে এই ঘৃণার পরিবেশ, যখন আমাদের চেনা শহরেও চিকেন প্যাটিস বিক্রি করার অপরাধে হেনস্তা হতে হচ্ছে, যখন একটি কলকাতার বিখ্যাত রেস্তরাঁতে একজন মুসলমান বেয়ারাকে, একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তাঁর ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ শুনতে হচ্ছে তখন উত্তরাখণ্ডের ‘মহম্মদ দীপক’ যেন রূপকথার চরিত্র হিসেবে সামনে আসছেন।
সুভাষ বোস সেই সময়ে ভাবতে পারেননি যে, ভারত স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরেও হিন্দুত্ববাদী শক্তিরা এতটা রাজনৈতিক শক্তিশালী হয়ে উঠবে। যে হিন্দুত্ববাদী শক্তিরা আজ রামরাজ্যের কথা বলেন এবং ‘জয় শ্রীরাম’ শ্লোগান দিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের যখন মারা হচ্ছে তখন সুভাষ বোসের এই কথাগুলো প্রণিধানযোগ্য। তাই যাঁরা আজকে সুভাষ বোসের ‘উত্তরসূরি’ হিসেবে নিজেদের দেখানোর চেষ্টা করছেন, তাঁরা যদি একটু সুভাষ বোসের সম্পর্কে পড়াশোনার চেষ্টা করতেন, তাহলে হয়তো লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলতেন।
গত বছর এই ক্যালেন্ডারের বিষয় ছিল, আমাদের দেশের মানুষের খাবারের বৈচিত্র। ২০২৬ সালকে ধরলে, এই ক্যালেন্ডার এবার পঞ্চম বছরে। এবারে এই ক্যালেন্ডার চেষ্টা করেছে শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের জীবন্ত গল্পগুলিকে তুলে ধরতে।
এতদিন লড়াই করে যে মানুষগুলো সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন, সেই কাজটাই তো বৃথা হয়ে যায়, যদি একজন মানুষ যদি একদিন সকালে উঠে দেখেন, তিনি সরকারের খাতায় বেনাগরিক হয়ে গেছেন। তখন তাঁর মনের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
যে বিএলও’দের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল কমিশনের, সেই কমিশন কি তাঁদের কোনওরকম সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে? ২০০২ সালেও যে পদ্ধতিতে ভোটার তালিকায় সংশোধন হয়েছিল, সেই সময়েও কি এই সমস্ত বিএলওর নম্বর অঞ্চলের সবাই জানত?
কোচবিহারের খাইরুল শেখের তাঁর নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে যাওয়ার ভয় যে গ্রাস করেছিল তা নিশ্চিত করে বলা যায়। এই ভয়ের কোনও নাম কি মনস্ত্বত্ত্ববিদেরা এখনও দিতে পেরেছেন? রাষ্ট্র কি তা মেনে নিয়েছে? তাহলে এই ভয়ের প্রতিকার কী?
দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়তো নম নম করে এই ঘটনার নিন্দে করেছেন, দেশের প্রায় সমস্ত বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই ঘটনা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে, কিন্তু পিছন থেকে বহু মানুষ অভিযুক্ত রাকেশ কিশোরের ওই আচরণকে সমর্থন করছে, যার ফলেই তিনি এখনও বহাল তবিয়তে ঘুরছেন।
যাঁরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাঁদের গরিষ্ঠাংশ কিন্তু সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়েরই মানুষ। যাঁরা এই নির্বাচন কমিশনের নতুন ফরমানে সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় আছেন মহিলারা এবং তা দু’ সম্প্রদায়েরই। এবং তাঁদের বেশিরভাগই অত্যন্ত গরিব এবং পিছিয়ে পড়া মহিলারা।
বাঙালি এইসব মামুলি ব্যাপারকে ধর্তব্যের মধ্যেও আনত না। মাত্র এক দশক আগেও এসব নিয়ে কেউ ভাবেনি। অথচ আজ বাঙালিকে এসব নিয়ে ভাবানো যাচ্ছে। কে ভাবাচ্ছে? বাঙালির একশ্রেণির লোকজন। যাদের মূল লক্ষ্য এই ভাষার হিন্দু-মুসলমান করে গোবলয়ের সঙ্গে তফাতটা আরও কমিয়ে আনা যাবে।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved