Robbar

ঘনাদার সত্যি-মিথ্যে

ঘনশ্যাম দাসের বাক্যবাণ আদতে এক উপনিবেশিত সত্তার অন্তর্ঘাতী বয়ান, যা দেখিয়ে দেয় প্রভুর সত্যি স্থানকালপাত্রভেদে মিথ্যের বেসাতি! তাকে বিশ্বাস করার, মান্য করার অত কিছু নেই। সত্যি দিয়ে তার গল্প শুরু হয়, শেষে লেখা ‘মিথ্যেরই জয়’।

→

অপ্রকাশিত মানিক: নিজেকে লেখার বেনিয়ম

মদ, কালী, রামপ্রসাদী ভক্তি, আবেগটান– সব কিছুর ঘোর ভেঙে দেখি ‘ধন্বন্তরী’ নামক লোকটি রাস্তায় নেমে গেল। কেন গেল? কোথায় গেল? কী-ই বা করবে লোকটা এখন? এই সমস্ত সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়ে বাংলা ভাষায় মিশে গেলেন মানিক। সমর্পণ থেকে সম্ভাবনায় দিকে আমাদের এগিয়ে দিয়ে গেলেন।

→

কবি বনাম আবৃত্তিকার

কবিতা পড়া শেষ করে মঞ্চ থেকে নিষ্ক্রান্ত হচ্ছেন যখন শম্ভু মিত্র, সুভাষ মুখোপাধ্যায় স্মিত হেসে দাঁড়িয়েছেন তাঁর সামনে। আবৃত্তি কেমন লাগল জানতে চাইছেন শম্ভু মিত্র। সুভাষ জানালেন: ‘ভালো, তবে আমি পড়লে বোধহয় আর একটু ভালো হত।’

→

অগ্রন্থিত শক্তির শক্তি

আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে সবাইকে তাজ্জব করে দিয়ে হাজির হয়েছিলেন ‘অগ্রন্থিত’ এক ‘শক্তি চট্টোপাধ্যায়’! কবিতা নয়, কবি স্বয়ং। কারণ তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন তাঁর ‘আমি’র আর কোনও অস্তিত্ব নেই, বিবরণ নেই, সত্তাভেদ নেই, একমাত্র তাঁর কবিতা ছাড়া। তিনি নিজেই দীর্ঘ এক কবিতা। অগ্রন্থিত।

→

ঋতুপর্ণ, অন্তরমহল আর রবীন্দ্রনাথ

নিজের শরীর, মন আর এই সমাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল ঋতুপর্ণ ঘোষের। সেইখানে রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর কার হাতই বা ধরবেন তিনি? কিন্তু তার সিনেমায় এসে হাজির হলেন প্রথম রবীন্দ্রনাথ। মধ্যবিত্ত বাঙালির খাটো অনুভব পরিধির রবীন্দ্রনাথ। এই দ্বিধার মূল কোথায় লুকিয়ে আছে, সে প্রশ্ন একা ঋতুপর্ণ-র জন্য নয়, আমাদেরও।

→

জয় এখন শেষজীবনের বুদ্ধদেব বসুর মতোই প্রশ্নাতুর

কবি হিসেবে জয়ের প্রতিষ্ঠা বাইরের দিক থেকে যতটা বিস্ময়কর, ততটাই বিস্ময়কর তাঁর কবিতা নিয়ে অনবরত সংশয়ী প্রশ্ন করে চলা। তিরবিদ্ধ হরিণ যেমন বাঁচার পথ খোঁজে, কবিতাবিদ্ধ শরীরেরও তেমনই রক্তাক্ত পথ-সন্ধান জরুরি। তা কবির জন্য যেমন সত্য, কবিতা পাঠকের জন্যও তা-ই।

→

নকশাল পর্বের হত্যা-প্রতিহত্যার পরিবেশে কলকাতায় এসেছিল মারি ফারার

১৯৭০ বা ’৭১ সালে। নকশাল আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের মুখ, হত্যা-প্রতিহত্যা, বামপন্থার নানাখানা চেহারা আর নকশাল দমনের ভয়াবহতার প্রতিবেশে মারি ফারার কলকাতায় হাজির হয়েছিল। কেয়া আর অজিতেশ-এর অনুবাদ খরখরে গদ্যে সেদিন মারি-কে হাজির করেছিল।

→

এমনও হাসি আছে বেদনা মনে হয়

হাসি যে একটা বেনিয়মের শক্তি হয়ে উঠতে পারে, সেইটে রেনেসাঁস-উত্তর ইউরোপে এক ধরনের পাগলামি বলে দেগে দেওয়া হয়। সতেরো শতাব্দী থেকে হাসিকে অ্যাসাইলামে বন্দি করা হয়। ক্ষমতা গম্ভীরভাবে থাকতে চায়। কে না জানে গাম্ভীর্য নির্বোধের মুখোশ।

→

গুরুদত্ত চেয়েছিলেন, বিজয়ের চলে যাওয়া দিয়ে শেষ হবে ‘পিয়াসা’

শেষ দৃশ্যে গুলাবের হাত ধরে বিজয় যে বাইরে বেরিয়ে যায়, পরিবার, রাষ্ট্র, সমাজ সব কিছুর শৃঙ্খল ছিঁড়ে, সেও কি প্লাতোর চেন ছিঁড়ে বাস্তবতার সত্যে বেরিয়ে আসা মানুষ নয়? আবরার আলভির এই শেষ না-পসন্দ ছিল। কিন্তু গুরুদত্ত তৃপ্ত ছিলেন। বলেছিলেন, না, এটাই শেষ। এই চলে যাওয়াটাই শেষ।

→

কবির বিশ্রাম

‘পিয়াসা’ ছবির সূত্রপাতের দৃশ্যটি যদি আমরা দেখি তবে শাগালের বিখ্যাত ‘কবির বিশ্রাম’ ছবিটির কথা মনে পড়ে যাবে। টাইটেল কার্ড একটা শালুক-পদ্মে ঢাকা পুকুরে পড়লেও, ছবির চলমানতা শুরু হয় অদ্ভুত এক ফ্রেমে। যেখানে বিজয়, আমাদের কবি, শুয়ে আছেন প্রকৃতির নিচে।

→