Robbar

প্রথম বাঙালি মহিলা ইলাস্ট্রেটর

গত শতাব্দীর তিনের দশক পর্যন্ত সন্দেশের পাতায় নিয়মিত দেখা যেত তাঁর ছবি। নিজের প্রত্যেকটি লেখার সচিত্রকরণ শুধু নয়, অন্য লেখকদের লেখার সঙ্গেও তাঁর করা অলংকরণ সন্দেশকে সমৃদ্ধ করেছে। এমনকী স্বর্ণকুমারী দেবীর একটি ইংরেজি বইয়ের অলংকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ছবিও তিনি এঁকে দিয়েছিলেন লেখিকার অনুরোধে।

→

গোপেশের খল ক্লাউনেরা

ছবির নাম ‘ক্লাউন’। গোপেশের ছবির প্রতিটি রেখায় কুটিলতার যে বিস্তৃত বিন্যাস, তা প্রতিটি মুখচ্ছবিকে করে তোলে প্রতিকৃতি। তাদের চোখের ক্রূরতা, মুখের রেখার অনমনীয় নিষ্ঠুরতা তাদের শরীরী ভাষাকে স্পষ্ট করে তোলে। এভাবেই ঘুরে বেড়ায় এই মানুষেরা, নিজের চেহারা লুকিয়ে, নিজের খলস্বভাব মেকি হাসির আড়ালে লুকিয়ে।

→

নন্দলালের ছাত্রী থেকে সশস্ত্র বিপ্লবী

পুলিশের চোখ এড়াতেই শান্তিনিকেতনে ভর্তি হওয়া। বিপ্লবী, কিন্তু শান্ত ও স্থিতধী, এক দৃঢ় অথচ কোমল ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী ইন্দু। নন্দলাল, গৌরগোপাল আর প্রভাতমোহন বাদে কেউ তাঁর এ সত্তাটির কথা জানেন না। তাঁর পাশে দাঁড়ালেন নন্দলাল। বিনা আয়াসে সুন্দরভাবে রাখী বেঁধে দিলেন তাঁর শিল্পপ্রেম আর স্বদেশপ্রেমের।

→

অরুন্ধতীর ছবি: আলো ক্রমে আসিতেছে

ডার্ক রং থেকে ক্রমশ আলো দিকে। অরুন্ধতী রায়চৌধুরীর ছবি আসলে উত্তরণের গল্প। যে ধোঁয়াশা, যে আত্মবিশ্বাস, যে অনিশ্চয়তা মানুষকে ঘিরে রাখে– তার বাইরে গিয়ে, সেই বন্ধনকে অস্বীকার করে, সে নিজের একক অস্তিত্বকে, তার মনুষ্যত্বের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাকে ঘোষণা করছে।

→

আমিনা করের ছবি যেন জীবনানন্দের কবিতা

জীবন, তাঁর উপলব্ধিতে এক অবিচ্ছিন্ন কালস্রোত– সেখানে অনায়াসে অতীত, বর্তমানের মধ্যে প্রবাহিত হয় এবং বর্তমান মিলে যায় ভবিষ্যতের সঙ্গে। বাস্তব পিছলে যায় পরাবাস্তবে, রং আর রেখার এক অদ্ভুত স্তরবিন্যাস সৃষ্টি করে বহুমাত্রিক দৃষ্টিকোণ। আমিনা করের ছবি চেতনার প্রবহমানতার এক দৃশ্য দলিল।

→

মনের মানুষের সন্ধানেই রানী চন্দের শিল্পনীড় রচনা

পিতৃহারা রানী ও তার দিদি অন্নপূর্ণাকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসবার ভাবনা রবীন্দ্রনাথের। অন্নপূর্ণা গেলেন গান শিখতে আর রানী ছবির মধ্যে খুঁজে পেলেন প্রাণ। তারপর কত বসন্তে, শরতে শান্তিনিকেতনের সঙ্গে মিতালি। রবীন্দ্রনাথ তাঁর মন বেঁধে দিলেন অন্তহীন আনন্দের সুরে, নন্দলাল বসু শেখালেন সেই আনন্দের রং নানা মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে।

→

ও আলোকচিত্রের পথযাত্রিনী

ছবি তোলা আজ শিল্পের স্বীকৃতি পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রত্যহ অগুনতি ছবির ছড়াছড়ি, কতরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা আজ ফোটোগ্রাফি নিয়ে। আজ তাই স্মৃতিমেদুর দীর্ঘ দৃষ্টিপাত সেই মানুষগুলোর যাপনের ওপর যাঁরা নিজস্ব প্রত্যয়ে ঘরের সঙ্গে সেতু বেঁধেছিলেন আরও অনেক ঘরের। নিজের অজান্তেই নাম লিখিয়েছিলেন সেই প্রথমাদের দলে, যারা নিঃশব্দে নীরবে লিখে গিয়েছেন যুগবদলের খতিয়ান। একান্ত চারণে‌ আগামীর জন্য তুলে রাখে‌ সমকালের চালচিত্রখানি।

→

নব্যবঙ্গীয় হয়েও ব্যতিক্রমী নরেন্দ্র দে সরকারের ছবি

সম্প্রতি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে হয়ে গেল নরেন্দ্রচন্দ্র দে সরকারের ছবির প্রদর্শনী। সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। আজ ৯৪ বছরেও তাঁর তুলি সমানভাবে সচল। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ– একটি চোখে প্রায় দেখতে পান না বললেই চলে। তবুও ছবি আঁকায় বিরতি নেই।

→

সুনয়নী দেবীর ছবি দেখে অবন ঠাকুরকে ‘সার্টিফিকেট’ লিখে দিতে বলেছিলেন গগনেন্দ্রনাথ

গগনেন্দ্রনাথের পছন্দ হয়েছিল সুনয়নীর ছবির সরল-সুন্দর রীতি। অবনীন্দ্রনাথকে অনুরোধ করেছিলেন ‘সার্টিফিকেট’ লিখে দেওয়ার জন্য। উত্তরে অবনীন্দ্রনাথ বলেছিলেন– ‘ও যে ধারায় ছবি আঁকছে তার জন্যে আমায় আর সার্টিফিকেট লিখে দিতে হবে না। পরে দেশের লোকের কাছ থেকে ও নিজেই সার্টিফিকেট আদায় করে নেবে।’

→

ওকাকুরা আর প্রিয়ম্বদার প্রেম: জাপানি ছবির বিষণ্ণ অপেরা

প্রিয়ম্বদা তখন চল্লিশোর্ধ্ব আর ওকাকুরা পঞ্চাশের দ্বারপ্রান্তে। শান্ত, শুভ্র, করুণ শঙ্খের মতো অথচ দীপ্তিময় প্রিয়ম্বদাকে দেখে মন হারিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মনে হয়েছিল, প্রিয়ম্বদা যেন সূক্ষ্ম রেখা ও হালকা রঙে আঁকা এক জাপানি ছবির মতো। শোনা যায়, ‘শ্বেত কমল’ নামে তাঁর একটি ছবিও এঁকেছিলেন তিনি।

→