Robbar

জন্মদিনের লেখা

Published by: Robbar Digital
  • Posted:August 18, 2026 7:44 am
  • Updated:August 18, 2026 11:04 am  

তিন বছরে পা দিল রোববার.ইন। তিন বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছি আমরা। আমরা প্রত্যেকে। যারা কাজ করি নেপথ্যে। রোববার.ইন-এর সঙ্গে কেমন কাটে আমাদের প্রতিদিন? কীভাবেই বা জুড়ে পড়লাম রোববার.ইন-এর সঙ্গে? সেই নিয়েই দু’-চারকথা। আমাদের কথা। টিম রোববার.ইন-এর কথা।

রোববার ডিজিটাল ডেস্ক

তিন ইয়ারি কথা

প্রথমদিনের সূর্য সত্তার নতুন আবির্ভাবে যে প্রশ্ন করেছিল– ‘কে তুমি?’ তার উত্তর তখন না মিললেও এখন মিলেছে। উত্তর হল– রোববার.ইন!

চমকাবেন না। যে ওয়েব-শিশু মাঝরাতে জন্মেছিল, তার খেজুরে-আলাপের সঙ্গী হতেই পারে কাকভোরের সূর্য। তা সেই মাঝরাত পেরিয়ে তিন বছর হতে চলল বেশ তরতর করে। সেদিনের শিশুর এখন নরম রোদের মতো ডানা গজিয়েছে। হট্টমেলার ভিড়ে নাম ধরে হাঁক পাড়লে দু’-একজন চিনতে-টিনতে পারে বেমালুম। তিন বছরে এমন গায়েগতরে বৃদ্ধি এককালে ডাইনোসরদের হত বলে জানি। একালে রোববার.ইন বোধহয় তার জায়গা নিয়েছে।

যাকগে। মুশকিল হল, রোববার.ইন-এর আবির্ভাব মুহূর্তে আমি আঁতুড়ঘরে ছিলাম না। ফলে সেই ‘প্রথম’-এর আবেশ থেকে আমি চিরকেলে ‘বঞ্চিত গোবিন্দদাস’। অফিসের পিছন দিকের সিঁড়ি বেয়ে দু’পাক ঘুরলে এক ম্যাজেনাইন ফ্লোর। বাঁ-দিকে আকাশি নীলে-ভরা দরজা। ওই দরজার ওপাশে রোববার.ইন-এর যে আশ্চর্য জগৎ, তার সঙ্গে আমার পরিচয় মাসচারেক পর। বছরের প্রথম দিনে।

প্রথম আলাপে, আতিথেয়তায় চমকে গিয়েছিলাম শুরুতেই! ঘরে ঢুকেই দেখি, থরেথরে সাজানো লাচ্চা পরোটা, মটন প্যান্থারাস, ফুলকপির রোস্ট, চিকেন, মিষ্টি আর‌ও কত কী! শুধু আমি ডিপার্টমেন্টে যোগ দিচ্ছি বলে এতকিছুর আয়োজন! না কি ভুল ঘরে ঢুকে পড়লাম! রোববার.ইন না এটা ক্যান্টিন? নানা প্রশ্নের গোলকধাঁধায় আনন্দের সঙ্গে আতঙ্ক‌ও ঘাড়ে চেপে বসেছিল। ভুল ভেঙেছিল, যখন শুনলাম, আমার আগমনে নয়, বছরের প্রথমদিন, তাই ‘পটলাক’ হেতু এহেন তামাম আয়োজন!

দমে যাইনি, বরং চেগে উঠেছিলাম। বুঝেছিলাম, এই পটলাক‌ই আমার গুডলাক। খাবার প্লেটে তাক লাগিয়ে বাকিদের বুঝিয়ে দিতে হবে, এই কর্মে আমার জুড়ি মেলা ভার। গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, সেই মর্যাদা আজ‌ও অক্ষুণ্ন রাখতে পেরেছি। যেমনভাবে, অক্ষুণ্ন রয়ে গিয়েছে পাঠক, আপনাদের সঙ্গে রোববার.ইন-এর নিবিড় সম্পর্ক। মেধা ও বৈচিত্রে, পাঠকমহলের সঙ্গে যে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা, আজ তা আর স্বপ্ন নয়, ঘোর বাস্তব।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুখ বদলে যায়। রোববার.ইন‌ও সেই বদলের সাক্ষী। রোববার.ইন-এর শুরুর সাথী সম্বিতদা আর পালকিদির (তিতাস রায় বর্মন) সহযোগী হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম দফতরে। ক্রিকেট-ফুটবলের সবুজ দুনিয়া ছেড়ে প্রিয় তাতাইয়ের (অরিঞ্জয় বোস) ডাকে ভিড়ে গিয়েছিলাম টিম রোববার ডিজিটালে। নিজের উপর ‘অগাধ বিশ্বাস’ ছিল যে, একমাস‌ও টিকব না! হয়তো স্পোর্টস ডিপার্টমেন্টে ফিরে যাব। সেই সংশয় জয় করে রোববার.ইন আপন করে নিয়েছে আমাকে।

টিমে নতুন মুখ এসেছে। প্রথমে দীপুদা (দীপঙ্কর ভৌমিক), তারপর গৌরব (গৌরবকেতন লাহিড়ী), তার‌ও পরে স্যমন্তক (চট্টোপাধ্যায়)। আড্ডা, আলাপ, কাজের ছন্দে আত্মিক যোগ তৈরি হয়েছে একে অপরের সঙ্গে। সেই সংযোগটাই রোববার.ইন-এর প্রাণ। আজকে, আগামিদিনেও।

সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়

(বাঁ-দিক থেকে) গৌরব, দীপঙ্কর, সুমন্ত, উৎসা, স্যমন্তক, সুযোগ, অরিঞ্জয়, সম্বিত ও সোমোশ্রী

স্বপ্নের ঠেক

২০ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, সংবাদ প্রতিদিনের মস্ত বিল্ডিংটার প্রধান দরজা দিয়ে ঢুকেই সামনে বাঁ-হাতে রিসেপশন। তার আগেই ওপরে ওঠার প্রধান সিঁড়ি। আমার এই দু’বছরের কর্মজীবনে খুব কম বারই এই সিঁড়ি দিয়ে উঠেছি। বরং বরাবরই সামনের মস্ত প্রেসের ভিতর দিয়ে গিয়ে শেষ প্রান্তের একটি সংকীর্ণ সিঁড়ি ব‌্যবহার করেছি। কালির এক অদ্ভুত মোহময়ী সুগন্ধ, বিশাল বিশাল কাগজের রিম, প্রিন্ট মেশিনগুলোর মধুর সুর বা কখনও তাদের ক্লান্ত নীরবতা আমাকে সে পথে টেনে নিয়ে গিয়েছে। পরে জেনেছি, আগে এটা জনতা সিনেমাহল ছিল। সিঁড়ি দিয়ে উঠে দোতলায় একটি কাচ বসানো কাঠের নীল রঙের দরজা, দরজার গায়ে দু’টি কাগজের স্টিকার সাঁটানো। একটিতে লেখা ‘রোববার.ইন’, অন‌্যটিতে ‘শোনো’।

প্রথমদিন যেদিন এই দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছিলাম, মনে হয়েছিল অন‌্য এক জগতে এসে পড়েছি। আপনারা যাঁরা ‘The chronicles of Narnia’ সিনেমাটি দেখেছেন, তাঁরা আমার ওই মুহূর্তের অনুভূতির সঙ্গে কিছুটা মিল খুঁজে পাবেন। ঘরখানার পরিধি বিশেষ বড় নয়। ১৪ ফুট বাই ১৪ ফুট হবে সম্ভবত। সিলিং জুড়ে মোটা কয়েকটি লোহার বিম, সেখান থেকে নেমেছে লম্বা লম্বা দণ্ড আর শেড পরিহিত ন’টা বাল্ব। মাঝে তিনটে সারিতে তিনটে করে বসার সিট। দু’পাশের দেওয়ালে কাঠের আলমারি। তাতে বিভিন্ন রকমের সাহিত‌্য-পত্রিকা এবং এ-যাবৎ প্রকাশিত রোববার। একপাশের পুরো দেওয়াল জুড়ে সুযোগদার (সুযোগ বন্দ‌্যোপাধ‌্যায়) আঁকা কার্টুন। অন‌্যপাশে রোববার পত্রিকার শুরুর দু’টি বিজ্ঞাপনের প্রিন্ট বাঁধিয়ে টাঙানো। চারপাশে বিক্ষিপ্তভাবে কিন্তু যত্নসহকারে রাখা অনেক শিল্পীদের কাজ, ম‌্যাগাজিন, বই। শ্রদ্ধেয় ঋতুপর্ণ ঘোষের হাত ধরে, প্রতিদিন-এর কর্ণধার সৃঞ্জয় বোসের তত্ত্বাবধানে যে পত্রিকা প্রকাশ পেয়েছিল, তারই আর এক নবকলেবর। ডিজিটাল সংস্করণ। দফতরে প্রথমবার পদার্পণ করে অদ্ভুত এক ঘোর, ভীতি এবং আনন্দ একইসঙ্গে অনুভব করলাম।

এবার আসুন, টিমের বন্ধুদের সঙ্গে একটু পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক। পরিচালনার দায়িত্বে অরিঞ্জয় বোস। লিডার সম্বিতদা (সম্বিত বসু), সুমন্ত (সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়), স্যমন্তক (স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়), গৌরব (গৌরবকেতন লাহিড়ী), সোমোশ্রী (সোমোশ্রী দাস), অর্ঘ‌্য (অর্ঘ‌্য চৌধুরী), সৈকত (সৈকত মাজি), সুমন (সুপ্রতিভ দেব রায়) এবং রমাদি (রমা দাস)। এককালে ছিল পালকিদি (তিতাস রায় বর্মন)। আপনারা যারা টাইমমেশিনে করে অতীতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তাঁরা এঁদের সঙ্গে পরিচয় করে দেখতে পারেন– হুট করে বয়স অনেকটা কমিয়ে ফেলতে পারবেন বলেই আমার বিশ্বাস। কি-বোর্ড, কলম, পেনট্যাব, রং-তুলির সঙ্গে এখানে থাকে ক্রিকেট ব‌্যাট, দোতারা। কখনও কাজ করতে করতে পা ছুঁয়ে যায় ফুটবলে বা মন ভেসে যায় বন্ধুদের বাজানো দোতারায় কিংবা গলার সুরে। আবার কখনও খুব চাপের মুহূর্তে সম্বিতদা বলে, ‘চল্‌, সবাই ফুচকা খেয়ে আসি।’ তাই বোধহয় দিনের শেষে ক্লান্তি আসে না কারও মনে বা শরীরে। অনেকে উইক-অফের দিনেও চলে আসে সবার সঙ্গে দেখা হবে বলে। এক অদ্ভুত উদ‌্যম, কাজের প্রতি অনুরাগ, একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, লেখকদের সহযোগিতা এবং পাঠকদের ভালোবাসা– এইসব মিলেমিশে যা তৈরি হয় তার নাম ‘রোববার.ইন’।

ভাবছেন এসব কী যা তা লিখে চলেছি। আসল কাজেরই তো কোনও প্রসঙ্গ নেই। আসলে আমার বিশ্বাস, আপনারা পাঠকরা রোববার.ইন-এর কাজের সঙ্গে যথেষ্ট অবহিত। কিন্তু, এই মানুষগুলির সঙ্গে যাঁরা ব‌্যক্তিগত পরিসরে পরিচিত নন, এই ঘরখানার সঙ্গে যাঁরা পরিচিত নন। এই পরিবেশটির সঙ্গে তাঁদেরও আলাপ করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল।

দীপঙ্কর ভৌমিক

জন্মদিনের আমেজ

চেনা হাসি, চেনা কপালের ভাঁজ

তিনতলার টংঘর। চপমুড়ি ক্রিকেট গানবাজনা আড্ডা। সব্বোনাশ! এর নাম আপিস? এককালে গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতুম। সকাল থেকে সন্ধে চারখানা কেলাস। তারপর গেলাস। ছ’টার পর সোজা বইপাড়া। কাগজ, বইপত্রের প্রুফ। সেসব গুলি মেরে এল রোববার.ইন। ডিজিটাল। ছোট কাগজের আলস্যমদিরাহীন, খরস্রোতা, পথে পথে পাথর ছড়ানো। দিনের দিন কপি। সময়ে সময়ে লিংক। লাল পাথর নীল হচ্ছে, নীল পাথর লাল। রুপোলি মাছ, একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো। ভালোবাসতে বাসতে এক হপ্তা দু’-হপ্তা করে বছর দেড়েক। দোলের পরের দিন প্রথম এসেছিলাম। আগের রাতে অযোধ্যায় তুমুল হুলাবিলা। আপিস এসে পৌঁছেছিলাম যখন, গলায় একখানা বহুবর্ণ গামছা। আবিরে রাঙা। সেই আবির এখনও অক্ষয়। হে রোহিতাশ্ব, হে রুপোলি মাছ। রোববার.ইন। কী দিলে, কী ছিনিয়ে নিলে? সে হিসেব আগামী বলবে। আপাতত ভালো আছি। বুকের গভীরে, কারা যেন নিষেকের মতো করে কাজ আর আনন্দ মাখামাখি করে পুরে দিয়েছে। ভালো আছি। রতিক্লান্ত পুরুষের মতো সেই ভালো থাকা। দিনকাল বদলেছে। তিন নম্বর টেবিলের পালকি অন্য বার খুঁজে নিয়েছে। এসেছে স্যমন্তক। আমি, সম্বিত, সুমন্ত, দীপুদা– আমরা চারজন কেউ কেউ এ-টেবিল ও-টেবিল বদলে শেষ অবধি একই বারে। রোব-বার। চেনা টেবিল, চেনা মদ্যপসারীর মুখ। চেনা হাসি, চেনা কপালের ভাঁজ। বিফলে মূল্যফেরত। তিনটে বছর। তিন পাত্তর। লার্জ। নো ওয়াটার, নো সোডা। কেবল বরফ। অন দ্য রক্‌স। না হলে কী আর নেশা জমে!

গৌরবকেতন লাহিড়ী

রকের আড্ডায় স্বাগত

অনেকদিন, অনেক ‘তিন’, রোববার.ইন 
একতলায় ছাপাখানা। কাগজ-রং-গন্ধ-মেশিন পেরলেই সিঁড়ি। সিঁড়ি বেয়ে কিছুদূর এগলেই নীলরঙা কাচ-দরজা আপনার জন্য অপেক্ষায়। দরজার গায়ে আলগোছে বিভাগলিপি– ‘শোনো’, ‘রোববার.ইন’। বার্তার বিচিত্র হাতছানি দেখে দরজা ঠেলে ফেলেছেন? ব্যস্, এক আশ্চর্য দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম! ওয়েবসাইটে ‘টিম রোববার.ইন’-এর তালিকা যদি আগে দেখে থাকেন, তাহলে বর্তমান জবানবন্দির লিখিয়েকে না চেনারই কথা। কারণ সহজ– মাত্র মাস সাতেকের সদস্যপদ পাওয়া এই অধমের নাম এখনও সেই তালিকায় ওঠেনি (এসআইআর নয় বলে রক্ষে)। আর তা হওয়ারও নয়। কারণ নয়া ওয়েবসাইট এসে গেলে মেম্বারদের এই কার্টুন-বিবরণের যৌথ আঁতাঁত ভ্যানিশ! দুঃখের কথা যাক, ঝটপট ফিরে আসি দফতরে। এক এক করে আছেন অনেকেই– সম্বিতদা (ক্যাপ্টেন), দীপুদা, সুমন্তদা, গৌরবদা, সৈকতদা, অর্ঘ্যদা, সুপ্রতিভদা, রমাদি, সোমোশ্রী আর স্যমন্তক (অর্থাৎ আমি)।

রোববার.ইন দফতরে চেয়ার পেতে বসা পঞ্চপাণ্ডব (অধম বাদে) আর টিমের একঝাঁক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বকে একটি ঘরের মধ্যে এনে ফেললে যা হয়– সেটি আর যাই হোক, আটপৌরে ৯টা-৫টার একঘেয়ে অফিস কক্ষনো নয়! সম্পাদনা সহযোগী হিসেবে সপ্তাহে ছ’দিন এখানে আসাটা আমার কাছে আদৌ ডিউটি নয়, একরকম খাঁটি নেশা। এমনকী, যে একদিন অফ-ডে থাকে, সেদিনও না জানি কীসের প্রবল টানে মনটা দফতরের পানে হাঁকুপাঁকু করে ওঠে। জানি দরজা পেরলেই হয়তো ভেসে আসবে ক্যাপ্টেনের মন্তব্য, ‘আজকে তোর আসার দিন নয়… (খানিক বিরতি)… একথা বললে ভুল বলা হবে!’ ঘরের দেওয়াল জুড়ে থাকা সুযোগদার আঁকা কার্টুনগুলো যেন রোজই মুচকি হেসে বলে, ‘কী হে, কেমন আছ? তুমি কি ভালো আছ?’

কাজ আর আড্ডার সীমারেখাটা অফিসের ছাদে গিয়ে স্রেফ গায়েব। ডিজিটাল কপি থেকে হাতখালি হলেই ছাদে তুমুল ক্রিকেট ম্যাচ! আপাতত ক’দিন একটু কমবেশি চললেও দ্রুত সব ফর্মে ফিরে আসিতেছে। ওভার শেষ করে টি-ব্রেক, বিরতিতে নেমে এলেই দ্বিতীয় ইনিংসের মগজমারি। গরম চায়ের ভাঁড়ে চুমুক আর ধোঁয়ার রিংয়ের মাঝেই জন্ম নেয় আগামী কলামের দুরন্ত সব আইডিয়া। শেষ তিন বছরে সাড়ে চার হাজার কপির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা কি আর চাট্টিখানি কথা? তাও ডিজিটাল মিডিয়ায়?

শুরুর দিন। রোববার.ইন। (বাঁ-দিক থেকে) শুভ, অরিঞ্জয়, সৈকত, সম্বিত, সরোজ, তিতাস, অর্ঘ্য

তবে গৌরবদা আর এই অধমের জন্য সপ্তাহের রবিবার দিনটা কিন্তু ‘অফ’ নয়, ‘অন’! সারা দুনিয়া যখন রবিবারে আড়মোড়া ভেঙে ছুটির আমেজে, আমাদের তখন ত্রিভুবন থরথর। ইতি কলেজ স্ট্রিট হোক বা অন্য সাম্প্রতিক লেখা; ডিজিটাল অরণ্যের প্রাচীন প্রবাদ– যার কপি যত দ্রুত আপলোড হবে, ট্র্যাফিক তার পকেটে! তার ওপর এ-বছর টিমে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দেখি এক বিচিত্র ব্যাপার– বেছে বেছে রবিবারই যেন তামাম সেলেবরা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করছেন! আশা ভোঁসলে থেকে শুরু করে রঘু রাই, কিংবা সদ্যপ্রয়াত রাজা সেন… সপ্তাহের শেষ মানেই কারও চলে যাওয়ার খবর! একদিকে মন বিষণ্ণ, অন্যদিকে মাথায় তোলপাড়– যথাযথ অবিচুয়ারি যেন চরমতম গতিতে সাইটে পৌঁছয়!

এসবের মাঝেই কড়া নাড়ে মিনি সিরিজ, শতবর্ষের কপি! বিশেষ বিশেষ দিনের আয়োজন ও প্রয়োজনীয় শিডিউল পোস্টের তত্ত্বতালাশ কিন্তু থেমে থাকে না। ছাতু, চপমুড়ি কিংবা আলুর তরকারি সাপটে, গরম কচুরি চিবতে চিবতে, মিষ্টির গুণাগুণ পরখ করতে করতে, পুরনো কলকাতার অলিগলি জুড়ে হাঁটতে হাঁটতেও আমরা অহরহ কপির সন্ধান চালিয়ে যাই। মুঠোফোনের ফ্ল্যাশ জ্বললেই চাঙ্গা হয়ে ওঠে সাবেক ফোটোসিন্থেসিস!

পাঁচ ভাই একসাথ, মারছে ঘুসি খাচ্ছে ভাত। আরও পাঁচ সাথে তার, এই তো! এই তো রোববার! তা এই দশ সতীর্থের দলবল নিয়ে আড্ডা-তর্ক-রসিকতা আর নতুন ভাবনা জড়ো করার কারখানায় ব্যাটে-বলে প্রায়শই চার-ছয় হাঁকানো হয়ে যায়। সুমন্তদার ভাষায় একে বলে ‘খুবই ভালো ব্যাপার!’ রিচ পেয়েছির রূপকথা এক ক্লিকেতেই জানতে পারা– এই তো আমাদের ‘রোববার.ইন’! রোববার.ইন-এর তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে এক টিম মেম্বারের তরফে রইল টুপিখোলা স্যালুট। কর্ণধার অরিঞ্জয় বোস ও সংস্থার প্রাণপুরুষ সৃঞ্জয় বোসকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। রোববার.ইন এমন আরও অনেকদিন, অনেক ‘তিন’ পেরক অবলীলায়। অলমিতি বিস্তারেণ!

স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

দফতরে হাজির প্রণবেশ মাইতি

রেলগাড়ি ঝমাঝম

তিন বছর আগেকার কথা, ২০২৩। ১৮ আগস্ট হামাগুড়ি দিয়ে পথ চলা শুরু করেছিল রোববার.ইন। আর ঠিক দু’মাস পরে, ১৮ অক্টোবর, সেই পথেরই এক ছোট্ট যাত্রী হয়ে রোববার.ইন-এ পা রাখলাম আমি। তখন কোথায় এসে পড়েছি, কী হতে চলেছে– সত্যিই কিছুই জানতাম না। শুধু জানতাম, সংবাদ প্রতিদিনে জয়েন করছি। কিন্তু জীবনের কোন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছি, সামনে কতটা পথ, আর সেই পথের শেষে কী অপেক্ষা করছে– তার একটুও আঁচ ছিল না। কখনও কখনও জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো শুরু হয় কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই। হয়তো সেদিনটাও তেমনই ছিল।

আর আমার শুরুটাও হয়েছিল একটু বিষণ্ণতার মধ্য দিয়ে। যেদিন জয়েন করলাম, সেদিনই প্রথম যে কপির কার্ড ও কভার করেছিলাম, সেটি ছিল অমলদাকে নিয়ে– অমল চক্রবর্তীর প্রয়াণের কার্ড। সেই দিয়েই শুরু রোববার.ইন-এর সঙ্গে আমার পথচলা। কথাতেই রয়েছে, ‘শেখার কোনও শেষ নেই’, তখন বুঝিনি, রোববার.ইন আমাকে শুধু ডিজাইন শেখাবে না, শেখাবে দেখতে, পড়তে, বুঝতে, প্রশ্ন করতে এবং প্রতিটি লেখার ভিতরে ঢুকে যেতে।

রোববার.ইন যখন একটু একটু করে বড় হতে শুরু করল, আমিও ততদিনে নিজের মতো করে হাঁটতে শিখছি। সত্যি বলতে কী, প্রথম দিকে আমিও হামাগুড়িই দিতাম। অনেক বিষয় বুঝতাম না। কপি পড়তাম, আবার পড়তাম। তারপর সেই কপি থেকে মূল বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করতাম। আর তা একটা ছবির মধ্যে কীভাবে বলা যায়– সেটা ভাবতে ভাবতেই তৈরি করতাম গ্রাফিক্স। একটা সময় বুঝলাম, ছবি তৈরি করতে গেলে শুধু ছবি আঁকতে জানলেই হয় না। জানতে হয় গল্প। জানতে হয় মানুষ। জানতে হয় পৃথিবীকে। আর এই শেখার নেপথ্যে গোটা রোববার.ইন পরিবারের অবদান রয়েছে।

বইমেলাধুলো

শুরুর দিনগুলোয় সবাই মিলে চলত মিটিং। কখনও তা ছাদে, হাতে চায়ের কাপ আর সিগারেটে ধোঁয়া দিতে দিতে, আবার কখনও রাতবিরেতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে, কখনও জুম-কলে। রাত যত গভীর হয়েছে, আলোচনা তত জমেছে। কোনও একটা ছবি ঠিক হল না, কোনও একটা ভাবনা মাথায় ঢুকল না– আবার শুরু হয়েছে আলোচনা। তখন হয়তো মনে হত, এত রাত পর্যন্ত একটা কার্ড নিয়ে এত ভাবার কী আছে! আজ বুঝি, ওই রাতগুলোই আসলে আমাদের তৈরি করছিল। কপির সঙ্গে ছবি মিলছে কি না, ছবি পছন্দ হচ্ছে কি না, ‘হ্যাঁ’ না ‘না’– এই নিয়েই কত পরীক্ষা-নিরীক্ষা! কতবার যে শেষ মুহূর্তে গিয়ে সবকিছু ওলটপালট করে আবার একেবারে শুরু থেকে শুরু করেছি, তার হিসেব নেই। কখনও একটা ছবির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটেছে। কখনও শেষ মুহূর্তে তৈরি হয়েছে এমন কিছু, যা দেখে মনে হয়েছে– হ্যাঁ, এটাই তো চাইছিলাম!

এইভাবেই কাজ করতে করতে একটা দল তৈরি হয়। দিন পেরিয়েছে। বছর পেরিয়েছে। কিছু মুখ বদলেছে, কিছু মুখ এসেছে, কেউ কেউ থেকে গিয়েছে। রোববার.ইন-ও বদলেছে। সময়ের সঙ্গে তার চেহারা বদলেছে, ছবির ভাষা বদলেছে, উপস্থাপনা বদলেছে। কিন্তু একটা জিনিস বদলায়নি– একসঙ্গে কিছু একটা ভালো করার জেদ।

আজ পিছন ফিরে তাকালে মনে হয়, রোববার.ইন-এর এই তিন বছর যেন একটা ছোট্ট মেটামরফসিস। আমরা জানতাম না, কতটা রাত জাগতে হবে, কতবার ভুল করতে হবে, কতবার নিজের কাজকে নিজেকেই প্রশ্ন করতে হবে। কখনও কঠিনভাবে, কখনও ধৈর্য ধরে।

রোববার.ইন-এর এই পথচলাও তাই কখনও একার ছিল না। এটা আমাদের প্রত্যেকের। কেউ লিখেছে, কেউ সম্পাদনা করেছে, কেউ এঁকেছে, কেউ গ্রাফিক্স বানিয়েছে, কেউ ভুল ধরেছে, কেউ শেষ মুহূর্তে নতুন আইডিয়া দিয়েছে, কেউ আবার রাত জেগে পাশে থেকেছে। আর এইভাবেই হইহই করে ছুটে চলেছে রোববার.ইন-এর রেলগাড়ি।

কখনও ট্রেন লেট করেছে। কখনও লাইন বদলেছে। কখনও সামনে সিগন্যাল পড়েছে। কখনও শেষ মুহূর্তে ইঞ্জিন বদলাতে হয়েছে।

তবু ট্রেন থামেনি।

আর সেই রেলগাড়ির এক একটা কামরায় বসে থাকা আমরা– কখন যে হামাগুড়ি দিতে দিতে হাঁটতে শিখে ফেললাম, কখন যে তিন বছর কেটে গেল, সত্যিই বুঝতে পারিনি। শুধু জানি, ১৮ অক্টোবর ২০২৩-এ যে জায়গাটায় অচেনা একজন হিসেবে পা রেখেছিলাম, আজ সেখানে জমে আছে অসংখ্য গল্প, অসংখ্য রাত, অসংখ্য ছবি, অসংখ্য ভুল, অসংখ্য শেখা আর অনেক অনেক মানুষের ভালোবাসা।

তাই তিন বছর পূর্তিতে রোববার.ইন-কে শুধু শুভেচ্ছা জানানো নয়– একটু নিজের কাছেও ফিরে তাকানো। কারণ কিছু কর্মক্ষেত্র শুধু কর্মক্ষেত্র হয়ে থাকে না। কিছু জায়গা ধীরে ধীরে আমাদের জীবনের গল্পের অংশ হয়ে যায়। রোববার.ইন আমার কাছে তেমনই এক গল্প। যার শুরুটা হয়েছিল হামাগুড়ি দিয়ে, এখনও অনেক পথ চলা বাকি। সামনে আরও অনেক পথ। যেতে হবে আরও অনেক দূর।

তাই চলুক আমাদের রেলগাড়ি হইহই করে, গল্প করতে করতে, ভুল করতে করতে, শিখতে শিখতে। শুভ তিন বছর, রোববার.ইন। তোমার সঙ্গে আমার এই পথচলাও যেন থেমে না যায়।

সোমোশ্রী দাস

সংবাদ প্রতিদিন-এর ৩৫ বছর

দরজা খুললেই উইকএন্ড

আমি প্রতিদিনের কাজের লোক। তাই রোববার.ইন-এও কাজ করতাম। সম্প্রতি নিষ্কৃতি।
নিষ্কৃতি কি আসলেই মেলে? যে রোববারগুলোতে আর ফেরা হয় না, তার স্মৃতি থেকে আদৌ নিষ্কৃতি মেলে? যে রোববারের পর থেকে আর রুবির মোড়ে আড্ডা মারতে যাইনি, অথবা ভুলে ভরা সেই শেষ রোববার…

আর স্মৃতি পিছু টানে। বারবার।

কাজের ক্ষেত্রে বিভাগ বদলে যায়। প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গও। আমার ‘রোববার’ চিরকালই কিছু মানুষ ও তাদের সঙ্গ। সঙ্গ না-পেলেও স্মৃতিতে আছে। আর দেখা হলেই–

‘বন্ধু কি খবর বল, কতদিন দেখা হয়নি…’

ভাবলেন আহা! কী দুখ্খু ছেলেটার?

আগ্গে না!

আমাদের অফিসে প্রতিদিনই রোববার।

ধরুন, মনখারাপ, আসুন রোববার.ইন।
ধরুন, বস খিস্তি করছে, জাস্ট একবার রোববার.ইন-এর ঘরে ঢুঁ মারুন।
ওই ঘরের দরজা খুললেই আমাদের কাছে উইক-এন্ড। এখন আপনারা বলতেই পারেন, তার মানে ওখানে কোনও কাজ হয় না। বিষয় অত সোজা না। আপনার প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে এক টুকরো রোববার জুড়ে দিতে আমরা মানে রোববার.ইন টিম অক্লান্ত চেষ্টা চালাচ্ছি গত দু’বছর ধরে। পেরেছি কিছুটা। তাই এবার ৩-এ।

ক্যাপ্টেন অরিঞ্জয় বোস ও সেইলর সম্বিত বসু– এদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ রোববার.ইন-এ আমায় প্রথম দিন থেকে জুড়ে রাখার জন্য। অতএব…

দুইয়ের পূর্তি, তিনগুণ ফুর্তি।

অর্ঘ্য চৌধুরী

মাঝেমাঝেই দফতরে হানা দেন মুম্বই ফেরত সমীর মণ্ডল

ভালোবাসার দফতর

‘সংবাদ প্রতিদিন’-এ আমার ২৫ বছর অতিক্রান্ত হল। দীর্ঘদিন নানা অভিজ্ঞতার মধ‌্য দিয়ে এতগুলো বছর পার করলাম। আমার পরিচয়– আমি রমা দাস। সকলে ভালোবেসে ‘রমাদি’ বলে। আমারও খুব ভালো লাগে এই ডাকটা।

‘সংবাদ প্রতিদিন’ আমার পরিবার। অনেকটা পথ পেরিয়ে এলাম। আমাদের বস সৃঞ্জয় বসু ও অরিঞ্জয় বসু আমাকে যোগ‌্য মনে করে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আমিও ভালোবেসে কাজ করেছি। অনেক অনেক বিখ‌্যাত ব‌্যক্তিত্বের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি আপ্লুত। প্রত‌্যেকে আমায় যোগ‌্য মনে করে তাঁদের কাজে নিযুক্ত করেছেন। এর মধ‌্যে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ‘রোববার ম‌্যাগাজিন’-এ কাজের সুযোগ পাওয়া। ঋতুপর্ণ ঘোষ, নীলাঞ্জনা বোস, অনিন্দ‌্য চট্টোপাধ‌্যায়ের সান্নিধ‌্যে কাজ করা। এরপর আরও কিছুটা পথ পেরিয়ে আবারও অরিঞ্জয় আমায় কাজ করার সুযোগ দিল রোববার.ইন-এ। এখানেও আমি কাজ করতে পেরে খুবই খুশি। সবাই খুব ভালো ও ভ্রাতৃসম। ওরা খুব আপন করে নিয়েছে আমায়। এখানে যার কথা না বললেই নয়, সে হল আমার ছোট ভাইয়ের মতো সম্বিত বসু। ওর প্রেরণা আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায‌্য করেছে। ‘রোববার.ইন’ আমায় প্রথম কাজের স্বীকৃতি দিয়েছে। আর এই স্বীকৃতি অরিঞ্জয় ও সম্বিত ছাড়া সম্ভব হত না।

আজ ১৮ আগস্ট ‘রোববার.ইন’-এর জন্মদিন। আমায় কিছু লেখার জন‌্য বলা হয়েছে। কিন্তু আমি কী লিখব বুঝতে পারছি না। একটু ঘাবড়েই গেলাম। অভিজ্ঞতাও নেই লেখার। আমার মতো তুচ্ছ একজনকে ও এতটা সম্মান দিয়েছে ভেবেই আপ্লুত বোধ করছি। সত‌্যিই আমার বলার ভাষা নেই। ‘রোববার.ইন’-এর সদস‌্য হতে পেরে নিজেকে ধন‌্য মনে করছি। জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা রইল ‘রোববার.ইন’-কে। আরও অনেক অনেক বিস্তৃতি লাভ করুক আমাদের রোববার.ইন।

রমা দাস

বইমেলার কড়চা

পাঠকেরও জন্মদিন, রোববার.ইন-এরও

তিন বছর– সময়ের হিসেবে হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু একটা স্বপ্নকে একটু একটু করে বড় হয়ে উঠতে দেখার জন্য যথেষ্ট। রোববার.ইন-এর এই তিন বছরের পথচলাও তেমনই অসংখ্য গল্প, নতুন ভাবনা, পরিশ্রম আর ভালোবাসায় তৈরি।

প্রতিদিন নতুন কিছু নিয়ে পাঠকের কাছে পৌঁছে যাওয়ার যে চেষ্টা, তার পিছনে রয়েছে গোটা টিমের সম্মিলিত পরিশ্রম। কেউ খুঁজে আনে লেখা, কেউ শব্দে তাকে প্রাণ দেয়, কেউ ছবিতে তাকে অন্য মাত্রা যোগ করে, আবার কেউ চেষ্টা করে সেই গল্প যেন ঠিক সময়ে পৌঁছে যায় আরও বেশি মানুষের কাছে। কাজের ধরন আলাদা হলেও আমাদের গন্তব্য একটাই– রোববার.ইন-কে প্রতিদিন আরও একটু ভালো করে তোলা।

এই তিন বছরের যাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই আমাদের পাঠকেরা। তাঁদের ভালোবাসা, আগ্রহ, প্রশংসা, এমনকী সমালোচনাও রোববার.ইন-কে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

তিন বছরের জন্মদিনে তাই উদযাপন শুধু রোববার.ইন-এর নয়– এই আনন্দ আমাদের গোটা টিমের, আমাদের প্রত্যেক পাঠকের। শুভ তৃতীয় জন্মদিন, রোববার.ইন। গল্প, আড্ডা আর ভালোবাসায় পথচলা হোক আরও অনেক দূর।

সৈকত মাজি

পয়লা বোশেখ, নতুন জামা

ফিরে পাওয়া ছেলেবেলা

রোববার.ইন-এ আমি এসইও-র কাজ করি। কর্পোরেট থেকে এসে এখানে কাজের ধরনটা আমার কাছে একটু অন্যরকম লেগেছে। কারণ এখানে এসইও শুধু কি-ওয়ার্ড, র‌্যাঙ্কিং আর ট্রাফিকের মধ্যে আটকে নেই, কাজ করতে করতে প্রতিদিন চমৎকার সব লেখা পড়ার সুযোগ হয়, নতুন কিছু জানার সুযোগ হয়। আর তার সঙ্গে আছে একটা অন্যরকম আনন্দ।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার, রোববার.ইন আমাকে মাঝেমাঝে সেই ছোটবেলার বিকেলগুলোয় ফিরিয়ে দেয়। স্কুল ছুটির পর ব্যাট-বল হাতে মাঠে ছুটে যাওয়ার যে আনন্দ, সেটাই যেন এখনও কোথাও রয়ে গিয়েছে। শুধু মাঠটা বদলে গিয়েছে এখন অফিসের ছাদে, আর সঙ্গীরা আমাদের সহকর্মী দাদারা। অবরেসবরে বিকেল হলেই ব্যাট-বল হাতে আমরা ছাদে ক্রিকেট খেলতে নেমে পড়ি। দিনভর কাজের ব্যস্ততার মাঝে সেই কয়েকটা মুহূর্ত যেন একেবারে ছোটবেলার বিকেল। কাজের ফাঁকে এমন আনন্দ, এমন বন্ধুত্ব– সত্যিই আলাদা।

রোববার.ইন-এর জন্মদিনে তাই শুধু শুভেচ্ছা নয়, এই ছোট ছোট মুহূর্তের জন্যও একটা বড় ‘ধন্যবাদ’। কাজের সঙ্গে যদি পুরনো দিনের আনন্দটাও ফিরে পাওয়া যায়, তাহলে সেই কাজের গল্পটা একটু বেশি আপন হয়ে যায়।

শুভ জন্মদিন, রোববার.ইন!

সুপ্রতিভ দেব রায়

হাতে লেখা, ডিকশনারি এবং…

ভ্রান্তিবিলাস

প্রিন্ট মানেই মহাপ্রসাদ আর ডিজিটাল মানেই মহাফ্যাসাদ। কারণ কে না জানে– প্রিন্টই সত্যি। ডিজিটাল মানেই মিথ্যের ঝাঁপি, ফেকের ঝাঁকিদর্শন। প্রিন্টই সিরিয়াস চিন্তাচর্চার জায়গা, ডিজিটাল মানেই হালকাপুলকা, শিঙিমাছের ঝোল। প্রিন্টই বুদ্ধিবৃত্তি বাড়ায়, ডিজিটাল মানেই পাড়ায় রকের উঠতি আড্ডা, সারবস্তু শূন্য। প্রিন্টই যত দিন যায়, মহার্ঘ্য হয়ে ওঠে, ডিজিটাল তো মস্ত আকাশছেঁচা ডাস্টবিন। প্রিন্টই সাতসকালে চা-টার সঙ্গে জমজমাটি, ডিজিটাল পড়তে পড়তে জল খেলে তো হেঁচকিও থামে না ছাই! প্রিন্টই অন্তত পড়া হয়ে গেলে ফেরিওয়ালাকে বেচে টু পাইস কিংবা ‘অচলপত্র’র কায়দা ধরলে: ছোটদের জন্য দুধ গরম করা যায়– ডিজিটালের ছাই দুধ গরম করার প্রতিভাটুকুও নেই। প্রিন্টেই তো সুখময় রসময় সব বাঘা বাঘা লেখকের কলাম, ডিজিটালে কেবলই কষ্টকল্পিত কামের ফুলঝুরি। প্রিন্টে উত্তর সম্পাদকীয় কড়া ধাঁচ পড়লেই বোঝা যায় বাঙালির তর্কশীলতা দিব্যি বেঁচেবর্তে আছে, আর ডিজিটালে, ধুর মশাই, কীসের তক্কবিতক্ক, স্রেফ তথ্যভারাক্রান্ত সিসিফাস! প্রিন্টে ওই লেভেলের ইলাস্ট্রেশন, মনভরানো সব বিজ্ঞাপন, ডিজিটালের তো তেমন ক্ষমতা নেই, শিল্পীটিল্পীও না। প্রিন্ট ভাবনায় সুদূরপ্রসারী, ডিজিটালের তো জন্ম থেকে সাইনাস উপসর্গ, ভাবলে আরও কঠিন মাথাব্যথা! প্রিন্ট মানে মস্ত লেখা, গভীরে যাও আরও গভীরে যাও গোছের প্রবন্ধ, শব্দসংখ্যা হাজার-দেড় হাজার সহজেই পেরয়। ডিজিটালে কচু ২০০-৩০০ শব্দের লেখা, দেড় মিনিটেই চিন্তাপ্রয়াণ। প্রিন্টে কী সব সাক্ষাৎকার, আর ডিজিটালে সেই এক প্রশ্নআত্তির দুধেভাতে পডকাস্ট! যাই বলুন, প্রিন্টে পড়ার আনন্দ টগবগে, ডিজিটালে কেমন যেন ঠিক শান্তি হয় না, চোঁয়া ঢেকুর ওঠে।

গত তিন বছরে এই সমস্ত ধারণাই বদলে দিতে পেরেছে রোববার.ইন।

সম্বিত বসু