Uttam Kumar at 100: Gautam Bandopadhyay Remembers
Robbar
  • ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভানু-উত্তম: আড্ডা থেকে অমরত্ব

ছয়ের দশকে বাবা ও উত্তমকাকার বন্ধুত্ব গাঢ় হয় আরও। মনে পড়ে, ‘ভ্রান্তিবিলাস’ (১৯৬৩)-এর জন্য সই করতে গিয়ে বাবা উচ্ছ্বসিত। সেসময় বাবাকে এ-ছবিতে অভিনয়ের জন্য ছবির প্রোডিউসার– বলা বাহুল্য, যাঁর নাম ‘উত্তমকুমার’, যে-পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন, তার সমপরিমাণ টাকা অভিনয়ের জন্য বাবা পাওয়া শুরু করবেন আরও দশ বছর পর। এমনকী, ‘অ্যাডভান্স’ হিসেবে এই ছবির জন্য বাবা পেয়েছিলেন চারটি গিনি। অর্থাৎ, মোহর! উত্তমকুমারের ব্যাপারই আলাদা! এমন দরাজদিল ভদ্রলোক পৃথিবীতে কমই আসেন।

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:২২   
Facebook WhatsApp Messenger

উত্তমকুমারের যখন কোনও গাড়ি নেই, অর্থাৎ ‘নাম’ করেননি, তখন থেকেই আমি তাঁকে চিনি। বারে বারেই দেখেছি। আমাদের বাড়ির অন্দরমহল পর্যন্ত আসতেন সিনেপাড়ার গোটা ৮-১০ লোক– উত্তমকাকা, সাবুপিসি (সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়), জহরকাকা (জহর রায়), ছবি জ্যাঠামশাই (ছবি বিশ্বাস), বিকাশজেঠুর (বিকাশ রায়) মতো কয়েকজন।

zoom
‘শ্যামলী’ নাটকের বিজ্ঞাপন

সাল ১৯৫৪। ‘শ্যামলী’ নাটক। আমার তখন ৭ বছর বয়স। আমার বাবা, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবুপিসি, উত্তমকুমার– এঁরা ছিলেন এই নাটকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। মঙ্গল, শনি, রবি– তিনদিন নাটকের শো। ফলে ওই তিনদিন দেখা পাকা। অনেক সময় শুটিংয়ে যাওয়ার পথে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে ট্যাক্সিতে তুলে উত্তমকাকা আসতেন আমাদের বাড়ির দোরগোড়ায়। ট্যাক্সি থেকে নামতেন না, চিৎকার করে ডাকতেন। বাবা রেডিই থাকতেন বেশিরভাগ সময়। যদিও বাবার রেডি হতে লাগত বড়জোর এক-দেড় মিনিট। ‘শ্যামলী’ নাটকের অনেকগুলো শো তো দেখেইছি, কিন্তু এই যে উত্তমকাকার বাবাকে আনতে আসা, এই সময়টাই দু’-এক মিনিট কথাবার্তা হয়েছিল ওঁর সঙ্গে। সেই ছেলেবেলাতেই। ‘অ্যাই কেমন আছিস? বাবাকে ডেকে দে তো!’ এই গোছের নানা টুকরো কথা। সেগুলি অতি-আন্তরিক বাক্য দিয়ে গড়া। আজ, উত্তমকুমারের শতবর্ষেও, তা এতটুকু মলিন হয়নি।

zoom
‘শ্যামলী’ নাটক অভিনয়ের আগে শেষ মুহূর্তের মেকআপ করছেন উত্তমকুমার

স্টুডিওপাড়া থেকে বাড়ি যাওয়ার মধ্যে, মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িতে হল্ট দিতেন উত্তমকাকা। তেল-মুড়ি-লঙ্কা– এই স্ন্যাক্স ছিল ‘পপুলার’। সেদিনের ঘটনাটা একটু অন্য। আমাদের প্রাইভেট টিউটর এসেছেন, আমি ও আমার ভাই বসে আছি তাঁর সামনে। উত্তমকাকা এসে, আমাদের পাশেই বসে পড়লেন। আমাদের ঘর ছিল ওই একটাই, গ্যারাজের ওপর আধখানা ঘর, মোট দেড়খানা। আলাদা বসার জায়গা নেই। ততদিনে ‘উত্তমকুমার’ জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছেন। ‘অগ্নিপরীক্ষা’ সদ্য বেরিয়েছে সম্ভবত। মাস্টারমশাই ওঁকে দেখে মাথা নিচু করে বসে আছেন। কিছুতেই মাথা তুলছেন না। উত্তমকাকা বললেন, ‘কী রে পড়ছিস না কেন! পড়ার তো ক্ষতি হচ্ছে! পড়!’ আমি বললাম, ‘কী করে পড়ব? মাস্টারমশাই তো পড়াচ্ছেনই না!’

zoom
হরিহর আত্মা

পাড়ার দাদারা, বয়সে বছর বারোর বড়ই হবে, ক’দিন পর ডেকে জানতে চায়, ‘কী রে, তোদের বাড়িতে কিরীটি এসছিল কেন রে?’ আমি বলি, ‘কিরীটি আবার কে! ও তো উত্তমকাকা!’ ‘আরে, ওই অ্যালবার্ট কাট চুলের যে এসছিল…’ ‘ওই-ই তো উত্তমকাকা!’ ‘না, না, ও লোকটাই কিরীটি!’ ‘ওই একই হল! এসেছিল। তেলমুড়ি খেয়ে চলেও গিয়েছে।’

zoom
ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ও নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায়

বোধহয় ’৫৬-’৫৭ সাল। উত্তমকাকা এসেছেন। পরের দিন রেডিওতে মায়ের (নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায়) গানের অনুষ্ঠান আছে। উত্তমকাকা সে ব্যাপারে জানেন। ভক্তিমূলক গান গাইতে হবে। কিন্তু কোনও গান তখনও পর্যন্ত তোলা হয়নি। ‘বউদি, এদিকে এসো তো, একটা গান তুলেছি, বুঝলে?’ এই বলে উত্তমকাকা আমাদের দেড়তলার ঘরে বসে খসখস করে লিখে দিলেন গানটা। যথারীতি বের করা হল হারমোনিয়াম। কী গান? ‘হরি বলো মন রসনা…’। তখন রেডিওতে তিনবেলা ভক্তিমূলক গান হত। মায়ের ডায়েরিতে উত্তমকাকার শিখিয়ে দেওয়া এই গানের উল্লেখ দেখেছি। গান শেখানোর সঙ্গে সঙ্গে এক-দু’কাপ চা-ও ছিল সঙ্গতে। উত্তমকুমার বাড়ি এসেছেন, তা প্রতিবেশীরা অনেকেই দেখেছেন। ততদিনে চারচাকাও হয়েছে মহানায়কের। সেদিন আমাদের বাড়িতে পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর নানা প্রকার লোকজন আসতে লাগল। এমনকী, একই পরিবারের বড়ভাই, ছোটভাইও। প্রায় প্রত্যেকের মুখেই একটি গান: ‘ঝড় উঠেছে, বাউল বাতাস।’ উত্তমকাকা যাওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘তোদের পাড়ায় অনেক গায়ক আছে দেখছি!’ বুঝতেই পারছেন কিরীটি থেকে ততদিনে তিনি ‘উত্তমকুমার’-এ পরিণত হয়েছেন। আমার মনে হয়, ‘মহানায়ক’ তিনি ‘শাপমোচন’ (১৯৫৫)-এ অভিনয় করেই হয়ে গিয়েছেন। নইলে এই সামান্য সময়ে, এত লোক জড়ো হয়!

zoom
শাপমোচন (১৯৫৫) ছবির পুস্তিকা

বাবার সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করার আগে থেকেই উত্তমকাকার আলাপ। ‘নতুন ইহুদি’ খুবই নাম করেছিল তখন, বাবা ছিলেন এই নাটকে। তখনকার দিনে, ‘নবান্ন’র পর ‘নতুন ইহুদি’ই সবচেয়ে আলোড়ন তুলেছিল। বসুশ্রীর পিছন দিকে, কালিকা-য় হত একের পর এক হাউসফুল শো। সুশীল মজুমদার, কালী ব্যানার্জী, ছবি বিশ্বাস– এঁরাও নাটকে যোগ দিয়েছিলেন পরের দিকে।

zoom
‘নতুন ইহুদী’ বইয়ের আখ্যাপত্র

বাবা, উত্তমকাকা– দু’জনে তো বটেই, বোধহয় সাবুপিসিও অস্টিন গাড়ি কিনেছিলেন। তারপর তো একের পর এক বিদেশি গাড়ি উত্তমকাকার, সেকথা আলাদা। মোটের ওপর, তিনজনে শলা-পরামর্শ করে কিনেছিল বলেই মনে হয়। বাবাকে উত্তমকাকা ডাকতেন ‘ভানুদা’ বলে, একেবারে দাদার মতো করেই দেখতেন। ওঁর চেয়ে ৬ বছরের বড়, ‘দাদা’ বলতেন, আবার ‘তুই’ করেও বলতেন। এতই ব্যস্ত ওঁরা দু’জনেই, যে আড্ডা যা হওয়ার, মূলত হত স্টুডিওতেই। পরপর ফ্লোর সব। পাশাপাশি কিংবা উপর-নিচ। বিকেল সাড়ে ৫টা বাজলেই না কি অনেক সময় নির্দেশ আসত: কেউ যাবে না, আজ আড্ডা হবে। ব্যাস! জহরকাকা, আমার বাবা, অজিতকাকা (অজিত চট্টোপাধ্যায়), ছবি জ্যাঠামশাই (ছবি বিশ্বাস), উত্তমকাকা। চলল আড্ডা রাত পর্যন্ত! এঁদের নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতা তৈরি হয়েছিল এই কারণেই। অবশ্য এই যে সময়টা, পাঁচের দশকের মাঝামাঝি বা শেষ যদি ধরি, সিনেমার লোকেদের সঙ্গে গেরস্থবাড়ির লোকেরা মিশত না। এমনও জানি যে, উত্তমকুমারের এক বন্ধু, ছেলের জন্মদিনে নিমন্ত্রণ করেছেন তাঁকে। সেই বন্ধুটি দিব্যি হেসেখেলে বন্ধুকৃত্য করলেও, বন্ধুটির বাড়ির লোক নায়কের ধারকাছ ঘেঁষছেন না।

zoom
এক অনুষ্ঠানে রাজেন সরকার, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচিত্রা সেন ও উত্তমকুমার

আমি ‘কাঞ্চনমূল্য’ (১৯৬১)-তে অভিনয় করছি। মনে পড়ে, সেসময় টেকনিশিয়ান স্টুডিওর ২ নম্বর ফ্লোর পুড়ে গিয়েছিল। এখন যেখানে মেট্রোর লাইন– ততদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল টেকনিশিয়ান স্টুডিও। একেবারে গঙ্গার পাড় পর্যন্ত। ওইখানে ১০-১২ দিনের সেট তৈরি হয়েছিল। একই সময়ে ‘দুই ভাই’-এর সেট তৈরি হয়েছে ১ নম্বর ফ্লোরে। যে ছবিতে বিশ্বজিৎ-উত্তমকুমার মূল চরিত্রে। আমার যখন শুটিং নেই, তখন মাঝেমাঝেই ঢুকে পড়তাম উত্তমকাকাদের ফ্লোরে। প্রোডাকশনের মানিককাকাকে (মানিক দত্ত) তো চিনি অনেকদিনই। পরে ‘অমানুষ’-এ অভিনয়ও করেছিলেন তিনি। আমাকে দেখে গলা হাঁকিয়ে বলতেন, ‘কী রে! শুটিং নেই? যা, ঢুকে যা। আওয়াজ করবি না কিন্তু।’ আমি গেটের ভেতর একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে শুটিং দেখতাম। ‘তারে বলে দিও’– সেই গানের দৃশ্যটা তৈরি হতে দেখেছিলাম এভাবেই। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কয়েকটা জবরদস্ত ঝগড়ার সিন দেখেছি! যখন ক্যামেরা আর চলছে না, তখনও উত্তমকুমারকে দেখেছি হাঁটতে হাঁটতে সংলাপ মুখস্থ করছেন। মগ্ন হয়ে, ১ নম্বর ফ্লোর থেকে হেঁটে ৩ নম্বর ফ্লোরের অফিস পর্যন্ত চলে যেতেন, আবার ফিরে আসতেন। কখনওই সামনাসামনি পড়তে চাইতাম না উত্তমকাকার। কারণ অধিকাংশ সময়, ওঁর তরফে প্রশ্ন ছিল: ‘কী? লেখাপড়া ঠিকঠাক হচ্ছে তো?’ উত্তমকুমারকে সেই ছেলেবেলায় বিপাকে পড়ে কতবার যে মিথ্যে বলেছি, ‘হ্যাঁ, হচ্ছে।’

zoom
‘দুই ভাই’ (১৯৬১) ছবির পোস্টার ও বুকলেট, ‘কাঞ্চনমূল্য’ (১৯৬১) ছবির পুস্তিকা

ছয়ের দশকে বাবা ও উত্তমকাকার বন্ধুত্ব গাঢ় হয় আরও। মনে পড়ে, ‘ভ্রান্তিবিলাস’ (১৯৬৩)-এর জন্য সই করতে গিয়ে বাবা উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, ‘‘দারুণ! উত্তম হাসির ছবি করছে! আমার-উত্তমের ডাবল রোল! দারুণ!’’ সেসময় বাবাকে এ-ছবিতে অভিনয়ের জন্য ছবির প্রোডিউসার– বলা বাহুল্য, যাঁর নাম ‘উত্তমকুমার’, যে-পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন, তার সমপরিমাণ টাকা অভিনয়ের জন্য বাবা পাওয়া শুরু করবেন আরও দশ বছর পর। এমনকী, ‘অ্যাডভান্স’ হিসেবে এই ছবির জন্য বাবা পেয়েছিলেন চারটি গিনি। অর্থাৎ, মোহর! এটা এক্সট্রা– পারিশ্রমিক তো পরে! উত্তমকুমারের ব্যাপারই আলাদা! এমন দরাজদিল ভদ্রলোক পৃথিবীতে কমই আসেন।

zoom
‘ভ্রান্তিবিলাস’ (১৯৬৩) ছবির পোস্টার ও একটি বিশেষ দৃশ্যে উত্তমকুমার ও ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়

এমন বন্ধুত্ব এক মুহূর্তের জন্যও কি আলগা হয়নি? বোধহয় রাজনীতিই খানিক মতপার্থক্য তৈরি করেছিল। বাবা-পুলুকাকু (সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়)– এঁরা ছিলেন বামপন্থী। আর এঁরা উত্তমকুমারকে মনে করতেন কংগ্রেসের লোক। আর তখন কংগ্রেস মানে একটু পুঁজিপতিই ভাবা হত। আর বামেরা শ্রমিকশ্রেণি, খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলবে, এমনটাই তো স্বাভাবিক। আসলে উত্তমকুমার ভাবতেন প্রোডিউসারের দিকটাও। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে হয়েও বলছি, বাবা এ ব্যাপারে একটু একগুঁয়েই ছিলেন। প্রোডিউসার মরে মরুক, শ্রমিকরা খেতে পাক– এমনটা ভাবলে মূল ক্ষতি হয় সিনেপাড়ারই। তবুও এমনটা ঘটল। মাঝে উত্তমকুমার-সত্যজিৎ জুটির দ্বৈরথ বেধে গেল। বাবাও এদিকে ব্ল্যাকলিস্টেড হলেন। কুছ পরোয়া নেই অবশ্য, খুলে ফেললেন যাত্রাপার্টি! সব মিলিয়ে ৬ মাসও এই মতান্তর টেকেনি। তবে যাত্রা করা দুম করে থামাননি বাবা। ৭ বছরের যাত্রায় বাবা যা রোজগার করেছেন, তার আগের ৩০ বছরের অভিনয়জীবনেও অত রোজগার করেননি।

zoom
বসুশ্রী সিনেমা হল-এ ‘দেবদাস’ (১৯৭৯) ছবির প্রেস শো উপলক্ষে উত্তমকুমার, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

’৭১ সালে আবার দাদা-ভাইয়ের মিলমিশ। মনান্তর সম্ভবত কোনওকালেই ঘটেনি। যে ছবি দিয়ে দু’জনের ফের পর্দায় ফেরা, তার নাম ‘স্ত্রী’ (১৯৭২)। পরিচালক সলিল দত্ত। সলিলদা, আমাকে বলেছিলেন যে, উত্তমকুমারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘ভানুদাকে নেব? গুরুত্বপূর্ণ রোল।’ উত্তমকুমারের জবাব ছিল, ‘যদি মনে হয়, ওই রোলের জন্য ভানুদা বেস্ট, ভানুদাকেই নিবি!’ এরপর আরও বেশ কিছু ছবিতে ওঁরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। ‘প্রিয় বান্ধবী’ (১৯৭৫), ‘দর্পচূর্ণ’ (১৯৮০) , ‘প্রতিশোধ’ (১৯৮১)– আরও কত ছবি! এই সময়টায় প্রায়ই উত্তমকাকা বাবাকে ছবিতে নেওয়ার কথা বলছেন বলে জানতে পেরেছি নানা পরিচালক-অভিনেতার কাছ থেকে।

zoom
‘স্ত্রী’ (১৯৭২) ছবির প্রচার পুস্তিকা

’৭৯ সালে উত্তমকাকা যখন বিদেশে যাচ্ছেন, বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। হিউস্টনে তখন আমার ভাই রয়েছে। যদিও সেখানে যাওয়ার কোনও প্ল্যান নেই মহানায়কের। বাবাকে বলেছিলেন, ‘একবার পিনাকীকে বলবি, যদি ইচ্ছে করে ওর, একবার দেখা করতে পারে।’ বাবা জবাব দিয়েছিলেন, ‘ওর তো এখন পিএইচডির থিসিসের সময়, তবু দেখছি।’ যদিও ভাই দেখা করতে পারেনি। বাবা একটা চিঠি লিখেছিলেন ওয়াশিংটন ডিসির ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের সমর সেনের জন্য। সমর সেন বাবার পূর্ব-পরিচিত। লেখা ছিল: ‘উত্তম আমার ভ্রাতৃপ্রতিম। ওকে যদি সম্ভব হয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কটা একটু ঘুরিয়ে দেখাবেন।’ বিদেশযাত্রার আগে, এই হাতচিঠি আমিই পৌঁছে দিয়েছিলাম উত্তমকাকার হাতে, ওঁর ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে। এত নৈকট্য সত্ত্বেও, ওঁর বাড়ি গিয়েছিলাম সাকুল্যে, তিনবার। বাবার বারণ ছিল। কারণ আত্মীয়স্বজন থেকে প্রতিবেশী– নানা সূত্রে চাপ আসত ফাংশন-টাংশন যদি এই চেনা-সূত্রে কিছু কম টাকাপয়সায় হয়। তাছাড়া, বাবা বলতেন, ‘উত্তম তো আমার বন্ধু, তোর বন্ধু যে ওঁর বাড়ি যাবি?’

zoom
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে মহানায়ক (১৯৭৯)

সত্যিকারের মৃত্যুর আগেই, উত্তমকুমারের মৃত্যুর ‘গুজব’ এসেছিল বাবার কানে। রবীন্দ্রসদনে, অনুষ্ঠানের অর্গানাইজার বিশু চক্রবর্তী বলেছিলেন, ‘ভানুদা, উত্তমকুমার মারা গিয়েছেন।’ তখন উত্তমকাকা বেলভিউতে ভর্তি। বাবা বলেছিলেন, ‘হ্যাহ, এরকম অনেকবার মারা গিয়েছে ও।’ কিন্তু মন খচখচ করায় বেলভিউতে চলে গিয়েছিলেন বাবা। জানতে পারেন, উত্তমকাকা ঠিকই আছেন এখন। মৃত্যু না ছাই! স্রেফ গুজব।

পরদিন খুব ভোরবেলা ফোন এসেছিল। ডুকরে কেঁদে উঠেছিল বাবা। রেডি হতে সেদিন এক-দেড় মিনিটও সময় নেননি বোধহয়।

অনুলিখন: সম্বিত বসু

Basushree Cinema Bhanu Bandopadhyay Bhrantibilas Biswajit Chatterjee Chhabi Biswas Dui Bhai Funeral Gautam Banerjee Jahar Ganguly Kanchanmulya Neelima Banerjee Notun Ihudi Sabitri Chatterjee Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar Shapmochan Shyamoli Star Theatre Stree Supriya devi Uttam Kumar Uttam Kumar Death

Share this article on