

কৃষিক্ষেত্রে মহিলা ও পুরুষ শ্রমিকের প্রকট মজুরি বৈষম্য এবং কাঠামোগত নিরাপত্তাহীনতা তাঁদের চরম সামাজিক শোষণের মুখে ঠেলে দেয়। অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন নীতিগুলি মূলত বহুজাতিক কর্পোরেশন ও দেশীয় পুঁজিপতিদের স্বার্থই রক্ষা করে চলেছে। নীতিনির্ধারণের উচ্চপর্যায়ে মাঠপর্যায়ের কোনও মহিলা কৃষক বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কার্যকর প্রতিনিধিত্ব না থাকায় অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন নীতিগুলি মূলত বহুজাতিক কর্পোরেশন ও দেশীয় পুঁজিপতিদের স্বার্থই রক্ষা করে চলেছে।
দিল্লির ভারত মণ্ডপমে গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন; যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এছাড়া সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা। এই সম্মেলনের মূল থিম ছিল– ‘বিল্ডিং ফর রেজিলিয়েন্স, ইনোভেশন, কোঅপারেশন অ্যান্ড সাস্টেনেবিলিটি’। এই ভাবনাকে সামনে রেখে গ্লোবাল সাউথের অধিকার রক্ষা, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও এআই-র মাধ্যমে কৃষির আধুনিকীকরণ এবং বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে (যেমন: IMF এবং World Bank) কাঠামোগত সংস্কার আনাই ছিল মূল লক্ষ। এছাড়াও, ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মোকাবিলা, সাপ্লাই চেইন রক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়গুলি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি, নিজস্ব মুদ্রায় পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে শক্তিশালী করার ওপর বিশ্বনেতারা জোর দিয়েছেন।

যে কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূলত দু’টি সমান্তরাল ধারা কাজ করে– একটি মঞ্চের ওপরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা, অন্যটি পর্দার আড়ালের প্রকৃত কৌশল নির্ধারণ। মূল মঞ্চে সর্বসম্মত নীতি ও যৌথ অ্যাজেন্ডা নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখা হলেও, আসল কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক খেলাটি পরিচালিত হয় নেপথ্যেই। অর্থাৎ এই ধরনের বহুপাক্ষিক সম্মেলনের আসল সিদ্ধান্ত হয় মঞ্চের বাইরের দ্বিপাক্ষিক (Bilateral) কিংবা ছোট ছোট জোটের (Minilateral) আলোচনার মধ্যে থেকেই।
ব্রিকসের মতো সম্মেলনে বিশ্বনেতা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞদের দল এক ছাদের নিচে হাজির থাকেন। ফলে সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার বহু সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি, ‘আইবিএসএ’ (ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা)-র মতো উপ-জোটগুলির নিজেদের মধ্যেও আলোচনা চালানো সহজ হয়। মঞ্চের বাইরের এই সব বৈঠকেই বহু বড় বড় বাণিজ্যিক ও নীতিগত চুক্তি এক মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়ে যায়। ফলে আলাদা করে দেশ সফর করার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। এতে প্রতিটি দেশের খরচ ও সময় দুই-ই বাঁচে।

তাছাড়া, যেসব দেশগুলির মধ্যে রাজনৈতিক বা সীমান্ত নিয়ে টানাপোড়েন চলে, তাদের জন্য এই ধরনের মঞ্চগুলি সম্পর্ক জোড়া লাগানোর বা ‘আইসব্রেকিং’-এর দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি করে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজস্ব কূটনৈতিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেই দুই দেশ নিজেদের বরফ গলাতে পারে। তাই ব্রিকসের যৌথ ঘোষণা কেবল বাইরের মোড়ক মাত্র; আসল দরকষাকষি আর কূটনীতির খেলাটা চলে পর্দার আড়ালে বন্ধ দরজায়।
পর্দার আড়ালের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত হল ভারত ও ব্রাজিলের যৌথ সিদ্ধান্ত। জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা– এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে দুই দেশই গ্লোবাল সাউথের মুখপাত্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে। ভারতের গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্স এখন ব্রিকসের মূলনীতির অংশ এবং তা পরিচালিত হচ্ছে এই দুই দেশের হাত ধরেই। একইসঙ্গে, উন্নত দেশগুলি যেন তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জলবায়ু সংক্রান্ত অর্থ দ্রুত বরাদ্দ করে এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিগুলিকে গ্লোবাল সাউথের হাতে তুলে দেয়– সেই দাবিতেও তারা জোরালো চাপ তৈরি করেছে। বিশ্ব জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কৃষিপণ্যের বাজারে যে ধাক্কা লাগছে, তা মোকাবিলায় ভারতের ‘আইসিএআর’ (ICAR) এবং ব্রাজিলের ‘এমব্রাপা’ (EMBRAPA) হাত মিলিয়ে কাজ করছে। দুই দেশের পারস্পরিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার ফলে খরা-সহনশীল বীজ ও আধুনিক জৈব-প্রযুক্তির আদান-প্রদান যেমন দ্রুত হচ্ছে, তেমনই কঠিন সময়েও সার ও খাদ্যশস্যের সরবরাহ লাইন সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা না-চাপে, সেই সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক এই বোঝাপড়া কেবল দুই দেশের গণ্ডিতে আটকে থাকেনি; ব্রিকসের যৌথ মঞ্চ পেরিয়ে তা গ্লোবাল সাউথের সম্মিলিত দাবিতে রূপ নিয়েছে, যার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র’-এ (সম্মেলনে সব দেশের সম্মতিতে প্রকাশিত মূল সিদ্ধান্ত ও নীতিগত লিখিত অঙ্গীকার)।

সম্মেলনের ঘোষণাপত্র ও নীতিগত নথিতে গ্লোবাল সাউথকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিতে উন্নয়নশীল দেশগুলির ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব ও কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জোরালোভাবে তোলা হয়েছে। এতদিন ধরে চলা আন্তর্জাতিক উপেক্ষাকে সরিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থকে বৈশ্বিক নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, মুদ্রাস্ফীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি যে অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পারস্পরিক বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেইনকে আরও মজবুত করতে একটি বিকল্প ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও উদীয়মান প্রযুক্তিগুলির নাগাল কেবল উন্নত দেশের বড় কোম্পানির হাতে সীমাবদ্ধ না-রেখে, তা উন্নয়নশীল দেশের প্রান্তিক কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফসলের রোগ নির্ণয়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মাটির স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং ফসলের সঠিক দাম নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে সহজলভ্য করা এর মূল লক্ষ। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অনিশ্চয়তা, খরা ও বন্যার হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে কার্যকর প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ব্রিকসের এই যৌথ রূপরেখার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল গ্রামীণ অর্থনীতিতে মহিলাদের শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে টেকসই উন্নয়নের মূল ধারায় সামিল করা। নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৃহৎ কর্পোরেট স্বার্থ কিংবা পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে নীতি-নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে বসাতে হবে ক্ষুদ্র চাষি ও মহিলা কৃষি শ্রমিকদের। কৃষিকাজে নিযুক্ত কোটি কোটি মহিলার স্বীকৃতিহীন শ্রমের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, মজুরি বৈষম্য দূর করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তাঁদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ডিজিটাল টুলস, আধুনিক প্রযুক্তি ও সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ কেবল ধনী বা পুরুষ কৃষকের একচেটিয়া অধিকারে না-রেখে, তা প্রান্তিক মহিলা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, প্রযুক্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির হাত ধরে গ্লোবাল সাউথের সাধারণ মানুষ ও মহিলাদের হাতেই ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ক্ষমতার চাবিকাঠি তুলে দেওয়ার এক যৌথ রাজনৈতিক সদিচ্ছা এই সম্মেলনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সভাপতিত্বে গ্লোবাল সাউথ, মহিলা ও প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার নিয়ে এই প্রগতিশীল কথা বলা হলেও, দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিগুলির ক্ষেত্রে তার বাস্তব চিত্রটি ঠিক উল্টো– কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি হওয়া ‘এমএসপি-র আইনি গ্যারান্টি’র বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাজারকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়ে কৃষিকে বহুজাতিক কর্পোরেশনের চুক্তিমুখী করে তোলার প্রবণতা প্রকট। তাই তাকে ঘিরে দেশের কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অর্থনীতিবিদ মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

একদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কৃষকদের সুরক্ষা ও অধিকারের কথা জোরালোভাবে বলা হচ্ছে, আর অন্যদিকে দেশের মাটিতে এআই ও এগ্রিস্ট্যাকের নামে কৃষকদের ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরির যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে– সমালোচকদের মতে তা শেষ পর্যন্ত গ্রামীণ অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ বড় পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার পথই প্রশস্ত করছে। কৃষকদের নিজস্ব বীজ সংরক্ষণ ও সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে বাজারে বড় কোম্পানির হাইব্রিড বীজ ও রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া, খেটে খাওয়া মানুষের মুখে অন্ন জোগানো কৃষকদের স্থায়ী উপার্জনের পথ বা ঋণ মকুবের ব্যবস্থা করার চেয়ে শিল্পপতিদের কর্পোরেট ট্যাক্স ছাড় ও ঋণ মকুবের বহুল প্রসারই প্রমাণ করে যে, দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিগুলি জনস্বার্থের বদলে কর্পোরেট তোষণেই বেশি ব্যস্ত।

একইভাবে, দেশের প্রচলিত নীতি ও কাঠামোগত ব্যবস্থার মধ্যে লিঙ্গ সমতা এবং গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গভীর প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য বজায় রয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে মহিলাদের শ্রমের আধিক্য থাকলেও পিতৃতান্ত্রিক উত্তরাধিকার আইন ও সামাজিক কাঠামোর কারণে জমির প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানায় তাঁদের অধিকার অত্যন্ত সীমিত, যা তাঁদের ব্যাংক ঋণ ও সরকারি সহায়তা পাওয়া থেকে সরাসরি বঞ্চিত করে। গৃহস্থালির নিঃশব্দ কাজের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে মহিলাদের দীর্ঘ ও কঠোর শ্রমের জাতীয় আয়ে (জিডিপি) কোনও আর্থিক স্বীকৃতি মেলে না।

কৃষিক্ষেত্রে মহিলা ও পুরুষ শ্রমিকের প্রকট মজুরি বৈষম্য এবং কাঠামোগত নিরাপত্তাহীনতা তাঁদের চরম সামাজিক শোষণের মুখে ঠেলে দেয়। উপরন্তু, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও ডিজিটাল টুলসগুলি পুরুষতান্ত্রিক নকশায় তৈরি হওয়ায় এবং গ্রামীণ তথ্যপ্রযুক্তিতে মহিলাদের নাগাল না থাকায় প্রান্তিক মহিলা কৃষকেরা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে আরও দূরে ছিটকে পড়েন। নীতি-নির্ধারণের উচ্চপর্যায়ে মাঠ পর্যায়ের কোনও মহিলা কৃষক বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কার্যকর প্রতিনিধিত্ব না থাকায় অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন নীতিগুলি মূলত বহুজাতিক কর্পোরেশন ও দেশীয় পুঁজিপতিদের স্বার্থই রক্ষা করে চলেছে। বিদেশের মাটিতে গ্লোবাল সাউথ, কৃষক ও মহিলাদের অধিকারের কথা ঘটা করে বলা হচ্ছে; অথচ ঘরের মাঠে সেই খেটে-খাওয়া মানুষদেরই জীবন-জীবিকাকে সঁপে দেওয়া হচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফার কাছে। বাইরে প্রগতিশীল সাজার এই মুখোশ আর ভেতরে কর্পোরেট তোষণ– সরকারি উদ্যোগে এর চেয়ে বড় রাজনৈতিক ভণ্ডামি আর কী হতে পারে?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved