

কিষাণ স্বরাজ সম্মেলন কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার সভা নয়, এটি প্রান্তিক কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তোলার এক বাস্তব মঞ্চ। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা, কৃষি শ্রমিকের তীব্র অভাব এবং বন্যপ্রাণীর হামলায় দিশেহারা হয়ে বহু ক্ষুদ্র কৃষক আজ চাষ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এই কঠিন সংকট মোকাবিলায় প্রথমেই দরকার কৃষি শ্রমের সামাজিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতায় যৌথ চাষের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করা এবং কার্যকর সমাধানের পথ খোঁজাই এই সম্মেলনের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।
প্রচ্ছদের ছবি: এস এম সুলতান
ভারতের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হল কৃষি। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কর্পোরেটমুখী নীতির চাপ– সব মিলিয়ে কৃষক ও কৃষি উভয়ই আজ এক জটিল সংকটে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকের অধিকার সুনিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থার বার্তা ছড়িয়ে দিতে আগামী ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ষষ্ঠ কিষাণ স্বরাজ সম্মেলন’। এই সম্মেলনের মূল আয়োজক ‘অ্যালায়েন্স ফর সাসটেইনেবল অ্যান্ড হোলিস্টিক এগ্রিকালচার’ (ASHA)। দেশের ২০টিরও বেশি রাজ্যের ৪০০-রও বেশি সংগঠনকে নিয়ে গড়ে উঠেছে এই সর্বভারতীয় জোট, যেখানে যুক্ত রয়েছে বিভিন্ন কৃষক ও পরিবেশবাদী দল, গবেষক এবং সচেতন ক্রেতাগোষ্ঠী। ২০১০ সালের ঐতিহাসিক ‘কিষাণ স্বরাজ যাত্রা’-র মধ্য দিয়েই এই প্ল্যাটফর্মটির পথচলা শুরু, তাই এটি ‘কিষাণ স্বরাজ আন্দোলন’ নামেও পরিচিত। বর্তমানে এই জোট পরিবেশবান্ধব কৃষি (Agroecology), কৃষকের অধিকার এবং খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

বিগত দেড় দশকে কিষাণ স্বরাজ আন্দোলন ভারতের পরিবেশবান্ধব কৃষি আন্দোলনের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছে। এই জোটের ২০১৩ সালের ভোপাল কিংবা ২০২২ সালের মহীশূর সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলো কেবল আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বাস্তব পরিবর্তন এনেছে। রাসায়নিক-নির্ভর সবুজ বিপ্লবের বিপরীতে এটি এক টেকসই কৃষি ব্যবস্থার মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এদের নিরবচ্ছিন্ন দাবির মুখেই কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্য সরকার প্রাকৃতিক কৃষিকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়– অন্ধ্রপ্রদেশের ‘APCNF’ প্রকল্প কিংবা কেন্দ্রের পরম্পরাগত ‘কৃষি বিকাশ যোজনা’ যার স্পষ্ট প্রমাণ। কৃষকের আইনি অধিকার রক্ষার লড়াইয়েও ‘ASHA’-র আন্দোলন ইতিহাস গড়েছে। এদেরই গড়ে তোলা গণ-অভিযানের ফলে গুজরাটের আলুচাষিদের বিরুদ্ধে বহুজাতিক সংস্থা পেপসিকো কোটি টাকার মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ফলে বীজের ওপর কৃষকের অধিকার সুরক্ষিত হয়। এই উদ্যোগ একইসঙ্গে হারিয়ে যেতে বসা হাজার হাজার দেশি শস্যের জাতকে মাঠে ফিরিয়ে এনেছে– যা আঞ্চলিক বীজ সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্পোরেট নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়েছে।

কৃষি সংকট মোকাবিলা, বর্গাচাষিদের সরকারি ঋণের ব্যবস্থা করা এবং উত্তর ভারতে বিষমুক্ত চাষের বিস্তার ঘটানোয় এদের আন্দোলনের ভূমিকা অনন্য। এমনকী ‘কিষাণ হাট’ ও কৃষক উৎপাদক সংস্থার (FPO) মাধ্যমে রাসায়নিকমুক্ত ফসলের সরাসরি বিক্রির ব্যবস্থাও এরা করেছে। এই দীর্ঘ লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা নিয়েই আয়োজিত হচ্ছে এ বছরের সম্মেলনগুলো। এর মূল উদ্দেশ্য– আঞ্চলিক সংকটগুলোকে স্থানীয় ভাষায় চিহ্নিত করা এবং বীজ বিলের মতো নীতিগত হুমকি ও ক্ষতিকর ‘এইচটি’ (কীটনাশক সহনশীল কৃত্রিম বীজ) শস্যের অনিয়ন্ত্রিত অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। তবে এবারের আয়োজনে রয়েছে বিশেষ নতুনত্ব। সারা দেশে একটিমাত্র জাতীয় সম্মেলন না করে, অঞ্চলভিত্তিক তিনটি আলাদা সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে– পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের জন্য গুজরাটের লোকনিকেতন, দক্ষিণাঞ্চলের জন্য কর্ণাটকের মহীশূর এবং পূর্বাঞ্চলের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে কলকাতাকে।

আরেকটি চমৎকার বিষয় হল– অর্থাভাবে কোনও কৃষক যাতে সম্মেলনে আসা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য চালু করা হয়েছে একটি বিশেষ ব্যবস্থা। এখানে নগদ টাকার বদলে ক্ষুদ্র বা একক নারী কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত ৮ কেজি দানাশস্য বা ৫ কেজি ডাল জমা দিয়েই তিন দিনের পূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। কৃষিতে কর্পোরেটদের একচেটিয়া আধিপত্যের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং কৃষকের অধিকার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই সম্মেলনগুলো পরিচালিত হতে যাচ্ছে। এটি যেমন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের স্বাধীনভাবে উৎপাদনের পথ দেখাবে, তেমনই নগরবাসীর জন্য সুনিশ্চিত করবে বিষমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য। মূলত এই বার্তা পৌঁছে দিতেই সম্মেলনে চারটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

প্রথমত, সরকারের প্রস্তাবিত নতুন ‘বীজ বিল ২০২৫’ এবং কর্পোরেট চুক্তিগুলোর ফলে কৃষকের নিজস্ব বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময়ের মৌলিক অধিকার আজ বিপন্ন। তাই বীজের ওপর কৃষকের ঐতিহ্যগত অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। গুজরাটের আলুচাষিদের ওপর পেপসিকোর আইনি হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, কীভাবে আইনের ফাঁক গলে বহুজাতিক সংস্থাগুলো বীজের একচেটিয়া বাজার দখল করতে চায়। ফলে দেশীয় বীজের ওপর কৃষকের অধিকার ফিরিয়ে আনা ও তাঁদের আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা করাই এই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান দাবি।
দ্বিতীয়ত, কড়া নজরদারির অভাবে দেশে এমন সব বিষাক্ত রাসায়নিক-সহনশীল শস্য এবং জিনগতভাবে পরিবর্তিত (GM) চালের অনিয়ন্ত্রিত অনুপ্রবেশ ঘটছে, যা আমাদের পরিবেশ ও কৃষির জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এসব প্রযুক্তির ফলে মাটির উপকারী অণুজীব ধ্বংস হচ্ছে, জৈবচাষের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং খাদ্যে ছড়াচ্ছে বিষ। তাই রাসায়নিক ব্যবস্থার বদলে পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক উপায়ে ফসল সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা, কৃষি শ্রমিকের তীব্র অভাব এবং বন্যপ্রাণীর হামলায় দিশেহারা হয়ে বহু ক্ষুদ্র কৃষক আজ চাষ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এই কঠিন সংকট মোকাবিলায় প্রথমেই দরকার কৃষি-শ্রমের সামাজিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনা। একইসঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতায় যৌথ চাষের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করা এবং বন্যপ্রাণীর উপদ্রব সামলাতে স্থানীয় ও কার্যকর সমাধানের পথ খোঁজাই এই সম্মেলনের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। চতুর্থত, কৃষিপণ্যের বিষমুক্ত উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। কৃত্রিম উপায়ে পুষ্টিযুক্ত করা (ফোর্টিফাইড) চালের বদলে দেশি ও প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত শস্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে একদিকে যেমন কৃষক ও ক্রেতার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনই সাধারণ মানুষও পাবেন নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার।
কিষাণ স্বরাজ সম্মেলন কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার সভা নয়, এটি প্রান্তিক কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তোলার এক বাস্তব মঞ্চ। এখানে কৃষকরা কর্পোরেট প্রতিনিধি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি বিভিন্ন রাজ্যের অভিজ্ঞ চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পান। এখান থেকেই তাঁরা মাঠে পরীক্ষিত, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল প্রাকৃতিক চাষের কৌশল শেখেন। সম্মেলন শেষে ক্ষেত্র পরিদর্শন বা ‘ফিল্ড ট্রিপ’-এর বিশেষ সুযোগ থাকছে, যার মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ঘুরে দেখতে পারবেন সফল চাষিদের আদর্শ খামার, শস্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র কিংবা কর্নাটকের মান্ড্যার ‘সঁতে’-র (স্থানীয় সাপ্তাহিক কৃষক হাট) মতো দালালহীন বিপণন ব্যবস্থা। পাশাপাশি, বীজ উৎসব থেকে বিরল প্রজাতির দেশি বীজ পাওয়ার সুযোগ যেমন থাকবে, তেমনই আইনি সচেতনতার সভাগুলো থেকে মিলবে জমি ও বীজের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের সাহস।

আগের সম্মেলনগুলোর মতো এবারেও মূল প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠতে যাচ্ছে ‘বীজ বৈচিত্র উৎসব’, যেখানে বিভিন্ন গবেষক দল ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী হারিয়ে যেতে বসা শত শত ঐতিহ্যবাহী বীজের প্রদর্শনী করবে। এই প্রদর্শনীতে ৩০টিরও বেশি দেশি ধানের জাত, ঐতিহ্যবাহী ভেষজ সামগ্রী ও পুষ্টিকর খাবার তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে দেশের সমৃদ্ধ কৃষি-ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। কৃষকদের সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার কাজও এই মঞ্চে খুব সহজভাবে সম্পন্ন হয়। জৈব কৃষিপণ্যের স্টল ও ‘কিষাণ হাটে’ বিভিন্ন কৃষক উৎপাদক সংস্থা (FPO) ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাঁদের রাসায়নিকমুক্ত ফসল, প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি ও বইপত্র বিক্রির সুযোগ পান। এর মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে কৃষককের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অংশ হিসেবে থাকছে ‘চিত্রোৎসব’, যেখানে পরিবেশ ও কৃষিভিত্তিক স্বাধীন চলচ্চিত্র দেখানো হবে। সেই সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের পণ্ডুরু গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাদি সুতো কাটা, বলদে-টানা ঘানির তেল নিষ্কাশনের জীবন্ত প্রদর্শনী এবং বিষমুক্ত খাবারের ‘অর্গানিক ফুড কোর্ট’ শহরের মানুষকে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রায় উৎসাহিত করবে। অন্যান্যবারের মতো এবারও নীতিগত আলোচনার পাশাপাশি থাকছে ছোট ছোট সমান্তরাল অধিবেশন বা ‘প্যারালাল সেশন’– যা এই সম্মেলনের মূল শক্তি। বিভিন্ন ঘরে একইসঙ্গে চলা এই আলোচনাগুলোতে গবেষণাগারের জ্ঞানকে সরাসরি ক্ষেত্রসমীক্ষায় ব্যবহারে রূপান্তর করার পথ দেখানো হবে। কৃষিনীতি ও ভূমির অধিকার সম্পর্কিত আলোচনায় বর্গাচাষি, একক নারী-কৃষক এবং নথিপত্রহীন ক্ষুদ্র চাষিদের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। কীভাবে ‘মডেল ল্যান্ড লিজিং অ্যাক্ট’ বা ‘লোন এলিজিবিলিটি কার্ড’-এর সুবিধা পাওয়া যায় এবং ‘উদ্ভিদজাত ও কৃষক অধিকার সুরক্ষা আইন’-এর মাধ্যমে কৃষকরা তাঁদের নিজস্ব বীজের অধিকার রক্ষা করবেন, দেওয়া হবে সেই আইনি প্রশিক্ষণও।

পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি সংক্রান্ত সেশনগুলোতে মাটির স্বাস্থ্য ফেরানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এতে গো-কৃপামৃত ও জৈব সারের সঠিক ব্যবহার, বহুফসলি চাষ এবং রাসায়নিক ছাড়াই বীজ সুরক্ষার কৌশল শেখানো হবে। এই আয়োজনের বড় আকর্ষণ অভিজ্ঞ কৃষকদের পরিচালিত ‘মাস্টারক্লাস’। পদ্মশ্রী সুভাষ শর্মা, গোপালভাই সুতারিয়া ও ড. জি. ভি. রামানজনেয়ুলুর মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা কম জলে চাষ ও কম খরচে কীট-পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের ব্যবহারিক বিদ্যা শেখাবেন। পাশাপাশি, শহরের মানুষদের জন্য থাকছে ছাদবাগান, গৃহস্থালির বর্জ্য থেকে সার তৈরি ও নিরাপদ খাবার চেনার প্রশিক্ষণ– এর মাধ্যমে সচেতন শহরবাসীদের সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে। সবুজ বিপ্লব-পরবর্তী ভারতের কৃষি সংকট কাটাতে এক বিজ্ঞানসম্মত ও টেকসই বিকল্পের পথ দেখাবে ২০২৬-এর এই কিষাণ স্বরাজ সম্মেলন। কর্পোরেট চুক্তি, ক্ষতিকর রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং বীজ দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, পরিবেশগত ন্যায়বিচার ও বীজ সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
প্রস্তাবিত ‘বীজ বিল ২০২৫’, জিন-সম্পাদিত ফসল কিংবা কৃষি শ্রম সংকটের মতো আসন্ন বিপদের মোকাবিলায় সম্মেলনে উঠে আসা কৌশলগুলো মাঠে প্রয়োগ করা এই মুহূর্তে জরুরি। পরিবেশবান্ধব কৃষি কেবল প্রকৃতির জন্যই উপকারী নয়, তা অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবেও সঙ্গত। এখানকার দেশি বীজের সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত মাস্টারক্লাস এবং FPO-ভিত্তিক সরাসরি বিপণন ব্যবস্থাই প্রমাণ করবে– আগামী দিনে ভারতের জলবায়ু-সহনশীল উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তুলতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠনে কিষাণ স্বরাজ আন্দোলন এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved