Robbar

পিছন-পানে তাকাই যদি কভু

ভিড় বাস চলেছে। দ্রুত। ভিড় পিছন দিকে এগিয়ে গিয়েছে। পিছন দিকে এগতে এগতে কেউ ভাবছে– পিছনটাই সামনে! এই ভাবনা ততক্ষণই সত্য, যতক্ষণ না গন্তব্য আসছে। গন্তব্য একটা মুহূর্ত, সময়ের বিন্দু।

→

অমলের জানলা

রবীন্দ্রনাথের নাটকে অমল যখন মারা যাবে, তার আগে এসেছিল রাজ কবিরাজ। সেই রাজ কবিরাজের পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। সেই পদ্ধতিতে জানলা খুলে দিতে হয়। খুলে দিতে হয় জীবন-মৃত্যুর সীমার বাইরে যে বড় সময় সেই বড় সময়ের দিকে।

→

ভক্তিই শক্তি

বাঙালির মনোজগৎ বিচিত্র। তবে বীরত্বের নামে হিংস্রতার প্রচারের পক্ষে শ্রেষ্ঠ বাঙালি চিন্তকেরা কেউই মত দেননি। সশস্ত্র বিপ্লবীরাও অহেতুক হিংসার বিরোধী ছিলেন।

→

বাংলা ভাষার সহজ-পাঠ

বঙ্কিমের অভিমত মেনে নিলে, অহেতুক সংস্কৃত-সজ্জা বাংলা ভাষাকে নীরস, শ্রীহীন, দুর্বল করে তুলবে। তাই বাড়ির বেড়ালের নাম, ‘মার্জার শিরোমণি’ রাখবেন না। ‘মিউপুসি’ বলে ডাকলে সে খুশি হবে। বাঙালি বাড়ির বেড়াল সংস্কৃত টোলে পড়ে না, পাড়ার বাংলা মিডিয়াম স্কুলেই পড়ে।

→

অন্তরের অমৃত

কথামৃত মুখের থেকে নিঃসৃত অমৃত, তা পান করলে তা ভেতরে বইতে থাকে। যার ভেতরে গেল তার আধার অনুযায়ী নানা বদল হয়। ঠাকুরের গল্প আর উপদেশ তার মনের মধ্যে সেঁধিয়ে গিয়ে তার হয়ে যায়।

→

আমরা যেন থাকি ভাতে-ভাতে

মা খেতে খেতে একটা গল্প বলে। দেবী অন্নপূর্ণা। চলেছেন নদী ডিঙিয়ে। তাকে নিয়ে যাবে যে মাঝি, নাম তার ঈশ্বরী। সেই মাঝি বলেছিল দেবীকে, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’ সে ভাবে, নৌকায় দেবীর সঙ্গে দেখা হলে, দুধ-ভাত চাইবে না। কী চাইবে?

→

গলাগলি

গলা অতি বিষম বস্তু। যারা গলা তোলে, আর তাদের বিরুদ্ধে যারা গলা তোলে, দু’-পক্ষেরই বাইরে থেকে আড়ি কিন্তু ভিতর থেকে গলাগলি ভাব।

→

বাবু কলকাতার উবু মানুষ

এই ধর্মসাধন যেমন বাবু নরেন্দ্রকে আর উবু লাটুকে মিলিয়ে দেয়, তেমনই রবীন্দ্র-মানসেও কি সামাজিক ও রাজনৈতিক স্তরে কোনও ব্যবস্থাপনার আদর্শ উঁকি দিচ্ছিল, যা পাশ্চাত্যের বর্বর সীমাবদ্ধ রাষ্ট্রতন্ত্রকে ভেঙে ফেলবে?

→

স্মৃতি-বিস্মৃতির কথা

শুধু আপনারই বা কেন হবে, আমার আপনার সকলের মাথার নাম ‘স্মৃতিমণ্ডল’। স্মৃতি নামের মন্ডল পদবিধারী মেয়ের কথা বলছি না, বলছি এক সমাসবদ্ধ পদের কথা। স্মৃতিমণ্ডল।

→

এই বঙ্গে যা যা চাই!

বহিরাগত বলে মনে হচ্ছে যাদের, তাদের আমরা বের করে দিচ্ছি না। উদারভাবে গ্রহণ করছি। তাদের ক্যাম্পের নিভৃতিতে রেখে পুণ্য করার সুযোগ দিচ্ছি। দেশের জন্য পুণ্য, দশের জন্য পুণ্য।

→