Robbar

কলাম

পুকুরের দেবতা পুকুরের ভূত

আগে পুকুর কাটার সময় মাঝামাঝি স্থানে আরেকটি কুয়ো তৈরি করে উল্লম্ব কাষ্ঠখণ্ড পোঁতা হত। মাথাটি সর্পাকৃতি বিশিষ্ট। ইনি পুকুরের রক্ষক নাগদেবতার প্রতীক। একেই বলে নাগকাষ্ঠ। লোকবাংলায় বলে, ‘লাগকাঠ’।

→

বিষাক্ত পৌরুষের সামূহিক উল্লাস

হিটলার যখন তার রক্ত-গরম করা বিদ্বেষী ভাষণ দিতেন, তখন বিশ্বাসী শ্রোতাদের অনেকেরই নিশ্চয়ই মনে হত যে তিনি ঠিক কথা বলছেন। আবার অনেকে হয়তো ছিলেন, যাঁরা মনে করতেন যে তিনি যা বলছেন তা অশুভ, কিন্তু তাঁরা সম্মোহিত হয়ে থাকতেন। ইদানীংকালের massy অ্যাকশন ছবির ধরনটা ঠিক ওইরকমই। আপনি দেখছেন যা যা হচ্ছে, তা যেন ঠিক নয়, কিন্তু আপনাকে মেসমেরাইজ করে রাখা হচ্ছে।

→

রিলের পুজোয় রিয়েল পুজোর গন্ধ নেই!

বদলাচ্ছে কুমোরটুলি। যাদের দেখে বড় হয়েছি, কুমোরপাড়ার গলির ধারে নিজেদের ঘরের দরজায় বসে মা দুর্গার মুখ সারছেন, তাঁরাই আজ হারিয়ে যাচ্ছেন। কাকে দেখে মানুষ আর কুমোরটুলির টানে ছুটবে! জানি না।

→

মাতৃভক্তির দেশে, মাকে ছেড়ে যাওয়ার আত্মকথন

কাঁচা বয়সে কেন অরুন্ধতী ত্যাগ করলেন তাঁর মাকে, যে বয়সে মেয়ের সবথেকে প্রয়োজন হয়, অন্তত এদেশে, তার মাকেই? জানাচ্ছেন অরুন্ধতী অকপট ভাষায়। এতটুকু ন্যাকামি না করে।

→

রবিশংকর বলের মতো উর্দু সাহিত্যের এত নিবিষ্ট পাঠক খুব কমই দেখেছি

‘দোজখ্‌নামা’ পত্রিকায় প্রকাশের সময় থেকেই পাঠকরা সেটি মুগ্ধতার সঙ্গে পড়েছেন। সুনীলদা ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’য় এই বইটিকে ২০১০ সালে বাংলা ভাষায় লেখা সেরা বই বলেছিলেন। বই হওয়ার পর সেই ভালোলাগা আরও বেড়ে যায়। একটি উপন্যাসকে নিয়ে অনেকদিন পরে এতটা উচ্ছ্বসিত হয় বাংলার পাঠক। আমি দেখছিলাম ২০২৩ পর্যন্ত বইটি ছ’ বার ছাপা হয়েছে।

→

সৃষ্টিশীল রবীন্দ্রনাথ শুধু নন, কর্মী রবীন্দ্রনাথকেও নির্মাণ করেছিল পূর্ববঙ্গের বাসস্থানগুলি

রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহ কুঠিবাড়ি, সাজাদপুরের কাছারিবাড়ি এবং পতিসরের কাছারিবাড়ি এখন মিউজিয়াম হিসেবে সংরক্ষিত। এই সব বাড়ির পাশাপাশি তিনি কিছুটা সময় কাটিয়েছেন জলপথে, বোটে। তাঁর অতিপ্রিয় পদ্মাবোট তো ছিলই চঞ্চলা ও চপলা এই দু’টি ছোট নৌকোতেও তিনি যাতায়াত করেছেন। যার কিছুটা অংশ কুঠিবাড়িতে রাখা আছে।

→

কথা শেষ হতে পারে, ‘শেষ কথা’ বলে কিছু হয় না

সুভাষ মুখোপাধ্যায় চেয়েছিলেন কথাগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াক, মানে হাঁটতে শিখুক। আর এ-তো সবারই জানা, সারা দিন সারা দুনিয়া জুড়ে প্রতি মুহূর্তে যা জন্মাচ্ছে তার নাম ‘কথা’। এমনকী নৈঃশব্দ্যও একরকম কথা। ‘সেইরকম ভাবেও কি আমরা কথা বলতে পারি না, সুমন্ত?’ পারি না-পারি শিখতে দোষটা কোথায়!

→

কুকুরেরই জাত ভাই, অথচ শিয়াল সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?

ঈশপের গ্রিক সরল উপকথা হোক বা ভারতের জটিল কাহিনির পঞ্চতন্ত্র– শিয়াল বারবার ফিরে আসে। কখনও চাতুর্যের মুখোশ পরে, কখনও রাজনীতির মঞ্চে উপদেষ্টার আসনে বসে। দুটোতেই শিয়াল আমাদের শেখায় এক চিরন্তন সত্য: শক্তি সবসময় জিততে পারে না, বুদ্ধিই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।

→

মন্ত্রী চাইলে সব হয়

হেলিকপ্টার এবার উপরে উঠল। এবং পাহাড়ের চারপাশে ঘুরতে লাগল। এটা এমনি পাক খাওয়া নয়, প্রদক্ষিণ। সাতবার হেলিকপ্টারটা তুমুল শব্দে জঙ্গলেশ্বরীর থান প্রদক্ষিণ করল। মন্ত্রীর পুজো দেওয়া শেষ।

→

ভাঙা বিগ্রহ জানান দেয়, সৌন্দর্যের শত্রুরা আজও বর্তমান

সিকিমের পথের ধারে পাথরের ওপর খোদাই করা একটা বুদ্ধমূর্তি দেখেছিলাম একবার। শ‍্যাওলায় জীর্ণ, ফাটল ধরেছে গায়ে, কিন্তু সেই একরত্তি ফাটলের মধ‍্যে থেকেও মাথা তুলে ফুটে রয়েছে লাল টুকটুকে উদ্ধত একটি গোলাপ। ভাঙা বিগ্রহের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ওই ছিল প্রকৃতির জীবন্ত প্রতিবাদ।

→