57th episode of rushkotha by arun som। Robbar
Robbar
  • ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুরুগম্ভীর থেকে হাস্যকরের তফাত মাত্র একটি পদক্ষেপের

গর্বাচ‌্যোভ্‌ সম্পর্কে কারও কোনও মোহ নেই। বিদেশে তাঁর যে-ভাবমূর্তিই থাকুক না কেন, দেশে তিনি অবজ্ঞার পাত্র। গর্বাচ্যোভ্‌ নিজে অবশ্য তাতে রাগ করে বলেন, তা তো হবেই, গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না। যেভাবে ‘ধুত্তোর’ বলে অর্থ উপার্জনের জন্য তিনি বিদেশ সফরে বেরিয়ে পড়লেন, তাছাড়াও পত্র-পত্রিকার ভূমিকাও এর জন্য কম দায়ী নয়। নিজের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে বিদেশে এক সাক্ষাৎকারকালে যখন তিনি দ্য গ্যলের নজির দেন তখন একইসঙ্গে সরকার পক্ষের এবং সরকারবিরোধী পত্রিকায় বের হয় একই শিরোনামায় সেই সংবাদ– নেপোলিয়নের সেই বিখ্যাত উক্তি দিয়ে– ‘গুরুগম্ভীর থেকে হাস্যকরের তফাত মাত্র একটি পদক্ষেপের।’

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০২৫, ১৪:৪০   
Facebook WhatsApp Messenger

৫৭.

দেশে-বিদেশে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়েলৎসিনের ভাবমূর্তি
১৪. ০২. ১৯৯২

সাম্প্রতিক বিদেশযাত্রার প্রাক্কালে রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান জাঁক করে বলেছিলেন এবারে ভিক্ষাপাত্র হাতে নিয়ে যাচ্ছেন না। কিন্তু গ্রেট ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফর থেকে ফিরে আসার পর উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি ঘোষণা করলেন, ‘ভালো আদর-আপ্যায়ন পেয়েছি, টাকাকড়িও পাওয়া গেছে।’

গ্রেট ব্রিটেন ইয়েলৎসিনের জন্মস্থান য়েকাতেরেনবুর্গে জরুরি সাহায্য পাঠানোর সংকল্প প্রকাশ করেছে, যেহেতু প্রেসিডেন্ট গ্রেট ব্রিটেন সরকারকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, মস্কো বা পেতের্বুর্গের মতো বড় বড় শহরের চেয়ে উপকূলবর্তী শহরগুলিতে সংকট বেশি।

কানাডা রাশিয়াকে গম পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফ্রান্স রাসায়নিক ও ধাতুশিল্পজাত যন্ত্রপাতি-খাদ্যদ্রব্য ও শস্য কেনার জন্য মোট ৩.৫ বিলিয়ন ফ্রাঙ্ক ঋণ দিতে রাজি হয়েছে, এছাড়া রাশিয়ার কাঁচামালের বিনিময়ে ২.৩ মিলিয়ন ফ্রাঙ্ক মূল্যের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

……………………………………..

আমদানির দরুন মূল্য পরিশোধের জন্য পশ্চিমি দেশগুলির কাছে যে ১২ মিলিয়ন এবং রুবলকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রেসিডেন্ট চেয়েছিলেন, সে-সম্পর্কে মার্কিন অর্থদপ্তরের সহকারী সচিব মন্তব্য করেন: ‘১২ বিলিয়ন দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে চেকবই হাতে করে কেউ বসে নেই। তার কারণ অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনও লক্ষণ যেখানে নেই সেখানে ওই পরিমাণ অর্থ মরুভূমির বালুতে জল ঢালার সামিল।’

………………………………………..

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সে পেয়েছিলেন রাজসম্মান। ভেরসায়্য প্রাসাদে যে সম্মান তাঁকে দেখানো হয় গর্বাচ্যোভের ভাগ্যেও তা জোটেনি। রাশিয়ার শেষ জার নিকলাইয়ের পর রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে ইয়েল্‌ৎসিন প্রথম সেই রাজকীয় সম্মানের অধিকারী হলেন। ‘সাহায্য’ কথাটি এই নতুন ‘জারে’র মনঃপূত নয়। তাই ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী যখন জানালেন, ‘আপনাদের দেশকে সাহায্য করার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব’ তার উত্তরে ইয়েলৎসিন বললেন: ‘ফ্রান্সের মতো রাশিয়াও এক বৃহৎ শক্তি। যে সাহায্যের কথা আমরা বলছি তার উদ্দেশ্য আমাদের দেশে যে সংস্কার চলছে তাতে সহায়তা করা। এই সহায়তাদান ফ্রান্সের নিজের স্বার্থে, ইউরোপ তথা সমগ্র বিশ্বের স্বার্থে। এর অর্থ বিপুল সম্ভাবনাময় বাজারে বিনিয়োগ।’ প্যারিসের পুরসভায় এক ভাষণে তিনি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘রাশিয়ার সংস্কার যদি বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে দেশে নতুন করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। আমি এখনই ঘাড়ের কাছে লাল ফাশিস্তদের নিশ্বাস টের পাচ্ছি।’ শুধু ফ্রান্সে কেন, এর অব্যবহিত পূর্বে গ্রেট ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফরকালেও ওই একই আবেদন তিনি করেছিলেন।

আমদানির দরুন মূল্য পরিশোধের জন্য পশ্চিমি দেশগুলির কাছে যে ১২ মিলিয়ন এবং রুবলকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রেসিডেন্ট চেয়েছিলেন, সে-সম্পর্কে মার্কিন অর্থদপ্তরের সহকারী সচিব মন্তব্য করেন: ‘১২ বিলিয়ন দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে চেকবই হাতে করে কেউ বসে নেই। তার কারণ অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনও লক্ষণ যেখানে নেই সেখানে ওই পরিমাণ অর্থ মরুভূমির বালুতে জল ঢালার সামিল।’

ফ্রান্সের ব্যবসায়ী মহলকে রাশিয়ার অর্থনীতিতে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি একটি সুপরিচিত প্রবচনের উল্লেখ করেন: ‘ঝুঁকি যে না নেয় সে শ্যাম্পেন পান করে না।’ কিন্তু এ-ব্যাপারে ফরাসিদের প্রতিক্রিয়া বেশ সংযত। ফ্রান্সের ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর জাতীয় পরিষদের সভাপতি ফ্রাঁসোয়া পেরিগো বলেন, শ্যাম্পেন তাঁরা খুবই ভালোবাসেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও ঝুঁকি তাঁরা একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত নেওয়ার পক্ষপাতী। শ্যাম্পেন পানের ব্যাপারে তাঁদের তেমন-একটা তাড়া নেই।

ফরাসি দেশের সব প্রচারমাধ্যমেই যে তাঁকে দু’-বাহু বাড়িয়ে অভ্যর্থনা জানিয়েছিল, এমন নয়। তাঁর সফরের প্রথম দিকে ‘ফিগারো’ পত্রিকায় জনৈক কার্টুনশিল্পী কেন যেন তাঁকে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির ধাঁচে এঁকে, তার তোলা হাতে মশাল না দিয়ে ভোদ্‌কার বোতল ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ফরাসি রসিকতার তাৎপর্যটা ঠিক বোঝা গেল না। ‘Statue of Liberty’ মার্কিন দেশকে তো তাঁরাই দান করেছিলেন, সুতরাং এর অন্তর্নিহিত অর্থ তারাই ভালো বলতে পারবেন।

তবে আপাতত রসিক জনের জন্য আরেকটি সংশয়– ১৮১২ সালে রাশিয়ার যে বিখ্যাত জেনারেল, সেনাপ্রধান কুতুজভের রণকৌশলের ফলে রাশিয়া জয় করেও নেপোলিয়নকে পিছু হটতে হয়েছিল, ফরাসিদের বিখ্যাত Brandy Napoleon-এর অনুকরণে তাঁর সম্মানে নাকি রাশিয়ার বাজারে কুতুজভ্‌ ব্র্যান্ডি ছাড়া হবে। কিন্তু পশ্চিমের বাজারে, বিশেষত ফরাসি দেশে সেই মাল বিকানোর কোনও সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না। তাই রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে অল্পতেই খুশি থাকতে হবে।

zoom
হাতে সুরাপাত্র, বরিস ইয়েলৎসিন

অবশ্য তা-ই-বা বলি কেন, স্বদেশে বসেই দামি বিদেশি পানীয় কিনতে তাঁর বাধাটা কোথায়? ১৯৯৬ সালের ১৬-১৭ এপ্রিলে হল্যান্ডের একটি বিখ্যাত সুরাপ্রস্তুতকারী ফার্ম একটি সংবাদপত্রের পৃষ্ঠা জুড়ে একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছে– রেড স্কোয়ারে ইয়েল্ৎসিন দাঁড়িয়ে আছেন হাসিমুখে ওই ফার্মের শপিং ব্যাগ হাতে, ব্যাগ ভর্তি সুরার বোতল!

ঘটনা, রটনা ও প্রচারমাধ্যম: গর্বাচ্যোভ্‌ ও ইয়েল্ৎসিন

২৮. ০৫. ১৯৯৭
জনমত শোনা যায় আজকাল রাস্তাঘাটে, হাটে-বাজারে, কিন্তু সরাসরি মতামত জিজ্ঞেস করলে অনেকেই চুপ। লোকজনের কথাবার্তার মধ্যে শোনা যায় গর্বাচ্যোভের উদ্দেশে তীব্র কটূক্তি, ইয়েলৎসিনের উদ্দেশে তিরস্কার। অনেক সময় একই নিশ্বাসে উচ্চারিত হচ্ছে দু’টি নাম। গর্বাচ্যোভের সঙ্গে ইয়েল্ৎসিনের নাম জুড়ে দিয়ে কেউ যদি মন্তব্য করেন, একজন ভাঙতে শুরু করেছিলেন, আর একজন যেটুকু বাকি ছিল তাও ভাঙছেন, তখন দু’-একজন মৃদু আপত্তি তোলেন– তাঁরা ইয়েল্‌ৎসিনের অক্ষমতার দোষ চাপাতে চান তাঁর স্টেট সেক্রেটারির বুর্‌বুলিস, অর্থ দপ্তরের প্রধান গাইদার বা মস্কোর মেয়র পপোভের ঘাড়ে। হাজার হোক সরাসরি জনসাধারণের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তিনি, গর্বাচ‌্যোভ তো আর তা ছিলেন না। কিন্তু তর্কবিতর্ক খানিক দূর চলতে চলতে একসময় থেমে যায় কানাগলিতে। প্রেসিডেন্টের পক্ষ নিয়ে কিছু বলার থাকে না। এঁরা তাঁরা, যাঁরা নিজেদের সুনির্দিষ্ট মতামত এখনও দিতে পারছেন না। 

কিন্তু গর্বাচ‌্যোভ্‌ সম্পর্কে কারও কোনও মোহ নেই। বিদেশে তাঁর যে-ভাবমূর্তিই থাকুক না কেন, দেশে তিনি অবজ্ঞার পাত্র। গর্বাচ্যোভ্‌ নিজে অবশ্য তাতে রাগ করে বলেন, তা তো হবেই, গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না। যেভাবে ‘ধুত্তোর’ বলে অর্থ উপার্জনের জন্য তিনি বিদেশ সফরে বেরিয়ে পড়লেন, তাছাড়াও পত্র-পত্রিকার ভূমিকাও এর জন্য কম দায়ী নয়। নিজের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে বিদেশে এক সাক্ষাৎকারকালে যখন তিনি দ্য গ্যলের নজির দেন তখন একইসঙ্গে সরকার পক্ষের এবং সরকারবিরোধী পত্রিকায় বের হয় একই শিরোনামায় সেই সংবাদ– নেপোলিয়নের সেই বিখ্যাত উক্তি দিয়ে– ‘গুরুগম্ভীর থেকে হাস্যকরের তফাত মাত্র একটি পদক্ষেপের।’

zoom
মিখায়েল গর্বাচ্যোভ্‌

গর্বাচ্যোভ্‌ সম্পর্কে এমন অনেক কথাই রয়েছে যা অমূলক। কিন্তু অনেকেই তাঁর সম্পর্কে যা রটে তাতে বিশ্বাসী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়েলৎসিন এদিক থেকে ভাগ্যবান। পেরেস্ত্রৈকার গোড়া থেকেই তিনি এক প্রতিবাদী চরিত্র– তাঁর নামে অনেক কিংবদন্তি প্রচলিত আছে, কিন্তু রটনা বিশেষ আমল পায়নি।

১৯৮৯ সালে পার্লামেন্টে সরকারবিরোধী দলের প্রধান সদস্য হিসেবে যখন তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন তখন তাঁর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপানের একটি অভিযোগ উঠেছিল– ইতালির ‘রিপাবলিক’ পত্রিকায় সেই মর্মে একটি বিবরণীও প্রকাশিত হল– ‘প্রাভদা’য় প্রকাশিত হয় তার অনুবাদ। শোনা যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপ্‌কিন্স ইনস্টিটিউটে ভাষণদানকালে তিনি অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ছিলেন। রুজভেল্ট হাইড পার্ক মিউজিয়মের শীর্ষ সম্মেলনের সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন তাঁর আবোল-তাবোল কথাবার্তাকে চাপা দেওয়ার জন্য তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বারবার হেসে কুটিপাটি হয়েছিলেন। ‘প্রাভ্‌দা’ তখন কুৎসা রটনার জন্য অন্যান্য পত্র-পত্রিকার বিরাগভাজন হয়েছিল। বহু পরে জনগণের চাপে তখনকার টেলিভিশনে সেই বহু বিতর্কিত ভাষণের ভিডিও ফিল্ম দেখানো হয়। সে-ছবি আমরাও দেখেছি। টেলিভিশনের পর্দায় সে-ছবি দেখার পর অভিযোগ যে সত্য, তাতে সন্দেহের কোনও অবকাশ থাকে না। কিন্তু তা হলে কী হবে– জনসাধারণের মনস্তত্ত্ব, Mass Psychology এমনই যে, দিনকে রাত বা রাতকে দিন করতে তাদের কোনও অসুবিধে হয় না। এগুলিকে তাঁরা কেজিবি-র কারসাজি বা Doctored বলে মনে করেন। কোনও কোনও পত্রিকার মতে দীর্ঘ পথ পাড়ি এবং সময়ের বিস্তর ব্যবধানের ফলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। আশ্চর্য! 

এর আগে ১৯৯০ সালে এক অজ্ঞাতকারণে পদস্খলিত হলে তিনি জলে পড়ে যান। গর্বাচ্যোভ্‌ পরে একসময় এমন কথাও বলেছিলেন যে, তিনি হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন, পার্লামেন্টে প্রশ্ন উঠেছিল, কিন্তু গর্বাচ‌্যোভের হস্তক্ষেপে ধামাচাপা পড়ে যায়। পত্র-পত্রিকায় বিশেষ উল্লেখ দেখা যায় না। প্রচারমাধ্যম না Mass Psychology অথবা আরও ভালো করে বলতে গেলে, Hysteria কোনটা তাঁকে প্রভাবিত করছে বলা মুশকিল।

 এই সেদিন, ১৫ মে বিরোধীপক্ষের এক নেতা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আবার সেই পুরনো অভিযোগ এনেছিলেন– ১৪ মে তাশখন্দ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট যখন উপস্থিত হন তখন নাকি তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না– এমনকী দূরদর্শনেও তা ধরা পড়েছিল। দর্শকরা সে-দৃশ্য দেখেও ছিলেনকিন্তু এক্ষেত্রে চক্ষু-কর্ণের ওপরেও বোধহয় অন্য কোন ইন্দ্রিয় কাজ করে। চরিত্র হননের প্রয়াস? পার্লামেন্টে এই নিয়ে সেদিন যে তুমুল হট্টগোল হয়েছিল সে-দৃশ্য আর দূরদর্শনে দেখানো হয়নি। পত্র-পত্রিকাকে প্রকাশের ব্যাপারে সংযত থাকতে বলা হয়। স্বয়ং প্রেসিডেন্টর মন্তব্য– ‘ওসব রাজনৈতিক চাল।’ মানহানির মামলা তিনি ওই সাংসদের বিরুদ্ধে দায়ের করতে যাচ্ছেন না। অযথা জলঘোলা হবে। এসব ক্ষেত্রে যেমন তিনি, তেমনি প্রচারমাধ্যমও যথেষ্ট সংযম ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে।

…পড়ুন রুশকথা-র অন্যান্য পর্ব…

পর্ব ৫৫। মার্কিন দেশে ব্যাঙ্ক ডাকাতি করতে এসেছিল একজন গর্বাচ্যোভের মুখোশ পরে, অন্যজন মাইকেল জ্যাকসনের

পর্ব ৫৪। হাজার হাজার কৌতূহলী জনতার সঙ্গে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম সেই মহাদৃশ্য

পর্ব ৫৩। নাম বদলের গোলকধাঁধায় অসঙ্গতি বেড়েছে, ঐতিহ্যকে রক্ষা করা যায়নি

পর্ব ৫২। মস্কোর আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের মিছিলে ভারতের পতাকা থাকবে না-ই বা কেন?

পর্ব ৫১। পত্র-পত্রিকায় ঘোষণা করা হল কাস্ত্রো আসছেন, তবে ইনি মেক্সিকোর সোপ অপেরা স্টার

পর্ব ৫০। খোলা হাওয়ায় মানুষের আর কোনও কিছু নিয়েই চিন্তা নেই, অন্ন চিন্তা ছাড়া

পর্ব ৪৯। সোভিয়েত-মুক্ত রাশিয়াকে কে রক্ষা করবে?

পর্ব ৪৮। বর্ষশেষে মানুষ পেল দারিদ্র, এখন লোকে ধার-দেনা করে চা-কফি খাওয়া শুরু করেছে

পর্ব ৪৭। মুক্ত দিনে ব্যালের দেশ রাশিয়ায় ‘আধুনিক ব্যালে’ শেখাতে আসছে ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রুপ

পর্ব ৪৬। অক্টোবর বিপ্লবের উচ্ছ্বাস কোনও দেশে কমলে, অন্য দেশে বাড়তে থাকে

পর্ব ৪৫। ‘অক্টোবর বিপ্লব দিবস’ আর পালিত হবে না, পালিত হবে বড়দিন– চোখের সামনে বদলে যাচ্ছিল সোভিয়েত

পর্ব ৪৪। রাজনীতিতে অদূরদর্শিতার ফল যে কত সুদূরপ্রসারী, তার প্রমাণ আফগানিস্তান

পর্ব ৪৩। জানলা দিয়ে পূর্ব জার্মানি দেখতে দেখতে গর্বাচ্যোভ বলেছিলেন, তাহলে এখানেই শেষ!

পর্ব ৪২। পেরেস্ত্রৈকা শুরু হলে বুঝেছিলাম ‘প্রগতি’ ‘রাদুগা’– এসব কিছুই থাকবে না

পর্ব ৪১। কল্পনা যোশীর তুলনায় ইলা মিত্রকে অনেক বেশি মাটির কাছাকাছি বলে মনে হয়েছে

পর্ব ৪০। বেসরকারিকরণের শুরু দিকে রাস্তাঘাটে ছিনতাই বেড়ে গেছিল, কারণ সব লেনদেন নগদে হত

পর্ব ৩৯। হাওয়া বদলের আঁচ অনেকেই আগে টের পেয়েছিল, বদলে ফেলেছিল জীবনযাত্রা

পর্ব ৩৮। শুধু বিদেশে থাকার জন্য উচ্চশিক্ষা লাভ করেও ছোটখাটো কাজ করে কাটিয়ে দিয়েছেন বহু ভারতীয়

পর্ব ৩৭। একটা বিদেশি সাবানের বিনিময়েও নাকি মস্কোয় নারীসঙ্গ উপভোগ করা যায়– এমনটা প্রচার করেছে ভারতীয়রা

পর্ব ৩৬। মস্কোর ঠান্ডায় লঙ্কা গাছ দেখে পি.সি. সরকার বলেছিলেন, ‘এর চেয়ে বড় ম্যাজিক হয় নাকি?’

পর্ব ৩৫। রুশদের কাছে ভারত ছিল রবীন্দ্রনাথের দেশ, হিমালয়ের দেশ

পর্ব ৩৪। সোভিয়েত শিক্ষায় নতুন মানুষ গড়ে তোলার ব্যাপারে একটা খামতি থেকে গিয়েছিল

পর্ব ৩৩। দিব্যি ছিলাম হাসপাতালে

পর্ব ৩২। মস্কোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে সাধারণ ডাক্তাররা অধিকাংশই মহিলা ছিলেন

পর্ব ৩১। আমার স্ত্রী ও দুই কন্যা নিজভূমে পরবাসী হয়ে গিয়েছিল শুধু আমার জন্য

পর্ব ৩০। শান্তিদা কান্ত রায়ের প্রিয় কাজ ছিল মস্কোয় ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের কমিউনিজম পড়ানো

পর্ব ২৯। পেরেস্ত্রৈকার শুরু থেকেই নিরাপত্তার অভাব বোধ করছিলেন গোপেনদা

পর্ব ২৮। দেশে ফেরার সময় সুরার ছবি সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাননি গোপেনদা

পর্ব ২৭। বিপ্লবের ভাঙা হাট ও একজন ভগ্নহৃদয় বিপ্লবী

পর্ব ২৬। ননী ভৌমিকের মস্কোর জীবনযাত্রা যেন দস্তইয়েভস্কির কোনও উপন্যাস

পর্ব ২৫। ননীদা বলেছিলেন, ডাল চচ্চড়ি না খেলে ‘ধুলোমাটি’র মতো উপন্যাস লেখা যায় না

পর্ব ২৪। মস্কোয় শেষের বছর দশেক ননীদা ছিলেন একেবারে নিঃসঙ্গ

পর্ব ২৩। শেষমেশ মস্কো রওনা দিলাম একটি মাত্র সুটকেস সম্বল করে

পর্ব ২২। ‘প্রগতি’-তে বইপুথি নির্বাচনের ব্যাপারে আমার সঙ্গে প্রায়ই খিটিমিটি বেধে যেত

পর্ব ২১। সোভিয়েতে অনুবাদকরা যে পরিমাণ অর্থ উপার্জন করত, সে দেশের কম মানুষই তা পারত

পর্ব ২০। প্রগতি-র বাংলা বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে ননীদাই শেষ কথা ছিলেন

পর্ব ১৯। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় নাকি খুব ভালো রুশভাষা জানতেন, প্রমথনাথ বিশী সাক্ষী

পর্ব ১৮। লেডি রাণু মুখার্জিকে বাড়ি গিয়ে রুশ ভাষা শেখানোর দায়িত্ব পড়েছিল আমার ওপর

পর্ব ১৭। একদিন হঠাৎ সুভাষদা আমাদের বাড়ি এসে উপস্থিত ফয়েজ আহমেদ ফয়েজকে নিয়ে

পর্ব ১৬। মুখের সেই পরিচিত হাসিটা না থাকলে কীসের সুভাষ মুখোপাধ্যায়!

পর্ব ১৫। রুশ ভাষা থেকেই সকলে অনুবাদ করতেন, এটা মিথ

পর্ব ১৪। মস্কোয় ননীদাকে দেখে মনে হয়েছিল কোনও বিদেশি, ভারতীয় নয়

পর্ব ১৩। যিনি কিংবদন্তি লেখক হতে পারতেন, তিনি হয়ে গেলেন কিংবদন্তি অনুবাদক

পর্ব ১২। ‘প্রগতি’ ও ‘রাদুগা’র অধঃপতনের বীজ কি গঠনপ্রকৃতির মধ্যেই নিহিত ছিল?

পর্ব ১১। সমর সেনকে দিয়ে কি রুশ কাব্যসংকলন অনুবাদ করানো যেত না?

পর্ব ১০। সমর সেনের মহুয়ার দেশ থেকে সোভিয়েত দেশে যাত্রা

পর্ব ৯। মস্কোয় অনুবাদচর্চার যখন রমরমা, ঠিক তখনই ঘটে গেল আকস্মিক অঘটন

পর্ব ৮: একজন কথা রেখেছিলেন, কিন্তু অনেকেই রাখেননি

পর্ব ৭: লেনিনকে তাঁর নিজের দেশের অনেকে ‘জার্মান চর’ বলেও অভিহিত করত

পর্ব ৬: যে-পতাকা বিজয়গর্বে রাইখস্টাগের মাথায় উড়েছিল, তা আজ ক্রেমলিনের মাথা থেকে নামানো হবে

পর্ব ৫: কোনটা বিপ্লব, কোনটা অভ্যুত্থান– দেশের মানুষ আজও তা স্থির করতে পারছে না

পর্ব ৪: আমার সাদা-কালোর স্বপ্নের মধ্যে ছিল সোভিয়েত দেশ

পর্ব ৩: ক্রেমলিনে যে বছর লেনিনের মূর্তি স্থাপিত হয়, সে বছরই ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার সূচনাকাল

পর্ব ২: যে দেশে সূর্য অস্ত যায় না– আজও যায় না

পর্ব ১: এক প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে রাশিয়ার খণ্ডচিত্র ও অতীতে উঁকিঝুঁকি

Boris Yeltsin Mikhail Gorbachev Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar Soviet Union

Share this article on