Robbar

উগ্র হিন্দুত্ববাদ এবং গিরিশ ঘোষের জোরালো থাপ্পড়

Published by: Robbar Digital
  • Posted:February 28, 2026 7:01 pm
  • Updated:February 28, 2026 8:51 pm  
Girish Chandra Ghosh and radical hinduism in cine world by Nilanjan Halder

পরাধীনতার গ্লানিতে ধুঁকতে থাকা এক ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তোলার জন্য গিরিশচন্দ্রও হাতিয়ার করেছিলেন ইতিহাসকে। তিনি লিখলেন ‘সিরাজদ্দৌলা’, ‘মীরকাশিম’, ‘ছত্রপতি শিবাজী’-র মতো কালজয়ী সব ঐতিহাসিক নাটক। লক্ষ করুন, আজকের বলিউডের পরিচালকরা যেখানে ঐতিহাসিক সিনেমার নামে মুসলিম শাসকদের কেবলই বর্বর, নারীলোলুপ, অত্যাচারী আর ধর্মান্ধ খলনায়ক হিসেবে দেখাতে ভালোবাসেন (যেমন ‘পদ্মাবত’-এ আলাউদ্দিন খিলজি বা ‘তানহাজি’-তে উদয়ভানের বিকৃত রূপ আমরা দেখেছি), গিরিশচন্দ্র সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হেঁটেছিলেন।

নীলাঞ্জন হালদার

মাল্টিপ্লেক্সের অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহ, কানের পর্দা ফাটানো আবহসংগীত, আর পর্দায় পেশি আস্ফালন করা নায়কের হুংকার– গত কয়েক বছরে এটা আমাদের খুব চেনা দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকাল হিন্দি সিনেমার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মশলার নাম হল– ‘উগ্র জাতীয়তাবাদ’। দেশপ্রেমের নামে পর্দায় এমন এক আবহ তৈরি করা হয়, যেখানে হাততালি আর শিস্ পড়ার পাশাপাশি নিঃশব্দে দর্শকদের মনে বুনে দেওয়া হয় ঘৃণার বীজ। গত তিন বছরে মুক্তি পাওয়া বলিউডের ব্লকবাস্টার ছবিগুলোর দিকে তাকালে এই নগ্ন সত্যটা আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে। ‘গদর ২’, ‘ফাইটার’, ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ বা ‘আর্টিকেল ৩৭০’-এর মতো উগ্র, পেশিসর্বস্ব এবং প্রচ্ছন্ন হিন্দুত্ববাদী ছবিগুলো বক্স-অফিসে কোটির পর কোটি টাকা ব্যবসা করছে। এই ছবিগুলো আমাদের মগজধোলাই করে শেখাচ্ছে যে, দেশপ্রেম প্রমাণ করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল অন্য কোনও দেশ বা নির্দিষ্ট একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অন্ধের মতো ঘৃণা করা এবং পর্দায় তাদের কচুকাটা করা। বর্তমানের গেরুয়াপন্থী রাজনীতির আঙিনায় এই ছবিগুলো যেন এক একটি প্রচারপত্র, যা সুকৌশলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মনে এক মেকি আধিপত্যের বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছে।

আমরা অনেকেই হয়তো ভাবি, এই সিনেমাগুলো যারা বানাচ্ছেন তাঁরা খুব বড় দেশপ্রেমিক। কিন্তু বাস্তবটা হল, আজকের এই ধুরন্ধর সিনেমার যুগে আসল ধুরন্ধর হলেন এই সিনে-মাফিয়ারা। এঁরা খুব ভালো করেই জানেন যে, বর্তমানের গেরুয়াপন্থী রাজনীতির রমরমা বাজারে কোন সুতোয় টান দিলে বক্স-অফিসে টাকার বৃষ্টি হবে। এঁরা আসলে দেশপ্রেমের ব্যবসা করছেন। উদাহরণ হিসেবে এ বছরের শুরুতে মুক্তি পাওয়া ‘ফাইটার’ (২০২৪) ছবির কথা ধরা যাক। সেখানে ভারতীয় বায়ুসেনার অফিসারের ভূমিকায় থাকা হৃতিক রোশন যখন পর্দায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলেন, ‘ইন্ডিয়া অকুপায়েড পাকিস্তান বানিয়ে দেব’, তখন প্রেক্ষাগৃহে হাততালির ঝড় ওঠে। আবার ‘গদর ২’ (২০২৩) ছবিতে সানি দেওল যখন প্রতিবেশী দেশকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘বাটি নিয়ে ঘুরলে ভিক্ষাও জুটবে না’, তখন এই সংলাপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা দম্ভ আমাদের মেকি জাতীয়তাবাদী অহংকারকে সুড়সুড়ি দেয়। ‘দ্য কেরালা স্টোরি’-র মতো ছবিগুলো তো আরও একধাপ এগিয়ে সরাসরি দেশের ভেতরের একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। ইতিহাস বা বর্তমানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিকৃত করে, সস্তা হাততালি কুড়োনোর জন্য এই ধরনের চটুল সংলাপ আসলে ‘আমরা’ বনাম ‘ওরা’-এর এক বিপজ্জনক সমীকরণ তৈরি করছে। এই কর্পোরেট বিনোদন-মাফিয়ারা অত্যন্ত সুকৌশলে সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মের সঙ্গে দেশপ্রেমকে মিশিয়ে দিচ্ছেন, আর এর পেছনে মদত জোগাচ্ছে রাষ্ট্রের উগ্র হিন্দুত্ববাদী অ্যাজেন্ডা।

‘ফাইটার ২’-তে হৃতিক রোশন, দীপিকা পাড়ুকোন

এই ধুরন্ধর পরিচালকদের নির্লজ্জ দাবি হল, ‘দর্শক যা দেখতে চায়, আমরা তা-ই বানাই।’ অর্থাৎ, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া ধর্মীয় মেরুকরণ আর বিদ্বেষের মানসিকতাকে মূলধন করে নিজেদের পকেট ভরতেই তাঁরা ব্যস্ত। সামাজিক দায়বদ্ধতা বলে তাঁদের কাছে কিচ্ছু নেই। একটু তলিয়ে ভাবলে শিউরে উঠতে হয়, বিনোদনের চকচকে মোড়কে এই যে বিষাক্ত বিভাজনের রাজনীতি আমাদের গিলতে বাধ্য করা হচ্ছে, তা কি সত্যিই জাতীয়তাবাদ? এই গেরুয়াপন্থী উগ্র দেশাত্মবোধের বিরুদ্ধে আজ যদি কোনও অমোঘ হাতিয়ার আমাদের খুঁজতে হয়, তবে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে আজ থেকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে। ফিরে তাকাতে হবে মহাকবি ও নটসূর্য গিরিশচন্দ্র ঘোষের ঐতিহাসিক নাটকগুলোর দিকে। আজকের এই বিষাক্ত আবহে গিরিশচন্দ্রের নাটকগুলো কেবল সাহিত্য নয়, এগুলো এক একটি ব্রহ্মাস্ত্র।

আজকের হিন্দি সিনেমা ইতিহাসকে ব্যবহার করে ঠিক যেভাবে সমাজকে টুকরো টুকরো করছে, গিরিশচন্দ্র ঠিক তার উল্টো কাজটি করেছিলেন তাঁর ঐতিহাসিক নাটকগুলোর মাধ্যমে। সময়টা ছিল বিশ শতকের গোড়ার দিক। দেশে তখন লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশি আন্দোলনের উত্তাল হাওয়া। পরাধীনতার গ্লানিতে ধুঁকতে থাকা এক ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তোলার জন্য গিরিশচন্দ্রও হাতিয়ার করেছিলেন ইতিহাসকে। তিনি লিখলেন ‘সিরাজদ্দৌলা’, ‘মীরকাশিম’, ‘ছত্রপতি শিবাজী’-র মতো কালজয়ী সব ঐতিহাসিক নাটক। লক্ষ করুন, আজকের বলিউডের পরিচালকরা যেখানে ঐতিহাসিক সিনেমার নামে মুসলিম শাসকদের কেবলই বর্বর, নারীলোলুপ, অত্যাচারী আর ধর্মান্ধ খলনায়ক হিসেবে দেখাতে ভালোবাসেন (যেমন ‘পদ্মাবত’-এ আলাউদ্দিন খিলজি বা ‘তানহাজি’-তে উদয়ভানের বিকৃত রূপ আমরা দেখেছি), গিরিশচন্দ্র সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হেঁটেছিলেন। তিনি সিরাজদ্দৌলা বা মীরকাশিমকে তুলে ধরেছিলেন পরাধীনতার বিরুদ্ধে লড়াই করা এক অকুতোভয় ট্র্যাজিক দেশপ্রেমিক নায়ক হিসেবে। তাঁর কলমে সিরাজদ্দৌলার পতন কেবল একজন মুসলিম নবাবের পতন ছিল না, তা ছিল সমগ্র বাঙালির, সমগ্র ভারতবর্ষের স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার এক করুণ আখ্যান।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, গিরিশচন্দ্রের সংলাপ এবং আজকের বলিউড সিনেমার সংলাপের তুলনামূলক ফারাক, যা বিশ্লেষণ করলে আজকের এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির গালে সজোরে চপেটাঘাত করা যায়। ১৯০৫ সালে রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে একটি দৃশ্য আছে, যেখানে দেশের চরম দুর্দিনে সিরাজ তাঁর দরবারে দাঁড়িয়ে হিন্দু ও মুসলিম সেনাপতিদের– মোহনলাল, মীরমদন, রাজবল্লভদের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন ভাষণ দিচ্ছেন। সিরাজ বলছেন, ‘ভাই সব! আজ আর হিন্দু মুসলমানের ভেদ নাই। বাংলার এই চরম দুর্দিনে আমরা সকলে এক মায়ের সন্তান। আমাদের মাতৃভূমি রক্ষা করতে হবে।’ একটু ভেবে দেখুন, আজ থেকে প্রায় ১২০ বছর আগে একজন নাট্যকার মঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে এক মুসলিম নবাবের মুখে এই সংলাপ বসাচ্ছেন!

গিরিশচন্দ্র আসলে এই সংলাপের মধ্যে দিয়ে এক অখণ্ড ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ডাক দিচ্ছিলেন। তিনি ব্রিটিশদের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতির বিরুদ্ধে এই সংলাপটিকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। আজ যখন রাজনীতির মঞ্চ থেকে শুরু করে সিনেমার পর্দায় প্রতিনিয়ত ‘হিন্দু বিপদে আছে’ বা ‘সংখ্যালঘুরা অনুপ্রবেশকারী’ বলে বিষোদ্গার করা হয়, তখন সিরাজের এই একটিমাত্র সংলাপ– ‘আজ আর হিন্দু মুসলমানের ভেদ নাই’– আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় প্রকৃত জাতীয়তাবাদ কাকে বলে।

গিরিশচন্দ্র জানতেন, সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গেলে হিন্দু ও মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনও বিকল্প নেই। তিনি তাঁর নাটকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দেখিয়েছিলেন, দেশের জন্য যখন যুদ্ধক্ষেত্রে রক্ত ঝরে, তখন হিন্দু মোহনলাল আর মুসলমান মীরমদনের রক্তের রং আলাদা হয় না। দু’জনেই সমান দেশপ্রেমিক, দু’জনেই মাতৃভূমির জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবা যায় এমন কথা? যেখানে বর্তমানের কিছু মশলাদার সিনেমা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করে একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে ক্রমাগত খলনায়কের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়, সেখানে গিরিশচন্দ্র আক্ষরিক অর্থেই ছিলেন এক মহামানব। তিনি চেয়েছিলেন প্রকৃত জাতিগঠন, আর আজকের ধুরন্ধর বলিউড আর তাদের রাজনৈতিক প্রভুরা চাইছে জাতির মেরুকরণ।

সবচেয়ে বড় পার্থক্য লুকিয়ে আছে শিল্পের উদ্দেশ্য এবং শিল্পীর দর্শনের জায়গাতে। আজকের সিনে-মাফিয়ারা যখন বলেন যে, তাঁরা দর্শকের রুচি অনুযায়ী ছবি বানান, তখন তাঁদের গিরিশচন্দ্রের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। গিরিশচন্দ্রের যুগেও থিয়েটারে এমন দর্শক আসতেন, যাঁদের রুচি খুব একটা উন্নত ছিল না। তাঁরা আসতেন নাচ-গান দেখতে, সস্তা আনন্দ পেতে। গিরিশচন্দ্র নিজেও আক্ষেপ করে লিখেছিলেন যে, এদেশের দর্শকদের রুচি বলে কিছু নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও, তিনি থিয়েটারকে কেবল ব্যবসার জায়গা বা টাকা কামানোর যন্ত্র ভাবেননি। তাঁর কাছে থিয়েটার বা মঞ্চ ছিল ‘লোকশিক্ষা’-র এক পবিত্র বেদি। দর্শক যদি সস্তা বিনোদন চায়, তবে শিল্পীর দায়িত্ব হল সেই দর্শককে শিক্ষিত করা, তাদের রুচিকে উন্নত করা– তাদের অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া নয়। ব্রিটিশদের কালাকানুন ‘ড্রামাটিক পারফরমেন্সেস অ্যাক্ট’-এর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে তিনি লিখেছিলেন দেশপ্রেমের নাটক। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিল্প মানুষের মনন তৈরি করে, তাই শিল্পীর দায়িত্ব হল সমাজকে আলো দেখানো। জাতীয়তাবাদের নামে উগ্রতা, পরমত অসহিষ্ণুতা বা সংখ্যালঘুদের প্রতি ঘৃণা ছড়ানো তাঁর অভিধানে ছিল না। তাঁর জাতীয়তাবাদ ছিল অন্তরমূলের এক গভীর ভালোবাসা, যা মানুষকে মেলাতে শেখায়, ভাঙন ধরায় না।

আজ আমরা কথায় কথায় ডিজিটাল যুগে নিজেদের আধুনিক বলে বড়াই করি। ফাইভ-জি স্পিডে আমরা ছুটে চলেছি বলে আমাদের প্রবল অহংকার। কিন্তু মনের দিক থেকে আমরা ঠিক কতটা পিছিয়ে গিয়েছি, তা আজকের এই উগ্র জাতীয়তাবাদী মশলাদার সিনেমাগুলোর রমরমা বাজার দেখলেই বোঝা যায়। আধুনিকতার মুখোশ পরে আমরা আসলে এক মধ্যযুগীয় অন্ধকারের দিকেই হাঁটছি, যেখানে দেশপ্রেম মানেই হল অপরকে ঘৃণা করা। ঠিক এখানেই গিরিশচন্দ্র ঘোষ আজকের ভারতের চেয়েও অনেক বেশি আধুনিক, অনেক বেশি প্রগতিশীল। আজ থেকে প্রায় ১২০ বছর আগে লেখা তাঁর ঐতিহাসিক নাটকগুলোর দিকে তাকালে আজকের মেকি দেশপ্রেমিক আর গেরুয়া রাজনীতির কারবারিদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে যায়।

আজকের এই অন্ধকার সময়ে, যখন ধর্মের নামে মানুষকে ভাগ করে ক্ষমতার মসনদ দখলের খেলা চলছে, তখন গিরিশচন্দ্রের নাটকগুলোকে আমাদের নতুন করে হাতিয়ার করতে হবে। তাঁর সংলাপগুলোকে হাটে-মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে, যে দেশপ্রেম অন্যকে ঘৃণা করতে শেখায়, তা আসলে দেশপ্রেম নয়, তা হল এক ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে গিয়েছেন যে, প্রকৃত জাতীয়তাবাদ কোনও হট্টগোল, হুংকার বা অন্যকে ছোট করার বিষয় নয়; তা হল এক আত্মিক জাগরণ, যা দেশের প্রতিটি মানুষকে আপন করে নিতে শেখায়।

আজকের বিষাক্ত হয়ে ওঠা বিনোদন ব্যবস্থায় যখন উগ্র হিন্দুত্ববাদ আর বিভাজনের জয়জয়কার, তখন গিরিশচন্দ্রের সেই সহনশীল, ঐক্যবদ্ধ ও প্রকৃত দেশপ্রেমের দর্শন আমাদের জন্য এক জরুরি শিক্ষালয়। আসুন, আজকের এই ধুরন্ধর সিনে-মাফিয়াদের মেকি জাতীয়তাবাদের ফানুস ফুটো করতে আমরা গিরিশচন্দ্রের সেই কালজয়ী সংলাপটিকেই আমাদের হাতিয়ার বানাই– ‘আজ আর হিন্দু মুসলমানের ভেদ নাই… আমরা সকলে এক মায়ের সন্তান।’

……………………….

রোববার.ইন-এ পড়ুন নীলাঞ্জন হালদার-এর অন্যান্য লেখা

……………………….