
আজ তাঁর চলে যাওয়ার দিন। তাঁকে নিয়ে ঠিক কোন কথা দিয়ে শুরু করা উচিত তা ভাবতে গিয়ে একটা বিমূঢ় অবস্থা তৈরি হয় মনে। ভাবতে ভাবতে মনে হল, একটা কনফিউশন দিয়েই শুরু করি! আচার্য বিলায়েত খান একবার একটা সাক্ষাৎকারে ফিউশন মিউজিক সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি ফিউশন মিউজিককে ‘কনফিউশন মিউজিক’ বলেই মনে করেন। তাঁর কথা থেকে এই ‘কনফিউশন’ শব্দটা তুলে নিয়েই কথা এগিয়ে চলুক আজ।
বিলায়েত খান মানেই যেন বিতর্ক। কখনও তাঁর রাগ, খামখেয়াল নিয়ে বিতর্ক, কখনও পুরস্কার প্রত্যাখ্যান নিয়ে বিতর্ক, আবার কখনও-বা সমসাময়িক শিল্পীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক। কিন্তু বিতর্ক দিয়ে তো একজন শিল্পীর বিচার হয় না। সাধনার উৎকর্ষ, সৃষ্টির গভীরতা বা ব্যাপ্তিই তো হওয়া উচিত একজন শিল্পীর বিচারের শ্রেষ্ঠতম মানদণ্ড। একবার একটা সাক্ষাৎকারে একজন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন– আপনার মতে সাফল্যের অর্থ কী? বিলায়েতের উত্তর ছিল– ‘রেওয়াজ, রেওয়াজ, রেওয়াজ; সাধনা, সাধনা, সাধনা; সোচ, সোচ, সোচ– এই তিনের জীবনব্যাপী প্রবর্ধনই হল সাফল্য’। সত্যিই তো একজন শিল্পীর জীবনে অর্থ, সম্মান, খ্যাতি, পুরস্কার তাঁকে কি শিল্পী করে? তাঁকে সাফল্য এনে দেয়? তাঁকে সফল করে তাঁর সাধনার একাগ্রতা, পরিশ্রমের তীব্রতা, আর চিন্তার গভীরতা। ওই সাক্ষাৎকারেই তিনি আরও বলেছিলেন যে, সাফল্য আসুক বা না আসুক; মৃত্যুর সময় যেন বলতে পারি– আমি সফল হলাম, কি, না হলাম সেটা জানি না; সারা জীবন আমি লড়ে গিয়েছি– এটাই কি কম সাফল্য? পথ নয়, গন্তব্য নয়, পথ চলা বা চলতে পারা বা চলতে চাওয়াই একমাত্র সত্য– চলতে হবে, চলতেই হবে, চরৈবেতি! শ্রীরামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন, ‘যত মত তত পথ’। অর্থাৎ পথ বা মত বড় কথা নয়, যিনি পথিক তিনিই সত্য কেবল, সত্য তাঁর পথ চলা।

এইভাবে দেখলে বিলায়েত খান ভারতীয় সংগীতের এক চিরজিজ্ঞাসু পথিক। জীবনের শেষদিকে একটা খুব ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বলেছিলেন– ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ হল যে আমাকে কেউ বুঝল না। সবাই আমাকে angry man, moody man বলে। কিন্তু কেন রাগ হয় আমার? আমি তো সেই ছোট থেকে বাচ্চাই রয়ে গেলাম, বড় হইনি তো কখনওই। আমি তো সংগীতেও বড় হলাম না। আমি তো আজও সংগীতের শিক্ষার্থীই রয়ে গেলাম।’ অন্তহীন জিজ্ঞাসাকে সঙ্গী করে তিনি চলেছেন। আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর জিজ্ঞাসাটা আছে, ভারতীয় সংগীতের অন্তহীন পথের সন্ধান তিনি আমাদের দিয়ে গিয়েছেন।
আজ তাঁর চলে যাওয়ার দিন। তাঁকে নিয়ে ঠিক কোন কথা দিয়ে শুরু করা উচিত তা ভাবতে গিয়ে একটা বিমূঢ় অবস্থা তৈরি হয় মনে। ভাবতে ভাবতে মনে হল, একটা কনফিউশন দিয়েই শুরু করি! আচার্য বিলায়েত খান একবার একটা সাক্ষাৎকারে ফিউশন মিউজিক সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি ফিউশন মিউজিককে ‘কনফিউশন মিউজিক’ বলেই মনে করেন। তাঁর কথা থেকে এই ‘কনফিউশন’ শব্দটা তুলে নিয়েই কথা এগিয়ে চলুক আজ।

২০০৪-এর ১৩ মার্চ– এই তারিখটা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। তিনি তাঁর জীবনের ঠিকানা বদল করেছিলেন সেদিন এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে। কিন্তু সমস্যা আছে তাঁর জন্মসাল নিয়ে। কবে এবং কত তারিখে তাঁর জন্ম– এ নিয়ে ‘কনফিউশন’-এর শেষ নেই। প্রভুলাল গর্গ (‘কাকা হাথরসী’ নামে তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন) উত্তরপ্রদেশের হাথরসের ‘সংগীত কার্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৩২ সালে। ১৯৩৫ সাল থেকে ‘সঙ্গীত’ নামে একটা পত্রিকা বের হতে শুরু করে– আজ পর্যন্ত সেটাই সম্ভবত ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘসময় ধরে প্রকাশিত হয়ে চলা সংগীত পত্রিকা। ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীতের বিভিন্ন ধারা নিয়ে অসামান্য সব প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে সেখানে। ওই পত্রিকার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিভিন্ন সংগীত-শাস্ত্রীদের জীবনী। এই পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যায় বিলায়েত খানের জন্মসাল হিসেবে ১৯২৪, ১৯২৭ এবং ১৯২৮ এই তিনটি বছরের উল্লেখ রয়েছে।

২০১৮ সালে প্রকাশিত নমিতা দেবীদয়াল-এর ‘The Sixth Strings of Vilayat Khan’ বইতে দেখছি জন্মসাল ১৯২৮। ২০০৪-এ প্রকাশিত আরও একটা জীবনীতেও ১৯২৮-কেই জন্মসাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (‘Ustad Vilayat Khan: A Life Set to Music’– Niharika Seth, Rupa & Co., পৃ. ৭)। আরও নানা জায়গায় সালটা ১৯২৮ হিসেবেই উল্লিখিত হচ্ছে এখন। রবিশঙ্কর তাঁর প্রথম বাংলা আত্মজীবনী ‘রাগ অনুরাগ’-এ উল্লেখ করেছেন, ‘ও আমার চেয়ে সাত বছরের ছোট।’ (প্রথম সংস্করণ ১৯৮০, পৃ. ৪১) রবিশঙ্করের জন্ম ১৯২০-র ৭ এপ্রিল। এই হিসেবে তাঁর জন্ম ১৯২৭ হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এবারে অন্য একটা হিসেব– ২০০২ সালে বম্বের ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ফাইন আর্টস থেকে প্রকাশিত বিশিষ্ট সেতারি এবং বিলায়েত খানের দীর্ঘ সময়ের ছাত্র অরবিন্দ পারিখ তাঁর ‘The Glorious Tradition of Etawah-Imdadkhani Gharana: The Greats of Seven Generations’ বইতে লিখেছেন, ‘Later, when Ustad Vilayat Khan shifted to Mumbai by the year 1943 at the age of 16/17…’ (পৃ. ৫১), অর্থাৎ ১৯৪৩ সালে বিলায়েতের বয়স নিয়ে একটা ধন্ধ রয়েছে। আবার ওই বইয়ের ৫০ পৃষ্ঠায় ‘Self-imposed Genius’ শিরোনামে লিখেছেন, ‘Lost his father and guru– Ustad Enayet Khan– at the age of 11…’। এনায়েত খানের মৃত্যু ১৯৩৮-এর নভেম্বর (জন্ম ১৮৯৪)। এই হিসেবে ১৯২৮ নয়, ১৯২৭-ই হওয়া উচিত বিলায়েত খানের জন্মসাল। অবাক করা ব্যাপার হল, এই বইতে অরবিন্দ পারিখ বিলায়েত খানের কোনও নির্দিষ্ট জন্মসাল উল্লেখ করেননি। বিলায়েত-এর জন্মসাল নিয়ে অরবিন্দ পারিখের এই অনিশ্চিত অবস্থান এই ধন্ধকে আরও বাড়িয়েই দেয়। অরবিন্দ পারিখ তাঁর সুদীর্ঘ সময়ের ছাত্র, বিলায়েত খানের জীবনের অনেক স্মৃতি তাঁর ভাণ্ডারে জমা আছে। তাঁর বইতে বিলায়েত খানের জন্মসাল উল্লেখ না-করার ব্যাপারটা ইঙ্গিত দেয় যে, একটা ধোঁয়াশা তাঁর জন্মসাল নিয়ে রয়েছে। ‘Aftaab-E-Sitar: Ustad Vilayat Khan’ শিরোনামের আন্তর্জালিক ঠিকানায় দেখছি বিশিষ্ট সংগীতকোবিদ দীপক রাজা ১৯২৭ সালকেই বিলায়েত খানের জন্মসাল বলে উল্লেখ করেছেন।

এবারে আর-একটা প্রসঙ্গ। বিলায়েত খান সংগীতের যে ধারাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, তার নাম ‘এটাওয়া’ বা ইমদাদখানি ঘরানা। এটাওয়া উত্তরপ্রদেশের গ্রাম– যেখানে ওঁদের পরিবার বাস করত। কিন্তু তাঁদের পূর্বপুরুষ নাকি রাজপুত। ওঁদের যে প্রাচীনতম পূর্বপুরুষের নাম জানা যায়, তিনি নওগাঁর জায়গিরদার ঠাকুর স্রুজান বা সুরজান সিং, জাতিতে রাজপুত। শোনা যায় স্রুজান সে আমলের খুবই বিখ্যাত গায়ক। তাঁর পুত্র উস্তাদ তুরাব খান। তিনিও না কি একজন সম্মাননীয় সংগীতজ্ঞ ছিলেন– কিন্তু এই দু’জনের বিশদ পরিচয় অজ্ঞাত। কীভাবে স্রুজান সিং-এর পুত্র তুরাব হলেন সে ইতিহাসও কালের গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। তুরাবের পুত্র সাহেবদাদ খান। এই সাহেবদাদ খানের সময় থেকেই পরিবারে যন্ত্রসংগীতের চর্চা শুরু হয়– সেতার, সুরবাহার দু’টিতেই তিনি খ্যাতিমান ছিলেন। সুরবাহারের গুরুত্বপূর্ণ পরিমার্জনা করেছিলেন তিনি। তানসেনের কন্যার বংশের ওমরাও খান না কি সুরবাহারের স্রষ্টা। ওমরাও খান তাঁর শিষ্য গুলাম মহম্মদের জন্য সুরবাহার তৈরি করেন প্রথম। গুলাম মহম্মদের পুত্র সাজ্জাদ মহম্মদ খান সুরবাহারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেছিলেন। অনেকে তো এমনও মনে করেন যে সাজ্জাদ মহম্মদ এবং সাহেবদাদ খান সুরবাহারের বর্তমান রূপে উদ্বর্তনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। সাজ্জাদ মহম্মদ ইমদাদের অন্যতম গুরু। সাহেবদাদ খান সুরবাহারে প্রথম তরবের তার জুড়েছিলেন। এইসব ইতিহাস নথিপত্র দিয়ে প্রমাণ করা মুশকিল এখন। এনায়েত খানের কনিষ্ঠ পুত্র ওস্তাদ ইমরাত খান তো একসময়ে দাবি করেছিলেন যে, সুরবাহার তাঁদের বংশেরই আবিষ্কার– যদিও সে দাবি প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। (এখানে পরিবারের পূর্বপুরুষের যে নামগুলি উল্লেখ করলাম সেসব তথ্য অরবিন্দ পারিখের উল্লিখিত বই থেকে নেওয়া)

সাহেবদাদ খানের দুই পুত্র– ওস্তাদ ইমদাদ খান (১৮৪৮-১৯২০) এবং ওস্তাদ করিমদাদ খান। ইমদাদ খান এতই বিখ্যাত হয়েছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন সেতারে ওঁদের ঘরের নিজস্ব স্টাইল তৈরি করতে যে, তাঁর নামেই এই ঘরানার নাম হয় ইমদাদখানি ঘরানা। ইমদাদ খানের দুই পুত্র, তিন কন্যা। পুত্রদ্বয় আমাদের পরিচিত– এনায়েত খান (১৮৯৪-১৯৩৮) এবং ওয়াহিদ খান (১৮৯৫-১৯৬১)। ওয়াহিদ খানের দুই পুত্র– হাফিজ এবং আজিজ। আজিজ খানের পুত্র আজকের ইমদাদখানি ঘরানার বিখ্যাত সেতারি শাহিদ পারভেজ। ওয়াহিদ খানকে আমরা সত্যজিৎ রায়ের ‘জলসাঘর’-এ দেখেছি– নিঃসঙ্গ জমিদার বিশ্বম্ভর রায়কে তিনি সুরবাহার বাজিয়ে শোনাচ্ছেন এমন একটা দৃশ্য আমাদের সকলেরই দেখা। বিলায়েত সেই ছবির সুরস্রষ্টা, যার জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন।

উনিশ শতকের শেষ পাদে ইমদাদ খান কলকাতায় আসেন পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুরদের আমন্ত্রণে। পরে তিনি বর্তমান বাংলাদেশের গৌরীপুরের জমিদারের সভাবাদক হয়েছিলেন। তাঁর পুত্র এনায়েতও গৌরীপুরে তাঁর বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। এই গৌরীপুরেই বিলায়েতের জন্ম। গৌরীপুরের জমিদার পরিবারে জ্যোতিষের নিবিড় চর্চা ছিল। গৌরীপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৭৪-১৯৫৭) গুণী সংগীতজ্ঞ ছিলেন। ব্রজেন্দ্রকিশোরের পুত্র বীণকার বীরেন্দ্রকিশোর (যাঁর বীণাবাদনের রেকর্ডও হয়েছিল), কন্যা হেমন্তবালা দেবী (১৮৯৪-১৯৭৬, হেমন্তবালার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের চিঠিপত্রের কথা মনে পড়বে আমাদের)। হেমন্তবালার পুত্র বিমলাকান্ত রায়চৌধুরী (১৯০৯-১৯৮০)। পরিবারের জ্যোতিষচর্চার উত্তরাধিকার বর্তেছিল বিমলাকান্তের উপরও। তাঁর নিজস্ব ডয়েরিতে অসংখ্য মানুষের জন্মছক তৈরি করে রেখেছিলেন তিনি। ‘ভারতীয় সংগীত কোষ’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ (১৩৯১/১৯৮৪) যখন তৈরি হয়, সেসময় ওই সংস্করণের সম্পাদক জয়ন্তকুমার মুখোপাধ্যায় বিমলাকান্তের ডায়েরিতে বিলায়েত খানের জন্মছক আবিষ্কার করেন। সেখানে তারিখটা লেখা ছিল ২০ আগস্ট, ১৯২৭। যে কনফিউশনের কথা বলে শুরু করেছিলাম, সেটির একটি মোটামুটি নথিবদ্ধ সমাধান বিমলাকান্তের ডায়েরি আমাদের দিতে পারে। এই লেখায় আমরা কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছি না– চাইছি ১৯২৭-এর সমর্থনে আরও একটি প্রমাণ দাখিল করতে। ২০ আগস্ট, ১৯২৭– এটিই এখনও পর্যন্ত একমাত্র লিখিত প্রমাণ বিলায়েত খানের জন্মতারিখ সম্পর্কে, যা বিমলাকান্তের ডায়েরি আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে।

সংগীতজ্ঞদের জন্মসাল নিয়ে এরকম আর-একটি বিভ্রান্তির কথা এখানে উল্লেখ করি– ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান। প্রচলিত বিশ্বাস ১৯৭২ সালে তিনি ১১০ বছর বয়সে মারা যান। কিন্তু তাঁর অগ্রজ, বিশিষ্ট সংগীতসাধক আফতাবউদ্দিন মারা যান ১৯৩৩-৩৪ সালে– সে সময়ের বিখ্যাত পত্রিকা ‘সংগীত বিজ্ঞান প্রবেশিকা’-তে সে খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল আফতাবউদ্দিনের জন্মসাল ১৮৬৯। তাহলে ১৯৭২ সালে আলাউদ্দিন ১১০ বছর বয়সে প্রয়াত হলে তিনি তাঁর অগ্রজ আফতাবউদ্দিনের থেকে বয়সে ৭ বছরের বড়– একথা স্বীকার করতে হয়। আরও একটা কথা– আলাউদ্দিন কিশোর বয়সে কলকাতায় নুলো গোপালের কাছে সংগীতে তালিম নিয়েছিলেন বছর দুই-তিন। নুলো গোপালের মৃত্যুতে সে তালিম বন্ধ হয়ে যায়। নুলো গোপালের মৃত্যু ১৯০৩ সালে। ১৮৬২ সালে আলাউদ্দিনের জন্ম হলে ১৯০১-০৩ সাল নাগাদ আলাউদ্দিনের বয়স চল্লিশের আশেপাশে– ৪০ বছর বয়স আর যাই হোক কিশোর বয়স নয়। বাংলাদেশের রামগোপালপুরের জমিদার বংশের সন্তান হরেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর (জন্ম: ১৮৮৭) বিখ্যাত বই ‘Musicians of India’-তে (১৯২৯) তিনি আলাউদ্দিনের জন্মসাল ১৮৮১ বলে উল্লেখ করেছেন। অনুমান করা যায়, হরেন্দ্রকিশোরের এই তথ্যে কিছু সত্য হয়তো আছে। বিলায়েত খানের মৃত্যুদিনে কেবল তাঁর সম্পর্কে অবিমিশ্র শ্রদ্ধা কেবল না জানিয়ে, একটু অন্যরকম তথ্য ঘেঁটে দেখাটাও জরুরি বলে মনে হল।

বিলায়েত খান আজন্ম সংগীতের ছাত্র হয়েই জীবন কাটিয়েছেন। কোনও পুরস্কার তাঁকে আকর্ষণ করেনি– ১৯৬৪ এবং ’৬৮-তে যথাক্রমে ‘পদ্মশ্রী’ এবং ‘পদ্মভূষণ’ ফিরিয়ে দিয়েছেন, ২০০০ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’-ও গ্রহণ করেননি। ১৯৯৫-তে ‘সংগীত নাটক অকাদেমি’ পুরস্কারও নিতে অস্বীকার করেছেন। পুরস্কারের মোহ তাঁর মতো শিল্পীকে আবিষ্ট করেনি কখনওই। জীবনে দু’টি উপাধিই তিনি ব্যবহার করেছেন– আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার দেওয়া ‘ভারত সিতার সম্রাট’ আর রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ-এর দেওয়া ‘আফতাব-এ-সিতার’। তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন তাঁর সৃষ্টিতে।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved