Robbar

অস্তিত্বের সংকটে পেপারব্যাক বিপ্লবের আদিপুরুষ

Published by: Robbar Digital
  • Posted:January 31, 2026 5:32 pm
  • Updated:February 1, 2026 2:50 pm  

দূরপাল্লা আর বই, এককালে সমান্তরালে চলত। জানলার পাশে আলগা আলোয়, ফুরিয়ে যেত কত ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, কত রহস্য় উদ্ধার হত স্টেশনের পর স্টেশন পেরিয়ে গেলে। বই ও ভারতীয় রেলের সম্পর্কটি দূরসম্পর্কের নয়, তারা ছিল নিকটবন্ধুই। এ এইচ হুইলার সেই বন্ধুত্বের প্রমাণ। ক্রমশ নানা সরকারি নীতিতেই রেলস্টেশন থেকে হারাচ্ছে বইয়ের দোকানগুলি, অথচ ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে লাইব্রেরি সিরিজ’ নামে বেশ কিছু বই ছাপা হয়েছিল এককালে। পেপারব্যাক বিপ্লবের সেই আদিপুরুষ, এ এইচ হুইলার হয়তো হারিয়েই যাবে চিরতরে। হুইলারের সার্ধশতবর্ষের গোড়ায়, সেই ইতিহাস ফিরে দেখা, আজকের দৈন্য সময়ের ক্লান্ত বিশ্লেষণ।

সুব্রত মুখোপাধ্যায়

‘ত্রিদিববাবুর সাধারণত একটা হালকা বই পড়েই সময়টা কেটে যায়। কলকাতা থেকে দিল্লি ট্রেনে যাওয়া।’ ‘সহযাত্রী’ গল্পে এমনভাবেই শুরু করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। একসময় স্টেশনে সময় কাটানোর আদর্শ স্থান ছিল বুকস্টল। পেপারব্যাক নেড়েচেড়ে দেখা বা সংবাদপত্র কিনে ট্রেনে চড়া। যাত্রাপথের একঘেয়েমি কাটাতে অনেকেই পেপারব্যাক থ্রিলারে মুখ গুঁজে কাটিয়ে দিতেন পুরো যাত্রাপথ।

এই সেদিনও রেলযাত্রায় চোখে পড়ত এ দৃশ্য। বড় জংশন স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেন ধীর গতিতে ঢোকার সময় লাল পোশাকের কুলিদের কামরা ধরার দৌড়াদৌড়ি। তারই মাঝে চলেছে ঠেলাগাড়ি ভর্তি বই-পত্রপত্রিকা, হকারের হাঁকডাক।

হারিয়ে গেল রেলস্টেশনের সেই পরিচিত দৃশ্যটা। হয়তো বা চিরতরে।

ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের রমরমা যদি এর একটি কারণ হয় তো অন্যটি হল রেলস্টেশন থেকে পরিচিত বুকস্টলের অন্তর্ধান। উত্তর ভারতে রেলস্টেশনের হুইলার পুস্তক বিপণির অন্তর্জলী যাত্রা অবশ্যই একটি কারণ। রাতারাতি বদলে গেল পরিচিত বই ও পত্রপত্রিকার স্টল ‘এ এইচ হুইলার’। সার্ধশতবর্ষে পা দেওয়ার ঠিক আগেই বইকথার ঝাঁপি গোটাল। ঠিক বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়, অথচ যে সারস্বত সাধনার লক্ষ্যে এত বছর ধরে অবিচল ছিল, তা হয়তো বন্ধ হয়ে গেল চিরতরে। যে বিপণি এযাবৎকাল শুধুমাত্র বই বিক্রেতা হিসেবেই পাঠকদের সমাদর পেয়েছিল, তা এখন নিছক স্টেশনের খাবারের স্টল মাত্র!

হাওড়া স্টেশনের হুইলার

পরিচিত দৃশ্যটা হঠাৎই বদলে যাওয়া নজরে আসে করোনা পরিস্থিতির পর যখন আবার জংশন স্টেশনগুলো যাত্রী পরিবহণে ফের মুখর হয়ে ওঠে তখনই। চিরপরিচিত ‘এ এইচ হুইলার’ বুকস্টলটি সেই জায়গায় থাকলেও হারিয়ে গিয়েছে তার বইয়ের সম্ভার। সামনে-পিছনে, তাকে সাজিয়ে রাখা সুদৃশ্য বই, পত্রপত্রিকা, পেপারব্যাকগুলির জায়গা নিয়েছে লজেন্স, চকেলেট, বিস্কুট, চিপস-সহ অন্যান্য খাবারের প্যাকেট। সেই সঙ্গে মনের তৃষ্ণার বদলে শরীরের তৃষ্ণা মেটানোর নরম পানীয়ের উপস্থিতি।

ভারতের রেল ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে হুইলারের নাম। ‘এ এইচ হুইলার অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড’-এর প্রথম বুক স্টলটি খোলা হয় তৎকালীন এলাহবাদ রেলস্টেশনে। ১৮৭৭ সালে। এবং তার নেপথ্যে ছিলেন এক ফরাসি যুবক– এমিল এডওয়ার্ড মোরে (Emile Edouard Moreau)। সিপাহি বিদ্রোহের সময় এদেশে ভাগ্যান্বেষণে আসা এক তরুণ যুবকের যাত্রাপথ বদলে গিয়েছিল এলাহাবাদ স্টেশনে প্রথম বই বিপণি খোলার পর থেকেই।

The nostalgia of A.H. Wheeler & Co. – Banjaran Foodie

জন্মসূত্রে ফরাসি হলেও তাঁর শৈশব ও শিক্ষা পুরোটাই হয়েছিল ইংল্যান্ডের বুকে। শিক্ষান্তে বছর ২০ বয়সের যুবক মোরে যোগ দিলেন কলকাতার ‘বার্ড অ্যান্ড কোম্পানি’তে। যোগদানের পর তাঁর পোস্টিং হল এলাহাবাদে। ‘বার্ড অ্যান্ড কোম্পানি’ ছিল সেই সময় ভারতীয় রেলে বিভিন্ন ধরনের শ্রমিক বা কুলি সরবরাহকারি ঠিকাদারি সংস্থা। রেল লাইনের বিভিন্ন কাজে, নির্মাণকাজে যত দক্ষ শ্রমিকের দরকার হত, তার সরবরাহ করত ‘বার্ড অ্যান্ড কোম্পানি’। কলকাতাস্থিত এই কোম্পানির এলাহাবাদ খোলার পর সে শাখায় বদলি করা হল তাঁকে।

কোম্পানির কাজের ক্ষেত্রেই তাঁকে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাতে হত এলাহাবাদ রেলস্টেশনে। প্ল্যাটফর্মে ঘোরাঘুরির সময় একটা দৃশ্য বারবার তার নজরে আসত। তা হল দূরপাল্লার যাত্রীরা স্টেশনে নেমে খাবার-দাবারের পাশাপাশি আর যে জিনিসটার সবথেকে বেশি খোঁজ করে, তা হল বই, পত্রপত্রিকা ও সংবাদপত্র। কিন্তু সেই সময় স্টেশনে বই-পত্রপত্রিকা বিক্রির তেমন কোনও সুনির্দিষ্ট স্টল ছিল না। বার্ড কোম্পানি ছাড়ার সময় মোরে বুঝতে পারলেন যাত্রীদের এই চাহিদার জোগান দিতে রেলস্টেশনে বইপত্র বিক্রির একটা চমৎকার স্টল দিলে তা বেশ ভালো চলবে!

এমিলের সংগ্রহে ছিল প্রচুর বই। বার্ড অ্যান্ড কোম্পানিতে কাজের সময়টুকু বাদ দিয়ে দিনের বাদবাকি সময় মোরের সময় কাটত বই পড়ে। সে কারণে তার বাড়িতে জমে উঠেছিল বিপুল বইয়ের ভাণ্ডার। শুধু পুরনো বইগুলোই নিয়ে বিক্রি শুরু করলেন এলাহাবাদ রেলস্টেশনে। রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভালোই আলাপ ছিল। ফলে বুকস্টল বানাতে খুব একটা কাঠখড় পোড়াতে হয়নি।

হুইলারের অতীতের ছবি

তবে হ্যাঁ, পুস্তক বিপণির নামটি কিন্তু ঠিক করলেন জবরদস্ত। নিজের নামের সঙ্গে মিল রাখলেন না। এমিলে মোরে বুঝেছিলেন এমনিতেই খটমট ফরাসি নাম পাঠকদের খুব একটা আকর্ষণ করবে না। তার থেকে রেলের চাকার সঙ্গে  সাদৃশ্য রেখে ‘হুইলার’ নামটি ব্যবহার করলে তা অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও উপযুক্ত হবে। ইংল্যান্ডে অনেক দিনের পুরনো বন্ধু আর্থার হেনরি হুইলার। তারই নাম ধার করে ‘এ এইচ হুইলার’ নামে শুরু হল ছোট বই বিক্রির গুমটি এলাহাবাদ স্টেশনে। শুরুতেই জমে ওঠে ব্যবসা। একে একে উত্তর ভারতের বড় বড় জংশন  স্টেশনে খোলা হল হুইলারের শাখা।

এমিল এডওয়ার্ড মোরে

১৮৯৯ সালে ঢাকা থেকে এক যুবক আসলেন হুইলার কোম্পানিতে কাজ করতে। নাম তিনকড়ি কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সংক্ষেপে টিকে ব্যানার্জি। তিনকড়ি কলকাতার হুইলারে যোগদান করার পরে তাঁর কাজ এবং উদ্যোগের নিরিখে খুব শীঘ্রই নজরে আসে কোম্পানির বড়কর্তাদের। তাঁকে বদলি করা হয় এলাহাবাদে হেডঅফিসে।

নিজের কাজের গুণে খুব তাড়াতাড়ি তিনকড়ি পৌঁছে যান কোম্পানির উচ্চপদে।  ১৯২২ সালে হুইলার কোম্পানির অংশীদার হিসাবে নেওয়া হয় টিকে ব্যানার্জিকে। বিশ শতকের প্রথম দশকে মোরে ভারত ছেড়ে চলে যান তাঁর সাধের ইংল্যান্ডে। যাওয়ার আগে উইল করে টিকে ব্যানার্জিকে যাবতীয় অংশীদারিত্ব প্রদান করে যান। সেই থেকে এক বাঙালি ব্যানার্জি পরিবার ‘এ এইচ হুইলার অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড’ সামলাচ্ছেন। অমিত, রঞ্জিত ও দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় টিকে ব্যানার্জির উত্তরসূরি হিসাবে কাজ করছেন প্রয়াগরাজ থেকে।

টি কে ব্যানার্জির দক্ষ হাতে বই ব্যবসার ব্যাপক বিস্তার ঘটে। কলকাতা, এলাহাবাদ তো বটেই, দিল্লি, মুম্বই, কানপুর থেকে শুরু করে সমগ্র উত্তর ভারতের বেশিরভাগ বড় রেল স্টেশনে  হুইলার বুক স্টলের শাখা ছড়িয়ে পড়ে। হুইলারের দেশ জোড়া ৩৭৮টি বুক স্টল, প্রায় সোয়া সো কাউন্টার টেবিল ও প্রায় ৪০০ ট্রলি উত্তর ভারত, মধ্য ভারত মিলিয়ে আড়াইশোর বেশি বড় স্টেশনে রমরমিয়ে চলছিল।

শুধু বই বিপণন নয়, প্রকাশনার ক্ষেত্রেও পা রাখে হুইলার। নোবেল জয়ী লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিঙের সঙ্গে হুইলার কোম্পানির এক সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। জনপ্রিয় চরিত্র ‘মোগলি’ স্রষ্টা রুডইয়ার্ড  কিপলিংয়ের প্রথম বই প্রকাশক ছিল হুইলার কোম্পানি। তাঁর লেখা ‘প্লেইন টেলস ফ্রম দি হিলস’ এবং আরও ছ’টি গল্পের বই হুইলার প্রকাশ করেছিল ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে লাইব্রেরি সিরিজ’ হিসেবে। তখন কিপলিং নেহাতই সাধারণ সংবাদপত্রের লেখক। ১৮৮৮ সালে ছোটগল্পের বইটি প্রকাশ পায় স্টেশনের বুক স্টলে। বইগুলি হুইলারের প্রেসে ছাপা এবং স্টেশনে তাদের স্টলগুলিতে বিক্রির ব্যবস্থা হয়েছিল। সে আমলে বইগুলোর দাম ছিল এক টাকা। এলাহাবাদে প্রেস স্থাপন করে সেখান থেকেই ছাপা হত ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে লাইব্রেরি সিরিজ’-এর জনপ্রিয় বইগুলি।

Plain Tales from the Hills - Wikipedia

গত শতাব্দীর তৃতীয় দশকে বিশ্বজুড়ে পেপারব্যাকের ধারণা এলেও ভারতে তা চালু করেছিল হুইলার কোম্পানি।  ১৮৮৮ সালে কিপলিংয়ের বই প্রকাশের মাধ্যমে। সেই হিসেবে হুইলার ছিল পেপারব্যাক বিপ্লবের আদিপুরুষ।

বহু ইংরেজি নামি-অনামী পেপারব্যাক, মূলত থ্রিলার বা অ্যাডভেঞ্চার গোত্রের বই বিক্রি হত হুইলারে। যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে বইগুলোর দাম থাকত সাধ্যের মধ্যে। ট্রেন যাত্রাপথে সময় কাটানোর জন্য থ্রিলারের পাশাপাশি বেশ কিছু ক্লাসিক বইও রাখা হত। বাংলা ও অন্যান্য প্রাদেশিক ভাষার বই কম থাকলেও হুইলারের ঠেলাগাড়িতে বিভিন্ন ভাষার সংবাদপত্র থাকত। গ্যালারির মতো থাকে থাকে সাজানো পেপার ব্যাগ ও অন্যান্য চলতি ম্যাগাজিন নিয়ে স্টেশনে ঠেলাগাড়িগুলো দূরপাল্লার ট্রেন ঢুকলেই এগিয়ে যেত জানালার কাছে।

১৮৭৭ সাল থেকে রেলস্টেশনগুলিতে হুইলার যে বুকস্টল চালিয়ে আসছে, তার ওপর কোপ নেমে এল এ শতকের প্রথম দিকে। ২০০২ সালে বিপদ ঘনিয়ে এল হুইলার কোম্পানির মাথায়। সংযুক্ত গণতান্ত্রিক মোর্চা সরকার সেবার বাজেটে ভারতীয় রেলে হুইলার কোম্পানির বই বিক্রির চুক্তি নবীকরণ বন্ধ করে দেয়।

দু’বছর পর ভারতীয় রেল স্টেশনগুলির জন্য নতুন বই বিক্রি নীতি গ্রহণ করে। রেলমন্ত্রকের এক সার্কুলারে বলা হয়, এ এইচ হুইলার অ্যান্ড কোম্পানি রেলস্টেশনগুলিতে একচ্ছত্র বই বিক্রির অধিকার পাবে না বরং অন্যান্য সংস্থাও এ সুযোগ পেতে পারে। রেলের যুক্তি ছিল যে, শুধুমাত্র বই নয়, হুইলারের বুক স্টলগুলোর জায়গায় বহুমুখী স্টোর খোলা হবে, যা যাত্রীদের বই ছাড়াও অন্যান্য দরকারি উপকরণ পেতে সাহায্য করবে। সেই নীতি অনুযায়ী, একই ছাদের নিচে যাত্রীদের সব কিছু সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে কোপ পড়ল জনপ্রিয় বুক স্টলের ওপর। ম্যাগাজিন সংবাদপত্র বাদেও ওষুধ নরম পানীয় চিপস বিস্কুট ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী প্যাকেজ যত খাদ্য বিক্রি করতে হবে।

Indian Railway Library (A. H. Wheeler & Co.) - Book Series List

হুইলার স্টলের মালিকরা এ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করলেও কোনও লাভ হয়নি। পুরোপুরি বইয়ের ব্যবসা থেকে সরে এসে, আর পাঁচটা সাধারণ খাবার স্টলের পরিণত হওয়াকে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি।

২০০৪ সালে রেলমন্ত্রী হিসাবে লালুপ্রসাদ যাদব সংসদে রেল বাজেট পেশ করতে গিয়ে পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, হুইলারের একছত্র আধিপত্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এবং সেটি যেন কফিনের শেষ পেরেক হিসেবে কাজ করলো এই গ্রন্থ বিপণির।

২০১৭ সালে চালু করা নতুন সরকারি নীতির মাধ্যমে রেলের হুইলার বুকস্টলগুলি ‘মাল্টিপারপাস স্টল’ রূপান্তরিত করা হল। যা যাত্রীদের প্রয়োজনীয় খাবার ওষুধ ও অন্যান্য জিনিস বিক্রি করবে। ঠেলাগাড়ি বা ভ্রাম্যমাণ স্টলগুলি একেবারেই উবে গেল। বাকি স্থায়ী হুইলারের দোকানের এককোণে দেখা যায় সামান্য কিছু বইয়ের সম্ভার। তাও শুধুমাত্র বড় হুইলার স্টলগুলিতে। ছোটখাটো হুইলার স্টল গুলি পুরোটাই বদলে গিয়েছে চিপস নরম পানীয়ের দোকানে।

সার্ধশতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে, ফরাসি যুবক মরে যে স্বপ্ন বাস্তব করতে চেয়েছিলেন, তা সফল হয়েও যেন হারিয়ে গেল রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে। অনায়াসে হেরিটেজ আখ্যা পেতে পারত যে, শতাব্দী প্রাচীন এই পুস্তক বিপণন সংস্থা, তার বদলে পাঠাগারের মতোই ধুঁকতে ধুঁকতে একসময় হয়তো কালের গর্ভে মিলিয়ে যাবে হুইলার বুক স্টল।

তথ্যসূত্র

Railway Bookselling and the Politics of Print in India: The Case of A.H. Wheeler By Ritika Prasad, Book History, Johns Hopkins University Press, Volume 24, Issue 1, Spring 2021, pp. 115-145