

২০০১ সালে সান দিয়েগোর কমিক-কন-এ তাঁর ৭৫-তম জন্মদিন উদ্যাপন করা হয়, যেখানে স্ট্যান লি, নিল অ্যাডামস ও হারলান এলিসনের মতো স্রষ্টারা শ্রদ্ধা জানান। ২০০৫ সালে তিনি ‘উইল আইজনার কমিক বুক হল অফ ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৮ সালে সান ফ্রানসিস্কোর কার্টুন আর্ট মিউজিয়ামে তাঁর কাজ নিয়ে একটি বড় প্রদর্শনীর আয়োজন হয়। আর ২০১০ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা তাঁর শেষ বড় কাজ, ক্যাপ্টেন আমেরিকা #৬০১– যা তাঁর পেনসিল-কাজ থেকে সরাসরি ছাপা হয়েছিল– সেরা একক সংখ্যার জন্য আইজনার পুরস্কার জেতে।
জিন কোলানের শিল্পের সঙ্গে আমার সখ্য কলেজ-জীবন থেকে। মফস্সল থেকে কলকাতায় এসেছি পড়াশোনা করার জন্য। ক্রমেই নতুন শহরে পুরনো বইয়ের দোকানগুলো হয়ে উঠল আমার নিবিড় আশ্রয়। তাছাড়া নয়ের দশকে কলকাতায় বিদেশি কমিক্স বই পড়া বা কেনার একমাত্র জায়গা ছিল এই দোকানগুলো। পরিষ্কার মনে আছে, ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের সেইরকম এক পুরনো বইয়ের দোকান থেকে পেয়েছিলাম মার্ভেল কমিক্সের ‘দ্য টুম্ব অফ ড্রাকুলা’। এক ঝলক দেখেই মনে হয়েছিল যে, এই কমিক্সের আঁকা ছবি তখনকার গড়পড়তা কমিক্স বইয়ের থেকে একেবারে আলাদা। কোলান মানবদেহকে বাঁকিয়ে-চুরিয়ে আঁকতেন এবং পাতার বাঁধা আয়তক্ষেত্রটাকেই যেন মুচড়ে দিতেন। কমিক্স সবসময় বাস্তবতা আর অতিরঞ্জনের সরু দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটে। কোলানের আঁকা একইসঙ্গে বিরল রকমের বাস্তব আর অস্বস্তিকর রকমের বিকৃত। ড্রাকুলার জগতে এই অস্বস্তিই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। যে চরিত্র মানুষ অথচ মানুষ নয়, তার পাশে পরিচিত অথচ একটু বেঁকে যাওয়া শরীরগুলো পাঠকের মনে এক অদ্ভুত অস্থিরতা তৈরি করত। শুধুমাত্র পাতার প্রবাহ নিয়ে কোলান যা করতে পারতেন, তা কমিক্সের বিন্যাস নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণাকে আজও চ্যালেঞ্জ করে।
কোলানের পেনসিল-কাজে এত ঘনত্ব আর ভার ছিল যে, তা প্রায় ইংকিং ছাড়াই দাঁড়িয়ে যেত– যেন তিনি পেনসিল দিয়ে ক্যানভাসে তেলরং আঁকছেন। তাঁর ইংকার টম পামার বলেছিলেন– কোলানের ছবিতে আলো, মধ্যম আর গাঢ়– এই তিন স্তরের সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকত, যা অনেক ইংকারই ধরতে পারতেন না। পামার তা ধরতে পেরেছিলেন বলেই ড্রাকুলা-র ছবিতে ছায়ার নরম-গাঢ় খেলা এত স্পষ্ট ছিল। এই কাজই বোঝায়, কেন কোলান অন্য কারও কালিতে নিজের ছবির চেহারা বদলে যাওয়া পছন্দ করতেন না। অনেক পরে আটের দশকে এসে প্রকাশকরা তাঁর পেনসিল-কাজ সরাসরি ছাপাতে শুরু করেন, ইংকিং পর্যায় বাদ দিয়েই– এমনকী ২০০৯ সালে তাঁর শেষ বড় কাজ, একটি ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ কাহিনি, রঙিন ও সাদা-কালো– দুই সংস্করণেই প্রকাশ করা হয়, যাতে ভক্তরা তাঁর খাঁটি পেনসিল-কাজের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। তাছাড়া ছেলেবেলায় বাবার ক্যামেরা হাতে ঘুরে বেড়ানো আর ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ দেখে আতঙ্কিত হওয়া বালকটি বড় হয়ে পাতায় সিনেমার ভাষা এনেছিলেন। তাঁর কম্পোজিশনে ছিল নাটকীয় কোণ আর আলোছায়ার তীব্র বৈপরীত্য, যেন প্রতিটি পাতা একটি সম্পূর্ণ নকশা। দরজার হাতল ঘোরানোর মতো সাধারণ মুহূর্তেও তিনি আধ-পাতা খরচ করতে পারতেন, আর সেই থমকে থাকা সময়টাই হররের ভয় জমিয়ে তুলত।

তবে জিন কোলান রাতারাতি তারকা হননি। তাঁর কর্মজীবনের শুরুটা ছিল ধীর, অনিশ্চিত আর নানা ওঠানামায় ভরা। ছবি আঁকার নেশা ছেলেবেলায় শুরু হলেও নিজের শিল্পীসত্তাকে পুরোপুরি খুঁজে পেতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল কয়েক দশক। ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে জন্ম নেওয়া ইউজিন জুলস কোলান ছিলেন অন্তর্মুখী স্বভাবের বালক। কমিক স্ট্রিপ আর সিনেমা ছিল তাঁর প্রিয় জগৎ। মিল্টন ক্যানিফের ‘টেরি অ্যান্ড দ্য পাইরেটস’ আর কোল্টন ওয়া-র ‘ডিকি ডেয়ার’ পড়তে পড়তে তিনি নিজেও ছবি আঁকতে শুরু করেন। ১৪ বছর বয়সে কোলান নিজের আঁকা নিয়ে ডিসি কমিক্সের দফতরে যান, সেখানে ব্যাটম্যানের স্রষ্টা বব কেনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। স্কুল শেষ করার পর ১৯৪৪ সালে ফিকশন হাউসে গ্রীষ্মকালীন শিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন, যেখানে জর্জ টুস্কা, মার্ফি অ্যান্ডারসন ও লি ইলিয়াসের মতো শিল্পীদের ছায়ায় তিনি নিজের হাত পাকান। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন বিমানবাহিনীতে যোগ দিলে তাঁকে ফিলিপাইনে পাঠানো হয়, যেখানে চিত্রশিল্পী স্টিভেন কিডের কাছ থেকে তিনি শিল্প সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পান। কিডের বিশেষত্ব ছিল সামরিক চিত্রাঙ্কন এবং পরে তিনি কোরিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন সরকারের অফিশিয়াল যুদ্ধশিল্পী হন। অর্থাৎ কোলান যাঁর কাছে শিখেছিলেন, তিনি ছিলেন কমিক্সের বাইরের জগতের একজন পেশাদার, প্রতিষ্ঠিত চিত্রকর। এটাই এই সম্পর্কের সবচেয়ে কৌতূহলজনক দিক।
কোলানের আগের শিক্ষকরা ছিলেন ফিকশন হাউসের কমিক্স-শিল্পী। কিডের কাছে তিনি এমন এক শিল্পীকে পান, যাঁর পেশা ছিল বাস্তব মানুষ আর বাস্তব দৃশ্য আঁকা। কোলানের পরবর্তী কাজের বাস্তবধর্মী মানবদেহ আর মুখের ভাবের যে দক্ষতা, তার নেপথ্যে এই শিক্ষার প্রভাব থাকতে পারে। ফিলিপাইনে কোলান কর্পোরাল পদে ওঠেন, ‘ম্যানিলা টাইমস’-এর জন্য ছবি আঁকেন এবং একটি শিল্প প্রতিযোগিতায় জেতেন। অর্থাৎ যুদ্ধের সময়টা তাঁর কাছে শুধু সেনাজীবন ছিল না, ছবি আঁকার অভ্যাস আর আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলারও সময় ছিল।
সেনাবাহিনী থেকে ফিরে ‘আর্ট স্টুডেন্টস লিগ অফ নিউ ইয়র্ক’-এ ভর্তি হন, আর ১৯৪৭ সালে ‘টাইমলি কমিক্স’-এর দফতরে (পরে ‘মার্ভেল কমিক্স’ নামে পরিচিত) গিয়ে প্রথমবার দেখা হয় তরুণ সম্পাদক স্ট্যান লি-র সঙ্গে। এই সম্পর্কই পরবর্তী কয়েক দশক ধরে তাঁর কর্মজীবনকে গড়ে তোলে।

কমিক্স জগতে কোলানের পথ মসৃণ ছিল না। ১৯৫০ সালের বাজার-ধসের সময় চাকরি হারিয়ে তিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাধ্য হন। ইসি কমিক্সের প্রবাদপ্রতিম হার্ভি কার্টজম্যান ও ডিসি-র লেখক-সম্পাদক রবার্ট কানিগরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে একেবারেই সুখকর ছিল না। ছয়ের দশকের শুরুটাও ছিল কোলানের জীবনের সবচেয়ে টালমাটাল সময়। প্রথম স্ত্রী স্যালির সঙ্গে বিচ্ছেদ, দুই কন্যা ভ্যালেরি ও জিলের থেকে দূরত্ব, আর কমিক্সে কাজ না পেয়ে শিক্ষামূলক ফিল্মস্ট্রিপ আঁকার এক ক্লান্তিকর চাকরিতে আটকে থাকা– এই ছিল তাঁর তখনকার বাস্তবতা। এই অন্ধকার সময়ে আলো হয়ে আসেন অ্যাড্রিয়েন গেইল ব্রিকম্যান। পোকোনোজের এক অবকাশ কেন্দ্রে তাঁদের পরিচয় হয়, আর ১৯৬৩ সালের ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে তাঁদের বিয়ে হয়। অ্যাড্রিয়েনের উৎসাহেই কোলান আবার কমিক্স জগতে ফিরে আসার সাহস পান। ১৯৬৫ সালে স্ট্যান লি যখন কোলানকে পূর্ণকালীনভাবে মার্ভেলে যোগ দিতে বলেন, তখন প্রথমদিকে নিজের পরিচয় গোপন রেখে ‘অ্যাডাম অস্টিন’ ছদ্মনামে সাব-মেরিনার ও আয়রনম্যান আঁকতেন তিনি। কিন্তু ‘ডেয়ারডেভিল #২০’ সংখ্যা থেকে নিজের আসল নামেই কাজ শুরু করেন। ডেয়ারডেভিলের প্রতি কোলানের বিশেষ টান ছিল, কারণ এই চরিত্রটি ছিল দৃষ্টিহীন অথচ অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন। তিনি এমনভাবে ডেয়ারডেভিলের দৃষ্টিহীনতা আঁকার চেষ্টা করতেন, যাতে পাঠকও অনুভব করতে পারেন চরিত্রটির তীক্ষ্ণ ইন্দ্রিয়ের জগৎ– কল্পনাশক্তি দিয়ে তিনি এক দৃষ্টিহীন মানুষের অনুভূত জগৎকে দৃশ্যরূপ দিতেন। প্রায় ৮০ সংখ্যা ধরে চলা এই দীর্ঘ, প্রায়-অবিচ্ছিন্ন কাজই তাঁকে চিরকালের জন্য এই চরিত্রের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জুড়ে দেয়।

এখানে একটি বিষয়ে কোলানকে অন্য শিল্পীদের থেকে একটু আলাদা করে দিয়েছিল। ছয়ের দশকে মার্ভেলে যোগ দেওয়া প্রায় প্রত্যেক শিল্পীকেই– জন বুসেমা, বিল এভারেট, জন রোমিটা, জিম স্টেরানকোর মতো ভবিষ্যৎ কিংবদন্তিদেরও– শুরুতে জ্যাক কার্বির লে-আউটের ওপর ভিত্তি করে আঁকতে বাধ্য করা হত, যাতে তাদের কাজ ‘মার্ভেলের নিজস্ব ধাঁচে’ হয়। কিন্তু জিন কোলান ছিলেন একমাত্র ব্যতিক্রম– তাঁর শৈলী এতটাই স্বতন্ত্র ও অপ্রচলিত ছিল যে, স্ট্যান লি কখনও তাঁকে এই ছাঁচে ফেলার চেষ্টা করেননি। কার্বি ছিলেন সরাসরি অ্যাকশনের শিল্পী, আর কোলান ছিলেন ছায়া আর মানবিক অভিব্যক্তির শিল্পী– দু’জনের অঙ্কনশৈলী এতটাই ভিন্ন ছিল যে, ৪০ বছর পরেও, কার্বির অসমাপ্ত একটি অঙ্কন সম্পূর্ণ করার সুযোগ পেয়েও কোলান তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন– অনিচ্ছা থেকে নয়, বরং নিজের ভিতরের এক সততা থেকে, কারণ তিনি অনুভব করেছিলেন যে, তা তিনি পারবেন না।

১৯৭১ সালে দীর্ঘ পাঁচ বছরের ডেয়ারডেভিল-পর্ব শেষে কোলান নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজছিলেন। মার্ভেল যখন ড্রাকুলা নিয়ে নতুন একটি সিরিজ তৈরির পরিকল্পনা করে, তিনি সেই কাজ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। স্ট্যান লি এই সিরিজে কাজ করার জন্য অন্য একজন শিল্পীকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা শুনে কোলান হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু অ্যাড্রিয়েন তখন তাঁকে উৎসাহ দেন একটি চরিত্র এঁকে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে– কোলান পেনসিল, কালি আর ওয়াশে ড্রাকুলার একটি প্রতিকৃতি এঁকে পাঠান, আর বাকিটা ইতিহাস। সাত বছর ধরে চলা ৭০ সংখ্যার ‘দ্য টুম্ব অফ ড্রাকুলা’ শুধু সাতের দশকের সেরা হরর কমিক্সই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে সেই দশকের অন্যতম সেরা কমিক্স হিসেবে বিবেচিত হয়। মার্ভ ওলফম্যানের লেখা আর টম পামারের ইংকিং-এ এই সিরিজেই কোলান সৃষ্টি করেন ‘ব্লেড’ নামের ভ্যাম্পায়ার-শিকারীকে।

মাঝামাঝি সাতের দশকে তিনি হাত দেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের এক কাজে– স্টিভ গার্বারের লেখা ব্যঙ্গাত্মক ‘হাওয়ার্ড দ্য ডাক’। এই কাজ তাঁকে কিছুটা হালকা মেজাজের সুযোগ দিয়েছিল, যা তাঁর অন্ধকারাচ্ছন্ন কাজের বিপরীতে এক সতেজ বিরতি হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৭৯ সালে ‘ড্রাকুলা’ ও ‘হাওয়ার্ড দ্য ডাক’– দু’টি সিরিজই বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক তখনই মার্ভেলের নতুন সম্পাদক জিম শুটারের সঙ্গে কোলানের সম্পর্কের তিক্ততা চরমে পৌঁছয়। মার্ভেল ছেড়ে তিনি যোগ দেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশনী ডিসি-তে, যেখানে তিনি পান ব্যাটম্যান, ওয়ান্ডার-ওম্যানের নতুন রূপায়ণ, একটি সুপারম্যান মিনি-সিরিজ আর মার্ভ ওলফম্যানের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন হরর সিরিজ নাইট ফোর্স-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পরবর্তীতে তিনি একাকী কাজ হিসেবে নাথানিয়েল ডাস্ক-ও তৈরি করেন, যা নিয়ে পরে তিনি নিজেই বলেছিলেন, এটিই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ।

১৯৯৮ সালে কোলান ও মার্ভ ওলফম্যান আবার ফিরে আসেন তাঁদের প্রিয় চরিত্রের কাছে– ডার্ক হর্স কমিক্সের ‘দ্য কার্স অফ ড্রাকুলা’-য়। এই প্রকল্পের সম্পাদক ছিলেন স্কট অ্যালি, আর রঙের দায়িত্বে তিনি ডেকে আনেন ডেভ স্টুয়ার্টকে। কালি ছাড়া পেনসিলের ওপর রং করার সঠিক কৌশলটি স্টুয়ার্ট আয়ত্ত করেন কোলানের সঙ্গে কাজ করতে করতেই।
৬০ বছর বয়সের কাছাকাছি এসে কোলান গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়েন– গ্লকোমার কারণে ধারাবাহিক দৃষ্টিসমস্যা। একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও তাঁর বাঁ-চোখের দৃষ্টি প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়, আর ডান চোখে থেকে যায় শুধু টানেল ভিশন। নিজের সবচেয়ে বিখ্যাত চরিত্র ডেয়ারডেভিলের মতোই, বাস্তব জীবনে তিনিও দৃষ্টিহীনতার সঙ্গে লড়াই করতে থাকেন।
২০০১ সালে সান দিয়েগোর কমিক-কন-এ তাঁর ৭৫-তম জন্মদিন উদ্যাপন করা হয়, যেখানে স্ট্যান লি, নিল অ্যাডামস ও হারলান এলিসনের মতো স্রষ্টারা শ্রদ্ধা জানান। ২০০৫ সালে তিনি ‘উইল আইজনার কমিক বুক হল অফ ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৮ সালে সান ফ্রানসিস্কোর কার্টুন আর্ট মিউজিয়ামে তাঁর কাজ নিয়ে একটি বড় প্রদর্শনীর আয়োজন হয়। আর ২০১০ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা তাঁর শেষ বড় কাজ, ক্যাপ্টেন আমেরিকা #৬০১– যা তাঁর পেনসিল-কাজ থেকে সরাসরি ছাপা হয়েছিল– সেরা একক সংখ্যার জন্য আইজনার পুরস্কার জেতে।

২০১০ সালের গ্রীষ্মে দীর্ঘদিনের সঙ্গী অ্যাড্রিয়েনের আকস্মিক মৃত্যু কোলানের জীবনে গভীর আঘাত হানে। লিভারের সমস্যা আর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১১ সালের ২৩ জুন, ৮৪ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন।
কমিক বইয়ের ইতিহাসে এমন কিছু শিল্পী থাকেন, যাঁরা কোনও চরিত্রকে জন্ম দেননি ঠিকই, কিন্তু সেই চরিত্রের আত্মাটাকে চিরকালের মতো গড়ে দিয়ে যান। জিন কোলান ছিলেন ঠিক এমনই একজন শিল্পী– যাঁর তুলির আঁচড়ে ডেয়ারডেভিল অন্ধকার নিউ ইয়র্কের প্রকৃত নায়ক হয়ে উঠেছিল, আর ড্রাকুলার সমাধি হয়ে উঠেছিল আমেরিকান কমিক্সের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হরর কাহিনি। আর্চি থেকে ওয়ান্ডার-ওম্যান, ব্যাটম্যান থেকে ব্রাদার ভুডু– কী আঁকেননি তিনি! অনেক কমিক্স বোদ্ধার মতে, কোলান যেন জ্যাক কার্বি আর নিল অ্যাডামসের মাঝামাঝি এক সেতু– কার্বির গতিময়তা আর কমিক-স্ট্রিপ শিল্পীদের বাস্তবতাবোধের এক অসাধারণ মিশ্রণ। তবু তাঁর আসল উত্তরাধিকার লুকিয়ে আছে সেই অনন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে, যা কখনও অন্য কারও ছায়া হয়ে ওঠেনি। যাঁরা নিজের পথে হাঁটার সাহস দেখান, ইতিহাস শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই মনে রাখে। জিন কোলান তেমনই একজন– যিনি কখনও কারও অনুকরণ করেননি, বরং নিজেই হয়ে উঠেছিলেন অনুকরণের বিষয়।
……………….
পড়ুন শারদ সংখ্যা-র অন্যান্য লেখা
……………….
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved