

‘ভালো-বাসার বারান্দা’ এখনও পর্যন্ত পাঁচ খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। ২০১০-এ প্রথম খণ্ড প্রকাশের পর দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ করতে অনেকটাই সময় লেগে গিয়েছিল। সেই সময় নবনীতাদি রেগে গিয়ে আমাকে একটা চিঠি লিখে ওই বই ছাপতে নিষেধ করেছিলেন।
স্বপনদা (স্বপন মজুমদার) আমাকে বলেছিলেন নবনীতাদির প্রথম উপন্যাসটি পুনর্মুদ্রণ করার কথা। ১৯৮৬-র বইমেলার সময় আমি সেই উপন্যাস– ‘আমি, অনুপম’ নতুন করে প্রকাশ করেছিলাম। ‘আমি, অনুপম’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে, ইমার্জেন্সির সময়।
চিরকালের যৌবনের রহস্যময়তার প্রতীক হয়ে থাকতে চেয়ে নায়িকা যদি তাঁর রূপযৌবন সম্মান প্রতিপত্তি থাকতে থাকতেই সব মোহ ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় অসামাজিক, অন্তরালবর্তিনী হয়ে যান, সেটা তো অসামান্য সংযমের, সুবিবেচনার এবং ইচ্ছাশক্তির কাজ।
নবনীতার ‘একা’ বেড়ানোর প্রধান বৈশিষ্ট্য দু’টি। এক, তাঁর ভ্রমণে স্থানের থেকেও বেশি রয়েছে ‘মানুষ’ দেখার কথা, তাকে জানা, চেনার কথা। দ্বিতীয়ত, তাঁর ভ্রমণ চিরাচরিত পুরুষতান্ত্রিকতার চাপিয়ে দেওয়া সামাজিক বাঁধুনির বিরুদ্ধে এক স্বকীয় নারীবাদী মুক্তির কথা বলে।
‘রোববার’ পত্রিকায় নবনীতা দেবসেনের শেষ লেখা। যে লেখায় নেই শেষবেলার ক্লান্তি, বরং নতুন কাজের জগৎ উন্মোচিত হয়। মনে হয়, এই বুঝি লিখতে বসলেন নবনীতা দেবসেন, ভালোবাসার বারান্দায় হেলান দিয়ে। শেষ লেখায় নতুন শুরুর গন্ধ, হাওয়াবদল।
একবার তো ফোনে ফোনে ভয়ংকর ‘এডিট’ চলছে। কনফারেন্স কল, একপ্রান্তে ফোনে অন্তরাদি, আরেকপ্রান্তে আমি। মাঝে নবনীতাদি। সে এক কাণ্ড হয়েছিল বটে! সেকথা লিখেওছিলেন দিদি তাঁর কলামে। আজ, ১৩ জানুয়ারি, নবনীতা দেবসেনের জন্মদিন।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved