

ফয়েজ-এর এত মরমি, প্রাঞ্জল বাংলায় ভাষান্তর আগে দেখিনি। এর আগে করা কমলেশ সেনের তর্জমাকে অলোকরঞ্জন ‘ক্রান্তিসঞ্চারী’ বলে মনে করেছিলেন। পরবর্তীকালে ভিক্টর কিয়েনার্ন থেকে শুরু করে আগা শহিদ আলি বা বারান ফারুকির– তাকে ছাপিয়ে গিয়েছে নীলাঞ্জনের পরিক্রমণ।
নাদিয়া আঞ্জুমান ও ফারোক ফারখজাদ। আফগানিস্থান ও ইরানের দুই নারী-কবি। তারা আসলে লিখতে চেয়েছিল সতত পরাধীন মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামের কবিতা। অথচ সেই কবিতাই খুন করল তাদের!
আজ বিশ্ব চিকিৎসক দিবস। বাংলা সাহিত্যের অনেক কবি শারীরিক দিক থেকে ছিলেন অসুস্থ। আর্থিক দূরাবস্থা কিংবা স্বেচ্ছাচার সেই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। এখন কবিদের শারীরিক স্বাস্থ্য ফিরেছে, কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য তলানিতে। আজ কবি তীব্র এক মনোবিকারে আচ্ছন্ন, লোভী অথবা গুপ্তচর।
মধুবীরের কবিতায় যে বিপর্যয়ের কথা, গন্তব্যহীন যাত্রার অনুষঙ্গ, তাতে কতখানি তাঁর চারপাশ আর কতখানিই-বা বিশ্বের অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি কাজ করেছে, তা জানি না, কিন্তু তাঁর বা তাঁর সময়ের অসহায় অবস্থার কথা, তাঁর কবিতার ভিতর দিয়ে বেশ অনুভব করা যায়।
পপুলারিটি তেমনই জন্তু, যা অজগরের মতো আমাদের একান্ত মৌলিক ও লৌকিক নৈঃশব্দ্যগুলোকে গিলে খেয়ে নেয়। নির্জন ও নিভৃত পরিসরকে বিধ্বস্ত করে ফেলাই তার অন্যতম পলিটিক্যাল এথিক্স। তবু দেবদাসের ভোরকালীন মৃত্যুকে নির্বাচনী জয়-পরাজয়ের উল্লাস ঢেকে ফেলতে পারল না। কলঙ্কিত করতে পারল না অহেতুক লোক-দেখানো শোকপ্রস্তাবের মেকি অশ্রু দিয়ে।
বোকামি নিয়ে কোনও কথা বলতে যাওয়া মানে আসলে আরও বড় বোকামির সমুদ্রে ডুব দেওয়া। পল তাবোরি-র এমনটাই মনে হয়েছিল ‘দ্য ন্যাচরাল হিস্ট্রি অফ স্টুপিডিটি’ বইটি লেখার সময়। প্রায় একই কথা অন্য প্রসঙ্গে এবং অন্য সুরে বলেছিলেন কবি জন ডান।
রাইনার মারিয়া রিলকের ১৫০তম জন্মদিন আজ। আজকে, কোনও তরুণ কবিকে যদি চিঠি লিখতে হয়, কী লিখবেন কবিতাবিশ্বে দীর্ঘকাল ঘর-সংসার করা কবি সুবোধ সরকার? তিনি লিখছেন আজকের তরুণ কবিকে লেখা চিঠি।
কানাইনাটশাল শক্তিদার প্রিয় বাংলো। নিচের বাগানে ময়ূর, হরিণ, অজস্র গাছগাছালি। সকালে জলখাবার খেয়ে শক্তিদা দরজা বন্ধ করলেন, এক ঘণ্টা পর বারন্দায় তাঁর গমগম কণ্ঠে শুনলাম, ‘গ্রহণ করিনি আগে ভুল হয়ে গেছে/ চুম্বন করিনি আগে ভুল হয়ে গেছে’।
তাঁর কবিতা স্বরগ্রাম সুকান্ত কিংবা নজরুলের হয়ে ওঠেনি এমনকী সমকাল-ঘনিষ্ঠ অগ্রজ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের দিকেও গড়ায়নি। কাদরীর কবিতা, অবস্থান, কাদরীর মতোই সর্বজনীন হয়েও ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক হয়েও প্রেমের, নাগরিক হয়েও চরচরব্যাপী, একান্ত বাঙালির আবার আন্তর্জাতিক।
প্রবীণ কবির রাজনৈতিক ক্ষমতাটিকে সে কিছুতেই সন্দেহ করে না। তাই তার আবর্জনাময় কবিতার পাশেই সকৃতজ্ঞ মন্তব্য ‘কী করে পারেন এমন!’ বা ‘আপনি আমাদের একমাত্র আশ্রয়’– এইসব। যাতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা মঞ্চ সভার আলো থেকে সে বঞ্চিত না-হয়।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved