Robbar

বইমেলার বিবিধ কৌতুকী

Published by: Robbar Digital
  • Posted:February 2, 2026 2:54 pm
  • Updated:February 2, 2026 3:04 pm  

এক ফোক্কড় যুবককে গীতা বেচতে এসেছিলেন এক টিকি-রসকলি ভক্ত-সেলসম্যান। যুবকের চটজলদি উত্তর: ‘হরেকৃষ্ণ, আমি সিপিয়েম করি’ এবং পলায়ন। আরেক জন, ৫৫০ নম্বরে আদমের স্টলের ভেতরে এক সুন্দরীকে দেখে মন্তব্য করে গেলেন– ‘দ্যাখ, দ্যাখ, আদমের স্টলে ইভ!’ আবেগপ্রবণ হয়ে কবিতা পাঠ করতে গিয়ে একটি ছেলে, স্পষ্ট শুনলাম, মাইকে বললেন– ‘শীৎকার কবে আসবে, সুপর্ণা!’ মেলা ভাঙার পরে পশ্চিমবঙ্গ মণ্ডপে ঢুকতে বাধা পেয়ে এক যুবক বন্ধুকে ফোনে জানালেন– পশ্চিমবঙ্গে লকআউট, নিশ্চয়ই বাম সরকার ফিরছে।

রোববার ডিজিটাল ডেস্ক

বুক ফেয়ারের চুড়োয় উঠুন
নীচে তাকান, ঊর্ধ্বে চান–
দুটোই মাত্র পাব্লিশার
বুকফার্ম আর শালিধান।

অ্যাত্ত লোক! একেবারে পিলপিল পিলপিল করছে। পড়ন্ত শীতের বইমেলায় এ এক আশ্চর্য ‘বসন্ত বিলাপ’। এ উপমাখানা দিতেই হল। কারণ, এবারের বইমেলার জনশ্রুতি এই যে, বিবাহযোগ্য পাত্ররা সম্প্রতি ‘পাত্রী চাই’ কলামের বদলে ‘পেত্নীসমগ্র’-র বিজ্ঞাপনে নজর রাখছেন। ওদিকে প্রায় ভাঙা গলায় যথাসম্ভব শক্তি সঞ্চয় করে, শালিধান প্রকাশনার এক কর্মী, বিশাল লাইনের উদ্দেশে জানালেন, ‘আর ১৬ জন। তারপর আর সুভাষ পাওয়া যাবে না।’ হতভাগ্য নেতাজি! ফিরে এসেও পাঠকদের হুজুগের ঠেলায় তিনি আবার অন্তর্ধান করতে বাধ্য হলেন।

‘পেত্নীসমগ্র’-র বিজ্ঞাপন

বহুকাল আগেই এক মহান লেখক বলে গিয়েছিলেন, ‘সব পাঠক সরস্বতী নয়, কিন্তু সব পাঠকই লক্ষ্মী’। এ প্রবাদের সদ্ব্যবহার করতে দেখা গেল এক প্রকাশককে। ‘রামজি কা বহুত আচ্ছা আচ্ছা তসবির হ্যায়’-এর টোপ দিয়ে এক অবাঙালিকে বাংলা সচিত্র রামায়ণ গছানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। শেষ অবধি কী হল দেখার আগেই জনস্রোত টেনে এনে ফেলল গিল্ড আপিসের সামনে। সেখানে দে’জ-এ আবার অঞ্জন দত্ত, অনির্বাণ। এবং সই। বইয়ের চেয়ে সইয়ের দাম বেশি। তাই বোধহয় এক পাঠক অনির্বাণের দিকে বাড়িয়ে দিলেন স্টিফেন হকিং-এর ‘ব্ল্যাক হোলস্‌ অ্যান্ড বেবি ইউনিভার্স’। কোনও কোনও পাঠক সরস্বতী বইকি!

‘গীতবিতান’ কিনে এনে, তাতে সই করে দেওয়ার আবদার করা নিয়ে দু’ দিন আগেই ফেসবুকে লিখেছিলেন এক নবীন লেখক। আজ আবার এই ঘটনা। সই নিয়ে কত যে কাণ্ড! একবার শক্তিপদ রাজগুরুর বই শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে দিয়ে সই করাতে এসেছিলেন এক পাঠক। পদবিতে তাঁর কিছু আসে যায় না। বহু বুঝিয়ে তাঁকে নিরস্ত করা গিয়েছিল। গত বইমেলাতেও জীবিত ছিলেন প্রফুল্ল রায়, তিনি নাকি সই করতে গিয়ে লিখতেন, ‘অমুকেরই বই, আমার শুধু সই’। বর্তমানে এ কেতাটি বহন করে চলেছেন পবিত্র সরকার।

সইয়ের আরেকটি ঘটনা ঘটেছে এই মেলাতেই। এক লেখক এবং এক ইনফ্লুয়েন্সার কাম ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন পাশাপাশি দু’টি স্টলে। দু’জনেরই বই বেরিয়েছে এ বইমেলায়। কিন্তু ডাক্তারবাবুর সই নেওয়ার জন্য এতই ভিড় যে, লেখকবাবুর তাতে গোঁসা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, পৃথিবীতে ‘অসুস্থ’ লোকের সংখ্যা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। না হলে এমনটা হওয়ার কথা নয়।

দে’জ-এর সামনে বইতে সই করছেন অনির্বাণ

সইয়ের পাশাপাশি ছবি, সেলফি। ‘মানসী’-র বুক শেলফ থেকে ৩৬৫ দিনের সত্যজিৎ-প্রদর্শনীর দেওয়াল, থিম স্টল আর্জেন্টিনা থেকে গাঙচিলের গ্রাফিত্তি– এ বইমেলায় ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য সেলফি কর্নার। তার মধ্যেই প্রি-ওয়েডিং শুট সেরে নিলেন এক হবু দম্পতি। আশা রাখি, পরেরবার এসে তাঁরা ‘সাহিত্যম্‌’-এর ‘দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী’ বইখানা কিনে নিয়ে যাবেন।

বিচিত্র মানুষ। বিচিত্র বই। বিচিত্র ঘটনা। এসব নিয়েই বইমেলা। ৬ নং গেটের সামনে সামান্য জটলা। কী ব্যাপার? ভিড়ের কবলে পড়ে নিজের স্ত্রী ভেবে অপরিচিতার হাত ধরে টান দিয়েছেন এক ভদ্রলোক। স্ত্রী-টি এই মারে তো সেই মারে। স্বামী কাঁচুমাচু, মহিলা অপ্রস্তুত। তারপর আকস্মিক চিত্রনাট্যে বদল। মহিলা লাজুক হাসছেন। বত্রিশ পাটি বের করে আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছেন লুকনো ক্যামেরাম্যান। শেষমেশ জানা গেল, প্র্যাঙ্ক শুট হচ্ছিল!

আজ্ঞে হ্যাঁ। এ হল বইমেলা। এ বইমেলায় ছড়িয়ে রয়েছে অজস্র কৌতুকী। চোখ-কান খোলা রাখলেই দেখা-শোনা যায়। দু’-একটি শোনাই।

এক ফোক্কড় যুবককে গীতা বেচতে এসেছিলেন এক টিকি-রসকলি ভক্ত-সেলসম্যান। যুবকের চটজলদি উত্তর: ‘হরেকৃষ্ণ, আমি সিপিয়েম করি’ এবং পলায়ন।

আরেক জন, ৫৫০ নম্বরে আদমের স্টলের ভেতরে এক সুন্দরীকে দেখে মন্তব্য করে গেলেন– ‘দ্যাখ, দ্যাখ, আদমের স্টলে ইভ!’ আবেগপ্রবণ হয়ে কবিতা পাঠ করতে গিয়ে একটি ছেলে, স্পষ্ট শুনলাম, মাইকে বললেন– ‘শীৎকার কবে আসবে, সুপর্ণা!’ মেলা ভাঙার পরে পশ্চিমবঙ্গ মণ্ডপে ঢুকতে বাধা পেয়ে এক যুবক বন্ধুকে ফোনে জানালেন– পশ্চিমবঙ্গে লকআউট, নিশ্চয়ই বাম সরকার ফিরছে।

২ নং গেটের সামনে লিফলেট বিলি করছিল একটি ছেলে। ‘আপনি কি কবি, লেখক? নিজের বই প্রকাশ করতে চান। আসুন আমাদের কাছে। নামমাত্র খরচে যত্ন নিয়ে, নিষ্ঠা সহকারে বই ছাপা হয়’ ইত্যাদি ইত্যাদি। এক ভদ্রলোক লিফলেটখানা হাতে নিয়ে ‘নিষ্ঠা’-র ‘নি’ কেটে লাল কালি দিয়ে ‘বি’ লিখে আবার ফেরত দিয়ে এলেন ছেলেটিকে।

অন্যত্র এক সুদর্শন লেখক ছ’ বছর পর বইমেলায় আসা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জানালেন– ‘কলকাতা বইমেলার সঙ্গে আমার নাড়ির সম্পর্ক’। মুচকি হেসে আরেক লেখক উত্তর দিলেন, ‘তোমার যা মহিলা ফ্যানবেস, বইমেলার সঙ্গে নারীর সম্পর্ক হওয়াই স্বাভাবিক!’ 

এ বইমেলাতেই আবার এমন মানুষও আসেন, যাঁদের ‘ডিক্‌শ-নারী’ ছাড়া অন্য কোনও নারীর সঙ্গে সম্পর্ক নেই। তেমন একজনকে দেখা গেল, বাংলা-ইংরেজি-সংস্কৃত-হিন্দি মিলিয়ে ছ’খানা প্রমাণ সাইজের অভিধান হস্তগত করে হন্তদন্ত হয়ে বইমেলা ত্যাগ করছেন।

এর মধ্যে আরেক ঘটনা। এসবিআই অডিটরিয়ামের পেছনের গলিতে সারি সারি খাবারের দোকান। চা-মিষ্টি-মোমো থেকে কাশ্মীরি ড্রাই ফ্রুট। সেখানে দুই ভদ্রলোকের কথোপকথন:

–আপনাকে কোথায় যেন দেখেছি!
–কোথায় বলুন তো?
–আপনি কি সত্যদার ঠেকে যান?
–না তো!
–তবে কি শহিদ বস্তিতে?
–না। আপনার বোধহয় কোথাও ভুল হচ্ছে!
–তাই হবে। স্যরি, দাদা। চলি।

এবং মিনিট পাঁচেক পর চা শেষ করে, দাম দিতে গিয়ে ভদ্রলোক দেখলেন, পাঞ্জাবির পকেট থেকে তাঁর মানিব্যাগটি খোয়া গেছে। 

এসবিআই অডিটরিয়ামের পেছনের গলিতে সারি সারি খাবারের দোকান

বইমেলার চেনা-অচেনার ভিড়ে একবার মানিব্যাগ নয়, সম্মান খোয়া যেতে বসেছিল তারাপদ রায়ের। সেই গল্প নিশ্চয়ই অনেকেই জানেন। মেলা থেকে বেরিয়ে আসার সময় চেনা-চেনা এক ভদ্রমহিলার সঙ্গে দেখা তারাপদবাবুর। ভদ্রমহিলাও দেখেছেন। তিনি হাসিমুখে এগিয়ে এসে, হাত তুলে নমস্কার করতে গিয়েও, তারাপদবাবুর থতমত ভাব দেখে চমকে গিয়ে বলেন, ‘কিছু মনে করবেন না, আমি বোধহয় ভুল করেছিলাম, আমি ভেবেছিলাম আপনি আমার এক বাচ্চার বাবা।’ ভদ্রমহিলা চলে গেলে চমকবিহ্বল তারাপদ রায়ের মনে পড়ে– ‘অনেকদিন আগে প্রাইমারি ইস্কুলে আমার ছেলে একদা তাঁর ছাত্র ছিল’।

চোরের গপ্পো এল যখন, পুলিশের গপ্পোটিও বলি। বইমেলাতেই কবি অরুণ মিত্রকে একবার কলকাতার তদানীন্তন পুলিশ কমিশনার সত্যব্রত বসু ভেবে বেজায় খাতির করেছিল পুলিশের লোক। দু’ জনের চেহারায় না কি আশ্চর্য মিল ছিল!

একে ভিড়, তায় প্রায় সব ছোট স্টলই জায়গা বাড়িয়ে নিয়েছে সামনের দিকে। স্থান সংকট। সংকট অবস্থানেরও। ইসলামীক বুক সেন্টার আর শ্রীগুরু সংঘের মাঝে পড়েছে এসএফআই-এর স্টল। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের তরফে এদিন গিল্ডের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে বিশ্ব হিন্দু বার্তা-র নামে। অভিযোগ: তাঁরা নাকি সংখ্যালঘুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক বইপত্র বিক্রি করছেন। সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাক, সেই বৃদ্ধবায়স– যাঁকে এ বইমেলায় যত্রতত্র দেখা যাচ্ছে, তিনি এ পরিস্থিতিতে কী মন্তব্য করতেন জানতে ইচ্ছে করে!

শিল্পী: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়

সাতটার দিকে, ভিড় যখন কমতে শুরু করেছে, হাঁটা লাগাই। গন্তব্য ৯ নম্বর। কারণ এবারের বইমেলায় ধূমপান নিয়ে বেজায় কড়াকড়ি। ফুড কোর্টের পেছনে টয়লেট-সন্নিহিত যে ঘেরা জায়গাটিতে আগে নিশ্চিন্তে ধূমপান করা যেত, এখন সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা বেড়েছে। ধরলেই ফাইন। শোনা গেল, একদল এর বিরুদ্ধে গিল্ড-কে চিঠি লিখবেন বলে ভাবছেন, যাতে পরেরবার অন্তত একটি স্মোকিং জোনের বন্দোবস্ত থাকে। 

এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল ’৯৭-এর মেলার অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অভীক মজুমদারের করুণ রসিকতা, শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছিলেন: ‘দেখলেন তো জাক দেরিদাকে উদ্বোধনে আনার ফলাফল। পুরো মেলাটাকে ডিকনস্ট্রাক্ট করে চলে গেল।’

রক্ষে এই যে, দেরিদা-টেরিদা এখন আর আসেন না। তবে সেলেবরা আসেন। একে বইমেলা, তায় রোববার। বড়-মেজো-সেজো কমবেশি সকলেই এসেছেন। কারিগরে সন্ধের দিকে এক ঝাঁক তারকা। ঘণ্টা খানেকের জন্য স্টলের বাইরে স্মার্ট ফোন উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন অনেকে। গত এক সপ্তাহ ধরে ‘আসব আসব’ করে অবশেষে এসেছেন রঘুনাথ গোস্বামী। মিনিবুক। গাঙচিলের স্টলে। তবু এখনও সব বই এসে পৌঁছয়নি কোনও কোনও প্রকাশকের। তেমন একজনের মুখে ‘আমাদের এবারের শ্রেষ্ঠ বইটা মঙ্গলবার এসে পৌঁছবে’ শুনে এক পাঠক জানালেন– ‘মঙ্গলবার বেশ ভিড় হবে। তার চেয়ে বুধবার ফাঁকায় ফাঁকায় নিয়ে আসুন’। 

‘বুদ্ধি’-র ফেরিওয়ালা অলোক দত্ত, গতবারের মেলায়

এ হল মিচকেবুদ্ধি। এছাড়াও রয়েছে ভুলোবুদ্ধি। নিরীহ বদবুদ্ধি। বুকে-পিঠে পোস্টার সেঁটে বইমেলায় এমন নানানরকম ‘বুদ্ধি’ ফেরি করেন অলোক দত্ত। দাম মাত্র ১০ টাকা। আগে তাঁর পোস্টারে লেখা থাকত: ‘কিনবেন এক টাকায়– পড়বেন কুড়ি মিনিট, হাসবেন আধ ঘণ্টা’। এক ভদ্রলোক তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন– ‘পড়ে যদি হাসি না পায়?’ অলোকদার উত্তর– ‘তাহলে আয়নায় নিজের মুখ দেখবেন। যে হাসে না, তাকে দেখেও তো হাসি পায়।’

এহেন অলোকদাকে জিজ্ঞেস করলাম, কেমন যাচ্ছে এবারের মেলা? মিচকে হেসে বললেন, ‘অনুপ্রেরণা কিঞ্চিৎ কম।’

৫৭৮-এ প্রাচ্য পাশ্চাত্য-র স্টলে ‘কলকাতার ট্রাম’ দেখতে গিয়ে এক রসিক পাঠক মন্তব্য করলেন– এ স্টলখানা জ্যাক লন্ডন সরণিতে, বাংলা আর ইংরেজি বইয়ের সীমারেখা বরাবর থাকা উচিত ছিল। মনে পড়ে গেল অকালপ্রয়াত কবি প্রবীর দাশগুপ্তের রসিকতা। বইমেলায় অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত আর প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত হাঁটছেন। সস্ত্রীক। এই দৃশ্য দেখে তিনি না কি বলেছিলেন, ‘ওই দ্যাখো, প্রাচী-প্রতীচীর মিলন-পুঁথি’। উল্লেখ্য যে, প্রণবেন্দু ও অলোকরঞ্জনের স্ত্রী ছিলেন যথাক্রমে মারিঅ্যান দাশগুপ্ত ও ট্রুডবার্টা দাশগুপ্ত। এ গপ্পোখানাও, অভীক মজুমদারের ঝুলি থেকে।

শেষ রোববারে ছাড়ের অঙ্ক টেন থেকে টোয়েন্টি পার্সেন্টে উঠেছে। কোথাও কোথাও থার্টি। অবশ্যই গোপনে। ছাড়ের পাশাপাশি রয়েছে ফ্রি। ফ্রি বই, ফ্রি সই, ফ্রি বুকমার্ক, ফ্রি টি-শার্ট, ফ্রি ক্যালেন্ডার, ফ্রি হাত-ব্যাগ। এমনকী ফ্রি এগরোল। আজ্ঞে হ্যাঁ। ৯ নম্বরের বাইরে চলছে বইমেলা অফার। বিশ্বাস না হলে দেখে আসুন। চারটে কিনলে একটা ফ্রি।

বইমেলায় রবীন্দ্রনাথ

হরেকরকম ছাড়ের বাজারে একটি অভিনব উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করি। এক পুরনো বইয়ের খরিদ্দার আজ হাজার দেড়েক টাকায় সেকেন্ড-হ্যান্ড রবীন্দ্ররচনাবলী কিনেছেন। ফুল সেট। যাওয়ার আগে উত্তেজিত হয়ে বলে গেলেন, ‘এত সস্তায় রবীন্দ্রনাথকে পেয়ে যাব ভাবিনি!’

আমরাও কি ভেবেছিলাম, রবীন্দ্রনাথ এত সস্তা হয়ে যাবেন?

আপনারা কী বলেন?

………………………………………………………………….
ব‌ইমেলার কড়চা নিয়মিত পড়ছেন তো? তা, কেমন লাগছে? আমরা আপনাদের মতামতের প্রত্যাশী। আমাদেরকে মেল করতে পারেন যে কোনও দিন, যখন খুশি– ভালোবাসায়, জিজ্ঞাসায়, বন্ধুত্বে, শত্রুতায়, আবদারে– [email protected]– এই মেল আইডিতে। ………………………………………………………………….

………. পড়ুন বইমেলার কড়চা-র অন্যান্য পর্ব ……….

১০. মেলায় পাবেন শ্রেষ্ঠ শত্রুর জন্য উপহারের বই!

৯. ‘না কিনুন, একবার হাতে নিয়ে দেখুন!’

৮. বইমেলার লিটল ম্যাগ টুকরো টুকরো দৃশ্যের আনন্দভৈরবী

৭. মেলার মাঠ খেলার মাঠ

৬. অনর্গল বইয়ের খোঁজে

৫. দুষ্প্রাপ্য বইয়ের ভিড়ে পাঠকও কি দুষ্প্রাপ্য?

৪. ছাব্বিশের বইমেলা বাণীপ্রধান!

৩. বই পোড়ানোর চেয়ে গুরুতর অপরাধ বই না পড়া

২. মালিককে গিয়ে বল, ‘ব‌ইমেলা’ এসেছে!

১. ইতনা বেঙ্গলি বুকস!