


এই নারী যে একটি বটগাছের মতো পুরুষসঙ্গী চাইছে জীবনে, চাইছে তার শরীরের গোপন ছায়া, সবথেকে বেশি করে যা চাইছে– তা হল প্রেমের শক্ত শিকড়, যেখানে সে চিরজীবনের মতো সেই কাঙ্ক্ষিত পুরুষের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলতে পারে নিজের অস্তিত্বের অংশকে, সেই নারী কেমন? সেই নারীকে দেখতে যদি হয় পুরুষসুলভ? সেই নারীসত্তা যদি লুকিয়ে থাকে কোনও পুরুষদেহে– তবে কি তার এই চাহিদা, এই ইচ্ছে, এই নিরাপত্তা ও প্রেমের প্রত্যাশাকে দেখা হবে ‘পাপ’ হিসেবে? তাকে বিতাড়িত করা হবে ‘ছায়াসুনিবিড়, শান্তির নীড়’ প্রেম-উদ্যান থেকে?
‘And the Lord God planted a garden eastward in Eden; and there he put the man whom he had formed.’
(Genesis 2:8)
সুতরাং মনুষ্যজাতির সৃষ্টি-ইতিহাসের একদম গোড়া থেকেই রয়েছে একটি বাগানের কথা। বাইবেল মতে, ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করার পর তাঁকে স্থান দিয়েছিলেন তাঁর উদ্যানে। প্রাচীন পারস্য শব্দ ‘Pairidaeza’-র অর্থ হল প্রাচীর দিয়ে ঘেরা কোনও নৈসর্গিক উদ্যান। সেখান থেকে এসেছে গ্রিক শব্দ ‘paradeisos’ এবং তা থেকে ইংরেজি ‘Paradise’ শব্দটি। ঈশ্বর মানুষকে এই প্যারাডাইসের পরিচর্যা করবার দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং এই গার্ডেন অফ ইডেনের কেন্দ্রস্থলে ছিল সেই জ্ঞানবৃক্ষ বা ‘ট্রি অফ নলেজ’, যেখান থেকে সব সমস্যার শুরু।
ঈশ্বর তাঁর প্রথম সৃষ্ট মানব-মানবী– ‘আদম’ এবং ‘ইভ’কে গার্ডেন অফ ইডেনে স্থান দেন এবং বলেন–
‘You are free to eat from any tree in the garden; but you must not eat from the tree of the knowledge of good and evil, for when you eat from it you will certainly die.’
(Genesis 2:16– 17)

অর্থাৎ, তারা যেন কোনও পরিস্থিতিতেই জ্ঞানবৃক্ষের ফল না খায়, কারণ খেলে তাদের মৃত্যু অবধারিত। স্যাটান ইভকে ওই ফল খাওয়ার জন্য প্ররোচিত করতে যখন সর্পরূপে দেখা দেয়, তখন সে বলে, ঈশ্বর তাদের জ্ঞানবৃক্ষের ফল খেতে নিষেধ করেছেন– কারণ, সেই ফল খেলে মানুষও ঈশ্বরের মতো ভালো এবং মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারবে, তাদের অন্তরের দৃষ্টি উন্মুক্ত হবে, তারা সত্যদর্শী হয়ে উঠবে। অবশেষে আদম এবং ইভ সেই ফল খাওয়ার পর সত্যিই তাদের দৃষ্টি উন্মোচিত হয় এবং–
‘they realize they were naked.’ (Genesis 3.7)
তাদের অন্তর্দৃষ্টি উন্মোচিত হওয়ার পর প্রথমেই যা তারা উপলব্ধি করে, তা হল, তাদের নগ্নতা এবং তার সঙ্গে সংযুক্ত লজ্জার অনুভূতি। তারা প্রথমেই গাছের পাতা সেলাই করে পোশাক তৈরি করে এবং নিজেদের শরীরকে আবৃত করে। এই বৃক্ষের ফল খেয়ে নেওয়ার ঘটনাটিকে বাইবেলে বলা হয়েছে ‘ন্যাচারাল অরিজিনাল সিন’। অর্থাৎ, মানুষের প্রথম এবং ক্ষমার অযোগ্য একটি পাপ– যে পাপের শাস্তি মানুষ যতদিন পৃথিবীতে টিকে থাকবে ততদিন পেতে হবে। এই পাপের শাস্তি হিসেবেই মানুষ এরপর থেকে মরণশীল। তার মধ্যে জন্ম নেয় লজ্জা, ভয়, যৌন চাহিদা-লোভ-ঈর্ষা। অর্থাৎ, যে বাগান মানুষকে দিয়েছিল অপার শান্তি, মুগ্ধতা, সারল্য এবং সুখে, নির্ভয়ে দিনাতিপাত করার সুযোগ, ঈশ্বরের সেই উদ্যানই তাদের দেয় চরমতম শাস্তি। যে উদ্যানে মানব-মানবী শিশুর সরলতা নিয়ে হেসে খেলে বেড়াত, সেই বাগানই হয়ে ওঠে তাদের মনের দ্বিধা, যৌন ইচ্ছে, লজ্জা, ভয়, যন্ত্রণার মতো সমস্ত নতুন অনুভূতি উপলব্ধি করার জন্মভূমি।

ঈশ্বরের বাগান পবিত্র জায়গা। সেখানে ঈশ্বরের ইচ্ছের বিরুদ্ধে যে কাজ করল মানুষ তাকে বলা হল ‘পাপ’। তাই ‘গার্ডেন অফ ইডেন’ থেকে মানুষকে নির্বাসন দিয়ে ঈশ্বর পাঠালেন পৃথিবীতে। কিন্তু ঈশ্বরের সেই ঐশ্বর্যময় বাগানের স্মৃতি মানুষের মধ্যে রয়ে গেল, অমলিন। তাই পৃথিবীর বুকেও মানুষ তৈরি করতে চেষ্টা করল নিজের নিজের বাগান। সেই বাগান হয়ে উঠল মানুষের স্মৃতি ধারণ করার জায়গা। হয়ে উঠল তার একান্ত গোপন ইচ্ছে ও আকাঙ্ক্ষার বীজ রোপণ করে, তার পরিচর্যা করে, কল্পতরুর শাখায় শাখায় নিষিদ্ধ ফুল-ফল ফলানোর ক্ষেত্র। তার মস্তিষ্কের নিরাপদ, গোপন ‘অল্টার্নেটিভ স্পেস’৷ ফরাসি দার্শনিক ও বিজ্ঞানচিন্তক Gaston Bachelard, ‘The Poetics of Space’-এর ধারণা দেন, যেখানে তিনি বলছেন– কোনও জায়গা অর্থাৎ, কোনও বাসস্থান, বাগান, গলি, পাড়া– যে কোনও জায়গাই শুধুমাত্র একটি স্থান নয়, তা হয়ে ওঠে মানুষের স্মৃতির অংশ, তার আবেগের ও ইচ্ছের বসতবাড়ি। ভারতীয় সাহিত্যিক হাঁসদা সৌভেন্দ্র শেখরের উপন্যাস “My Father’s Garden” বইটি এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলার পর, চিন্তাঝড়ে ঘুরপাক খেতে খেতে এই অল্টার্নেটিভ স্পেস এবং বাগানকে সেই বিকল্প স্থান হিসেবে প্রতিপন্ন করা– একটি কুইয়ার বা প্রান্তিক যৌনতা-বিষয়ক কাহিনির ক্ষেত্রে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তাই ভাবতে বসেছিলাম।
“My Father’s Garden” প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে এবং আমি বইটি পড়ি তার দু’বছর পর। বইয়ের শুরুতেই দক্ষিণ ভারতীয় কবি ও সাহিত্যিক শরণ্যা মানিভান্নানের একটি কবিতার উদ্ধৃতি রয়েছে–
“I want a boyfriend like a banyan tree. A man who’s a forest unto himself, with conspiracies of birds and secret blossoms, and shaded places; a matrix generous enough for the world.
And into this forest I will wander, a beloved of the world, and walk beneath the aegis of his boughs knowing that the same love that roots them raises me. I will become entangled.’
(Boyfriend Like a Banyan Tree)
এই ‘entangled’ কথাটিতে ভাবনা আবার জট পাকিয়ে গেল। এই নারী যে একটি বটগাছের মতো পুরুষসঙ্গী চাইছে জীবনে, চাইছে তার শরীরের গোপন ছায়া, সবথেকে বেশি করে যা চাইছে– তা হল প্রেমের শক্ত শিকড়, যেখানে সে চিরজীবনের মতো সেই কাঙ্ক্ষিত পুরুষের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলতে পারে নিজের অস্তিত্বের অংশকে, সেই নারী কেমন? সেই নারীকে দেখতে যদি হয় পুরুষসুলভ? সেই নারীসত্তা যদি লুকিয়ে থাকে কোনও পুরুষদেহে– তবে কি তার এই চাহিদা, এই ইচ্ছে, এই নিরাপত্তা ও প্রেমের প্রত্যাশাকে দেখা হবে ‘পাপ’ হিসেবে? তাকে বিতাড়িত করা হবে ‘ছায়াসুনিবিড়, শান্তির নীড়’ প্রেম-উদ্যান থেকে?

উপন্যাসটি তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত– ‘Lover’, ‘Friend’ এবং ‘Father’। এই গল্পের নায়ক একজন নামহীন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের তরুণ ডাক্তার। উপন্যাসের শুরুতেই পাঠকের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় তার সমকামী পরিচয়। সে একের পর এক পুরুষের প্রেমে পড়ে, এবং অত্যন্ত সাহসী ভাষায় লেখক প্রকাশ করেন সমকামী প্রেম এবং শারীরিক সম্পর্কের বিভিন্ন নিষিদ্ধ আনাচ-কানাচ। শরীরসঙ্গের সময়কার যে অন্তরঙ্গতা, যেখানে দু’জন প্রেমিক সামাজিক সভ্যতার সমস্ত খোলস ছুঁড়ে ফেলে এক অপার আদিমতায় মিলিত হয়; এবং মূল স্রোতের সাহিত্য যে ভাষাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থান দেয় না, তা উপন্যাসের শুরু থেকেই সৌভেন্দ্র শেখর সহজভাবে প্রকাশ করেছেন। তিনি সম্ভবত ইচ্ছে করেই গল্পের নায়কের কোনও নাম দেননি। তার দ্বিস্তরীয় প্রান্তিকতাকে সুস্পষ্ট করে তুলতে এবং যৌন অভিজ্ঞতাকে তারই মতো আরও অনেক যুবকের অভিজ্ঞতা হিসাবে প্রাসঙ্গিক করে তোলার উদ্দেশে এই তরুণকে কোনও নির্দিষ্ট নাম দেওয়া হয়নি। যৌন চাহিদা এবং সামাজিক আভিজাত্যের নিরিখে প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলেও এই তরুণ তার মানবিক অভিজ্ঞতাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছে। কিন্তু এই উপন্যাসে এই শিক্ষিত, পেশাদার তরুণ চিকিৎসকের জীবনে শুধুমাত্র যৌনতা নয়, গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তার সামাজিক এবং পারিবারিক অভিজ্ঞতাও। এই কাহিনি শুধুমাত্র একজন প্রান্তিক মানুষের প্রান্তিক যৌনতার কাহিনি হিসাবে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকেনি, বরং এই গল্প বোনা হয়েছে এমন পোক্ত বুনটে, যার মধ্যে এসে মিশেছে আদিবাসী মানুষদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতার বিভিন্ন আঙ্গিক। যৌন অভিমুখতার ভিন্নতার দিকটি ছাড়াও এই তরুণ ডাক্তারকে তুলে ধরা হয়েছে একজন পেশাদার মানুষ, একজন পুত্র, একজন প্রেমিক, একজন বন্ধু হিসেবেও। উপন্যাসে দেখানো হয়েছে সমকামী পুরুষের পরিচয়ের সঙ্গে সঙ্গে, এই তরুণের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান, জাতি, শ্রেণি, ভাষা, অভ্যাস– এই সমস্ত কিছু।
মার্কিন আইন গবেষক এবং অধ্যাপক Kimberle Crenshaw দেখান যে, যদি কোনও নারী সমকামী হন বা আদিবাসী হন, তবে তিনি শুধুমাত্র সমকামী বা আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে বৈষম্যের মুখোমুখি হন না। তিনি বৈষম্যের শিকার হন প্রথমে নারী হিসেবে, তারপর আদিবাসী পরিচয়ের জন্য, তারপর সমকামী হিসেবে। এর ফলে যে জটিল পরিস্থিতির তিনি মুখোমুখি হন, তার থেকে আসে ‘intersectional experience’-এর ধারণা। এই উপন্যাসটিতে এই তরুণ চিকিৎসকের ক্ষেত্রেও একইরকম অভিজ্ঞতা দেখাতে চেয়েছেন লেখক। তাই “My Father’s Garden” নিঃসন্দেহে হয়ে উঠেছে একটি ‘Intersectional Queer Fiction’-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
গল্পে দেখা যায়, এই তরুণ চিকিৎসকের পিতা খুব যত্ন করে বাগান করেন। এই বাগানটি উপন্যাসের সবথেকে বড় বহুস্তরীয় প্রতীক। Michel Foucault, তাঁর ‘Of Other Spaces’ প্রবন্ধে ‘heterotopia’-র কথা বলেছেন। এই ‘heterotopia’ বলতে তিনি বুঝিয়েছেন একরকম বিকল্প স্থান বা ‘other space’। এই স্থান হল এমন কোনও জায়গা যেখানে স্বাভাবিক সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয়, নিয়ম-নীতি, বাধা-নিষেধ খাটে না। তিনি এই প্রবন্ধে লিখছেন–
‘There are also… real places… which are something like counter-sites.’

এই স্থান কিন্তু ‘Utopia’ বা ‘Dystopia’-র মতো কোনও কাল্পনিক স্থান নয়। ‘heterotopia’ হল এমন স্থান– সত্যিই বাস্তবে যার অস্তিত্ব আছে। সেই স্থান হয়ে ওঠে মানুষের নস্টালজিয়া এবং আবেগের আধার। সেখানে মানুষের বাইরের পরিচয় অর্থাৎ তার সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেখানে মানুষ বাইরের সব মুখোশ খুলে রেখে তার ভিতরের আসল ‘আমি’-র মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে। এই বইতে বাগান হল সেই ‘heterotopia’ বা ‘other space’। গোটা উপন্যাসটা জুড়েই যেন এই তরুণ ডাক্তার তার বাবার এই বাগানের কাছে ফিরে যাওয়ার এক অন্তর্লীন যাত্রায় নিমগ্ন। এই বাগান তার শৈশবকে পরম যত্নে বাঁচিয়ে রাখে। সে বড় হয়ে ডাক্তারি পড়তে বাইরে যায়, সেখানে নিজের সমকামী সত্তাকে আবিষ্কার করে। তার জীবনে প্রেম আসে, বিচ্ছেদ হয়। সে ফিরে এসে পাকুড়ে একটি সরকারি হাসপাতালে চাকরিতে যোগ দেয়। সেখানে বড়বাবুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে গিয়ে একসময় সে উপলব্ধি করে যে, এই সম্পর্কের আড়ালে রয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থ ও ক্ষমতার অপব্যবহার। সরকারি হাসপাতালের রাজনৈতিক দুর্নীতি, ক্ষমতা প্রয়োগ, প্রান্তিক মানুষদের জন্য উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, রাষ্ট্রের চূড়ান্ত অবহেলা– এই সব বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হতে ধীরে ধীরে গল্পের নায়কের জীবনের প্রতি বিশ্বাসভঙ্গ হতে থাকে।
এই উপন্যাসের একদম শেষ অধ্যায়ের নাম ‘Father’, অর্থাৎ, প্রেম এবং বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়ার পর শেষ আশ্রয় হিসেবে আসেন পিতা। যেমন ঈশ্বর গোটা মানবজাতির পিতা এবং তাঁর সৃষ্ট উদ্যান ছিল মানুষের কাছে এক নিরাপদ বিচরণের জায়গা। এই তরুণের বাবার সযত্নে তৈরি করা বাগান হয়ে ওঠে তার ‘সেফ স্পেস’। এই বাগান তার বাবারও স্মৃতির আধার। প্রান্তিক মানুষ হিসেবে সাঁওতালদের জীবন সংগ্রামের ইতিহাসকেও যেন যত্ন করে লালন করেছেন তিনি এই বাগানে। বাগান করার মধ্যে দিয়ে তিনি আদিবাসী জীবনযাপনে, প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং সেই সম্পর্ক রক্ষা করার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়া– সেই ঐতিহ্যকে রক্ষা করেছেন এবং পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তৈরি করেছেন একটি নিরাপদ ঠাঁই– যেখানে পিতার ভালোবাসা, মমতা, সহমর্মিতার মতো অনুভূতিগুলি গুরুত্ব পেয়েছে। বাবার তৈরি এই বাগান এই তরুণের কাছে তার আত্মপরিচয়ের শক্ত শিকড়। পিতার নৈতিকতা, স্নেহশীলতা, পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে সৃষ্টিশীল হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা– সবই এই বাগানের মধ্যে দিয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে পাবে এই তরুণ। উপন্যাসের এক জায়গায় সে বলছে:
“The house and his Garden were his refuge, his shelter. And to me struggling with the questions in my head, my anxiety and the looming threat of exams, my father’s garden began to feel more and more like a reprieve.”

সবচেয়ে আশ্চর্যের যে বিষয়টি তা হল, এখানে একজন সাঁওতাল পিতাকে ‘heteronormative authority’-র প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়নি। ভারতীয় সমাজে, বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে পরিবারের প্রধান বা পিতারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়ে ওঠেন ‘heteronormative authority’-র উদাহরণ; অর্থাৎ, তারা তাদের সন্তানদের যে কোনও ধরনের সামাজিকভাবে অস্বীকৃত যৌন অভিমুখতাকে দমন করতে চান। অদ্ভুতভাবে এই গল্পে একজন সাঁওতাল পিতা কোনওরকম ভাবেই তাঁর পুত্রের ব্যক্তিগত যৌনজীবনে হস্তক্ষেপ করেন না। তার বদলে তিনি সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যে নিজের সন্তানকে দেন নিরাপত্তা, সাহচর্য, পরিচর্যা এবং নৈতিকতার নীরব শিক্ষা। ঈশ্বর (মানবজাতির পিতা) মানুষকে পাপের শাস্তি হিসেবে তাঁর বাগান থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। অন্যদিকে, এক সাঁওতাল পিতা তার পুত্রের জন্য তৈরি করেছেন এমন এক উদ্যান– যা সব সময় বলে চলেছে এক অন্তর্ভুক্তির গল্প, দিয়ে চলেছে স্নেহময় আশ্রয়। এই বাগান যেন হয়ে উঠেছে মেটাফিজিক্যাল কবি Andrew Marvell-এর সেই বাস্তব অথচ অলৌকিক ‘Garden’–
“Meanwhile the mind, from pleasure less,
Withdraws into its happiness;
The mind, the ocean where each kind
Does straight it’s own resemblance find,
Yet it creates, transcending these,
Far other worlds, and other seas;
Annihilating all that’s made
To a green thought in a green shade.”
…………………….
রোববার.ইন-এ পড়ুন রবীনা মিত্র-র অন্যান্য লেখা
…………………….
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved