Robbar

সমলিঙ্গ কবিতার নিভৃত দেশ

কুইয়ার কবিতা আলাদা করে যে সংকলিত হয়েছে এবং হচ্ছে– তা সাহিত্য-সংকলক এবং প্রকাশকদের কাছে চূড়ান্ত লজ্জার। পৃথিবীর সমস্ত নারী এবং পুরুষ কবিদের লেখা যেভাবে সংকলিত হয়ে থাকে, সেই সংকলনগুলিতেই ভিন্ন কোনও লিঙ্গপরিচয়ের নিরিখে নয়, শুধুমাত্র কবি পরিচয়ে প্রান্তিক যৌনতার কবিদের কবিতা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

→

মাটি পৃথিবীর অলৌকিক বাগান

এক নারী যে একটি বটগাছের মতো পুরুষসঙ্গী চাইছে জীবনে, সেই নারীকে দেখতে যদি হয় পুরুষসুলভ? সেই নারীসত্তা যদি লুকিয়ে থাকে কোনও পুরুষদেহে– তবে কি তার এই চাহিদা, এই ইচ্ছে, এই নিরাপত্তা ও প্রেমের প্রত্যাশাকে দেখা হবে ‘পাপ’ হিসেবে? তাকে বিতাড়িত করা হবে ‘ছায়াসুনিবিড়, শান্তির নীড়’ প্রেম-উদ্যান থেকে?

→

তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা?

বিভিন্ন সত্তার উপস্থিতির মধ্যে থেকেও আডা নিজের কণ্ঠস্বর খুঁজে পেয়েছে। আডার শরীর হয়ে উঠেছে এক স্রোতস্বিনী নদী। নিরন্তর বয়ে চলা স্বাদু জলধারা। অন্য জগৎ থেকে বিভিন্ন সত্তারা স্রোতের মতো প্রবেশ করেছে আডার মনুষ্যসত্তায়। সে সেইসব আত্মাদের সঙ্গে ক্রমাগত লড়াই করে গেলেও কাউকেই ফিরিয়ে দেয়নি।

→

সমকাম, মাতৃত্ব ও ভালোবাসার কয়েদখানা

যেখানে অধিকাংশ সমকামী সম্পর্কের ক্ষেত্রে চরিত্রদের লড়াই করতে দেখা যায় সম্পর্কটির বাইরের প্রতিকূলতার সঙ্গে, সেখানে সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতাকে ছপিয়ে Eva Baltasar-এর এই উপন্যাসে উঠে এসেছে একটি সমলিঙ্গ সম্পর্কের অন্তর্দ্বন্দ্ব।

→

স্বাধীনতার রঙিন গালিচা

১৯৭৭ সালের আফগানিস্তান। ১৯৭৬ সালেই সমকামী সম্পর্ককে নৈতিকতা বিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন উত্তাল সময়কে সামনে রেখে, প্রান্তিক যৌনতা বিষয়ে এমন সুস্পষ্ট এবং সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ও বিপজ্জনক সাহিত্য এর আগে কোনও আফগান সাহিত্যিককে সৃষ্টি করতে দেখা যায়নি।

→

আমাকে ডাকো তোমার নামে

এই প্রেমকাহিনি যতটা বিরহের, ততটাই মিলনের, যতটা যন্ত্রণার, ততটাই আনন্দের, যেমন একাকিত্বের, তেমনই পূর্ণতার। এখানে সমকামিতা বড় কথা নয়, বড় কথা হল দু’টি মানুষের অন্তরাত্মার নিবিড় যোগাযোগ। তাই প্রেম, এখানে, তার সমস্ত পূর্ণতা ও ব্যর্থতা নিয়ে হয়ে উঠেছে এক অপূর্ব কবিতা।

→

কিশোরের ফুল

তাঁর কবিতায় ঘুরে-ফিরে বেড়ায় তাঁর কিশোর প্রেমিকেরা। সীমাহীন সমুদ্রের মতো স্বাধীন এবং তরঙ্গমুখর সান্দ্রো পেন্নার অন্তর্জগৎ! ‘নবীন কিশোর’-দের প্রতি পেন্নার শারীরিক আকর্ষণ, সপ্রেম মুগ্ধতার এক কামতীব্র আগ্নেয়োদ্ভাসকে আমরা স্পর্শ করতে পারি তাঁর কবিতার পঙ্‌ক্তিতে পঙ্‌ক্তিতে।

→

বিষাদ এখনও জেগে

‘পার্সেপলিস’-এর গল্প বলা হয়েছে সাদা-কালোর বাইনারি ব্যবহার করে। এই সাদা-কালো মাধ্যম, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি সহজভাবে পরিবেশন করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে হলেও, আসলে এই সাদা এবং কালো রঙের বৈপরীত্য ইঙ্গিত করে স্মৃতি-বিস্তৃতি, শাসক-শাসিত, দমন-স্বাধীনতা, বাইরের এবং অন্তরের বিপ্লব এই সমস্ত কিছুর তাৎপর্যের দিকে।

→

ভ্রমণের অন্দরে ভ্রমণ

‘Taiwan Travelogue’ আরও একবার তুলে আনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একটি ঔপনিবেশিক শাসনাধীন দেশকে মানুষ কার চোখ দিয়ে দেখবেন? শাসকগোষ্ঠীর একজন সদস্যের চোখ দিয়ে, না কি শাসিতদের চোখ দিয়ে? এই দু’ ধরনের দেখা কি কোনও বিন্দুতে এসে মিলবে?

→

অসুন্দরের বিবর্তন

নারী-কদর্যতা এই অত্যন্ত আধুনিক সময়ে দাড়িয়ে মূলধারার সাহিত্যে প্রবলভাবে প্রবেশ করতে না-পারলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘ফেমিনিন-গ্রোটেস্ক’-এর বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা হলেও বেড়েছে।

→