Bhaskar Majumder on disability and a review of film sati by aparna sen | Robbar
Robbar
  • ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সতী ও আমাদের প্রতিবন্ধকতা

‘সতী’ মুক্তি পায় ১৯৮৯ সালে। ঠিক তার পরের বছর ১৯৯০ সালে আমেরিকাতে প্রতিবন্ধকতা আইন পাশ হয় এবং সেই আইনে প্রোথিত ছিল ‘ডিজেবিলিটি প্রাইড মান্থ’-এর নির্যাস। প্রতি বছরের জুলাই মাস সেই গর্বের মাস বলে চিহ্নিত। প্রতিবন্ধীদের কাহিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে খুব কম শতাংশই। অপর্ণা সেন ‘সতী’ ছবির মাধ্যমে কুলীন সমাজে বাংলার গ্রামীণ নারীত্ব ছুঁয়েছেন, কিন্তু প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে যে অপূর্ব দিক নির্ণীত এই ছবির মাধ্যমে– তা এক কথায় অনন্যসাধারণ।

শেষ আপডেট: জুলাই ২১, ২০২৬, ২০:১৫   
Facebook WhatsApp Messenger
Bhaskar Majumder on disability and a review of film sati by aparna sen | Robbar

ভোর-রাত্তিরের এক গ্রামের বাড়ি। এ বাড়িতে এই মুহূর্তে চারটি নারী। সঙ্গে একটি গাভীকে যোগ করলে পাঁচ। গাভীটি অন্তঃসত্ত্বা এবং এখনই সে প্রসব করতে চলেছে। দাওয়া থেকে বাড়ির কর্ত্রী (কেতকী দত্ত), তাঁর বড় বৌমা (শকুন্তলা বড়ুয়া) এবং ছোট নাতনিটি এ দৃশ্য দেখছে। কিন্তু যে-মেয়েটি গাভীকে প্রসবে সাহায্য করছে, সেই উমা (শাবানা আজমি) গাভীর কাছ থেকে নড়ছে না। মাঝের একটা সময়ে বিপদ তৈরি হল, তার কারণ, গাভী সন্তানের প্রথমে পা বেরিয়েছে। বাছুরটির মৃত্যু আশঙ্কা করে বাড়ির কর্ত্রী ভয় পেলেন। সেই ভয় সঞ্চারিত হল তাঁর বড় বৌমাটির মনেও। কিন্তু তার কিছুক্ষণের মধ্যে গাভী প্রসব করল একটি ফুটফুটে সন্তান। ছোট মেয়েটি, শৈল, এরপর গাভী এবং তার সন্তানের কাছে এসে, নিরীক্ষণ করে জানালো বকনা হয়েছে অর্থাৎ গাভীর সন্তানটি স্ত্রী-লিঙ্গের। এই ‘বকনা’ শব্দটি শুনে বাড়ির কর্ত্রী, তাঁর বড় বৌমা শুধু হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন তা নয়, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন এক নতুন সম্ভাবনার ভোর তাঁদের বাড়িতে তৈরি হয়েছে বলে।

অপর্ণা সেন পরিচালিত ‘সতী’ ছবিতে এই দৃশ্যটি প্রাথমিকভাবে অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও পরিচালকের মুনশিয়ানা ধরা পড়ে আরেকটু বাদে। এই গাভীর বকনা প্রসবের দৃশ্যটির গুরুত্ব কোথায়? ঠিক এর আগে দেখানো হয়েছে ১২৩৪ বঙ্গাব্দের বাংলায়, কোনও এক কুলীন সমাজে– মেয়েরা যেভাবে হেনস্থা ও হিংসার শিকার হচ্ছে, সে সহমরণের মতো নিষ্ঠুর প্রথার জন্য হোক কিংবা পুরুষের বহুবিবাহের দ্বারা হোক, সমাজে নারীর যে দ্বিতীয় শ্রেণির অবস্থান; তার বিপ্রতীপে গাভীর জগতে বকনার প্রসব এবং তা নিয়ে প্রায় উৎসবের মেজাজ যেন আমাদের সামাজিক অসাম্যের দিকে চোখ খুলে দেয়। এবং সমস্ত কাহিনি কেন্দ্রীভূত হয় যে-মেয়েটির উপরে, যাকে ক্যামেরার চোখে প্রথমে অত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না, সেই উমা এই অসাম্যের এক মূর্ত নিদর্শন হিসেবে দেখা দেয়। কীভাবে? কে এই উমা? কুলীন ব্রাহ্মণ গঙ্গাচরণ চট্টোপাধ্যায় (কালী ব্যানার্জি)-এর ভগিনী লক্ষ্মীর একমাত্র মেয়ে উমা। বোন মারা যাওয়ার আগে দাদার কাছে তিন মাসের মেয়েকে দিয়ে গিয়েছিলেন– কেবল খালি হাতে নয়, তার সমস্ত গয়নাও উমার জন্যে দাদার কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন লক্ষ্মী। উমা কথা বলতে পারে না। সে কানে শুনতে পায়। এই প্রতিবন্ধকতা তাকে সামাজিক সমস্ত হেনস্থার মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করে। কানে শুনতে পেলেও কথা বলতে পারে না বলেই সে যেন বাড়িতে একটা পাপোশের মতো ব্যবহৃত হয়। সবাই তার উপর দিয়ে মাড়িয়ে যাবে। সে বাড়ির সমস্ত কাজ করবে এবং নিকৃষ্ট কাজগুলি তাকে করতে হবে– গোয়ালের কাজ, বাসন মাজার কাজ, কাঠ কুড়োনো এবং সে যখন কথা শুনবে না, তখন তার জুটবে শারীরিক আঘাত। প্রতিবন্ধকতা যুক্ত হওয়া মানেই যে সাধারণ স্বাভাবিক নয়, এবং সে কারণেই একজন হেনস্থাযোগ্য– এই ভাবনা কীভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তা খুব সুনিপুণভাবে পরিচালক আমাদের এই ছবির মধ্যে দিয়ে দেখিয়েছেন। ভাগ্যের বিচারে উমার সপ্তমে মঙ্গল, অর্থাৎ বৈধব্যযোগ। উমার তাই বিয়ে হয় না। অথচ সকলে মনে করেছিল যে, উমার যদি বিয়ে হত এবং সে স্বামীর সঙ্গে সহমরণে গিয়ে সতী হতে পারত, তবে এই বোবা মেয়েটি পরিবারের সম্মান সমস্ত সমাজের কাছে বাড়িয়ে দিত! গ্রাম-বাংলার তৎকালীন কুলীন সমাজে কোনও মেয়েরই কি জীবনে সুখ ছিল? না, তা হয়তো নয়। গঙ্গাচরণের স্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করেন। নয় বছর বয়স থেকে সংসারে এসেছেন। শশী (কঙ্কনা সেনশর্মা) মেয়েটির বিয়ে হয় না, কারণ পর্যাপ্ত টাকা সংসারে নেই। বড় বৌমা কন্যাসন্তান প্রসব করলে পরিবারের সকলের যেন মুখে কালি পড়ে। সেই দৃশ্য, যেখানে বড় বৌমা সদ্য-জন্মানো শিশুটিকে দোলনায় দোলাচ্ছেন, মুখে তাঁর অন্ধকার এবং একই ফ্রেমে তাঁর স্বামী হরিচরণ (প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়) আরেকটা বিয়ে করতে যাওয়ার প্রাক্কালে মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিচ্ছেন– তা বেদনার। মা জিজ্ঞেস করছেন, ‘কোথায় যাচ্ছ, বাবা?’ আর ছেলে ভাবলেশহীন স্বরে জানাচ্ছেন, ‘তোমার জন্য দাসী আনতে যাচ্ছি, মা!’ এমনকী গঙ্গাচরণের নিজেরও অনেকগুলি বিয়ে জীবনে আছে। তাঁর কৈলাসপুরের স্ত্রী নিস্তারিণীর পুত্র সদ্য মা হারিয়ে গুরুদশা বেশে এ বাড়িতে এলে, তিনি খাতা খুঁজে বের করেন যে নিস্তারিণী কোন গ্রামের তাঁর কত নম্বর স্ত্রী ছিলেন! এই গুরুদশাপ্রাপ্ত ছেলেটির সঙ্গে গঙ্গাচরণের স্ত্রী কিন্তু ব্যবহার ভালো করেন। সেই রাতে ফলমূল ও পরদিন হবিষ্যান্নের ব্যবস্থা করেন। অথচ সেই নারীই পরের দিন সকালে উমাকে শারীরিক প্রহার করেন, তাঁর নাতির সঙ্গে উমার পেয়ারা নিয়ে ঝামেলা মেটাতে! একমাত্র লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে একই বাড়িতে এই বৈপরীত্য আমাদের তৎকালীন সমাজের লিঙ্গ রাজনীতিকে প্রকাশ করে শুধু নয়, আজও যে সে-অবস্থান খুব একটা বদলায়নি তা-ও যেন আমাদের বলে দিয়ে যায়।

zoom
উমা চরিত্রে শাবানা আজমি

তবে উমার অসহায়তা দ্বিস্তরীয়। সে অবিবাহিতা নারী এবং প্রতিবন্ধকতাযুক্ত। সে প্রান্তিকদের মধ্যেও প্রান্তিকতর। এক যুবতী যে কানে সব কথা শুনতে পায়– গালি-গালাজ, হেনস্থা, সংসারের গলগ্রহ হয়ে থাকার অভিশাপ বচন– অথচ মুখে সে কিছু বলতে পারে না, সব কিছু সহ্য তাকে করতেই হবে, কারণ সে প্রতিবন্ধী; কী দুর্বিষহ তার মানসিক অবস্থা তখন! বাড়ির বাচ্চাদের কাছে তাকে উত্ত্যক্ত হতে হচ্ছে, সমবয়স্ক মেয়েরা তার সঙ্গে মিশছে না, পারিবারিক ও সামাজিক কোনও কাজে সে যোগদান করতে পারছে না; কেবলমাত্র কথা বলতে পারে না বলে– কী বিষাদময় সেই অবস্থান! উমার এই সকলের সঙ্গে সংসারে থেকেও প্রান্তিক যাপন খাদের ধারে গিয়ে উপস্থিত হয় যখন বৈধব্য যোগ কাটানোর জন্যে তাকে বৃক্ষের সঙ্গে বিবাহ দেবার নিদান দেওয়া হয়! যে-বটগাছটা তার প্রিয়, যার কোটরে সে নিজের প্রিয় জিনিস লুকিয়ে রাখে এবং যার ছায়ায় সে শান্তি পায়, তার সঙ্গেই তাকে বিয়ে দিয়ে দেয় তার পরিবারের মানুষেরা। শাস্ত্রে আদৌ মানুষ ও বৃক্ষের বিবাহের কথা না-থাকা সত্ত্বেও, বাচস্পতি (অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়) শুধু সমাজকে চালিত করবেন বলে প্রবল অপরাধবোধ নিয়ে উমার বৃক্ষবিবাহের পরামর্শ ও আদেশ দিলে সারারাত জুড়ে সেই বিবাহের আয়োজন চলে। উমা বুঝতেও পারে না, এই অনুষ্ঠান বিবাহ, না কি মন্ত্রোচ্চারণ, না খেলা? কারণ, এই বিবাহের পর তো তার জীবন বদলায় না কিছু। শুধুমাত্র শাঁখা-সিঁদুর পরনে ওঠে তার। বাকি যে-নিস্তরঙ্গ জীবনের মধ্যে দিয়ে প্রতিবন্ধকতাযুক্ত মেয়েটি এতদিন চলেছে, তার জীবন সেই একই খাতে বইতে থাকে– জল আনা, বাসন মাজা, উঠোন ঝাড় দেওয়া, গোয়ালের কাজ, কাঠ জোগাড়, উনুন ধরানো– দৈনন্দিন কোনও কাজের পরিবর্তন হয় না। অথচ তার বাড়ির বিবাহিত মেয়েরা কিন্তু উমার এসব কাজগুলি করে না।

বাড়ির, পাড়ার সব মেয়েদের থেকে উমার অবস্থান ভিন্ন। কিন্তু তার যে নারীত্ব তা কি সকলের থেকে আলাদা হতে পারে? ভরা বর্ষার যৌবন তার, শরীর বৃষ্টির ডাক দিয়ে যায়। লোভী নবীন মাস্টার (অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়) ভেজা গায়ে, আলো-অন্ধকারে তাকে কাছে টানলে সে নিজেকে বাঁধতে পারে না। না-পারাই তো স্বাভাবিক। সমাজ তাকে প্রতিবন্ধী বলে যতই ‘অপর’ করে রাখুক, মানুষ তো সে রক্ত-মাংস-যৌনতারই। নবীনকে শরীর দিতে উমার অসুবিধা ছিল না, কিন্তু ওই যে নবীনের সংলাপ– ‘খবরদার! বলবিনি কাউকে! ধুর! তুই আবার বলবি কী! ভালো। কথা-বলা-মেয়েগুলো কানের মাথা খেয়ে নেয়!’– তা বড্ড অপমানের। উমা ভেঙে পড়ে তখন, যখন নবীন তার সবটা লুঠ করে নিয়ে পেছন দরজা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। সে-সময় উমা নিশ্চিত উপলব্ধি করে কিছুক্ষণ আগের যৌনতা আনন্দের ছিল না, সে কেবল শারীরিক অপমানের। এ-ও তার প্রতিবন্ধকতার প্রসারণ। সে যদি কথা বলতে পারত, তার যদি বিয়ে গাছের সঙ্গে না হত, তবে নবীনের মতো কাপুরুষ কি তার সুযোগ নিতে পারত? প্রতিবন্ধী বলেই না উমা অনায়াসে ব্যবহারের সামগ্রী হয়ে উঠল। এ তো যৌনতা নয়, প্রকারান্তরে ধর্ষণ! কিন্তু উমা যেন কোথাও সেই এক রাতের অভিজ্ঞতায় আবিষ্ট হয়ে পড়ে। সে নবীনের কাছে বারকতক যায়। নবীনের স্ত্রী (রত্না ঘোষাল) উমাদের বাড়ি এসে কলকাতার কথা বললে, আর কীভাবে সে স্বামীকে দিয়ে পা টিপিয়েছে সে-কথা খিলখিল করে জানালে, সেই গল্প উমা মন দিয়ে শুনতে থাকে। নবীনের বউয়ের সাজগোজ, রূপলাবণ্য হয়তো তাকে ঈর্ষান্বিত করে। সে যে বোবা, সে তো কোনওদিন কোনও পুরুষকে নিজের করে পাবে না। স্বামী-সংসার তার ভাগ্যে নেই। রাতের অন্ধকারে লোভী, লম্পট নবীনের সামনে গিয়ে দাঁড়ানোই নারী হিসেবে তার এখন একমাত্র ভবিতব্য!

এক পিতৃতান্ত্রিক সমাজ, যেখানে পুরুষের বহুবিবাহ নারীদের কোণঠাসা করে রাখে। স্বামীর মৃত্যুর পরে নারীদের সহমরণে যেতে হয় এবং স্বামীর সঙ্গে না-থেকেও মুখ বুজে সহ্য করতে হয় বিবাহের নামে স্বামীদের অর্থসংগ্রহের ঘৃণ্য ব্যবস্থাকে। প্রতিবন্ধকতাযুক্ত এক যুবতীকে ক্রমাগত অত্যাচারিত হতে হয়, ধর্ষিত হতে হয়। এহেন ঘুণ ধরে যাওয়া সমাজের কেউ কি সমালোচক নেই? আছে তো। পরিচালক এক অপূর্ব চরিত্র সৃষ্টি করেছেন এর বিরুদ্ধে। তিনি ক্যাওড়া-বউ (মেনকা দাস)। উমা গর্ভবতী হয়ে পড়লে সেই গর্ভ নষ্ট করার জন্য তাঁর ডাক পড়ে। তখন তাঁকে দিয়ে পরিচালক বলিয়ে নেন– ‘অত বড় সোমত্ত মেয়ের (গাছের সঙ্গে) বে দেবার সময় তো কই ভাবোনি যে, মনিষ্যির লেগে হলে তবু কিছু রাখঢাক থাকত, লোকে শুধোলি অন্তত বলতি পারতে যে রেতে জামাই এয়েচিল! হুঁহ্! এখন যা হবার হয়ে গেছে। এখন ভাবতি বসলে চলে?’ এর ঠিক আগে সমস্ত পুরুষতন্ত্রকে তিনি প্রশ্নের মুখে ফেলে দেন। রেগে বলেন, ‘আর জেনেই বা কী হবে? কোনও ব্যাটার সে মুরোদ আছে না কি যে বুক চিত্তে সামনে এসে দাঁড়াবে? একটা পুরুষ মানুষ দেখাও দেখি গোটা গাঁয়ে, দেখে চক্ষু সার্থক করি!’

zoom
পরিচালক অপর্ণা সেনের সঙ্গে শাবানা আজমি

‘সতী’ মুক্তি পায় ১৯৮৯ সালে। ঠিক তার পরের বছর ১৯৯০ সালে আমেরিকাতে প্রতিবন্ধকতা আইন পাশ হয় এবং সেই আইনে প্রোথিত ছিল ‘ডিজেবিলিটি প্রাইড মান্থ’-এর নির্যাস। প্রতি বছরের জুলাই মাস সেই গর্বের মাস বলে চিহ্নিত। প্রতিবন্ধীদের কাহিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে খুব কম শতাংশই। অবশ্য তার মধ্যেও বহু উৎকৃষ্ট মানের সিনেমা তৈরি হয়েছে এ-বিষয়ে। অপর্ণা সেন ‘সতী’ ছবির মাধ্যমে কুলীন সমাজে বাংলার গ্রামীণ নারীত্ব ছুঁয়েছেন, কিন্তু প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে যে অপূর্ব দিক নির্ণীত এই ছবির মাধ্যমে– তা এক কথায় অনন্যসাধারণ। হ্যাঁ, উমাকে আমরা বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি। এক প্রবল বর্ষার রাতে ব্রাত্য সে বাড়িতে জায়গা পায়নি। এত ঝড়জলের রাতে কেউ তার এতটুকু খোঁজ নিল না যে সে কোথায় গেল! গরু-বাছুরকে ছেড়ে দিয়ে গেলেও, তার স্বামী সেই বৃদ্ধ বটগাছটির সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সে দেহ রাখে। সকালে এক মাথা সিঁদুর আর খোলা দু’টি চোখের নিথর দেহটি উদ্ধার হয়। উমা মরে গিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে দিয়ে যায়। তার প্রতিবন্ধকতা আমাদের মুক্তি দেয়।

Aparna Sen Disability Pride Month Human Disability Indian Film Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar Sati Shabana Azmi

Share this article on