Mainpat Chhattisgarh: Exploring a Geographical Marvel। Robbar
Robbar
  • ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬

ভ্রান্তিবিলাস

দিগন্তজোড়া ঢেউ খেলানো সবুজ মাঠ, লালমাটির কোলাজ, গহন বন, ছটফটে নদী আর উদ্দাম ঝরনা আগলে রেখেছে এই ‘খুদে তিব্বত’কে। অপার সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে এক শান্ত জীবনের হাতছানি দেয় মেইনপত। এক গোছা প্রাকৃতিক বিস্ময় তাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। বর্ষা তাকে করে তোলে চূড়ান্ত মোহময়ী। আর শীতে সে প্রাজ্ঞ, স্থিতধী। কনকনে ঠান্ডা আর তীক্ষ্ণ হিমেল হাওয়ায় জবুথবু মেইনপত শীতের পর্যটকদের স্বাগত বার্তা দেয় তার পথলিপিতে, ‘মুসকুরাইয়ে, আপ ছত্তিশগড় কি সিমলা মে হ্যায়’।

Published by: Robbar Digital

Posted:August 25, 2026 7:06 pm | Updated:August 25, 2026 7:17 pm  
Facebook WhatsApp Messenger

‘ছত্তিশগড়’ নামটা শুনলেই মনে হয় গা ছমছম ঘন শালের জঙ্গল। কখনও বা তা রক্তাক্ত, ঢেউ খেলানো পথ, অসংখ্য ঝরনা আর মাটির নিচে খনিজের অতল ভাণ্ডার। ২০০০ সালে জন্ম নেওয়া পূর্ব-মধ্য ভারতের এই রাজ্যটি মেঘ, পাহাড়, নদী আর বনাঞ্চলের এক জীবন্ত ক্যানভাস। পূর্ণেন্দু পত্রী জীবিত থাকলে হয়তো আরও একবার বলতেন, ‘…মেঘ কিভাবে শুকনো খটখটে পাহাড়টাকে বানিয়ে তুলেছিল ছাব্বিশ বছরের ছোকরা, সে কথা তো আগেই শুনেছ…’। হয়তো শুনেছি। কিংবা শোনা হয়নি। ছত্তিশগড় যদি এক দীর্ঘ উপন্যাস হয়, তবে এখন শুনব তার নেহাতই এক অল্পশ্রুত ছোটগল্প। যার নাম– ‘মেইনপত’।

zoom
মেইনপতের টাইগার পয়েন্ট জলপ্রপাত

ছত্তিশগড়ের উত্তরদিকের জেলা সারগুজা। জেলা সদর রায়পুর। কাছাকাছি বড় শহর অম্বিকাপুর। সেখান থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে শৈলশহর– মেইনপত। মূলত মালভূমি অঞ্চল। তাই থেকে থেকেই টিলা আর চড়াই-উতরাই। পথের দু’ধারে কোথাও বিস্তীর্ণ খেত; ধান, আলু কিংবা ভুট্টার। কোথাও কেবলই ঘাসের চাদর গায়ে জড়িয়ে শুয়ে আছে নিষ্ফলা জমি। হরেক গবাদি পশুর ক্ষুন্নিবৃত্তির দায়িত্ব তার কাঁধে। সবুজ গালচের মাঝখান থেকে উঁকি দিচ্ছে লাল দগদগে কাঁকুরে মাটির অনিয়মিত বলয়। কখনও বা সবুজ একঘেয়েমিতে ছেদ পড়েছে লালমাটির সরু পথের চলনে। যেন মোহনবাগান জার্সির আদিমতম সংস্করণ। খেতখামার জনপদ পেরলেই জঙ্গল। জঙ্গল পেরলেই আবার খেতখামার জনপদ। ভূপ্রকৃতির এই ছন্দ চলতেই থাকে মেইনপতের পথে। শাল-পিয়াল-খিরির ফাঁক দিয়ে চুঁয়ে পড়া রোদ্দুর রহস্যঘন করে তোলে জঙ্গলের দৃশ্যমানতাকে। কখনও বা মেঘের সারি এসে ছাতা ধরে গাছের মাথায়। এক অনুজ্জ্বল সবুজের ঝাপসা চালচিত্র আঁকা হয়ে যায় নিমেষে। শেষ বিকেলের আবছা অন্ধকার ফিসফিসিয়ে বলে যায়– ‘ছায়া ঘনাইছে বনে বনে…’।

মেইনপত ভারি ব্যতিক্রমী এক ভূভাগ। এই শৈলশহরকে বলা হয় ‘মিনি তিব্বত’। কারণ, এখানে বড়সড় এক তিব্বতি জনপদ আছে। শুনে অবাক লাগে। সাধারণত উত্তর-পশ্চিম থেকে উত্তরপূর্ব ভারতে বিস্তৃত হিমালয়ের কোল-ঘেঁষে তিব্বতি মানুষজনদের বাস। ভারতের উত্তর সীমানার ওপারেই তাঁদের মূল ভূখণ্ড। তাই নিজভূমি ছেড়ে আসা বা আসতে বাধ্য হওয়া তিব্বতিরা এদেশে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলকেই বেছে নিয়েছিলেন থিতু হওয়ার জন্য। জলবায়ু-সহ অন্যান্য ভৌগোলিক সাদৃশ্য তার কারণ হতে পারে। কিন্তু মধ্যভারতের মাটিতে কেমন করে তিব্বতিরা এলেন সেটাই অবাক করে!

zoom
ছত্তিশগড়ের মেইনপত, একটুকরো তিব্বতের সংস্করণ

১৯৫৯-’৬০ সালে চিনের তিব্বত আক্রমণের সময়, শরণার্থী হয়ে এদেশে আসা তিব্বতিদের একাংশের মেইনপতে বসতি গড়ার ব্যবস্থা করে ভারত সরকার। তাদের জন্যে বরাদ্দ হয় ৩,০০০ একর জমি, যা মূলতই জঙ্গল। সাতটি ক্যাম্পে ভাগ হয়ে বসত শুরু করেন ১,৪০০ শরণার্থী।  প্রথমত, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৫০০ ফুটের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই শৈলশহরের ঠান্ডা আবহাওয়া তিব্বতিদের জন্য অনুকূল হবে এবং দ্বিতীয়ত, জনবিরল এই অঞ্চলে তিব্বতিরা নিভৃতে নিজেদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনযাপনের উপাদান গড়ে তোলার জন্য পরিমিত জায়গা পাবে। সেভাবেই ২৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে প্রথম ‘মেইনপত ফেন্ডেলিং টিবেটান সেটলমেন্ট’ গড়ে ওঠে।

পতপত শব্দে উড়তে থাকা সারি সারি রংবেরঙের পতাকা চিনিয়ে দেয় মেইনপতের ধর্মীয় সংস্কৃতি। বর্ণময় ও সুসজ্জিত বৌদ্ধমঠ বা মনাস্টারিগুলো মেইনপতের প্রাণকেন্দ্র। তবে শুধু বৌদ্ধ নয়, মেইনপতের সামজিক ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রে আছে– কানওয়ার, মানঝি, মানঝওয়ার, উরাও এবং পাহাড়ি কোরবার মতো আদিম ও প্রান্তিক জনজাতিরাও। বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাই লামাকে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু আশ্বস্ত করেছিলেন, তিব্বতিদের জন্যে তিনি পৃথক স্কুলের ব্যবস্থা করবেন, যাতে তারা নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বজায় রাখতে পারে। কথা রেখেছিল ভারত সরকার। এখনও মেইনপতের শিশুরা স্থানীয় তিব্বতি স্কুলেই শিক্ষাজীবন শুরু করে।

zoom
প্রকৃতির সম্ভার মেইনপত জুড়ে

মেইনপতের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের মতো স্বাতন্ত্র্য তার ভৌগোলিক পরিমণ্ডলও। বলা ভালো, মেইনপতের পরিচয় তার বিস্ময় জাগানো ভৌগোলিক বাস্তবতা। এখানে আছে এক জলস্রোত, যার নাম ‘উলটা পানি’। অর্থাৎ, জলের ধারাটি নিচ থেকে ওপরের দিকে বয়ে চলেছে। অবিরাম সেই ধারা টিলার ঢাল বেয়ে মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে বইছে। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে না-পেরে অনেকেই কাগজের নৌকো বানিয়ে স্রোতের জলে ছেড়ে দেয়। বিস্ময়ের স্রোত বেয়ে তরতরিয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকে সেই নৌকো। নিউট্রালে রাখা গাড়িও একইভাবে ঢালের ওপরের দিকে গড়িয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা বলেন, এটা না কি ‘গ্র‍্যাভিটি হিল অপটিক্যাল ইলিউশন’। এককথায় দৃষ্টিবিভ্রম। ঢালু ভূমিতল, পারিপার্শ্বিক গাছপালা বা সামগ্রিক ভূপ্রকৃতি আমাদের চোখ আর মস্তিষ্ককে বোকা বানায়। আমাদের বুঝতে দেয় না ওখানকার ভূমিতলের আসল লেভেলকে। যেদিকটাকে আমাদের খালি চোখে নিচু মনে হয়, সেটাই না কি উঁচুদিক। ‘ডিজিটাল এলিভেশন মডেল’ দিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, ওখানে জল আসলে ওপর থেকে নিচের দিকেই বইছে। অথচ আমাদের ব্রেন তা বুঝতে পারছে না। বিজ্ঞান হয়তো ঠিকই বলছে। কিন্তু নিজের চোখকে অবিশ্বাস করতে কিছুতেই মন চাইবে না। ইলিউশনটা বাঁচিয়ে রাখার মধ্যেই তো মজা। মেইনপতের কাগজের নৌকো বয়ে চলুক ঊর্ধ্বপানে, বিস্ময়ের ‘উলটা পানি’ বেয়ে।

zoom
ছবিঋণ: গীতাঞ্জলি সিং

মেইনপত থেকে অল্প দূরে রাস্তার ধারে চোখে পড়বে একটা ছোট সাইনবোর্ড, তাতে লেখা ‘ঠিনঠিনি পত্থর’। বেশ কিছু বড় বড় পাথর সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। তার মাঝখানে সাত-আট ফুট দৈর্ঘ্যের লম্বাটে একখানা পাথরকে ঘিরেই যত বিস্ময়। একটা ছোট পাথরের টুকরো কুড়িয়ে নিয়ে ওই সাদাটে পাথরটার গায়ে ঠুকলে, শুনতে পাওয়া যাবে পিতল বা কাঁসার থালা কিংবা ঘণ্টা-বাজানোর আওয়াজ। নিজের কানকে বিশ্বাস হবে না! পাথরের গা থেকে পাথুরে আওয়াজের বদলে তার অন্দর থেকে এমন সুরেলা ঘণ্টার শব্দ কীভাবে উৎপন্ন হচ্ছে সে বড় ধন্দ! ভূবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রায় ২০০ কুইন্টাল ওজনের ওই পাথরটির মধ্যে প্রচুর পরিমানে ভারী ধাতব উপাদান আছে। অনুমান, তা মূলত লোহা। আর আছে এরসঙ্গে শক্তভাবে জমাটবাঁধা ‘ইন্টারলকিং সিলিকা ক্রিস্টাল’। এটি আগ্নেয় কিংবা রূপান্তরিত শিলা। পাথরটির সৃষ্টির সময়, ঠান্ডা হওয়ার মুহূর্তে ভিতরে কংক্রিশন পদ্ধতিতে লোহার আকরিক ছোট বড় নডিউল বা বলের আকার নিয়ে থাকতে পারে। যার ফলে অনুরণন সৃষ্টির মতো পদার্থগত অবস্থা তৈরি হয়ে থাকবে। আর তাই বাইরে থেকে টোকা দিলে পাথরের ভিতর থেকে শব্দতরঙ্গ খুব দ্রুত ও সহজে  প্রবাহিত হয়। তাতেই তৈরি হয় এমন ঘণ্টাধ্বনি! শুধু ভারতে না, এমন সুরেলা পাথর পৃথিবীর অন্যত্রও আছে। আমেরিকার পেনসিলভানিয়া ‘রিঙ্গিং রকস’, ইংল্যান্ডের কামব্রিয়ার ‘মিউজিক্যাল স্টোনস’ বা অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ‘বেল রক’ এই একই গোত্রের পাথর।

zoom
মেইনপতের ‘ঠিনঠিনি পত্থর’

এ তো গেল ঠিনঠিনি পাথরের সম্ভাব্য ভৌগোলিক দিক। কিন্তু এর সঙ্গে জুড়ে আছে গভীর প্রত্নতাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক দিকও। এই লম্ববৃত্তাকার পাথরটির গায়ে কাপের মতো অনেকগুলো গোলাকার গর্ত চোখে পড়বে। সেগুলোর অবস্থানের মধ্যে একটা প্যাটার্ন বা ধরন আছে। প্রত্নতাত্ত্বিক রবার্ট জি বেডনারিক ২০১২ সালে ‘আর্কিওমেট্রি’ জার্নালে প্রকাশিত তাঁর ‘সায়েন্স অফ কাপিয়ুল্‌স’ প্রবন্ধে বলছেন নব্যপ্রস্তর যুগে মানুষ পাথরের গায়ে এই ধরনের কাপ-আকৃতির গর্তগুলোকে ক্যালেন্ডার হিসেবে ব্যবহার করতেন, যা দিয়ে দিবারাত্রির সমান-কাল গণনা বা বিষুবের হিসেব ও অন্যান্য মহাজাগতিক ঘটনাকেও চিহ্নিত করতে পারতেন। সময়ের এই বোধ তাঁদের কৃষিকাজেও সাহায্য করত। এছাড়াও এর কিছু ধর্মীয় উপযোগিতা থাকাও অসম্ভব নয়। এখন অনুভূমিক হলেও মনে করা হয় পাথরটি একসময় দণ্ডায়মান স্তম্ভ ছিল। স্মৃতিসৌধ হিসেবেও হয়তো এর কোনও ব্যাখ্যা হতে পারে।

মেইনপতের আরও এক ভূতাত্ত্বিক বিস্ময়– প্রাকৃতিক ট্রাম্পোলিন। স্থানীয়রা বলেন ‘জলজলি’। পাহাড়-জঙ্গলের মধ্যে অপেক্ষাকৃত নিচু এক ভূখণ্ড, যেখানে পায়ের তলার মাটি শক্ত নয়। আপনি সেখানে লাফালে, মাটিও লাফায়। মনে হবে, আপনি এক সচল ভূমিতলের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। গবেষণা বলছে, ওই অঞ্চলটির ভূগর্ভে নিরেট পাথর বা শক্ত মাটির স্তর নেই। আছে ‘স্ফ্যাগনাম মস’ বা স্পঞ্জের মতো এক প্রকার শৈবাল আর অন্যান্য জৈব উপাদানের এক বিস্তীর্ণ নেটওয়ার্ক বা জালিকা। এই শৈবাল প্রচুর জলশোষণ করে এবং জলের মধ্যেই ভেসে থাকে। ওপরে যে ঘাসজমি দেখা যায়, তাও আসলে ভেসে আছে ওই জল এবং শৈবালের ওপরেই। স্বভাবতই মাটির ওপর চাপ পড়লে সে চাপ জলের ওপর গিয়ে পড়ে। মাটি নেমে যায়। আবার চাপ কমে গেলে মাটিস্তর ওপরে উঠে আসে। ফলে একটা ‘বাউন্সিং এফেক্ট’ তৈরি হয়।

zoom
জলের ওপর ভাসমান, মেইনপতের ‘জলজলি’

দিগন্তজোড়া ঢেউ খেলানো সবুজ মাঠ, লালমাটির কোলাজ, গহন বন, ছটফটে নদী আর উদ্দাম ঝরনা আগলে রেখেছে এই ‘খুদে তিব্বত’কে। অপার সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে এক শান্ত জীবনের হাতছানি দেয় মেইনপত। এক গোছা প্রাকৃতিক বিস্ময় তাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। বর্ষা তাকে করে তোলে চূড়ান্ত মোহময়ী। আর শীতে সে প্রাজ্ঞ, স্থিতধী। কনকনে ঠান্ডা আর তীক্ষ্ণ হিমেল হাওয়ায় জবুথবু মেইনপত শীতের পর্যটকদের স্বাগত বার্তা দেয় তার পথলিপিতে, ‘মুসকুরাইয়ে, আপ ছত্তিশগড় কি সিমলা মে হ্যায়’।

শীত কমলেই বর্ষবরণ। না, জানুয়ারি না। তিব্বতি-ক্যালেন্ডারের নববর্ষ ‘লোসার’ শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে। রংবেরঙের নতুন পতাকা, প্রার্থনা, খাওয়াদাওয়া আর আনন্দগানে মাতে ‘মিনি তিব্বত’। উৎসব আসে, উৎসব যায়। দুলকি চালে বয়ে চলে মেইনপতের নিস্তরঙ্গ জীবন। জেগে থাকে পাহাড়ি জনপদের মায়াবী নিঃসঙ্গতা। জেগে থাকে বিস্ময়।

………………….

রোববার.ইন-এ পড়ুন মৌসুমী ভট্টাচার্য-এর অন্যান্য লেখা

………………….

Chhattisgarh daldali Mainpat Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar Thinthini Patthar Ulta Pani

Share this article on