friend philosopher and guides of different sectors | Robbar
Robbar
  • ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরাভয় মুদ্রা

সঠিক পথটি যিনি দেখিয়ে দিতে পারেন, তিনিই তো পথপ্রদর্শক। জীবনের আদিপর্বে শিক্ষক, পরবর্তীতে চালক, নিয়ামক, নেতা। কিন্তু এর মধ্যে যদি কেউ তাঁর দায়িত্ব অস্বীকার করেন? ঠিক যেমনটি করেছিলেন মহাভারতের দ্রোণাচার্য! নিষাদ হিরণ্যধনুর পুত্র একলব্য যেদিন এসে করজোড়ে প্রার্থনা করেছিল পাণ্ডবদের অস্ত্রগুরুর কাছে, ‘শিক্ষাহেতু আইলাম তোমার সদন’– মহারথি সেদিন নিরুপায়, ‘দ্রোণ বলিলেন তুই হোস নীচ জাতি।/ তোরে শিক্ষা করাইলে হইবে অখ্যাতি।’

প্রচ্ছদ: দীপঙ্কর ভৌমিক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ২১:৩৫   
Facebook WhatsApp Messenger

‘কিপ ইট আপ’।

কাগজটা এখনও রাখা আছে বাক্সে। পুরনো কাপড়ের মতো ভাঁজে ভাঁজে ছিঁড়ে যাচ্ছে লাইন-টানা ফুলস্ক্যাপ পাতা। ৪০ বছরে তার রং একটু লালচে হলেও একেবারেই ঝাপসা হয়নি SKM-এর নীল কালিতে লেখা মন্তব্য– ‘You show promise. Keep it up!’ খুব সাধারণ ক’টা কথা। অথচ কী অসম্ভব তার জোর! জমতে জমতে কঠিন হয়ে ওঠা হতাশার খোলসটাকে ভেঙে চুরমার করে পিঠে যেন প্রজাপতির পাখা লাগিয়ে দিয়েছিল ওই দু’টি বাক্য। ‘প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে।’ সম্ভাবনা একেবারেই ফুরিয়ে যায়নি তাহলে!

zoom
মুহূর্তরা বন্দি যে ক্লাসরুমে

সাংবাদিকতার ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস সবে শুরু হয়েছে তখন। কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাসে দ্বারভাঙা বিল্ডিং-এর তিনতলায় একেবারে সাদামাটা পুরোনো ডিপার্টমেন্ট। একমাত্র বিভাগীয় প্রধান সুনীত মুখোপাধ্যায় ছাড়া বাকি সব অধ্যাপকই কোনও না কোনও সংবাদমাধ্যম, জনসংযোগ বা বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, আংশিক সময়ের জন্যে পড়াতে আসেন এখানে। বলতে গেলে সুনীতবাবুই একহাতে ধরে থাকেন বিভাগটাকে, ছাত্রছাত্রীদের প্রতি স্নেহ আর সাংবাদিকতা পেশাটার প্রতি অপরিসীম নিষ্ঠায়। তাঁর পড়ানোর বিষয় ‘রাইটিং’– লিখনশৈলী। লেখা আবার শেখানো যায় না কি! লিখতে লিখতে শেখা। সেই শেখারই সূচনা করতে ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। জমা পড়া খাতা বা লুজ শিট দেখার পর ফেরত দিচ্ছিলেন স্যর, নাম, রোল নম্বর ডেকে। কিন্তু কী মুশকিল, তার নাম তো আর আসে না। বুকের ভেতর গুড়গুড় করতে থাকে। এখুনি হয়তো শুনতে হবে, ‘আচ্ছা, তুমিই তাহলে কমার্স থেকে এসেছ? সাহস তো কম নয়! যে কলম ব্যালেন্স শিট বানায়, সে কলমে কি আর সাংবাদিকতা করা চলে?’ এই হীনম্মন্যতা থেকেই তো সে ক্লাসে বেশি মেলামেশা করে না কারওর সঙ্গে। সহপাঠীদের বেশিরভাগই কোনও না কোনও পত্রপত্রিকা বা সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত– ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট। তাদের সঙ্গে পাল্লা দেয় সাধ্য কি তার! প্রায় সকলে খাতা ফেরত পেয়ে গিয়েছে। ওর লেখাটা কি তবে হারিয়েই গেল, না কি এত খারাপ হয়েছে যে, তলিয়ে গেছে বান্ডিলে সবার নিচে! হঠাৎ কানে আসে– ‘হু ইজ রোল নাম্বার সেভেন?’ ভয়ে ভয়ে উঠে দাঁড়ায়। কী জানি কী অপমানটাই হবে আজ! স্যরের হাতে তারই লেখা কাগজ। সেটাকে উঁচু করে ধরে বললেন, ‘এটাই আজকের সেরা রাইট-আপ’। নিজের কানকে বিশ্বাস হতে চায় না। ঠিক শুনছে তো? সেরা লেখা– তার? যে কি না গত তিন বছরে চর্চার অভাবে ভুলতে বসেছে ইংরেজি বাংলা দুটো ভাষাই! স্যর হাসছেন– ‘কনগ্রাচুলেশন!’

সামনের বেঞ্চ থেকে অনেকে পিছন ফিরে দেখছে তাকে, নেহাত সাধারণ চেহারার যে মেয়েটাকে এতদিন তেমন খেয়ালও করেনি কেউ। ঘণ্টা পড়ে। SKM ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। দু’-চারজন এগিয়ে এসে আলাপ করে। ভাঙাচোরা সিঁড়িগুলো ‘আরব্য রজনী’র ম্যাজিক কার্পেটের মতো যেন উড়িয়ে নিয়ে যায় তাকে সেদিন। 

আজ এত বছর পরেও কাগজটায় হাত বোলালে ভারি একটা ভরসা পায় সে। কাজের জগতে যেটুকু পৌঁছনো গেল, যৎসামান্য খুদকুঁড়ো যা জমল তার প্রাপ্তির ঝুলিতে, সব কিছুর মূলেই তো ওই একটি লাইন-টানা পাতা। মনখারাপের মুহূর্তে ফিরে আসে আত্মবিশ্বাস। এক পিতৃপ্রতিম অধ্যাপকের বরাভয় মুদ্রা– ‘Keep it up!’

কাজ করি আনন্দে

পথ দেখানো মানে যে সবসময়ে হাত ধরে সে পথে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া তা তো নয়। শিল্পী, ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজ ছিলেন নন্দলাল বসুর ছাত্র। আচার্যের প্রতি শিষ্যের অপরিসীম শ্রদ্ধা। যদিও সব কাজে গুরুশিষ্যের মতের মিল হত না। রামকিঙ্কর লিখেছেন, তিনি মূর্তি গড়তে চাইলে নন্দলাল হয়তো খরচের কথা ভেবে অল্পস্বল্প আপত্তি করতেন; একবার নিজে নিজে শিখে এসে তেলরং দিয়ে ছবি এঁকেছিলেন, তাতে মাস্টারমশাই একটু অসন্তুষ্ট হলেও থামিয়ে কিন্তু দেননি।

zoom
ছাত্র-শিক্ষক: রামকিঙ্কর বেইজের সঙ্গে নন্দলাল বসু

শান্তিনিকেতনের কলাভবনে শিক্ষার্থীরা কাজ করতেন আপন খেয়ালে, প্রাণের খুশিতে। যখন যেমন ইচ্ছে হত, তেমন করেই। নন্দলাল নিজের কাজ করতে করতে একবার হয়তো ঘুরে একটু দেখে যেতেন, মাঝেমাঝে নেহাত দরকার হলে কিছু বলতেনও, তবে সেটাকে ঠিক নির্দেশ বলা যায় না। ছাত্রদের কাজে বদলও বিশেষ কিছু করতেন না, আলাদা করে পরামর্শ দেওয়া, হাতে ধরে দেখিয়ে বা শিখিয়ে দেওয়া যাকে বলে, সেরকম কিছু আদপেই না। যে ভুলটুকু শুধরে না-দিলেই নয়, সেটুকু যদি-বা দিতেন, তবু নিজের কোনও ভাবনা চাপিয়ে দিতেন না একেবারেই। আসলে শান্তিনিকেতন আশ্রমে এই মুক্ত শিক্ষার উদারতা রোপণ করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। তিনি বলতেন, সবাইকে নিজের নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করতে দাও। বাধা দিও না কখনও।

zoom
শান্তিনিকেতনে পড়ুয়াদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ

একবার এক সাক্ষাৎকারে রামকিঙ্করকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, গুরুর কাছ থেকে যে শিক্ষা আপনি পেয়েছিলেন, তার মধ্যে সবচেয়ে দামি কোনটি? তাঁর উত্তর ছিল, উপলব্ধির ক্ষমতা, সংবেদনশীলতা আর সেইসঙ্গে শিল্পের গঠনগত মূল্য সম্পর্কে মাস্টারমশাইয়ের সুস্পষ্ট ধারণা। যার জোরে ছাত্র রামকিঙ্কর একইসঙ্গে নানান মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করতে পেরেছিলেন। শিল্পীর ক্ষমতা তো আর বাইরে থেকে এনে তার মধ্যে সঞ্চারিত করে দেওয়ার জিনিস নয়, থাকলে সেটা জন্ম থেকেই থাকে, নয়তো পরে আর অর্জন করা যায় না। বনস্পতির যে চারাটি শিক্ষার্থীর জন্মসূত্রে পাওয়া, গুরু তার বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করতে পারেন বড়জোর, তার বেশি কিছু নয়।

যে পথ গেছে অন্ধকারে

পথ পড়ে থাকে পথের মতোই। আবার কোনও বিন্দুতে ভাগ হয়ে হয়তো চলেও যায় কোনও অজানা গন্তব্যে। দ্বিধাগ্রস্ত পথিক থেমে যায় সেই বাঁকের মুখে এসে। এবার সে কোনদিকে যাবে? নিজের বিবেচনায় বেছে নেয় একটিকে। তারপর? ফ্রস্ট সাহেব জানতেন সেই না-নেওয়া পথের আখ্যান, যার শেষ হয় অনুশোচনায়। 

‘কোথাও অনেকযুগ পরে কোনো দিন
দীর্ঘশ্বাসে এই কথা বলব হঠাৎ;
জঙ্গলে চলেছে দুটি পথ, আমি দীন,
আমি ধরি যেটি কম পান্থপদলীন;
তাতেই হয়েছে এই যা-কিছু তফাৎ।।’

(The Road Not Taken: Robert Frost, অনুবাদ: বিষ্ণু দে)

সঠিক পথটি যিনি দেখিয়ে দিতে পারেন, তিনিই তো পথপ্রদর্শক। জীবনের আদিপর্বে শিক্ষক, পরবর্তীতে চালক, নিয়ামক, নেতা। কিন্তু এর মধ্যে যদি কেউ তাঁর দায়িত্ব অস্বীকার করেন? ঠিক যেমনটি করেছিলেন মহাভারতের দ্রোণাচার্য! নিষাদ হিরণ্যধনুর পুত্র একলব্য যেদিন এসে করজোড়ে প্রার্থনা করেছিল পাণ্ডবদের অস্ত্রগুরুর কাছে, ‘শিক্ষাহেতু আইলাম তোমার সদন’– মহারথি সেদিন নিরুপায়, ‘দ্রোণ বলিলেন তুই হোস নীচ জাতি।/ তোরে শিক্ষা করাইলে হইবে অখ্যাতি।’ কেন নিরুপায়, সেটা বুঝতে গেলে আর একটু পিছিয়ে যেতে হবে।

দারিদ্রে অপমানে বিপর্যস্ত দ্রোণকে আশ্রয় দিয়েছিলেন কৌরব-পাণ্ডবদের পিতামহ ভীষ্ম। রাজপুত্রদের অস্ত্রশিক্ষক হিসেবে বহাল হলেন দ্রোণাচার্য। চৌখশ তৃতীয় পাণ্ডব, প্রিয় ছাত্র অর্জুনের কাছে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ, আর কাউকে শেখাবেন না তার তুল্য কৌশল। এহেন পরিস্থিতিতে নিজের এবং নিজের পরিবারের জন্য কষ্টার্জিত শান্তি আর স্বাচ্ছল্য তিনি হেলায় হারাতে পারেন না সামান্য এক নিষাদের ছেলের স্বপ্নপূরণ করতে গিয়ে। কিন্তু এই ছাত্র যে আবার গড়পড়তা শিক্ষানবিশের চেয়ে স্বতন্ত্র। গুরুর প্রত্যাখ্যানও তাকে দাবিয়ে রাখতে পারে না। অনুভবের অতীত সেই আদর্শের প্রতি অবিচল আগ্রহে আচার্য দ্রোণের মাটির মূর্তি গড়ে তাকে সাক্ষী করে অনুশীলন শুরু হয় তার ব্রহ্মচারীর নিষ্ঠায়। আজকের পরিভাষায় ‘ভার্চুয়াল’ সেই সাধনায় সিদ্ধি হল বটে, কিন্তু অভাগা বালকের বরাতে শেষপর্যন্ত গুরুর স্বীকৃতিটুকুও জুটল না! সে ব্যর্থতার দায় অবশ্য তার নয়, বরং ক্ষমতার পদলেহী সেই গুরুর, যিনি রাজপুত্র অর্জুনের সেরার শিরোপাটি নিশ্চিত করতে গুরুদক্ষিণার নাম করে কৌশলে কেড়ে নিয়েছিলেন একলব্যের ডানহাতের বুড়োআঙুল। জন্মের মতো ঘুচিয়ে দিয়েছিলেন অন্ত্যজ সেই ছাত্রের বামন হয়ে চাঁদে হাত দেওয়ার ‘অমার্জনীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা’। এরপরেও মহাকাব্য এগিয়ে গিয়েছে তার নৈর্ব্যক্তিক নিরাসক্তিতে, এক পর্ব থেকে অন্য পর্বে, এক কাহিনি থেকে অন্য কাহিনিতে, কিন্তু পাঠক ক্ষমা করতে পারেননি অসংবেদী আচার্যের এই নিদারুণ পক্ষপাত।

চিত্রগ্রীবের উড়ান 

ছোটবেলায় আমেরিকা-প্রবাসী সাহিত্যিক ধনগোপাল মুখোপাধ্যায়ের একটি চমৎকার গল্প পড়েছিলাম– ‘চিত্রগ্রীব’। এই চিত্রগ্রীব পায়রাটি ছিল বেজায় কুঁড়ে। সব ছানা পায়রারা উড়তে শিখে গেল, কিন্তু তার আর ডানা মেলার চাড় নেই। অনেক বকাবকিতেও যখন কাজ হল না, চিত্রগ্রীবের বাবা একদিন ঠেলতে ঠেলতে তাকে পাঁচিলের এমন কিনারায় নিয়ে গেল যেখান থেকে গড়িয়ে পড়ে যাওয়া ছাড়া আর গতি নেই। দুষ্টু ছেলে ঠিক পা-ফসকালো, আর একটু পড়তে না পড়তেই খুলে গেল তার ডানা, সে উড়তে লাগল। প্রকৃতির সহজাত এই শিক্ষা তার ভেতরেই ঘুমিয়ে ছিল, সেটাকে জাগিয়ে তোলার জন্যে ওই ধাক্কাটা ছিল জরুরি।

zoom
সাহিত্যিক ধনগোপাল মুখোপাধ্যায়

এই চিত্রগ্রীবের কথাটা আমার খুব মনে পড়ত আকাশবাণীর কাজে যোগ দেওয়ার পরপর। আমরা যারা নতুন, তার মধ্যে এক আমারই বোধহয় রেডিও-তে কাজের কোনও পূর্ব-অভিজ্ঞতা ছিল না। তখনকার কেন্দ্র অধিকর্তা ড. মলয় বিকাশ পাহাড়ি ছিলেন ভয়ানক রাশভারী মানুষ। অনুষ্ঠানের ফরম্যাট নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা তাঁর প্যাশন। সামনে পুজো। যেহেতু সেপর্যন্ত পাকাপাকি কোনও বিভাগের দায়িত্ব পাইনি, তাই বেশ কয়েকটি ভাবনাকে রূপ দেওয়ার ভার পড়ল আমার ওপর। রীতিমতো ঘাবড়ে গেলাম। রেকর্ডিং-এডিটিং-ডাবিং কিছুই সেভাবে জানি না। সহকর্মীরা ভরসা দিলেন। পুজো এল, প্রোগ্রামও হল। বেকায়দায় পড়ে চিত্রগ্রীব ডানা মেলতে বাধ্য হল। সেসময়ে বেতারের অনুষ্ঠানের রিভিউ বেরত কিছু পত্রিকায়। তারা যখন ভালো লিখল, সেই গম্ভীর মানুষটির মুখে হাসি দেখেছিলাম। ফাইল সই করতে করতে না-তাকিয়েই বলেছিলেন, ‘ভয় কেটেছে এবার?’ অথচ ভয় যে পেয়েছি, সেকথা তাঁকে মুখ ফুটে বলার সাহসই হয়নি কোনওদিন।

দেখার বেশি যে দেখা

আকাশবাণীর জন্যে রেকর্ড করা একটি কথিকায় একবার বাবা সুকুমার রায়ের কথা বলেছিলেন সত্যজিৎ রায়। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে সুকুমার যখন মারা যান, পুত্র সত্যজিতের বয়স তখন মাত্রই আড়াই বছর। স্বভাবতই অত অল্প বয়সের পিতৃস্মৃতি তাঁর একেবারেই ঝাপসা। বাবার সঙ্গে সেই অর্থে ছেলের পরিচয় হয়নি ঠিকই, তবু অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী সেই মানুষটিকে একটু একটু করে চিনেছেন তাঁর লেখায়, আঁকায়, ছাপা বইগুলির পাতায়, কিছু পারিবারিক চিঠিপত্র, লেখার খসড়া এবং একটি খেরোর খাতা থেকে।

zoom
সত্যজিৎ রায়

আত্মীয়-অনাত্মীয় সকলের মুখে মুখে শোনা টুকরো কথা জুড়ে জুড়ে গড়ে নিয়েছেন না-দেখা, স্মৃতি থেকে প্রায় মুছে যাওয়া পিতার প্রিয় অবয়ব, তাঁর ব্যক্তিত্ব। যে-কোনও সন্তানের মতোই হয়তো নিজের অজান্তেই অনুসরণ করেছেন তাঁকে, ধরতে চেয়েছেন হঠাৎ ছেড়ে যাওয়া সেই হাত। এইভাবেই বাবার প্রত্যক্ষ না-হোক, পরোক্ষ প্রভাবে তিলে তিলে হয়ে উঠেছেন তাঁর স্নেহের মানিক। চোখে না-দেখা অথচ মনের চোখে অনেক বেশি করে দেখা সেই বাবার ছায়ায় ছেলে একেবারেই সুকুমারের অনুকরণ হয়ে ওঠেননি, বরং নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে হয়ে উঠেছেন স্বতন্ত্র এক আকাশছোঁয়া প্রতিভা– সত্যজিৎ রায়।

………………….

রোববার.ইন-এ পড়ুন কৃষ্ণ শর্বরী দাশগুপ্ত-র অন্যান্য লেখা

………………….

Akashbani Bhavan Dhan Gopal Mukerji Guide Nandalal Basu Ramkinkar Baij Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar Satyajit Ray Sukumar Ray Teachers Day

Share this article on