

পেলে, জিকো, রোমারিও, রোনাল্ডো, রোনাল্ডিনহো, কাকা, নেইমার এবং আরও কত তারকার ছবি বুকে নিয়ে রাত জেগেছে ‘সিটি অফ জয়’। সেই শহরে ঐতিহাসিক ম্যাচ খেলতে আসছে ব্রাজিল টিম। দুর্গাপুজোর আগে শহর-জুড়ে যেন ভালোবাসার মরশুম! যে ভালোবাসা দিনের পর দিন সাম্বা-ঝড় দেখিয়েছে। যে ভালোবাসা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে শিহরিত হয়েছে। ইলিশ-চিংড়ির দ্বন্দ্ব ভুলে ফুটবলকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে যে দল, সেই দল এবার প্রাণের কলকাতায়।
‘সকাল সকাল ধাক্কা দিচ্ছেন কেন?’ ভিড় বাসে দাঁড়িয়ে থাকা মধ্যবয়স্ক যুবক বেশ গলা চড়িয়ে বলে উঠল। যার উদ্দেশে কথাগুলো বলা হল, তিনি পাল্টা উত্তর দিলেন, ‘ভিড় বাসের মধ্যে অমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে ধাক্কা খেতেই হয় ভাই।’ বাস হাডকো মোড় ছেড়ে বাঁক নিয়েছে। গরমে প্যাচপ্যাচে অবস্থা সবার। এরমধ্যেই চলছে বাকবিতণ্ডা।
‘শুনুন বেশি কথা বলবেন না। আপনি ঠিক করে দাঁড়ান।’ পাল্টা উত্তর এল, ‘এটা ফুটবল মাঠ হলে দেখিয়ে দিতাম, এতক্ষণে রেড কার্ড খেয়ে মাঠের বাইরে বসে থাকতেন।’
‘কী বললেন? রেড কার্ড? আপনি যে অনেক আগেই ফাউল করে বসে আছেন।’
সকাল সকাল ঝগড়ার মধ্যে ফুটবল, রেড কার্ড, ফাউল! এ জীবন শুধুই কি ফড়িং আর দোয়েলের? না কি ফুটবলেরও?

বিধাননগর স্টেশন থেকে বেরিয়ে সল্টলেক গেটের দিকে যেতে সারা বছর চোখে পড়ে ব্রাজিলের পতাকা। রোদ, ঝড়, বৃষ্টিতেও সেই পতাকা অম্লান থাকে। টালির বাড়িগুলোর ওপরে হাওয়ার তালে দুলতে থাকে সাম্বার দেশের প্রতীক। এক চিলতে জলকলের পাশে ভিড় করা মহিলাদের ছায়া দেয় হলুদ, সবুজ পতাকা। রংচটা দেওয়ালে টাঙানো থাকে স্বপ্নের নায়কদের ছবি। পেলে, জিকো, রোমারিও, রোনাল্ডো, রোনাল্ডিনহো, কাকা এবং আরও কত তারকার ছবি বুকে নিয়ে রাত জেগেছে ‘সিটি অফ জয়’। সেই শহরে ঐতিহাসিক ম্যাচ খেলতে আসছে ব্রাজিল টিম। দুর্গাপুজোর আগে শহর-জুড়ে যেন ভালোবাসার মরশুম! যে ভালোবাসা দিনের পর দিন সাম্বা-ঝড় দেখিয়েছে। যে ভালোবাসা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে শিহরিত হয়েছে। ইলিশ-চিংড়ির দ্বন্দ্ব ভুলে ফুটবলকে ভালোবাসতে শিখিয়েছে যে দল, সেই দল এবার প্রাণের কলকাতায়। যেন একটুকরো ছোটবেলায় ফিরে যাওয়া টাইমমেশিনে চেপে।
পৃথিবীর মানচিত্রে এত দেশ থাকতে, এত ফুটবল-সংস্কৃতি থাকতে, কলকাতার অলিগলিতে কেন বারবার ফিরে আসে সেই ক্যানারি হলুদ-এভারগ্রিন সবুজ? এর উত্তর খুঁজতে গেলে ফুটবলের মাঠের বাইরে যেতে হবে।

ব্রাজিলকে বাঙালি শুধু একটা ফুটবল দল হিসেবে ভালোবাসেনি, ভালোবেসেছে একটা জীবনদর্শনের মতো করে। এমন এক সময়ে, যখন মধ্যবিত্ত বাঙালির পৃথিবী ছিল পাড়ার মাঠ, স্কুল, টিউশন, দূরদর্শন আর রবিবারের দুপুরে সীমাবদ্ধ। তখন টেলিভিশনের পর্দায় হঠাৎ খুলে গিয়েছিল অন্য এক পৃথিবী। যেখানে মানুষ গোল করার পর নাচে, হারলেও সৌন্দর্যটুকু আঁকড়ে থাকে। ফুটবলকে নিছক ফলাফলের অঙ্কে মাপা হয় না। পেলের কিংবদন্তি জাদু এসে মিশেছিল বাবাদের স্মৃতিতে, রোনাল্ডোর গোল মিশেছিল আমাদের কৈশোরে, রোনাল্ডিনহোর পায়ের কারিকুরি হয়ে উঠেছিল অসম্ভবকে সম্ভব করার এক ছোট্ট স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল পাড়ার চায়ের দোকান, রাত জাগা, বিশ্বকাপের আগের দিন নতুন জার্সি কেনা, ছাদে পতাকা তোলা, বন্ধুর সঙ্গে তর্ক, আর ব্রাজিল হেরে গেলে পরদিন স্কুলে মুখ গোমড়া করে বসে থাকা। অর্থাৎ, ব্রাজিলকে ভালোবাসতে ভালোবাসতে একটা প্রজন্ম আসলে নিজের একটা সময়কে ভালোবেসে ফেলেছিল। তাই আজও কোথাও ব্রাজিলের পতাকা দেখলে শুধু একটা দেশের কথা মনে পড়ে না, মনে পড়ে সেই ঘরটা, সেই পুরনো টেলিভিশনটা, সেই মানুষগুলো, সেই রাতগুলো, যাদের অনেকেই আর আগের জায়গায় নেই।
ফুটবল বদলেছে, খেলোয়াড় বদলেছে, কলকাতাও বদলেছে। কিন্তু কিছু পতাকা এখনও একইভাবে বাতাসে দোলে। হয়তো সেই কারণেই ব্রাজিলের কলকাতায় আসা কোনও আন্তর্জাতিক দলের সফরমাত্র নয়। এ যেন বহু বছর পর নিজের ফেলে আসা শৈশবের দরজায় ফিরে এসে কড়া নাড়া।
৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে ব্রাজিল। এই ম্যাচের গুরুত্ব শুধু ব্রাজিলের মতো একটি বড় দলের কলকাতায় আসার মধ্যে আটকে নেই। অস্ট্রেলিয়া সফর সেরে সাম্বা ব্রিগেড কলকাতায় আসবে, সঙ্গে থাকবেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও এন্দ্রিক, পিএসজি-র মারকুইনোস, আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস-সহ একঝাঁক তারকা ফুটবলার।

ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আরও বড় ব্যাপার হল, ব্রাজিলের সিনিয়র দল এই প্রথম ভারতের মাটিতে খেলতে নামছে। ১৯৭৭ সালে পেলে কলকাতায় এসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটি ছিল নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে। তাই প্রায় পাঁচ দশক পরে সেই কলকাতাতেই আসছে জোগো বোনিতোর সাধকরা।
বিশ্বকাপের পর ব্রাজিল এখন নতুন ছন্দে। কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি-ও এই ম্যাচকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে কলকাতার মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিরিখে এই ম্যাচ ব্রাজিলপ্রেমী বাঙালির বহু বছরের স্বপ্নপূরণ।
কলকাতার সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক নতুন নয়। এই শহর ব্রাজিলকে শুধু টেলিভিশনের পর্দায় দেখেনি, একদিন ব্রাজিলের ফুটবল-স্বপ্নকে সত্যি সত্যিই ছুঁয়েছিল। ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পেলে যখন নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে কলকাতায় এসেছিলেন, তখন তাঁকে একবার চোখের সামনে দেখার জন্য এই শহর ভুলে গিয়েছিল তার যাবতীয় ব্যস্ততা। ইডেন গার্ডেনে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে হাজার হাজার মানুষ হাজির হয়েছিল। পেলে তখন শুধু একজন ফুটবলার নন, ফুটবলেরই প্রায় সমার্থক একটি নাম। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, এত বছর পরেও সেই সফরের স্মৃতি কলকাতার ফুটবল-সংস্কৃতিতে মুছে যায়নি। সময়ের সঙ্গে তার চারপাশে জমেছে আরও গল্প। কেউ পেলের আসা দেখেছেন, কেউ বাবার মুখে শুনেছেন, কেউ আবার সেই গল্প শুনতে শুনতেই বড় হয়েছেন। তারপর এসেছে রোমারিও, রোনাল্ডো, রোনাল্ডিনহোদের যুগ। বিশ্বকাপের রাত বদলেছে, টেলিভিশন বদলেছে, ম্যাচ দেখার পদ্ধতি বদলেছে; কিন্তু কলকাতার ব্রাজিল বদলায়নি। এক প্রজন্মের ভালোবাসা নিঃশব্দে হাত বদলেছে আরেক প্রজন্মের হাতে। তাই ৩ অক্টোবরের ম্যাচের সঙ্গে রয়েছে প্রায় অর্ধশতকের স্মৃতি, এক শহরের সঙ্গে এক দেশের ফুটবলের তৈরি হয়ে যাওয়া অদ্ভুত এক আত্মীয়তা।

ফিফা র্যাংকিংয়ে ব্রাজিল ৫ নম্বরে, আর ভারত ১৩৮! দুই দলের মাঝখানে ১৩৩ ধাপের ব্যবধান নয়, রয়েছে ফুটবলের পরিকাঠামো, অভিজ্ঞতা, অর্থনীতি, প্রতিযোগিতার মান এবং আন্তর্জাতিক সাফল্যের দীর্ঘ ইতিহাসের ফারাক। কিন্তু এই ব্যবধানটাই ভারতের জন্য ম্যাচটাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিট খেললে ভারতীয় ফুটবলাররা বুঝতে পারবেন, বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি দল কত দ্রুত বল ছাড়ে, কত দ্রুত জায়গা তৈরি করে, ভুলের কত কম সুযোগ দেয় এবং চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মান কতটা আলাদা হতে পারে। এমন অভিজ্ঞতা কোনও ক্লাসরুমে শেখানো যায় না। ব্রাজিলের মতো প্রবল শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজের সীমাবদ্ধতাগুলো চোখের সামনে দেখতে পারাটাও ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। একইসঙ্গে এই ম্যাচ ভারতীয় ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহও বাড়াতে পারে। যে গ্যালারি ব্রাজিলের ভিনিসিয়াস, রাফিনহা বা মারকুইনোসকে দেখার জন্য ভরবে, সেই গ্যালারিই এবার ভারতীয় ফুটবলারদেরও দেখবে, বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের সঙ্গে বিরুদ্ধ লড়াইয়ে।
……………..

……………..
কলকাতার বহু মানুষ ছোটবেলা থেকে ব্রাজিলের পতাকা তুলেছেন, রোনাল্ডো-রোনাল্ডিনহোর জন্য রাত জেগেছেন; তাঁদের কাছে ব্রাজিল একটা আবেগ। কিন্তু ৩ অক্টোবর মাঠের অন্য প্রান্তে থাকবে নিজের দেশের জার্সি। তাই সেদিন হয়তো সমর্থনেরও একটা অদ্ভুত দ্বন্দ্ব তৈরি হবে। হৃদয়ের একদিকে হলুদ-সবুজ, অন্যদিকে নীল-সাদা-কমলা। কেউ ব্রাজিলের ফুটবলশিল্প দেখতে চাইবেন, পাশাপাশি আবার ভারতের একটি গোলের জন্য হয়তো গলা ফাটাবেন। এই দ্বন্দ্বই আসলে কলকাতার ফুটবল-সংস্কৃতির সৌন্দর্য।

ভিনদেশী একটা দলকে গভীরভাবে ভালোবেসেও নিজের দেশের ফুটবলকে ঘিরে স্বপ্ন দেখা যায়। আর হয়তো এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে সেখানেই, ব্রাজিল কলকাতাকে শুধু একটি ফুটবল-রাত দেবে না, ভারতীয় ফুটবলকে নিজের আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে। সেদিন যুবভারতীর মাঠে তাই শুধু ভিনিসিয়াসের দৌড়, মারকুইনোসের নেতৃত্ব দেখার অপেক্ষা থাকবে না। অন্যপ্রান্তে থাকবে গুরপ্রীত সিং সান্ধুর গোলপোস্ট, আনোয়ার আলির রক্ষণ, অনিরুদ্ধ থাপার মাঝমাঠ, সাহাল আবদুল সামাদের পায়ের কাজ, মনভীর সিংয়ের গতি, রাহিম আলি কিংবা রায়ান উইলিয়ামসের নিজেদের ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। একদিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল-শক্তি, অন্যদিকে নিজের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা ভারত। ব্যবধান যতই থাকুক, মাঠে নামার পর ফুটবল তো আর র্যাংকিংয়ের অঙ্ক মানে না। ৯০ মিনিটের মধ্যে কখনও কখনও একটা ভুল, একটি সেভ, একটা গোলই বদলে দিতে পারে ম্যাচের পুরো গল্প। আর সেই গল্প দেখার জন্যই তো গ্যালারি ভরবে। কিন্তু কলকাতার ফুটবলকে শুধু ৯০ মিনিটের মধ্যে আটকে রাখা যায় না। এই শহরে ফুটবল ম্যাচ শুরু হয় অনেক আগে, শেষও হয় অনেক পরে। চায়ের দোকানে খবরের কাগজের পাশে শুরু হয় একাদশ নিয়ে তর্ক, পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে কেউ বলে ব্রাজিলের মাঝমাঠ দুর্দান্ত, কেউ পাল্টা বলে ভারত অন্তত লড়াইটা করবে। অফিসের ক্যান্টিনে দুপুরের খাবারের সঙ্গে আলোচনা চলে কে কাকে মার্ক করবে, কলেজের আড্ডায় প্রেমের গল্পের মাঝেও ঢুকে পড়ে ফুটবল, আর রাজনীতির মিছিলে যে মানুষটি সারাদিন তর্ক করেন, সন্ধ্যায় তিনিই হয়তো পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে বসে রোনাল্ডোর গোলের ভিডিও দেখেন। কলকাতার রাজনীতি, সাহিত্য, সিনেমা, গান, প্রেম, বন্ধুত্ব সবকিছুর মধ্যেই কোনও না কোনও ভাবে ফুটবল ঢুকে পড়েছে। এখানে রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, পাড়ার ক্লাব আলাদা হতে পারে, ইলিশ আর চিংড়ি নিয়ে যুদ্ধ হতে পারে, কিন্তু বিশ্বকাপের রাতে একই চায়ের দোকানে সবাইকে একসঙ্গে বসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ফুটবলের আছে।

এই শহরে ফুটবল তাই নিছকই খেলা নয়, কথোপকথনের আরেক ভাষা। প্রেমিক তার ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে দেখা করার অজুহাত হিসেবে ম্যাচ দেখতে যায়, বন্ধুরা তর্ক করতে করতে রাত পার করে। পাড়ার দেওয়ালে রাজনৈতিক পোস্টারের পাশেই উঠে আসে ফুটবলারের মুখ, কোনও বাড়ির ছাদে জাতীয় পতাকার পাশে উড়তে থাকে ব্রাজিলের পতাকা, আবার বিশ্বকাপের রাতে একই মানুষ ভারতের জয়েও চিৎকার করে ওঠে। ফুটবল কখন যে খেলা থেকে স্মৃতি হয়ে যায়, কখন স্মৃতি থেকে সম্পর্ক, আর কখন সম্পর্ক থেকে শহরের সংস্কৃতি– তার কোনও নির্দিষ্ট মুহূর্ত নেই। তাই ৩ অক্টোবরের রাতে ব্রাজিলের সঙ্গে ভারতের ম্যাচ শেষ হয়ে যাবে। আলো নিভবে, গ্যালারি খালি হবে, খেলোয়াড়েরা হোটেলে ফিরে যাবেন, ব্রাজিলের তারকারাও ফিরে যাবেন। কিন্তু ফুটবল থেকে যাবে। কোনও চায়ের দোকানে, কোনও ভিড় বাসে, কোনও কলেজের বারান্দায়, কোনও পাড়ার ক্লাবঘরে। আবার হয়তো কোনও এক সকালে ভিড় বাসে দু’জন অচেনা মানুষ ধাক্কা নিয়ে ঝগড়া করতে করতে ফুটবলের উদাহরণ টেনে বলবে ’ফাউল করেছেন!’ অন্যজন হয়তো সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেবে, ‘রেফারি কিন্তু অন্য কথা বলছেন!’ তখন বোঝা যাবে, ব্রাজিল সেদিন কলকাতায় শুধু একটা ম্যাচ খেলতে আসেনি। সে এসে আবার মনে করিয়ে দিয়ে গিয়েছে এই শহরে মাঠের ভিতরে যতটা খেলা হয়, মাঠের বাইরে হয় তার চেয়ে ঢের বেশি।
কলকাতার জীবনে ফুটবল তো আলাদা কোনও অধ্যায় নয়; ফুটবল আসলে এই শহরের একটি ভাষা, বহমান রূপকথা।
…………………….
রোববার.ইন-এ পড়ুন আদিত্য ঘোষ-এর অন্যান্য লেখা
…………………….
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved