

আজও পৃথিবীর বহু মানুষ ‘ফাভেলা’ শব্দটাকে শুধু বস্তি হিসেবে চেনে। কিন্তু ফাভেলা আসলে শুধু দারিদ্রের গল্প নয়। ফাভেলা হল বেঁচে থাকার জেদ। রাষ্ট্রের অবহেলার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ। এই ফাভেলার সরু গলিতেই ফুটবলের নতুন ভাষা তৈরি হয়েছিল।
বড় দল ছোট দলের কাছে হারলে তাকে অঘটন না বলে অন্য কিছু বলা যায় কি? বলা যায়– ফুটবল! কারণ, এই খেলার সবচেয়ে বড় সত্যই হল, এখানে কোনও ফল আগে থেকে লেখা থাকে না। আর সেই কারণেই কোটি কোটি মানুষ এখনও বিশ্বাস করেন, ৯০ মিনিটে অসম্ভবও সম্ভব।
খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিশেলও প্রত্যেকদিন প্র্যাকটিস করেন। খেলার দিন ৯০ মিনিট টানা দাঁড়িয়ে থাকার জন্য, অন্যান্য দিন ৪০ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করেন কঙ্গোর ‘লুমুম্বা ভেয়া’।
২০২০ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বরুশিয়া মনচেনগ্ল্যাডবাচের বিরুদ্ধে বিরতিতে টানেলে দাঁড়িয়ে সতীর্থ ফার্লান মেন্ডিকে বেনজেমা বলেছিলেন, ‘ওকে (ভিনিসিয়াস) বল দিও না। ও আমাদের বিরুদ্ধে খেলছে।’ রিয়াল জার্সিতে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন বেনজিমা। নেপথ্যে ভিনিসিয়াসের ঠিকানা লেখা পাসের জাদু কম নয়।
লোগো নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই একটা মজার ঘটনা ঘটে গেল পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন সান ফ্রান্সিসকোর ‘বে এরিয়া’ স্টেডিয়ামে।
পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ ৪৮ দেশের। তার মধ্যেই চোখ টেনেছে এক পরিসংখ্যান। তাদের ‘ককরোচ ক্যাডার’ দিয়ে আর্জেন্টিনা সংখ্যায় টেক্কা দিয়েছে বাকি বিশ্বকে। কারা এই ‘ককরোচ ক্যাডার’?
‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকার সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার এই বিশ্বকাপকে বলছেন, ‘ট্রাম্পের বিশ্বকাপ’। ইরানি ফুটবলারদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, সেখানকার ফুটবলপ্রেমীদের আমেরিকায় ঢুকতে না দেওয়া, ‘আতঙ্কবাদী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া, মুসলিম ও আফ্রিকান রেফারিকে নাকাল করা বুঝিয়ে দিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ বর্ণবিদ্বেষবাদ, যুদ্ধ বা পক্ষপাতদুষ্টতাকে সঙ্গে নিয়েই চলবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গোলের পর যখন উদ্বেল মেক্সিকোর গ্যালারি, তখন উন্মুক্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে বাবাকেই খুঁজছিলেন রাউল। তাঁকে কি কি বলছিল গ্যালারিতে ২৫ বছর বসে থাকা ইগনাসিও-র ব্রোঞ্জের মূর্তি?
আবিশ্ব এই পাল্টে যাওয়া ফুটবল সংস্কৃতিকে স্টেফান লরেন্স এবং গেরি ক্রফর্ডের মতো গবেষকেরা অভিহিত করেছেন ‘ডিজিটাল ফুটবল কালচারস’ নামে। এখন বাঙালিও তার অংশীদার। না-ছুঁতে পারা ভৌগোলিক দূরত্ব সে মিটিয়ে নিয়েছে সমাজমাধ্যমে।
প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বাজেটের বিপুল আয়োজন, চূড়ান্ত আনন্দ-উল্লাস এবং নানা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের জৌলুসের উন্মাদনায় সকলে যখন মোহিত, তখন কেউ কি কল্পনা করতে পারছেন যে, ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দূষণকারী আসর হতে চলেছে!
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved