Robbar

মিনি সিরিজ

গুহাচিত্রে শিকারের ছবির মতোই রোমাঞ্চকর বাজারপাঠ

‘বাজার করিবার সহজ উপায়’। রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের এই কাব্যগ্রন্থটি, উপাদেয় বইয়ের তালিকায় রাখতেই হল। ‘রোববার’ পত্রিকায় দীর্ঘদিন ‘রোববারের বাজার’ লেখার আগে, এই কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছিল ‘রুচিরঙ্গ’ প্রকাশন থেকে। যে সকল বাঙালির জিভে স্বাদ নেই, তাঁরা মন দিয়ে পড়ুন। স্বাদ ফিরে পাবেন, নিশ্চিত।

→

প্রায় শতবর্ষ প্রাচীন ‘পাক-প্রণালী’ থেকে ভেসে আসে চিৎপুরের সেকেলে ঘ্রাণ

মূলত সচেতন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালির রসনাতৃপ্তির কথা ভেবেই শরৎচন্দ্র দাস লিখেছিলেন তাঁর বইটি। এজন্য লেখক বর্ণিত বেশিরভাগ রান্নাই প্রয়োজনীয়। তবে যুগপৎ একঘেয়েমি এড়াতে ও বৈচিত্র আনতে সূচিতে স্থান পেয়েছে ‘হাবসী পোলাও’, ‘ফরাসী কালিয়া’, ‘গোলাপ ফুলের পোলাও’, ‘মোগলাই সিঙ্গারা’, ‘আমের বর্ফি’-র মতন পদ।

→

বিফের মতো সুপাচ্য, পুষ্টিকর মাংস ভূ-ভারতে নেই, মেয়েকে চিঠিতে লিখেছিলেন বুদ্ধদেব বসু

একুশ শতকের ভারতে, এমনকী কখনও বাংলাতেও বিশেষ রাজনৈতিক মদতপুষ্ট ব্যক্তিরা হুংকার ছাড়েন আমিষ বর্জনের। খবরে প্রকাশ, দেশের কোথাও-কোথাও না কি নবরাত্রির সময় (হায়! আমরা আগে রামনবমী নয়, অন্নপূর্ণা পুজো বলতাম) হপ্তাভর আমিষ খাওয়া নিষিদ্ধ। কলকাতায় চিকেন প্যাটিস বিক্রেতা রিয়াজুলকে হেনস্তার খবরও অজানা নয়। কিন্তু বু.ব.-র লেখায় পড়ছি স্বয়ং বাল্মীকি তাঁর কাব্যে বনবাসী রাম-লক্ষ্মণকে প্রায়ই দেখিয়েছেন মৃগয়ায় পাওয়া রাশিকৃত পশু নিয়ে ঘরে ফিরতে।

→

পানীয় সংবাদ

মদ নিয়ে বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে অজস্র বইয়ের নাম করা যায়। যখন হাতের কাছে নেই কোনও পানীয়, ধীরে ধীরে চুমুক দিন এইসব বইয়ের পাতায়। তবে মনে রাখবেন পাস্তুরের সেই অমোঘ উক্তি: ‘A bottle of wine contains more philosophy than all the books in the world.’

→

লীলাদিকে ‘রান্নার বই’ লিখতে বলেছিলাম আমিই

আমি প্রায়ই বলতাম, লীলাদি আপনি রান্নার ওপর একটা বই তো লিখতে পারেন! নানা কাজের চাপে উনি তখন না-লিখতে পারলেও, পরে, ১৯৭৯ সালে, ‘রান্নার বই’ তাঁর মেয়ের সঙ্গে লেখেন। জনপ্রিয়তার নিরিখে এ আমার নয়, সমস্ত বাঙালি জাতির গর্ব ও বিশেষ প্রাপ্তি।

→

শ্যামল গাঙ্গুলির দেখা একেকটা বাজার আসলে একেকখানা উপন্যাস

এ এক অন্য অনন্য গ্রন্থ। পড়তে পড়তে কেবলই মনে হয়, বাজার শুধু কেনা-বেচার জায়গা নয়। বাজার একজন জবরদস্ত হেডমাস্টার। আপনাকে মানুষ চেনায়। রুচি শেখায়। মানুষে মানুষে সম্পর্ক বোঝায়। সহানুভূতিশীল করে তোলে।

→

বিয়ে এখন ক্লেশ নয়, ক্লিশে

স্বামী বিয়ের বাইরে পা ফেলে অন্য নারীর আঁচ পোয়াবে স্ত্রীকে জানিয়ে। স্ত্রী বিয়ের গণ্ডির বাইরে ভিন্ন পুরুষের ওম পোয়াবে স্বামীকে অবগত রেখে। যেমন এক রান্না রোজ খাওয়া যায় না। স্বাদ বদলের প্রয়োজন আছে। তেমনই আর কী! এতে কোনও অন্যায় নেই। এইটুকু মেনে নিতে পারলে বিয়েটা সহনীয় হয়ে উঠতেও পারে।

→

ক্যানেস্তারা নয়, কনসার্ট

রাতের অন্ধকার কেটে বেরিয়ে আসছে রক্ত উর্দি, কাঁধের অ্যাপোলেট– পিতলের ঝালর। ঘনকৃষ্ণতনু ক্ল্যারিওনেট। উজ্জ্বল সোনালি কটিবন্ধে চিকন বাগপাইপার। ট্রা রালা লি রালা লা। দেড়শ টাকা রোজ। ট্রা রালা লি রালা লা। বড়বাজারের গুমটিতে ঠাসাঠাসি। ট্রা রালা লি রালা লা। সস্তা মদ। আয়রনি অফ সেলিব্রেশন।

→

বিবাহের বিচিত্র উপহার

‘বিয়ের উপহার’ মানে কী? দিচ্ছেটা কে? যৌতুক, তত্ত্ব, এ-সবের মধ্যে ‘উপহারের’ ছদ্মবেশে কি গোপনে উল্লাস করে চলে পণপ্রথা? নাকি শুধুই বিবাহ-অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত-অভ্যাগতরা যে উপহার দিয়ে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান, তা-ই শেষকথা? এ গদ্য বিয়ের বিবিধ উপহার নিয়ে এক সবিস্তার সরস কাহিনি।

→

বিয়েবাড়ির ভোজবদল

কেটারিংয়ের ভোজ কলকাতার খুব হাতেগোনা বর্হিষ্ণু পরিবারে আগে থেকে চালু থাকলেও যতদূর মনে হয়, '৭৫-এর  জরুরি অবস্থার সময়ে গৃহস্থ যখন অনুষ্ঠানবাড়ির নিমন্ত্রিতের সংখ্যা কমাতে বাধ্য হলেন, তখন থেকেই সম্ভবত মধ্যবিত্ত পরিসরেও এই ঘরোয়া পরিষেবাটির আউটসোর্সিং শুরু হয়।

→