Robbar

মিনি সিরিজ

আমার বন্ধু জয়

১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে যখন জয়কে দেখলাম, চেয়েছিলাম, তিনি কিছু বলুন। কিন্তু দর্শকদের আপত্তিতে জয় মঞ্চে উঠেও কথা না বলে নেমে গেলেন। আমি গভীরভাবে ব্যথিত। জয়কে অপমান করা শুধু জয়কে অপমান করা নয়; তাঁকে যিনি মঞ্চে ডেকেছেন, সেই আমাকেও অপমান করা। কবিতাকে অপমান করা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অপমান করা।

→

আমার বন্ধু তসলিমা

সাহিত্যের জন্য নিজেকে কতদূর সমর্পণ করা যায়, নিজের সংকল্পে স্থির থাকা যায়– তার মস্ত উদাহরণ হয়ে থাকবেন তসলিমা। কিন্তু প্রশ্ন: তসলিমা নাসরিনের লড়াই, সাহিত্য, জীবনের দার্শনিকতা– আত্মজীবনী, উপন্যাস ও কবিতার মধ্য দিয়ে যেখানে পৌঁছল, সেই স্বাধীন পৃথিবীর নাগরিক এখন কারা?

→

রাতলণ্ঠন

রাতের যে-ট্রেন যাত্রী বমি করতে-করতে শেষ স্টেশনের দিকে এগিয়ে চলে, সে-ই তো পরের ভোরে সরীসৃপের মতো যাত্রী খেতে-খেতে শহরগামী হয়। সপ্তাশ্ব ঘোড়ায় চেপে টহল দেওয়া সূর্যের আলো কি তখন তার রাতপোশাক ও রাতসিঁদুর মুছে দিতে চায়?

→

পরলোক ফেরত

প্ল্যানচেটের দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে আছে আমার পরিবারের সঙ্গে। বাবা তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্ল্যনচেটে কথা বলতে চেয়েছিলেন বিভূতিভূষণের সঙ্গে। এসেছিলেন তিনি। স্পষ্ট সই করেছিলেন নিজের নাম। মা জানতে চেয়েছিলেন ইউনিভার্সিটি পরীক্ষায় পাস করবেন কি না, কিন্তু লজ্জায় সেই প্রশ্ন করে উঠতে পারেননি।

→

তসলিমা ফিরছেন, কলকাতা?

কলকাতায় তসলিমা নাসরিনের আগমনের কিছুদিন মাত্র আগে, ২২ জুলাই, যাদবপুরের এক ছোট্ট বইয়ের স্টল, ‘কাউন্টার এরা’য় একদল কট্টর এসে শাসিয়ে যায়। তারা জানায়, এই বইয়ের স্টলে ‘দেশদ্রোহী’ বই বিক্রি হয়। তাদের দোকান ভেঙে, পুড়িয়ে দেওয়া হবে– এতদূর শান্তির বার্তাও ক্ষমতাধারীরা জানিয়ে গিয়েছে। সময়ের দূরত্বে তসলিমা নাসরিনের ফেরা আর যাদবপুরের বইয়ের স্টলে হামলা খুব দূরবর্তী নয়।

→

বাড়ি ফেরার ভয়

‘রাত করে বাড়ি ফেরা’ আর ‘একজন মেয়ের রাত করে বাড়ি ফেরা’র মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে একজন মেয়ের কাছে ঘরের প্রোটেক্টিভ পেট্রিয়ার্কির চেয়ে পথই হয়ে উঠতে পারে বেশি নিরাপদ। ফেরার শান্তি কি তখন আর একরকম থাকে?

→

আবার সে এসেছে ফিরিয়া

বাস্তব জীবনে দেখেছি, কিছু ঘটনা সরাসরি ফিরে আসে, কিছু ঘটনা নব নব রূপে ফিরে আসে। চলে যায় চুরি, ফিরে আসে পুকুর চুরি। চলে যায় গুন্ডা, ফিরে আসে গুন্ডাদমন আইনের ভীতি। চলে যায় তোলা, ফিরে আসে খাটের তলার টাকার ঝোলা।

→

উর্দু কবিতার ঈশ্বর

মির তকি মির। আমার কাছে তিনি ফিরে আসেন তাঁর কবিতার মাধ্যমে করা স্বীকারোক্তির কায়দার জন্য। আজকের পৃথিবীতে মার্কিন কনফেশনাল কবিতা বা স্বীকারোক্তিমূলক অন্যান্য রচনার যে পরিসর তৈরি হয়েছে– তার যেন এক বীজতলা এই মির প্রদেশ।

→

ক্ষমতার কাছে, নয়তো কবিতার কাছে

নিজামুদ্দিন তাঁর দরগাহ খুলে দিয়েছিলেন। তবু আমির খুসরু অপেক্ষা করেছিলেন আট বছর। রক্তক্ষয়, যুদ্ধ, ক্ষমতা কি মূক করে দিয়েছিল তাঁকে? আজ সুদূর সিরিয়া থেকে আসা সালমান দারবিশের প্রিয় বাদ্যযন্ত্র যখন বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত, তখন তার মুখের উপর আমির খুসরুর ছায়া পড়ে। ক্ষমতার ছায়া কি কবিতা মুছে দিতে পারে?

→

কবিতা মার্কেসের আখ্যানের পিলসুজ

গার্সিয়া মার্কেসের ক্ষেত্রে আখ্যানের নির্মাতা শুধু চারপাশ বা আখ্যানকার নন। তাঁর নিজের কথায়, কবিরাই তাঁকে দিয়ে লিখিয়েছেন। যেমন হোমার তেমন পাবলো নেরুদা। কবিতাই তাঁর চালিকাশক্তি। তাঁর নোবেল পুরস্কারের ব্যাঙ্কোয়েট ভাষণের নাম তাই ‘কবিতার জন্য উল্লাস’।

→