

আমার মা, প্রতিমা ঘোষ, বিদুষী, অধ্যাপক, লেখক, সুন্দরী, সুভাষিণী, সুহাসিনী, শান্ত, ধৈর্যশীলা, আর কবি অধ্যাপক শঙ্খ ঘোষের ২০ বছর বয়স থেকে বান্ধবী এবং ২৪ বছর বয়স থেকে অর্ধাঙ্গিনী। এই প্রত্যেকটি বিষয় নিয়ে অনেক অনেক কথা লেখা সম্ভব। কিন্তু আজ মনে হল, আমার মা কি সেই সময়ের নিরিখে ঠিক ঠিক ‘আধুনিকা’? প্রগতিশীল?
যে-আড়ালের কথা শঙ্খ ঘোষ ‘নিঃশব্দের তর্জনী’তে লিখেছে, সেই আড়ালেরই আরেকটা অসম্ভব উদাহরণ হয়ে, একই বাড়িতে, প্রতিমা ঘোষ বেঁচেছিলেন।
মাছ বৃহত্তরভাবে বাঙালি জীবনের আনাচকানাচে এমনভাবে ছড়িয়ে আছে, যার প্রভাব প্রশ্নাতীত। কিন্তু যা নজর করা দরকার, তা হল, এই মাছকেন্দ্রিক পরিসরের ক্ষেত্রটি আখেরে হিন্দু বাঙালির জীবনের বিশেষ এক রকমের ছবি।
লোকসংস্কৃতির আলোচনায় ‘মেছোভূত’-কে সাধারণত এমন এক অতৃপ্ত আত্মা হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল মাছের প্রতি অদম্য লোভ। মেছোভূত হল বাংলার মানুষের দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস এবং তার সঙ্গে যুক্ত মানসিক নির্ভরতার এক রূপক প্রকাশ।
জলপাইগুড়ি বাইপাসের অস্থায়ী বাজারে ঢুকে শুনলাম, পাশেই বয়ে চলা তিস্তা ছাড়াও এ-বাজারে আসে ধরলা ও জলঢাকা নদীর টাটকা মাছ। বিঘৎখানেক বোরোলি তো আছেই, চোখে পড়ল প্রমাণ সাইজের খোকসা, মৃগেল আর বিশাল সাপের আকৃতির বামুশ বা বাঙোশ মাছ! তবে সবচেয়ে বেশি আপ্লুত হলাম কিলো চারেকের বাঘা মহাশেরের দর্শনলাভ করে।
১৯৬৮ সালে ডেমোক্র্যাটদের জাতীয় কনভেনশনে এবং দু’ বছর পরে ব্ল্যাক প্যান্থারদের বিদ্রোহী সমাবেশে উপস্থিত থেকে তিনি অবিরাম কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করেছিলেন। এই সময় প্রাচ্যপ্রীতির অর্থ কি পাশ্চাত্যকে পুরোপুরি বর্জন? আমার তো মনে হয়, তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের ভক্তিরস এবং মানবতার ভিতর সেতুস্থাপন করতে উন্মুখ ছিলেন।
উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, অ্যালেন গিনসবার্গের দেখায় এনে দিয়েছিলেন সেই ভাবনার ছাপ যা বৌদ্ধ-দর্শনের সঙ্গে দ্বিরালাপে আরও ঋদ্ধ হল। তাঁকে নিয়ে গেল তাৎক্ষণিক দেখার কবিতা জগতে। গীতল নয়, বরং নিজের ভিতরকার অন্ধকার থেকে ঠিকরে বেরিয়ে দুনিয়ার অন্ধকারের সঙ্গে একাত্ম হওয়া।
বাঙালি মেয়ের সঙ্গে মাছের সম্পর্ক বেশ পুরনো। কোটা-রাঁধা-বাড়া কিংবা বেচাকেনা– দুই ক্ষেত্রেই মাছের সঙ্গে মেয়েদের সম্পর্ক নানাভাবে নানা স্তরে, আজও রয়েছে। আর তার সাক্ষ্য ধরা আছে মেয়েদের নিজস্ব গানে। মেয়েদের মৎস্যপুরাণ তাই অন্দর-বাহিরের নানা জানলা খুলে দেয়।
এ বছর অ্যালেন গিনসবার্গের শতবর্ষ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সুবোধ সরকারের গিনসবার্গ সম্বন্ধীয় যে বক্তৃতা, তারই কিছু অংশের তরজমা।
নির্বাচনী জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তির পর প্রতিপক্ষকে মাছ-ভাত খাওয়ানোর চ্যালেঞ্জ বিজেপি সত্যিই রাখতে পারে কি না, লক্ষ্য থাকবে সেদিকেও। শেষের কথাটি হল, বাঙালির আমিষ খাদ্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যহরণ করা কোনও রাজনীতির পক্ষেই সম্ভব নয়।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved