মেলার শেষ দু’দিন বা তিনদিন বেশিররকম ছাড়ে বই দেওয়া হত। নাম ছিল ‘বইবাজার’। ৮০% পর্যন্ত ছাড়ে বই পাওয়া যেত।
কোরাস গানের সঙ্গে রুমাল উড়িয়ে হাততালি-সহ নাচতে দেখেছি কৃত্তিবাসের লেখকদের। তাঁদের মধ্যে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও থাকতেন।
একদিন দেখা গেল, তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অশোক মিত্র-কে হাত ধরে টানতে টানতে লিটল ম্যাগাজিনের ছাতার দিকে এগিয়ে চলেছেন কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। অশোক মিত্র সামান্য বিব্রত হলেও হাসছিলেন। একটি ছাতার কাছে তরুণ কবিদের স্টলের সামনে এসে থামলেন তাঁরা। অশোক মিত্র বললেন, ‘বীরেনবাবুর কবিতার বইগুলি আমি কিনতে চাই।’
সুবিমল মিশ্র বড় বড় সাদা চুল নিয়ে, একটা সাদা কাগজ হাতে আমার পিছনে ছুটছে। আবেদন, একটা মুখাবয়ব এঁকে দিতে হবে।
প্রায় লক্ষাধিক বই আগুনের গ্রাসে পুড়ে শেষ। তার সঙ্গে শেষ ‘এ মুখার্জী’র স্টলে রাখা 'ঝরা সময়ের গান'-এর বুকলেট এবং ক্যাসেট।
শিল্পীদের বইমেলা, সইমেলাও বটে।
আমার মনে আছে, ওই দিনটিতে সন্ধ্যায় আমি কফি হাউসে ছিলাম। গিল্ডের বিমল ধর, সুপ্রকাশ বসুরা জোড়হস্তে টেবিলে টেবিলে ঘুরে সকলকে বইমেলায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, যেন গিল্ডের মেয়ের বিয়ে। আমরা, সে সময় অল্প বয়স, মেতে উঠেছিলাম।
একটা উধাও হওয়া নদী আর তার সন্ধানে একটি জনজাতির উন্মাদনা প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে উপকথার মতো উৎসবে পরিণত হয়।
কোনও কোনও মুহূর্ত মনের মধ্যে অনন্তের ফ্রেমে স্টিল হয়ে যায়। এই সেই মুহূর্ত, ফ্রোজেন ইন বিউটি! শুধু কলকাতার বইমেলায় কেন, পৃথিবীর যে-কোনও কালের যে-কোনও বইমেলার সেরা সুন্দরীকে আমার দেখা হল, এখনও ভাবি একই কথা।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved