

পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ ৪৮ দেশের। তার মধ্যেই চোখ টেনেছে এক পরিসংখ্যান। তাদের ‘ককরোচ ক্যাডার’ দিয়ে আর্জেন্টিনা সংখ্যায় টেক্কা দিয়েছে বাকি বিশ্বকে। কারা এই ‘ককরোচ ক্যাডার’?
একটা ক্রিকেটীয় দর্শন। একটা বোধ। উল্লাস এবং প্রচারবিমুখ। কীভাবে তৈরি হয় একজন ক্রিকেটার? অফুরন্ত রান আর সেঞ্চুরি মানেই কি সে একজন ব্যাটসম্যান?
‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকার সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার এই বিশ্বকাপকে বলছেন, ‘ট্রাম্পের বিশ্বকাপ’। ইরানি ফুটবলারদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, সেখানকার ফুটবলপ্রেমীদের আমেরিকায় ঢুকতে না দেওয়া, ‘আতঙ্কবাদী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া, মুসলিম ও আফ্রিকান রেফারিকে নাকাল করা বুঝিয়ে দিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ বর্ণবিদ্বেষবাদ, যুদ্ধ বা পক্ষপাতদুষ্টতাকে সঙ্গে নিয়েই চলবে।
এই প্রাইড মান্থে হয়তো প্রচুর আলোচনা হবে অনয়া বাঙ্গারের ক্রিকেটে প্রবেশাধিকার না-থাকা নিয়ে। সহানুভূতির বন্যা বয়ে যাবে। তবে নিশ্চিতভাবেই, একজন ক্রিকেটার হিসেবে অনয়া বাঙ্গার ব্যর্থ। এবং এই ব্যর্থতার দায় সমস্ত লিঙ্গের মানুষের ওপর বর্তায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গোলের পর যখন উদ্বেল মেক্সিকোর গ্যালারি, তখন উন্মুক্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে বাবাকেই খুঁজছিলেন রাউল। তাঁকে কি কি বলছিল গ্যালারিতে ২৫ বছর বসে থাকা ইগনাসিও-র ব্রোঞ্জের মূর্তি?
আবিশ্ব এই পাল্টে যাওয়া ফুটবল সংস্কৃতিকে স্টেফান লরেন্স এবং গেরি ক্রফর্ডের মতো গবেষকেরা অভিহিত করেছেন ‘ডিজিটাল ফুটবল কালচারস’ নামে। এখন বাঙালিও তার অংশীদার। না-ছুঁতে পারা ভৌগোলিক দূরত্ব সে মিটিয়ে নিয়েছে সমাজমাধ্যমে।
প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বাজেটের বিপুল আয়োজন, চূড়ান্ত আনন্দ-উল্লাস এবং নানা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের জৌলুসের উন্মাদনায় সকলে যখন মোহিত, তখন কেউ কি কল্পনা করতে পারছেন যে, ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দূষণকারী আসর হতে চলেছে!
দিনশেষে ফুটবল মাঠ আসলে ইউটোপিয়াই। সে দেশ কাঁটাতারে ঘেরা ভূ-খণ্ড বোঝে না। বোঝে মানুষ। মানুষহীন দেশ হতে পারে না। দেশহীন মানুষ যদিও দিব্যি হয়। বিশ্বকাপ মিটে গেলে তাই ফুটবল খুব একা। নিঃসঙ্গ।
গিল-বৈভব-অভিষেক পরবর্তী যুগে যেখানে বদলে গিয়েছে টি-টোয়েন্টির সংজ্ঞা, সেখানেও অদম্য তাগিদে বিরাটের উইলোর উইলে কিছু প্রামাণ্য খোদাই। ছুটে চলছেন প্রতিনিয়ত, বদলে ফেলছেন নিজেকে, সিঙ্গেলকে ডাবল করছেন, ফ্লিক শটে কবজির মোচড়ে বল পৌঁছে দিচ্ছেন গ্যালারির ঠিকানায়।
দিন ১৫ পরই শুরু ফুটবল বিশ্বকাপ। কিন্তু এই ভূ-ভারতে সম্প্রচার কোথায় হবে, তার কোনও ঠিকঠিকানা নেই এখনও! কাটছেই না জটিলতা। নেপথ্যে ফিফার বিপুল অঙ্কের টাকার চাহিদা। এদিকে ফুটবল খেলার আঙ্গিকেই বিজ্ঞাপনী ঝলকের কোনও জায়গা নেই। সরকারি নয়, বেসরকারি সংস্থাগুলোও সম্প্রচার থেকে সরে আসছে। তাছাড়া, বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচই ভারতীয় সময়ানুসারে রাত ১২টা থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে। দর্শক পাওয়া যাবে? এই প্রশ্নে জ্বর আসছে না তো সম্প্রচার সংস্থাগুলির?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved