Doctor-Patient Understanding: Foundation of Healthcare। Robbar
Robbar
  • ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিকিৎসা যখন পণ্য, রোগী তখন কাস্টমার

বিধানচন্দ্র রায়ের সেবার ধারণা আজ হুবহু ফিরিয়ে আনা যাবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার ধরন বদলেছে, বদলেছে আর্থসামাজিক পরিস্থিতি। কর্পোরেট পরিকাঠামো দরকার, কিন্তু কর্পোরেট মন নয়। প্রযুক্তি দরকার, কিন্তু স্পর্শহীনতা নয়। দক্ষতা দরকার, কিন্তু দয়ার বিনিয়মে নয়। চিকিৎসা পণ্য হতে পারে না, যদিও তা ক্রয় করতে হয়। হাসপাতাল ব্যবসা চালায়, কিন্তু তার ভিতরে থাকে জীবনরক্ষার অঙ্গীকার। এই ভারকে যদি আমরা বাজারের দাঁড়িপাল্লায় মাপতে চাই, তবে চিকিৎসার আসল উদ্দেশ্যটাই হারিয়ে যাবে।

শেষ আপডেট: জুলাই ১, ২০২৬, ১১:৪৬   
Facebook WhatsApp Messenger

অসুখ মানে শুধু শরীর খারাপ হওয়া নয়, অসুখ মানে সারা পরিবারের আবহাওয়ার পরিবর্তন, উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগ। আজ থেকে দশক দেড়েক আগেও ডাক পড়ত পাড়ার ডাক্তারের। তাঁর আগমনে কোনও আড়ম্বর ছিল না, ছিল না বিরাট কোনও ডিগ্রির অহংকার। ওষুধপত্রে ভর্তি চামড়ার কালো ব্যাগ হাতে তিনি আসতেন আশ্বাস আর ভরসার বার্তা নিয়ে। তাঁর প্রশান্ত মুখ, ঘরোয়া আলাপচারিতা আর আত্মবিশ্বাসী স্পর্শে রোগীর অর্ধেক অসুখ উধাও হয়ে যেত। বর্ষার হাঁটুসমান কাদা, গ্রীষ্মের দগ্ধ দুপুর কিংবা শীতের কনকনে রাত– কোনও বাধাই তাঁকে রোগীর দরজায় পৌঁছনো থেকে আটকাতে পারত না। ডাক এলেই ওষুধপত্রে ভরা চামড়ার কালো ব্যাগ হাতে তিনি বেরিয়ে পড়তেন। রোগীর বাড়িতে পৌঁছে তাঁর কাজ কেবল নাড়ি দেখা বা জ্বর মাপাতেই শেষ হত না। তিনি তাকাতেন চারপাশে– ঘরের মানুষগুলোর মুখে কতটা দুশ্চিন্তা, কার চোখে ভয়, কোথায় অভাব, কোথায় অসহায়তা– সবই যেন নিঃশব্দে বুঝে নিতেন। রোগীর অসুখের সঙ্গে সঙ্গে তিনি চিনে নিতেন সংসারের অস্থিরতাকেও। কখনও দু’-একটি সান্ত্বনার কথা, কখনও আত্মবিশ্বাসী আশ্বাস, কখনও বা মৃদু হাসির আড়ালে তিনি ফিরিয়ে দিতেন ভরসা। তাঁর চিকিৎসা তাই শুধু ওষুধের শিশি কিংবা প্রেসক্রিপশনের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকত না, তা ছড়িয়ে পড়ত রোগীর বিছানার পাশে বসা এক মানবিক উপস্থিতিতে। তিনি যেন রোগের পাশাপাশি পরিবারের ভেঙে-পড়া মনটাকেও চাঙ্গা করে তুলতেন।

zoom
‘ধন্যি মেয়ে’ ছবির একটি দৃশ্য

আজও অসুখ আছে, ভয় আছে, আছেন ডাক্তারও। কিন্তু হারিয়ে গিয়েছে পুরনো দিনের অনাড়ম্বর স্মৃতিতে ঘেরা সেই সহজ-সরল দিনগুলি। তখন আজকের মতো বিশ্বমানের চিকিৎসার সুযোগ ছিল না। ছিল না MRI, CT Scan, USG কিংবা বিশাল অট্টালিকার ঘেরাটোপে কর্পোরেট চিকিৎসার সুযোগসুবিধা। সেকালে অসুখ না সারলে কিংবা রোগীর মৃত্যু হলে, সেটাকে অদৃষ্টের লিখন বলেই মেনে নেওয়া হত। ডাক্তারকে দোষ দেওয়া বা তাঁকে নিগ্রহ করার কথা ভাবাই যেত না।

এখন রোগী আর ডাক্তারের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছে কর্পোরেট সংস্থার বিশাল উপস্থিতি, যেখানে রোগী হয়ে ওঠে ‘ক্লায়েন্ট’, চিকিৎসাকে বলা হয় ‘সার্ভিস’ আর হাসপাতাল ‘সার্ভিস প্রোভাইডার’। চিকিৎসক দিবসে ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের স্মৃতিচারণার প্রাক্কালে এই বদলটা আরও নিবিড়ভাবে চোখে পড়ে। বিধান রায় ছিলেন আধুনিক চিন্তাধারার মানুষ। তিনি পুরনো চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় আটকে থাকতে চাননি। তাঁর কাছে চিকিৎসা ছিল বিজ্ঞান, কিন্তু সেই বিজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘মানুষ’। রোগ নয়, রোগী। পেশা নয়, দায়িত্ব। খ্যাতি নয়, সেবা– এটাই ছিল তাঁর চিকিৎসক-সত্তার ভিত।

বিধান রায়ের সময়ের চিকিৎসা আজকের মতো এত উন্নত ছিল না। কিন্তু রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ইত্যাদির মূল্য ছিল অপরিসীম। রোগীও চিকিৎসকের সামনে নিজের শরীরের সঙ্গে মনটাও খুলে দিতেন। কোথায় ব্যথা, কতদিন ধরে জ্বর, রাতে ঘুম হয় কি না– এসবের পাশাপাশি জানাতেন আর্থিক পরিস্থিতির কথা, ছেলেমেয়েদের কথা, এমনকী সংসারের হাঁড়ির খবরও। কারণ তখন চিকিৎসা শরীরের উপসর্গের তালিকা ছাড়িয়ে মানুষের জীবনের সঙ্গে এক সামগ্রিক বন্ধনে জড়িয়ে পড়ত।

zoom
হাসপাতাল পরিদর্শনে ড. বিধানচন্দ্র রায়

গত কয়েক দশকে চিকিৎসা-বিজ্ঞানের অগ্রগতি বিস্ময়কর মাত্রায় পৌঁছেছে। একসময় যে রোগের নাম শুনলেই মানুষ মৃত্যুর অপেক্ষা করত, আজ তার অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে। যে অস্ত্রোপচার একদিন অকল্পনীয় মনে হত, আজ তা নিয়মিত চিকিৎসা-প্রক্রিয়ার অংশ। অকালপ্রসূত নবজাতককে ইনকিউবেটরে রেখে বাঁচানো যায়, হৃদযন্ত্রে ‘Stent’ বসিয়ে জীবন ফিরিয়ে দেওয়া যায়, এমনকী বিকল কিডনিও প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। ক্যানসারের চিকিৎসা, স্নায়ুরোগ কিংবা চোখের অপারেশন– প্রতিটি ক্ষেত্রেই এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন।

এই অগ্রগতির পিছনে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, সুসংগঠিত হাসপাতাল-ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ এবং বিপুল আর্থিক বিনিয়োগ। আধুনিক চিকিৎসার যে বিশাল পরিকাঠামো– অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, ২৪ ঘণ্টার জরুরি পরিষেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্সিং টিম, ল্যাবরেটরি আর অপারেশন থিয়েটারের বিপুল আয়োজন– তা ছোট চেম্বার বা একক চিকিৎসকের পক্ষে বহন করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। ফলে কর্পোরেট হাসপাতাল আজকের জটিল চিকিৎসা-ব্যবস্থার এক অনিবার্য বাস্তবতা। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু কোটি টাকার অর্থনৈতিক বিনিয়োগ। একটি আধুনিক হাসপাতালের পরিকাঠামো সচল রাখতে প্রতিদিনই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। এই আর্থিক ভার যে কতটা বিশাল, বাইরে থেকে তা সহজে বোঝা যায় না। তাই কর্পোরেট হাসপাতাল ছাড়া আধুনিক চিকিৎসা-ব্যবস্থাকে সচল রাখা কোনওমতেই সম্ভব নয়।

zoom
কর্পোরেট হাসপাতাল ছাড়া আধুনিক চিকিৎসা-ব্যবস্থাকে সচল রাখা কঠিন

কর্পোরেট চিকিৎসার সবচেয়ে বড় সাফল্য তার সংগঠনে। আর সবচেয়ে বড় সংকটও সেখানেই। সংগঠন যত বড় হয়, মানুষ তত ছোট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ‘কাস্টমার নম্বর’, ‘ফাইল নম্বর’, ‘বিলিং কোড’ ইত্যাদির মধ্যে রোগাক্রান্ত মানুষটির অবস্থা অসহায় হয়ে ওঠে। এক কাউন্টার থেকে আর-এক কাউন্টারে ছোটাছুটি, এক ফর্ম থেকে আর-এক ফর্মে সই, এক অনুমোদন থেকে আর-এক অনুমোদনের অপেক্ষা– চিকিৎসার পাশাপাশি শুরু হয় এক প্রশাসনিক যাত্রা। রোগীর পরিবার তখন রোগীর চিন্তার সঙ্গে সঙ্গে বিল, প্যাকেজ, ইনসিওরেন্স, অনুমোদন, অগ্রিম জমা– এই সব কিছুর চাপেও জর্জরিত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে অসুস্থ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে– ‘আমরা কি সত্যিই চিকিৎসার মধ্যে আছি, না কি শুধু হিসেবের মধ্যে আটকে পড়েছি?’ চিকিৎসার খরচ আজ বহু পরিবারের কাছে ভয়ের কারণ। কোথায় কত খরচ হবে, কেন হবে, কতটা জরুরি– এসব যদি স্পষ্টভাবে বোঝানো না হয়, সন্দেহ জন্মায়। আর সন্দেহ একবার জন্মালে সবচেয়ে আধুনিক চিকিৎসাও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে না।

১৯৯৫ সালের ১৩ নভেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায় ডাক্তার-রোগীর সম্পর্কের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই রায়ে ‘অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানকারী ডাক্তার, হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলি’ ‘Consumer Protection Act’-এর আওতায় নিয়ে আসা হয়। ফলে চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ক আর কেবল আস্থা, সেবা ও নৈতিক দায়বদ্ধতার সম্পর্ক রইল না। তার সঙ্গে যুক্ত হল আইনগত অধিকার, জবাবদিহি এবং ক্ষতিপূরণের নতুন মাত্রা।

রোগী আজ অনেক বেশি সচেতন। একসময় চিকিৎসকের কথাই ছিল ‘শেষ কথা’। এখন রোগী চিকিৎসককে প্রশ্ন করতে পারেন, নিজের চিকিৎসা সম্পর্কে জানার দাবি রাখতে পারেন, এমনকী চিকিৎসায় অবহেলা হলে ক্ষতিপূরণও দাবি করতে পারেন। কিন্তু সচেতনতা অবিশ্বাসে পরিণত হলে শুরু হয় নানা সমস্যার। রোগী যদি আগেভাগেই ধরে নেন চিকিৎসকের নির্দেশিত প্রতিটি পরীক্ষা অপ্রয়োজনীয়, প্রতিটি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ ব্যবসায়িক, প্রতিটি বিল প্রতারণায় ভরা– তবে চিকিৎসা-প্রক্রিয়াই কঠিন হয়ে ওঠে। আবার চিকিৎসকও যদি ধরে নেন প্রতিটি রোগী ভবিষ্যতের মামলাকারী, সম্ভাব্য আক্রমণকারী, আর প্রতিটি চিকিৎসা-সিদ্ধান্ত এক একটি আইনি ফাঁদ– তাহলেও মানবিক চিকিৎসা সম্ভব হয় না। দু’পক্ষই তখন ঢুকে পড়ে আত্মরক্ষার দুর্গে। চিকিৎসা হয়ে ওঠে সতর্কতার, সন্দেহের এবং কাগজপত্রের এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। বেড়ে যায় কর্পোরেট ফর্ম, সম্মতিপত্র, ঘোষণা আর সইয়ের স্তূপ। আর সেই কাগজের নিচেই চাপা পড়ে যায় চিকিৎসার সবচেয়ে জরুরি উপাদান– বিশ্বাস!

অসুখের মুহূর্তে পরিবারের মানুষরা ভেঙে পড়েন। তাঁরা চিকিৎসা-বিজ্ঞানের সীমা বোঝেন না, বুঝতেও চান না। তাঁদের কাছে শুধুই রোগীর বাঁচা বা না-বাঁচার প্রশ্ন। অন্যদিকে হাসপাতালে আবেগের জায়গা সীমিত, নিয়মের জায়গায় কড়াকড়ি। শোকের ভাষা আর সিস্টেমের ভাষা যখন মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখনই সংঘাতের জন্ম হয়। একদিকে থাকে আপনজনকে হারানোর ভয়, অসহায়তা, কান্না ও ক্ষোভ; অন্যদিকে থাকে নিয়ম, কাগজপত্র, বিলিং, অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এই দুই ভাষা একে অন্যকে বুঝতে না পারলেই দূরত্ব বাড়ে। সেই দূরত্ব থেকে জন্ম নেয় রাগ, সন্দেহ আর অবিশ্বাসের আগুন। কখনও কখনও তা দুর্ভাগ্যজনকভাবে পৌঁছে যায় হিংসার পর্যায়েও।

zoom
চিকিৎসক ও রোগীর বোঝাপড়ার অভাব অনেকক্ষেত্রে তৈরি করে মানসিক দূরত্ব

তবুও কর্পোরেট হাসপাতাল প্রতিদিন বহু মুমূর্ষু মানুষকে সুস্থ করে জীবনপ্রবাহে ফিরিয়ে এনেছে। প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা চিকিৎসকের হাতকে শক্তিশালী করেছে। রোগীর অধিকার চিকিৎসাকে জবাবদিহির মধ্যে এনেছে। স্বচ্ছতা, নথিপত্র, প্রোটোকল– এসব চিকিৎসার মান উন্নত করতেও সাহায্য করেছে। আগে বহু ভুল অজানা থেকে যেত, এখন তা আতসকাচের নিচে ধরা পড়ে। আগে রোগী অনেক সময় প্রশ্ন করতেই ভয় পেতেন, এখন তাঁর প্রশ্ন করার অধিকার আছে। কিন্তু সমস্যা কর্পোরেট চিকিৎসা নয়, সমস্যা তার অমানবিক রূপ। সমস্যা তখনই হয়, যখন সেবার জায়গায় বাজারি মনোভাব এসে বসে। রোগীর অধিকার থাকা জরুরি, কিন্তু সেই অধিকার যদি চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে স্থায়ী অবিশ্বাস তৈরি করে, তখন চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে।

চিকিৎসকের পেশাদারিত্বও দরকার; কিন্তু সেই পেশাদারিত্বের সঙ্গে যদি সহমর্মিতা, সেবার মন এবং মানুষের প্রতি দায়বোধ না থাকে, তবে চিকিৎসা তার মানবিকতা হারায়।

আধুনিক হাসপাতাল থাকবে, কিন্তু তার দরজায় মানুষকে ‘গ্রাহক’ নয়, রোগী হিসেবে স্বাগত জানাতে হবে। খরচের হিসাব যেমন থাকবে, সঙ্গে তার ব্যাখ্যাও থাকবে। সম্মতিপত্র থাকবে, কিন্তু তার আগে সহজ ভাষায় বোঝানোও থাকবে। প্রোটোকল থাকবে, কিন্তু তার পাশে সহানুভূতিও থাকবে। চিকিৎসককে সময় দিতে হবে, রোগীকেও বুঝতে হবে যে, চিকিৎসা ম্যাজিক নয়, ভালো-মন্দ দুই-ই হতে পারে। চিকিৎসক ঈশ্বর নন, আবার ব্যবসায়ীও নন। তিনি একজন প্রশিক্ষিত মানুষ, যিনি আর একজন বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান।

zoom
চিকিৎসক ঈশ্বর নন, তিনি একজন প্রশিক্ষিত মানুষ, যিনি বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান

বিধানচন্দ্র রায়ের সেবার ধারণা আজ হুবহু ফিরিয়ে আনা যাবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার ধরন বদলেছে, বদলেছে আর্থসামাজিক পরিস্থিতি। কর্পোরেট পরিকাঠামো দরকার, কিন্তু কর্পোরেট মন নয়। প্রযুক্তি দরকার, কিন্তু স্পর্শহীনতা নয়। দক্ষতা দরকার, কিন্তু দয়ার বিনিয়মে নয়। চিকিৎসা পণ্য হতে পারে না, যদিও তা ক্রয় করতে হয়। হাসপাতাল ব্যবসা চালায়, কিন্তু তার ভিতরে থাকে জীবনরক্ষার অঙ্গীকার। এই ভারকে যদি আমরা বাজারের দাঁড়িপাল্লায় মাপতে চাই, তবে চিকিৎসার আসল উদ্দেশ্যটাই হারিয়ে যাবে। চিকিৎসক দিবসে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক– কর্পোরেট সিস্টেম থাকবে, কিন্তু তা মানুষকে দমিয়ে রাখবে না। হাসপাতালের পরিসর বড় হবে, কিন্তু হৃদয় ছোট হবে না।

সেবা, যতই আধুনিক হোক, যতই ব্যয়বহুল হোক, শেষ পর্যন্ত ‘সেবা’ হয়েই থাকবে– ‘পণ্য’ নয়।

……………………

রোববার.ইন-এ পড়ুন পূর্ণেন্দুবিকাশ সরকার-এর অন্যান্য লেখা

……………………

corporate etiquette Doctor Heathcare Hospital National Doctors' Day Patient Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar

Share this article on