gender inequality and the role of women in agriculture। Robbar
Robbar
  • ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬

কৃষিতে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতেই কি আন্তর্জাতিক মহিলা কৃষকবর্ষ?

কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার লিঙ্গবৈষম্য দূর করা গেলে বিশ্ব অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব। এফএও-র (FAO) গবেষণা অনুযায়ী, এই বৈষম্য ঘোচাতে পারলে বিশ্ব জিডিপি (GDP) প্রায় ১ শতাংশ বা ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়ানো সম্ভব। অথচ বর্তমানে কৃষিতে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় গড়ে ১৮.৪ শতাংশ কম মজুরি পান; অর্থাৎ পুরুষরা ১ ডলার আয় করলে মহিলারা পান মাত্র ৮২ সেন্ট। তাই এই মজুরি বৈষম্য দূর করা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

Published by: Robbar Digital

Posted:March 7, 2026 8:11 pm | Updated:March 7, 2026 8:11 pm  
Facebook WhatsApp Messenger

বিশ্বজুড়ে মহিলারাই এখন কৃষির মূল চালিকাশক্তি। ফলে এখন আর তাঁদের শুধু অন্যের জমিতে খাটা কৃষি-শ্রমিক ভাবলে চলবে না। পুরনো ধারণা ভেঙে দিয়ে এই মহিলারা নিজেদের মেধা ও বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা এখন একেকজন সফল উদ্যোক্তা। শক্তিশালী সমবায়ের মাধ্যমে বদলে দিচ্ছেন বিশ্ব কৃষি অর্থনীতির মানচিত্র।

কৃষিখাত আজ কেবল টিকে থাকার লড়াই নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়নের এক অনন্য হাতিয়ার। কেনিয়ার জেন মাইগুয়া, ম্যাকাডামিয়া বাদাম রপ্তানিতে হাজারও নারী-কৃষককে যুক্ত করে তাঁদের আর্থিক স্বাধীনতা দিয়েছেন। তেমনই দক্ষিণ আফ্রিকার আন্না ফোসাও এক হার না মানা অনুপ্রেরণা; মাত্র চারটি শূকর নিয়ে শুরু করা তাঁর খামারটি আজ কয়েক মিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ওড়িশার ‘মিলেট দিদি’ রাইমতি ঘিউরিয়া পুঁথিগত শিক্ষা ছাড়াই বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় বীজ রক্ষা করে আজ বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত। পরিবেশরক্ষায় ঘানার মার্থা গাইসিও পিছিয়ে নেই– পরিত্যক্ত কাঠের গুঁড়োকে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন সফল মাশরুম ব্যবসা। রুয়ান্ডা থেকে কলম্বিয়া– যেখানে একসময় ছিল যুদ্ধের বিভীষিকা, আজ সেখানে বনায়ন আর কোকো চাষের মাধ্যমে নারীরা হাসিমুখে বুনছেন শান্তির নতুন গল্প। মাটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই সাহসী নারীরাই আজ প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও বিশ্ব পরিবর্তনের কারিগর হওয়া সম্ভব।

zoom
রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন ওড়িশার ‘মিলেট দিদি’ রাইমতি ঘিউরিয়া

প্রতিটি ঘটনাই জোরালোভাবে প্রমাণ করে– যখনই গ্রামীণ মহিলাদের হাতে সঠিক প্রযুক্তি, মূলধন এবং বাজারের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা কেবল নিজেদের দারিদ্র্যই জয় করেননি, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অবস্থা বদলে দিয়েছেন। ব্যক্তিগত এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বাস্তবতা। বিশ্বের মানচিত্রে চোখ রাখলে দেখা যায়, অঞ্চলভেদে মহিলা কৃষকদের লড়াই ও শ্রমের ধরন ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।

সাব-সাহারান আফ্রিকায় কৃষিকাজ মূলত মহিলাদের ওপর নির্ভরশীল। এই অঞ্চলের প্রায় ৭৬ শতাংশ কর্মজীবী মহিলাই কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার সাথে সরাসরি যুক্ত। শস্য উৎপাদনে তাঁদের অবদান গড়ে ৪০ শতাংশ, যা অতীতে প্রচলিত অনেক ভুল ধারণাকে বদলে দিয়েছে। বর্তমানে মহিলা কৃষি কর্মসংস্থানে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে বুরুন্ডি, মোজাম্বিক এবং বুরকিনা ফাসোর মতো দেশগুলো।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াতেও কৃষিকাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ আজ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যাকে ‘কৃষির নারীকরণ’ (Feminization of Agriculture) হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। পাকিস্তানে ৭৪ শতাংশ এবং ভারতেও অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় মহিলাদের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষির সঙ্গে যুক্ত, যদিও খুব কম মহিলার হাতে জমির মালিকানা রয়েছে। বাংলাদেশেও গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড হল মহিলাদের শ্রম; যেখানে পারিবারিক কৃষিতে বীজ সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী সব কাজ তাঁরাই করেন। ক্ষুদ্র-ঋণের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে পোল্ট্রি, গবাদি পশু পালন ও সবজি চাষে, মহিলারা বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছেন।

zoom
বুরকিনা ফাসোর মতো আফ্রিকান দেশে কৃষির উন্নয়নে পথ দেখাচ্ছে নারীরা

অন্যদিকে, আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মতো মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পুরুষদের ব্যাপক ঋতুভিত্তিক অভিবাসনের ফলে কৃষির দায়িত্ব পুরোপুরি মহিলাদের ওপর বর্তেছে। আর্মেনিয়ায় কৃষিতে নিয়োজিতদের ৫৬-৬৮ শতাংশই মহিলা; এমনকী কিছু এলাকায় ৯০ শতাংশ পুরুষ অভিবাসী হওয়ায় মহিলারাই এখন লাঙল চালানো থেকে শুরু করে চাষের সব কাজ করছেন।

উন্নত বিশ্বে ছবিটা ভিন্ন; সেখানে মহিলারা শুধু কৃষি শ্রমিক নন, বরং খামারেরও মালিক। ২০২২ সালের শুমারি অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬.৩ শতাংশ কৃষি উৎপাদনকারীই মহিলা, যাঁরা প্রায় ৪০ কোটি ৭০ লক্ষ একর জমিতে চাষ করার পাশাপাশি বছরে ২২২ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য বিক্রয় করছেন। অস্ট্রেলিয়ার কৃষিখাতও তাঁদের অবদানে সমৃদ্ধ। মোট কৃষি শ্রমশক্তির ৩২ শতাংশ মহিলা হলেও, খামারগুলোকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ‘অফ-ফার্ম’ আয়ের ৭৫ শতাংশই জোগান দেন তাঁরা। অর্থাৎ, প্রতিকূল আবহাওয়া বা আর্থিক মন্দায় খামারের অস্তিত্ব রক্ষায় মহিলাদের এই বাড়তি আয়ই মূল চালিকাশক্তি। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নেও নিয়মিত কৃষি শ্রমশক্তির ৩৫.৫ শতাংশ মহিলা। জৈব চাষাবাদ ও পরিবেশ রক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের নতুন প্রজন্মের নারী-কৃষকরা আজ বিশ্ব কৃষিকে এক স্থিতিশীল ও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

মহিলাদের এই ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ এবং সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বে কৃষিতে তাঁরা এখনও বিভিন্ন বঞ্চনার শিকার। বিশেষ করে, জমির ওপর মালিকানা না থাকাটাই মহিলা কৃষকদের এগিয়ে যাওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা। বিশ্বব্যাপী কৃষিজমির মাত্র ১৫ শতাংশের মালিক মহিলারা। জমির মালিকানা না থাকায় তারা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ, সরকারি ভর্তুকি এবং কৃষি বিমার সুবিধা পান না। ভারতে ২০০৫ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, কন্যাসন্তানদের সম্পত্তির সমান অধিকার দেওয়া হলেও, সামাজিক প্রথা ও সচেতনতার অভাবে এর সুফল মিলছে না। পরিবারের শান্তির কথা ভেবে অনেক মহিলাই পৈতৃক সম্পত্তির দাবি ছেড়ে দেন। মূলত, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রচলিত পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা তাঁদের আজও ‘ভূমিহীন শ্রমিক’ হিসেবেই আটকে রেখেছে।

zoom
মহিলারাই এখন কৃষিক্ষেত্রে আয়ের মূল চালিকাশক্তি

ব্যাংক ঋণ পাওয়ার দৌড়েও নারীরা পুরুষদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। এর প্রধান কারণ, অধিকাংশ ব্যাংক ঋণের জন্য জমিকে সিকিউরিটি হিসেবে চায়, যা মহিলা কৃষকদের নেই। তবে এই বাধা কিছুটা দূর করছে ডিজিটাল ব্যাংকিং। মিশরের প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার নারী এখন মাটির ব্যাংকে টাকা জমানোর পুরনো অভ্যাস বদলে মোবাইল অ্যাপে সঞ্চয় করছেন। অন্যদিকে, ডিজিটাল লেনদেন সহজ হওয়ায় পাকিস্তানের ১২ হাজার মহিলা উদ্যোক্তার আয় বেড়েছে প্রায় ৭৩ শতাংশ।

জলবায়ু পরিবর্তন, এটি কেবল কৃষির ক্ষতি করছে না, মহিলাদের লড়াইকেও কঠিন করে তুলছে। তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে মহিলা-প্রধান খামারের আয় পুরুষ-প্রধান খামারের চেয়ে ৩৪ শতাংশ কমে যায়। আবহাওয়ার চরম পরিস্থিতিতে দূর থেকে জল বা জ্বালানি সংগ্রহের মতো বাড়তি গৃহস্থালি কাজের চাপে তাঁরা কৃষিতে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। নেপালে ২০২৪ সালের বন্যায় কৃষির যে বিশাল ক্ষতি হয়েছে, তা ক্ষুদ্র মহিলা কৃষকদের খাদ্য নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে মহিলাদের অপরিহার্য ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এতদিন তাঁরা গুরুত্ব পায়নি। তাঁদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোও সমাধানের চেষ্টা হয়নি। এই বাস্তবতাকে আমূল বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে জাতিসংঘ ২০২৬ সালকে ‘আন্তর্জাতিক মহিলা কৃষকবর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই ঘোষণা করার পিছনে তাদের লক্ষ্য ছিল কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে (উৎপাদন থেকে বাণিজ্য পর্যন্ত) মহিলাদের অপরিহার্য ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের জন্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা। তাই আন্তর্জাতিক মহিলা কৃষকবর্ষের মূল স্লোগান– ‘Empowered women, transforming agrifood systems’ মূলত মহিলাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

zoom
কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে মহিলাদের ভূমিকা অপরিহার্য

এই উদ্যোগ পরিচালনার দায়িত্ব মূলত ‘খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)’, ‘আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (IFAD)’ এবং ‘বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)’-এর ওপর ন্যস্ত। এটি বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রথম ধাপ হল নীতি ও আইনি সংস্কার; অর্থাৎ প্রতিটি দেশের জাতীয় পর্যায়ে এমন নীতি প্রণয়ন করতে হবে, যা মহিলাদের ভূমি অধিকার ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে। দ্বিতীয়ত, অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করা হবে। যেখানে কৃষক, সমবায়, সরকার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা হবে। তৃতীয়ত, মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট উন্নয়নমূলক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাদের আয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই কৃষির লিঙ্গবৈষম্য দূর হবে।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কৃষি-ব্যবস্থায় এই লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর হলে প্রকৃত লাভ কী?

কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার এই লিঙ্গবৈষম্য দূর করা গেলে বিশ্ব অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব। এফএও-র (FAO) গবেষণা অনুযায়ী, এই বৈষম্য ঘোচাতে পারলে বিশ্ব জিডিপি (GDP) প্রায় ১ শতাংশ বা ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়ানো সম্ভব। অথচ বর্তমানে কৃষিতে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় গড়ে ১৮.৪ শতাংশ কম মজুরি পান; অর্থাৎ পুরুষরা ১ ডলার আয় করলে মহিলারা পান মাত্র ৮২ সেন্ট। তাই এই মজুরি বৈষম্য দূর করা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। সঠিক ও সুনির্দিষ্ট (Targeted) উন্নয়নমূলক সহায়তার মাধ্যমে যদি ক্ষুদ্র মহিলা কৃষকের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যায়, তবে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৮০ লক্ষ মহিলার আয় উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো যাবে। মহিলাদের আয় বাড়লে তা সরাসরি পরিবারের স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং শিশুদের শিক্ষার পিছনে ব্যয় হয়, যা পরবর্তী প্রজন্মের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মহিলা-প্রধান খামারের আয় পুরুষ-প্রধান খামারের তুলনায় ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়। তাই লিঙ্গ-সংবেদনশীল সহায়তায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে মহিলাদের ক্ষমতায়ন ঘটাতে পারলে প্রায় ২৩ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংঘাত মোকাবিলার শক্তি বাড়বে।

মহিলা ও পুরুষ কৃষকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদনশীলতাও ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোট কৃষি উৎপাদন ২.৫ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। এই অতিরিক্ত উৎপাদনের সুফল হিসেবে বিশ্বে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ১২ থেকে ১৭ শতাংশ (প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মিলিয়ন) কমিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা কমানো যাবে।

২০২৬ সালের ‘আন্তর্জাতিক মহিলা কৃষকবর্ষ’-কে সামনে রেখে সম্পত্তির মালিকানা, লিঙ্গবৈষম্য নিরসন এবং কৃষি উপকরণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলে বিশ্ব-কৃষিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের এখনই কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে:

• জমির অধিকার: প্রথাগত আইনের ঊর্ধ্বে উঠে মহিলাদের উত্তরাধিকার ও জমির পূর্ণ মালিকানা নিশ্চিত করা। কারণ মালিকানা ছাড়া ব্যাংক ঋণ বা সরকারি সহায়তা পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

• নারীবান্ধব প্রযুক্তি: কৃষি যন্ত্রপাতি মহিলাদের শারীরিক গঠনের উপযোগী ও হালকা করা, যা তাঁদের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

• আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে সরাসরি প্রণোদনা ও জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করা, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমে।

• প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণ: মহিলাদের জন্য বিশেষ ‘জলবায়ু-সহনশীল চাষাবাদ’ প্রশিক্ষণ এবং পণ্য বিক্রির জন্য ‘নারী-চালিত সমবায়’ বা বিশেষ মার্কেট হাব তৈরি করা।

• লিঙ্গ-ভিত্তিক তথ্য: সঠিক পরিকল্পনার জন্য কৃষি পরিসংখ্যানে নারী ও পুরুষের পৃথক ও বাধ্যতামূলক তথ্যভাণ্ডার নিশ্চিত করা।

পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক মহিলা কৃষকবর্ষ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থায় বিরাজমান বৈষম্য দূর করার এক বড় অঙ্গীকার। কেনিয়ার জেন মাইগুয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার আন্না ফোসাদের মতো সফল উদ্যোক্তাদের উদাহরণ প্রমাণ করে যে, সঠিক সুযোগ ও কৃষি উপকরণ পেলে মহিলারা কেবল কৃষিকে লাভজনকই করবেন না, বরং বৈশ্বিক খাদ্য-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। ২০২৬ সালের এই আন্তর্জাতিক বর্ষ হোক সেই নীরব বিপ্লবকে সশব্দে বরণ করে নেওয়ার বছর।

Agriculture FAO Feminization of Agriculture Food Security gender inequality IFAD International Women's Day International Year of the Woman Farmer IYWF 2026 Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar WFP Woman Empowerment Women power

Share this article on