


কবি অ্যালেন গিনসবার্গের জন্মশতবর্ষের আলোয় দাঁড়িয়ে ‘ফ্লাওয়ার পাওয়ার’ এবং তাঁর যুদ্ধবিরোধী কবিতা আসলে সুদূর অতীতের রোমান্টিক স্মৃতিবিলাস নয়। এই ধারণা আজও ফিলিস্তিনের শরণার্থী শিবির থেকে শুরু করে হংকংয়ের রাস্তা, কিংবা ভারতের কোনও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মিছিলে বারবার ফিরে আসে, আসতেই হবে। যতদিন পৃথিবীতে যুদ্ধ থাকবে, যতদিন বোমার আঘাতে শিশুরা কাঁদবে, ততদিন এই দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেবে, মারণাস্ত্রের চেয়েও মানুষের ভালোবাসা অনেক বেশি স্থায়ী। শক্তির জোরে সাময়িকভাবে জয়ী হওয়া যায়, কিন্তু পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখতে গেলে শেষ পর্যন্ত ভালোবাসারই শরণাপন্ন হতে হবে। সেখানেই মানুষের চূড়ান্ত মুক্তি।
ছয়ের দশকের মধ্যভাগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তখন ভিয়েতনাম যুদ্ধের চোরাবালিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। একদিকে বেয়নেট, বোমা আর বারুদের গন্ধ; অন্যদিকে ঘরে ঘরে তরুণ প্রজন্মের তীব্র অসন্তোষ। ঠিক এমনই এক বিস্ফোরক সময়ে সান ফ্রান্সিসকো বা নিউ ইয়র্কের রাস্তায় একদল তরুণ-তরুণী নেমে এলেন, যাদের হাতে কোনও অস্ত্র ছিল না; কেবল রঙিন ফুল, কপালে আঁকা শান্তির প্রতীক আর মুখে যুদ্ধের বিরুদ্ধে স্লোগান। ইতিহাসের পাতায় এই প্রতিবাদের নাম হয়ে গেল ‘ফ্লাওয়ার পাওয়ার’। আর এই জাদুকরী, অহিংস ও নান্দনিক ধারণার নেপথ্যে যিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন, তিনি বিশ শতকের অন্যতম জনপ্রিয় ‘বিট’ আন্দোলনের কবি অ্যালেন গিনসবার্গ (১৯২৬-১৯৯৭)। ১৯৬৫ সালে বার্কলিতে একটি যুদ্ধবিরোধী মিছিল চলাকালীন চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, তখন গিনসবার্গ তরুণদের উদ্দেশ্যে একটি প্রবন্ধ লেখেন, যার শিরোনাম ছিল ‘হাউ টু মেক এ মার্চ/ স্পেকট্যাকল’। সেখানে তিনি পরামর্শ দেন, পুলিশ ও যুদ্ধকামীদের মারমুখী আচরণের সামনে যেন কোনও সহিংসতা না দেখানো হয়, বরং তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফুল, খেলনা আর চকোলেট। এই সহজ অথচ গভীর দর্শন রাতারাতি একটি বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়, যা অস্ত্রের মুখে ফুল ফুটিয়ে যুদ্ধের অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। কেমন ছিল প্রতিবাদের ভাষা? প্রতিবাদের সামনের সারিতে থাকা মানুষদের হাতে ও পকেটে প্রচুর ফুল রাখতে হবে। পুলিশ, সংবাদমাধ্যম, রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ দর্শকদের দিকে ক্ষোভ প্রকাশ না করে এই ফুলগুলো উপহার হিসেবে বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিবাদকে হিংসাত্মক রূপ না দিয়ে একটি আনন্দঘন মিছিলে রূপ দিতে হবে। মিছিলে বেলুন, চকোলেট, ক্যান্ডি, ফল বা খাবার সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করতে হবে, যা মানুষের ভেতরের শত্রুতা ও সন্দেহ দূর করবে। অর্থাৎ, অ্যালেন গিনসবার্গের মতে একটি আদর্শ ‘মার্চ/ স্পেকট্যাকল’ তৈরি করার মূল চাবিকাঠি হল– ভয় ও সহিংসতার বিপরীতে ভালোবাসা, শিল্প ও ফুল দিয়ে যুদ্ধাংদেহী মানসিকতাকে পরাস্ত করা।

বিখ্যাত ‘হাউল’ (Howl) কবিতায় গিনসবার্গ লিখেছেন, ‘Moloch! Moloch! Nightmare of Moloch! Moloch the loveless! Mental Moloch! Moloch the heavy judger of men!’– প্রাচীন হিব্রু বাইবেল ও সেমিটিক সংস্কৃতিতে ‘মোলক’ ছিল এক নিষ্ঠুর দেবতা, যাকে সন্তুষ্ট করতে সন্তান বলি দেওয়া হত। গিনসবার্গ এই প্রাচীন দানবীয় দেবতাকে আধুনিক পুঁজিবাদী ও যান্ত্রিক সমাজের প্রতীক হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। বলেছেন, আধুনিক যান্ত্রিক ও বাণিজ্যিক সভ্যতায় কোনও প্রেম, প্রীতি বা মানবিক অনুভূতি নেই। যেন গোটা পরিবেশটাই সম্পূর্ণ প্রেমহীন। এখানে মানুষের সম্পর্কের চেয়ে টাকা আর ক্ষমতার মূল্য বেশি। মোলকের সেই রাক্ষুসে গ্রাসের বিপরীতে ফুল ছিল মানবিকতা, প্রেম ও প্রকৃতির অকৃত্রিম প্রকাশ। আরও লিখছেন, ‘I saw the best minds of my generation destroyed by madness…’। এই উন্মাদনার দাওয়াই হিসেবে তিনি নিয়ে এসেছিলেন ফুলের অহিংসা। পরবর্তীকালে তাঁর ‘ফ্লাওয়ার পাওয়ার’ ধারণাকে সরাসরি রূপক হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধের উন্মাদনাকে বিদ্ধ করেছেন। হাজার হাজার যুদ্ধবিরোধী মানুষ জমায়েত হয়ে সামরিক বাহিনীর বুলেটের নলের ভেতরে ফুল গুঁজে দিচ্ছিলেন, সেই ছবি সারা বিশ্বের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। গিনসবার্গের কবিতা ও দর্শন এই অবাস্তব দৃশ্যকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিল, যেখানে অস্ত্রের হিংস্রতাকে পরাস্ত করেছিল একটি পাপড়ির কোমলতা।

এই ফ্লাওয়ার পাওয়ার মুভমেন্ট কেবল আমেরিকার সীমানায় আটকে থাকেনি, ইউরোপ থেকে লাতিন আমেরিকা– যেখানেই স্বৈরাচার আর যুদ্ধের দামামা বেজেছে, সেখানেই তরুণরা ফুলের প্রতীককে বেছে নিয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার হিংস্র রূপের সামনে এই প্রতীকী আন্দোলনগুলো আসলে ক্ষমতার ভাষা পরিবর্তন করে দিয়েছিল। রাষ্ট্র যখন বুলেটের ভাষায় কথা বলে, নাগরিক সমাজ তখন ফুলের ভাষায় তার উত্তর দেয়। এই বৈপরীত্য স্বৈরাচারী শক্তির নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। গিনসবার্গ বিশ্বাস করতেন, মনের ভেতরের যে সহজাত শান্তি আর ভালোবাসা, তাকে যদি সমষ্টিগতভাবে প্রকাশ করা যায়, তবে তা যে কোনও মারণাস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তাঁর কবিতা ও ব্যক্তিগত জীবনচর্যা এই ধারণাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিল, যা পরবর্তীকালে প্রাতিষ্ঠানিকতাবিরোধী আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।

গিনসবার্গের এই চেতনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জুড়ে আছে ভারত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন লক্ষ লক্ষ শরণার্থী ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিচ্ছিলেন, গিনসবার্গ সে সময় ভারতে আসেন। বাংলার সেই অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয় আর যুদ্ধজনিত ধ্বংসলীলা দেখে স্তব্ধ হয়ে যান। যশোর রোডের সেই শরণার্থী শিবিরের দৃশ্য নিয়ে রচনা করেন ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কবিতা। লিখেছেন, “Millions of fathers in grief without homes/ Millions of mothers walking with bones/ Millions of brothers in rain millions of wives/ Millions of children weeping for lives…”। ভিয়েতনামের যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা কবি ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে আবার চাক্ষুষ করলেন যুদ্ধের নৃশংসতা। এখানেও তাঁর ভেতরে থাকা সেই ‘ফ্লাওয়ার পাওয়ার’ বা অহিংস মানবতার দূত জাগ্রত হয়ে উঠেছিল। ভারতের সংস্কৃতি, বিশেষ করে এখানকার সাধু-সন্ন্যাসী, কীর্তন ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে গিনসবার্গের গভীর সংযোগ ছিল। কলকাতায় এসে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়-সহ কৃত্তিবাস গোষ্ঠীর কবিদের সঙ্গে নিবিড় আড্ডায় মাতেন। ভারতের এই বাউল ও সুফি দর্শনের যে অহিংস রূপ, তা গিনসবার্গের ‘ফ্লাওয়ার পাওয়ার’ মুভমেন্টকে আরও সমৃদ্ধ করেছিল। যার মূল কথা, ঘৃণার চেয়ে ভালোবাসা অনেক বেশি ছোঁয়াচে।

আজকের একুশ শতকেতে দাঁড়িয়ে গিনসবার্গের ‘ফ্লাওয়ার পাওয়ার’ মুভমেন্টের দিকে তাকালে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে– এই হাইপার-টেকনোলজিক্যাল, ড্রোন হামলা, পরমাণু হুমকির পৃথিবীতে কি আদৌ ফুলের সেই শক্তি প্রাসঙ্গিক? আজ যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, প্যালেস্তাইন-ইরাক-সিরিয়া-ইসরায়েল-এর মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলির সংকট কিংবা বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ জাতিগত দাঙ্গা পৃথিবীকে গ্রাস করছে, তখন হাতের মুঠোয় একটা ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কি নেহাতই এক ইউটোপীয় রোমান্টিকতা নয়? আপাতদৃষ্টিতে একে দুর্বলতা বা বাস্তবতা-বর্জিত মনে হতেই পারে। কিন্তু একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে, এই দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা আজ অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। আজ যখন যুদ্ধ কেবল সীমান্তে নয়; মানুষের মনে, সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমে ও তীব্র মেরুকরণের মাধ্যমে সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন ভালোবাসার কোনও বিকল্প নেই।

প্রতীকী প্রতিবাদ তো ভারতও দেখিয়েছে বিশ্বকে। ‘ফ্লাওয়ার পাওয়ার’ যেমন বুলেটের নলের মুখে ফুল গুঁজে দিয়ে জীবন আর ভালোবাসার বার্তা দিয়েছিল, ঠিক তেমনি ১৯৭০-এর দশকে ভারতের উত্তরাখণ্ডের (তৎকালীন উত্তরপ্রদেশ) গ্রামীণ মহিলারা গাছ কাটার হাত থেকে প্রকৃতিকে বাঁচাতে এক অভূতপূর্ব প্রতীকী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কোনও লাঠি বা অস্ত্র ধরেননি; ঠিকাদারদের কুড়ালের সামনে নিজেদের শরীর দিয়ে একেকটি গাছকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়েছিলেন। ভারতের ইতিহাসে এটি ‘চিপকো’ (আলিঙ্গন) আন্দোলন নামে পরিচিত। অথবা ধরা যাক মণিপুরের মায়েদের নগ্ন প্রতিবাদ! ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (AFSPA)-এর অপব্যবহার এবং থাংজাম মনোরমা নামক এক তরুণীর ওপর হওয়া নৃশংস অত্যাচারের বিরুদ্ধে মণিপুরের ১২ জন বয়োবৃদ্ধ মা ইম্ফলে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। তাদের হাতে কোনও অস্ত্র ছিল না, কেবল ছিল একটি ব্যানার, যাতে লেখা ছিল ‘Indian Army Rape Us’। মণিপুরের মায়েরা নিজেদের পোশাক বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরের কদর্য ও হিংস্র রূপটাকে পৃথিবীর সামনে টেনে এনেছিলেন। আমাদের মনে পড়বে ২০১৯-২০২০ সালে ঘটা শাহিনবাগের প্রতিরোধ ও গোলাপ বিতরণ। ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর বিরুদ্ধে দিল্লির শাহিনবাগে মুসলিম নারীদের নেতৃত্বে যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ হয়েছিল, তা সমকালীন ভারতের এক অন্যতম প্রতীকী আন্দোলন। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে, সংবিধানে প্রস্তাবনা পাঠ করে এবং মহাত্মা গান্ধী ও বিআর আম্বেদকরের ছবি সামনে রেখে বসেছিলেন। আর কর্তব্যরত পুলিশকর্মী এবং বিরোধীদের হাতে গোলাপ ফুল তুলে দিতে শুরু করেন। এই ‘গোলাপ বিতরণ’ সরাসরি গিনসবার্গের ১৯৬৫ সালের সেই ‘হাউ টু মেক এ মার্চ/ স্পেকট্যাকল’ প্রবন্ধের ফর্মুলাকেই মনে করিয়ে দেয়, যেখানে গিনসবার্গ বলেছিলেন শত্রুর ক্রোধকে ভালোবাসার ফুল দিয়ে স্তব্ধ করে দিতে হবে।

অধুনা পৃথিবীর পরিবেশ আন্দোলন বা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যে লড়াই, তার দিকে তাকালে আমরা ফ্লাওয়ার পাওয়ারের এক নতুন রূপ হয়তো দেখতে পাব। সুইডেনের গ্রেটা থুনবার্গের অহিংস অবস্থান বিক্ষোভগুলো আসলে গিনসবার্গের সেই ‘স্পেকট্যাকল’ প্রতিবাদেরই আধুনিকতম সংস্করণ। গিনসবার্গ তাঁর ‘উইচিটা ভর্টেক্স সূত্রা’ (Wichita Vortex Sutra) কবিতায় ভাষা ও সত্যের শক্তির কথা বলেছিলেন, যা যুদ্ধের মিথ্যা প্রোপাগান্ডাকে ধ্বংস করতে পারে। আজ যখন ফেক নিউজ আর ঘৃণার রাজনীতি সমাজকে উত্তরোত্তর গ্রাস করছে, তখন কি আমাদের মনে হবে না সেই সত্য ‘নান্দনিক’ প্রতিবাদের ভাষাও অত্যন্ত জরুরি? অস্ত্রের বিরুদ্ধে ফুল আসলে কেবল একটি ফুল হাতে নেওয়া নয়, এটি একটি মানসিক অবস্থান। ক্ষমতার দাম্ভিকতাকে অগ্রাহ্য করার একটি শৈল্পিক ভঙ্গি। স্বৈরাচারী শাসক বা যুদ্ধবাজ শক্তি সবসময় চায় তাদের প্রতিপক্ষও যেন হিংসার পথ বেছে নেয়, কারণ হিংসার খেলায় রাষ্ট্রকে হারানো অসম্ভব। কিন্তু যখন প্রতিপক্ষ সম্পূর্ণ অহিংস উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তখন রাষ্ট্রের সমস্ত দমনপীড়ন নীতি নৈতিকভাবে পরাজিত হয়। গিনসবার্গ আমাদের এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞাটাই শিখিয়েছিলেন। দেখিয়েছিলেন যে, কবিতার পঙ্ক্তি আর মানুষের ভেতরের সমবেদনা দিয়ে সাম্রাজ্যবাদের ভিত উপড়ে ফেলতে না পারলেও, কীভাবে নড়বড়ে করে দেওয়া যায়।

কবি অ্যালেন গিনসবার্গের জন্মশতবর্ষের আলোয় দাঁড়িয়ে সেদিনের ‘ফ্লাওয়ার পাওয়ার’ এবং তাঁর যুদ্ধবিরোধী কবিতা আসলে সুদূর অতীতের রোমান্টিক স্মৃতিবিলাস নয়। এই ধারণা আজও ফিলিস্তিনের শরণার্থী শিবির থেকে শুরু করে হংকংয়ের রাস্তা, কিংবা ভারতের কোনও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মিছিলে বারবার ফিরে আসে, আসতেই হবে। যতদিন পৃথিবীতে যুদ্ধ থাকবে, যতদিন বোমার আঘাতে শিশুরা কাঁদবে, ততদিন এই দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেবে, মারণাস্ত্রের চেয়েও মানুষের ভালোবাসা অনেক বেশি স্থায়ী। শক্তির জোরে সাময়িকভাবে জয়ী হওয়া যায়, কিন্তু পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখতে গেলে শেষ পর্যন্ত ভালোবাসারই শরণাপন্ন হতে হবে। সেখানেই মানুষের চূড়ান্ত মুক্তি।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved