Bijoya Dashami: Memories, Sweets and Traditions। Robbar
Robbar
  • ৩ কার্তিক ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ২১ অক্টোবর ২০২৬

বিজয়ার মিষ্টিসুখ

বিজয়াতে মিষ্টি খাওয়ার কারণ নিয়ে অনেক ভেবেছি, কিন্তু সদুত্তর পাইনি। মিষ্টি খেলে কি বিষাদ কমে যায়? মায়ের চলে যাওয়ার বিষাদ কাটাতেই কি এই মিষ্টিমুখের রেওয়াজ? কোথাও একটা পড়েছিলাম মিষ্টি খেলে ক্লান্তি কমে। পাঁচদিন ধরে বাঙালির সেরা উৎসবে মেতে থাকার পর যে ক্লান্তি তৈরি হয়, তা কাটাতেই কি বিজয়ার মিষ্টিমুখ? জানি না। বিজয়া দশমী এলেই শুধু বিভিন্ন মিষ্টি নয়, বারবার ফিরে আসে পুরনো স্মৃতিও। ‘শুভ বিজয়া’ মানে কি যাত্রা শুভ হোক, সেই প্রার্থনা? না কি সারাবছর ধরে জমে ওঠা ক্লান্তি আর বিষাদ থেকে আনন্দের পৃথিবীতে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় আজকের বিজয়া সম্মিলনীগুলো– যাতে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও এক খাবলা পুরনো দিনের মিষ্টি স্মৃতি ফেরত পাওয়া যায়?

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১৭:১৮   
Facebook WhatsApp Messenger

দেবীপক্ষের শুরু 

গ্রামে বা মফসসল শহরে গাছিদের কাজ ছিল নারকেল গাছে উঠে পাতা ছেঁটে দেওয়া আর গাছ ঝাড়ানো। মহালয়া এসে গেলেই গাছিদের ব্যস্ততা বেড়ে যেত। বিভিন্ন বাড়ি থেকে ডাক পড়ত তাদের। আমাদের বাড়ির গাছি– তারাকালী মহালয়া পেরলেই হাজির হত। এসে তড়তড় করে নারকেল গাছে উঠে যেত, আর ওপর থেকে দড়ি করে কাঁদি নামাতে শুরু করত। গাছের শুকনো পাতায় খানিকক্ষণের মধ্যেই উঠোন ভরে উঠত। কেষ্টপিসি শুকনো পাতাগুলো খড়ের গাদার পাশে জড়ো করত, পরে সময়মতো ঝাঁটা বানাবে বলে। আর কাঁদি থেকে নিয়ে আস্ত নারকেল ছাড়াতে বসত। ১০-১২টা নারকেল হয়ে গেলে বাকি কাঁদি খাটের তলায় ঢুকে যেত। ছোবড়াগুলো চলে যেত সিঁড়ির ঘরে। পরে জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগবে বলে। এরপর নারকেলগুলো ভেঙে নারকেল কুড়তে বসে যেত। কাজের ফাঁকে ফাঁকে অতগুলো নারকেল কুড়তে দুই-তিনদিন সময় লাগত কিন্তু আমার ঠাকুরমার কড়া নির্দেশ ছিল– পঞ্চমীর মধ্যে যেন নারকেল কোড়ার কাজ হয়ে যায়।

zoom
নারকেল কোড়া, বিজয়ার মিষ্টিমুখের অন্যতম উপকরণ

পঞ্চমীর দিন বিকেলে ঠাকুরমার দুই সহকারী– মা আর কাকী পৌঁছে যেতেন আর নাড়ু বানানোর পর্ব শুরু হত। নারকেল কোড়া তিনভাগে ভাগ করা হত। একভাগে গুড় দিয়ে নাড়ু হবে, একভাগে চিনি দিয়ে সাদা নাড়ু হবে আর একভাগে চিনি মিশিয়ে মিহি করে বেটে ছাঁচে ফেলে নারকেলের মিষ্টি করা হবে। সাদা নাড়ুতে আবার একটু কর্পূর দেওয়া হত, তার স্বাদ খোলতাই করার জন্য, না স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার জন্য, সেটা বোঝার বয়স হয়নি তখন। এর সঙ্গে চলত কুচো নিমকিভাজা। বেশ কয়েকটা হলুদ ডালডার টিন ভরে যেত সেই নিমকিতে। সেই নিমকির টিনের মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে সরিয়ে রাখা হত, যাতে হাওয়া ঢুকে মিইয়ে না যায়। নবমীর মধ্যে এই যজ্ঞ শেষ হয়ে যেত, বিজয়ার যুদ্ধের জন্য ঠাকুরমা আর তাঁর সেনাপতিরা তৈরি হয়ে যেতেন। একাদশীর দিনে এই যুদ্ধের কথায় পরে আসব। 

দশমী

বাড়ির পিছনের দিঘির ওপাড়ে মায়ের মামার বাড়ি, যা লোকে ‘তিনপুতুল বাড়ি’ বলে চেনে, কারণ ঠাকুর সেখানে শুধু দুর্গা, মহিষাসুর আর সিংহ। দশমীর দিন বিকেল হতেই সেখান থেকে ঢাকের আওয়াজ ভেসে এলে মা বরণের জন্যে তৈরি হতে শুরু করে দিতেন। বরণের পর বিসর্জনের ঢাক বেজে উঠত, সাঁওতালদের কাঁধে চেপে মা দুর্গা রওনা দিতেন আর বাড়ির কিছু মহিলা বিসর্জনে না গিয়ে থেকে যেতেন, প্রতিমা ভাসান দিয়ে ফেরার পর চণ্ডীমণ্ডপে শান্তির জলের পরে বিজয়ার ব্যবস্থা করার জন্য। একটা বড় পেতলের সরায় খই, চিড়ে, মুড়কির সঙ্গে নাড়ু মেখে এক উপাদেয় জিনিস তৈরি হত– যার নাম ছিল ‘নকুল’। শান্তির জলের পরে তা এক মুঠো করে হাতে দেওয়া হত আর তার সঙ্গে এক ঢোক করে সিদ্ধি, যা বানানো হত সিদ্ধিপাতার সঙ্গে গোলমরিচ আর মৌরি বেটে, তার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে। শান্তির জলের পর যখন সবাই গুরুজনদের প্রণাম করত, বাবা তখন সবার অলক্ষে বাড়ির দিকে রওনা হয়ে গিয়েছেন। বাবা যাবেন অম্বিকা সুইটস থেকে রসগোল্লা আর মিহিদানা কিনে আনতে। আমাদের সেই মফসসল শহর বর্ধমান জেলাতে বলে বোঁদের চেয়ে মিহিদানার চল ছিল বেশি।

zoom
নারকেলের নাড়ু

খানিকক্ষণের মধ্যে মায়ের সঙ্গে আমরা পৌঁছে যেতাম বাড়ি। বাল্বের টিমটিমে আলো আর ছাতিমফুলের গন্ধ মিশিয়ে এক অদ্ভুত মন-কেমন করা গন্ধ পেরিয়ে এক দৌড়ে বাড়ি। গৃহদেবতাকে প্রণাম করে, গুরুজনদের প্রণাম করার সময় তাঁদের পায়ের দিকে নজর এড়িয়ে চোখ চলে যেত পাশে রাখা হাঁড়ির ওপরে, যেখানে বাবার নিয়ে আসা মিষ্টিগুলো অপেক্ষা করে আছে। এরপরে ঠাকুরমার কাছে আবদার– ওটা তো বাবার আর কাকুর বিজয়ার মিষ্টি হল, তোমার বিজয়ার মিষ্টি কই! ঠাকুরমা হাসতে হাসতে হাতে একটা করে নাড়ু আর এক মুঠো করে নিমকি তুলে দিতেন।

zoom
নিমকিভাজা

একাদশী 

পূর্বোল্লেখিত যুদ্ধ শুরু হয়ে যেত সকাল থেকেই। আধা গ্রাম আধা মফসসল সেই শহরে, আমাদের এলাকায় ব্রাহ্মণের সংখ্যা ছিল খুব কম। আমাদের এলাকায় ওই একটাই বামুনবাড়ি। আজকে থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে সেখানে ব্রাহ্মণদের বেশ ভালোই খাতির ছিল। তাই সকাল থেকে দলে দলে লোক আসত ঠাকুরমাকে প্রণাম করতে। এই প্রণামের গেরো এড়াতে সকালবেলাতেই বাবা আর কাকু বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বেরিয়ে পড়তেন। আর মা আর কাকী রান্নাঘরে আশ্রয় নিতেন। বারান্দায় ঠাকুরমা নির্বিকারচিত্তে প্রণাম নিয়ে যেতেন আর সবার হাতে দুটো করে নাড়ু আর একমুঠো নিমকি তুলে দিতেন। এই মানুষগুলোর পরিবারের বিষয়ে খবর নেওয়া– কার গরু কয়টা বাছুর দিল, কার ধানের জমিতে কেমন ফসল হল, কার মেয়ের বিয়ে কোথায় ঠিক হয়েছে, এসব শুনতে শুনতে তাঁর হাত সমানে চলত। এর ফাঁকে দেশের বাড়ির বন্ধুদের সঙ্গে আমরাও বেরিয়ে পড়তাম বিজয়া করতে, কিন্তু সেখানে এক চিত্তির– বামুনবাড়ির ছেলের কাছে প্রণাম নিলে মহাপাতক হয়ে যাবে, তাই প্রণাম করতে গেলেই এক লাফে পিছিয়ে যেত সবাই! তবে নাড়ু আর ছাঁচ সন্দেশটা হাতে তুলে দিত ঠিক। কাজেই যে কারণে যাওয়া, সেই উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়ে যেত। মুশকিল হত নিমকি নিয়ে। পেটে আর কত ধরে! তাই দু’-চারটে বাড়ির বিজয়া সাঙ্গ হওয়ার পর থেকে নিমকি পেলে পকেটে পুড়তাম। হাফপ্যান্টের পকেট উপচে নিমকি পড়ত রাস্তায় আর সেই নিমকির জন্য একরাশ মনখারাপ নিয়ে বেলা গড়ালে ফিরতাম বাড়ি।

zoom
বিজয়ার অন্যতম আকর্ষণ ছাঁচের সন্দেশ

সন্ধেবেলায় আসত বাবা আর কাকুর বন্ধুরা, সপরিবারে। তাদের বিজয়ার জন্য সন্ধে থেকেই দিস্তে দিস্তে লুচি ভাজা হত। রাতে প্রায় সবাই খেয়ে যেত আমাদের বাড়ি থেকে। এই কাকুদের সঙ্গে আসত মাখা-সন্দেশ আর ল্যাংচা– আমাদের শহরের বিখ্যাত দুটো মিষ্টি। কেউ বা নিয়ে আসত তাদের বাড়িতে ছাঁচে বানানো একরাশ নারকেলের মিষ্টি। বাড়িতে সেদিন মেনু থাকত লুচি, ছোলার ডাল, রসগোল্লা আর ঠাকুরমার তৈরি নাড়ু। আড্ডা বসত বাড়ির লম্বা বারান্দায়। সেই আড্ডায় ছোটদের প্রবেশ নিষেধ, তাই ঘরে বসেই কানে আসত সেই হাসির আওয়াজ। রাতের খাওয়া অনেক আগেই সাঙ্গ হয়ে যেত, আর সঙ্গে সেই কাকুদের আনা মিষ্টিও। বারান্দা থেকে ভেসে আসা হাসির আওয়াজ শুনতে শুনতে কখন যেন ঘুমের দেশে পাড়ি দিতাম।

দ্বাদশী 

বাবা আর কাকু একাদশী আর দ্বাদশী– ছুটি নিতেন, একেবারে ত্রয়োদশীর দিন অফিস জয়েন করতেন, তাই সেদিন কলকাতায় ফিরে যাওয়ার পালা। ব্যাগে ঢুকত কয়েকটা নারকেল আর এক টিন নিমকি। তার সঙ্গে একরাশ মনখারাপ ঢুকে পড়ত ব্যাগের মধ্যে। রিকশায় উঠে স্টেশনে যাওয়ার পথে বারবার পিছন ফিরে ফেলে আসা রাস্তা দেখতে দেখতে একসময় স্টেশনে পৌঁছে যেতাম। ট্রেনে উঠে চার-পাঁচটা স্টেশন পার হতেই কম্পার্টমেন্টে এসে হাজির হত ভজহরি জ্যেঠু, তার মিষ্টির রেকাবি নিয়ে। যাতে শুয়ে আছে একরাশ কাঁচাগোল্লা আর ক্ষীরমোহন। তার কাঁধে ঝুলত মিলিটারিদের ওয়াটারবটলের কায়দায় একটা ডালডার টিন ভর্তি খাওয়ার জল। কলকাতায় যে ক্ষীরমোহন পাওয়া যায়, সেই গোলাকৃতি রসে ভরা ক্ষীরকদম স্বাদে আর দেখতে একেবারে আলাদা। একবার তাকে দেখে উত্তেজিত হয়ে বাবাকে ‘ভজহরি এসে গিয়েছে’ জানাতে সে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিল– ‘তোর বাবা আমাকে দাদা বলে রে!’

zoom
ট্রেনের কামরায় ক্ষীরমোহনের পসরা

ভজহরি এসেই বাবার হাতে শালপাতায় করে দুটো কাঁচাগোল্লা আর দুটো ক্ষীরমোহন তুলে দিত। বাবার শরীরের কথা ভেবে মা একবার মৃদু প্রতিবাদ করলে ভজহরি জ্যেঠু বলেছিল, ‘বউমা, নেড়া মাথায় যে-বছর প্রথম কলকাতায় আপিস করতে গেল, সেই বছর থেকে আমার মিষ্টি খায়। কোনওদিন কী শরীর খারাপ হয়েছে?’ মা আর এই নিয়ে কোনও কথা বলেননি কোনওদিন।

বাবা ভজহরির কাছ থেকে দুটো আলাদা বাক্সে ক্ষীরমোহন আর কাঁচাগোল্লা কিনতেন প্রতিবার কলকাতায় আসার সময়, সেখানেও তো অনেকে বিজয়া করতে আসবে বাড়িতে! কলকাতার মিষ্টির দোকানে অনেকরকম মিষ্টি পাওয়া গেলেও ভজহরির এই মিষ্টিগুলো সেখানকার মানুষের কাছে অধরা ছিল।

ত্রয়োদশী-চতুর্দশী

সকাল থেকেই অবশ্য আমি বেরিয়ে পড়তাম পাড়ার বন্ধুদের আর প্রতিবেশীদের বাড়ি বিজয়ার মিষ্টির লোভে। কলকাতার বিজয়া অন্যরকম। সেখানে প্রায় সবার বাড়িতেই ঘুগনি, কোথাও নারকেলের টুকরো দেওয়া আর কোথাও শুধু মশলা ছড়ানো। আর তার সঙ্গে কখনও একটা রসগোল্লা। দেশের বাড়ির মতো টাইট নয়, স্পঞ্জের মতো। বাবা অফিস থেকে ফিরে আমাদের নিয়ে যেতেন ঋষিদাদুর বাড়িতে, বিজয়ার প্রণাম সারতে, হাতে থাকত এই ভজহরির এক বাক্স মিষ্টি, ঋষিদাদুরও এই মিষ্টি খুব প্রিয় ছিল! এই দিনদুয়েক কলকাতায় যে গুটিকয়েক আত্মীয় থাকত, তারা বা দিদিদের বন্ধুরা বিজয়া করতে এলে তাদের, সেই ভজহরির মিষ্টি আর ঠাকুরমার করা নিমকি দেওয়া হত।

zoom
রসগোল্লা ছাড়া বিজয়া সম্মিলনী অসম্পূর্ণ

প্রায় ৩২ বছর পরে ট্রেনে করে শনিবার ত্রয়োদশীর দিন অফিস করে বাড়ি ফিরছি। সেবার দুর্গাপুজো রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ছিল– এক্কেবারে লক্ষ্মীপুজো পার করে মঙ্গলবার ফিরব। আমার চাকুরিস্থল আমার দেশের বাড়ি ছাড়িয়ে আরও ৪০ মাইল দূরে। ট্রেনে একসময় এক মধ্যবয়সি লোক ক্ষীরমোহন আর সন্দেশের রেকাবি নিয়ে উঠল। ছোটবেলার চেনা মিষ্টি দেখে কিনে খেতে গলা কেমন চিনচিন করল, স্বাদটা যে চেনা! সেই লোকটাকে ‘ভজহরি…’ বলতে সে উত্তর দিল– ‘আমার বাবা’! নিজেকে নিজের মধ্যে টেনে এনে বলেছিলাম, ‘দুটো বাক্স প্যাক করে দিও। বাড়ি নিয়ে যাব।’

লক্ষ্মী পুজো

বাবার কাছে শুনেছিলাম, ছোটবেলায় যখন জামশেদপুরে থাকতেন, বিজয়ার পালা চলত কালীপুজো অবধি। পরিচিত সব বাঙালি-বাড়িতে বন্ধুবান্ধব সমেত হাজির হতেন বিকেলে, আর সন্ধের জলখাবার সেখানেই হয়ে যেত। আমাদের সময় কিন্তু বিজয়ার পালা সাঙ্গ হত লক্ষ্মীপুজোর দিন। সেদিন যাওয়া হত মেজপিসিমার বাড়ি, কারণ সেখানে লক্ষ্মীপুজো হত। সেখানে বিজয়া সারা হত একটু অন্যরকম মিষ্টি দিয়ে। মুড়ির মোয়া, খইয়ের মোয়া, মুড়কির মোয়া, চিড়ের মোয়া ছাড়াও থাকত তিলখাজা, তিলের নাড়ু। চালভাজা গুঁড়ো করে নারকেল দিয়ে একটা নাড়ুও খেয়েছি সেখানে। এছাড়াও কোজাগরীর প্রসাদ হিসেবে জুটত তালের ফাঁফরের এক টুকরো, একটু মিছরি আর অল্প শুকনো চিড়ে খেয়ে শেষ হত সেই বছরের বিজয়া।

zoom
মুড়ির মোয়া

অবশিষ্ট 

বিজয়াতে এই মিষ্টি খাওয়ার কারণ নিয়ে অনেক ভেবেছি, কিন্তু সদুত্তর পাইনি। এক সিনেমায় দেখেছিলাম প্রৌঢ় অনিল কাপুরের লাম্পট্যে বিরক্ত হয়ে তার স্ত্রীকে চকোলেট কেক খেতে, মিষ্টি খেলে না কি বিষাদ কমে যায়! মায়ের চলে যাওয়ার বিষাদ কাটাতেই কি এই মিষ্টিমুখের রেওয়াজ? কোথাও একটা পড়েছিলাম মিষ্টি খেলে ক্লান্তি কমে। পাঁচদিন ধরে বাঙালির সেরা উৎসবে মেতে থাকার পর যে ক্লান্তি তৈরি হয়, তা কাটাতেই কি বিজয়ার মিষ্টিমুখ? জানি না।

এই লেখায় যাদের কথা লিখেছি, তারা কেউই আজকের পৃথিবীতে নেই, অনন্তলোকের পথে যাত্রা করেছেন। কিন্তু বিজয়া এলেই শুধু সেইসময়ে খাওয়া বিভিন্ন মিষ্টি নয়, তারা সবাই বারবার স্মৃতিতে ফিরে আসেন। তাহলে ‘শুভ বিজয়া’ মানে কি যাত্রা শুভ হোক, সেই প্রার্থনা? যৌথ পরিবারে একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বিষাদ আর ক্লান্তি থেকে বের হয়ে আসা যেত একসময়, যা আজকের অণু-পরিবারে আর সম্ভব হয় না। সারাবছর ধরে জমে ওঠা ক্লান্তি আর বিষাদ থেকে আনন্দের পৃথিবীতে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় কি আজকের বিজয়া সম্মিলনীগুলো– যাতে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও এক খাবলা পুরনো দিনের মিষ্টি স্মৃতি ফেরত পাওয়া যায়, তাই তা চলে, বাবার সেই ফেলে আসা ছোটবেলার দিনগুলোর মতো, কালীপুজো অবধি? এর উত্তরটাও জানি না!

……………………….

পড়ুন শারদ সংখ্যা-র অন্যান্য লেখা

……………………….

Bengali Sweets Bengali Tradition Bijoya Dashami Bijoya Sammilani Durga Puja Durga Puja 2026 Durga Puja Memories Naru Nimki Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar

Share this article on