Robbar

Poetry

আমার বন্ধু জয়

১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে যখন জয়কে দেখলাম, চেয়েছিলাম, তিনি কিছু বলুন। কিন্তু দর্শকদের আপত্তিতে জয় মঞ্চে উঠেও কথা না বলে নেমে গেলেন। আমি গভীরভাবে ব্যথিত। জয়কে অপমান করা শুধু জয়কে অপমান করা নয়; তাঁকে যিনি মঞ্চে ডেকেছেন, সেই আমাকেও অপমান করা। কবিতাকে অপমান করা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অপমান করা।

→

পরিক্রমায় ফয়েজ: একটি খোলা চিঠি

ফয়েজ-এর এত মরমি, প্রাঞ্জল বাংলায় ভাষান্তর আগে দেখিনি। এর আগে করা কমলেশ সেনের তর্জমাকে অলোকরঞ্জন ‘ক্রান্তিসঞ্চারী’ বলে মনে করেছিলেন। পরবর্তীকালে ভিক্টর কিয়েনার্ন থেকে শুরু করে আগা শহিদ আলি বা বারান ফারুকির– তাকে ছাপিয়ে গিয়েছে নীলাঞ্জনের পরিক্রমণ।

→

উর্দু কবিতার ঈশ্বর

মির তকি মির। আমার কাছে তিনি ফিরে আসেন তাঁর কবিতার মাধ্যমে করা স্বীকারোক্তির কায়দার জন্য। আজকের পৃথিবীতে মার্কিন কনফেশনাল কবিতা বা স্বীকারোক্তিমূলক অন্যান্য রচনার যে পরিসর তৈরি হয়েছে– তার যেন এক বীজতলা এই মির প্রদেশ।

→

পাঠকদের উন্মাদ দাবি: চাই কথোপকথনের নতুন খণ্ড!

পূর্ণেন্দু পত্রীর 'কথোপকথন' ওপার-বাংলাতেও বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বাংলাদেশে কেউ-কেউ তো সে-বই ইচ্ছেমতো ছেপে বেরও করেছিলেন। তবে বাংলাদেশের যুবসমাজে এই বইয়ের প্রবল জনপ্রিয়তা কবিকেও অভিভূত করেছিল। চতুর্থ খণ্ডের উৎসর্গের পাতায় পূর্ণেন্দু পত্রী লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশের সেইসব তরুণ তরুণীদের হাতে/ কথোপকথন নিয়ে যারা উন্মাদ।’

→

সমলিঙ্গ কবিতার নিভৃত দেশ

কুইয়ার কবিতা আলাদা করে যে সংকলিত হয়েছে এবং হচ্ছে– তা সাহিত্য-সংকলক এবং প্রকাশকদের কাছে চূড়ান্ত লজ্জার। পৃথিবীর সমস্ত নারী এবং পুরুষ কবিদের লেখা যেভাবে সংকলিত হয়ে থাকে, সেই সংকলনগুলিতেই ভিন্ন কোনও লিঙ্গপরিচয়ের নিরিখে নয়, শুধুমাত্র কবি পরিচয়ে প্রান্তিক যৌনতার কবিদের কবিতা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

→

যে ‘দেবদাস’ রিমেক করা যায় না

পপুলারিটি তেমনই জন্তু, যা অজগরের মতো আমাদের একান্ত মৌলিক ও লৌকিক নৈঃশব্দ্যগুলোকে গিলে খেয়ে নেয়। নির্জন ও নিভৃত পরিসরকে বিধ্বস্ত করে ফেলাই তার অন্যতম পলিটিক্যাল এথিক্স। তবু দেবদাসের ভোরকালীন মৃত্যুকে নির্বাচনী জয়-পরাজয়ের উল্লাস ঢেকে ফেলতে পারল না। কলঙ্কিত করতে পারল না অহেতুক লোক-দেখানো শোকপ্রস্তাবের মেকি অশ্রু দিয়ে।

→

‘দস্তানা আর শীতের গল্প’ হেঁটে চলে, শেষ পৃষ্ঠা বরাবর, একা

আমাদের প্রেম, বিচ্ছেদ, উত্থান-পতনের দিনলিপি একটি দস্তানার আত্মকথার মতো লেখা হয়ে গিয়েছে। দস্তানাটি মরে যায়, ফের দগ্ধ ফিনিক্সের মতো পুনর্জন্মের কাছে ফেরে।

→

শীতের প্রার্থনা, বসন্তের উত্তর: একদিন অথবা চিরদিন

এই কাব্যগ্রন্থের শীত দুঃসহ, রিক্ত, জীর্ণ পাতা ঝরাবার বেলা নিশ্চয়ই। আবার মনে হয় কবিজীবনের দিকে তাকালে মধ্যবয়সের এক অকাল বৈধব্য। আবার এই শীত জন্মান্তর। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নতুন বীজের বসন্তের বার্তা।

→

শীতকালেই প্রথম বইয়ের জন্য কবিতালেখা, শীতকালেই সরে আসা কবিতা প্রকাশ থেকে

জয় গোস্বামীর বিরাট কাব্য-ভূখণ্ডের প্রবেশক দরজাটি আমাদের সামনে খুলে ধরে কে? খুলে ধরে তাঁর প্রথম বই ‘ক্রীসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ’-র প্রথম কবিতার এই লাইন– ‘সমস্ত ক্ষুধার নীচে বালি আর সোরা আর গন্ধকের গৃহ’।

→

আগস্টকে সজোরে ‘অনভিপ্রেত’ ঘোষণা করেছিলেন সিলভিয়া প্লাথ

আগস্ট কবির কাছে একটি ‘মানসিক ঋতু’– বাস্তবের চেয়েও যার ঠাঁই বেশি কবিরই মনে, জীবনে, যাত্রায়। গ্রীষ্মের প্রাণবন্ত আলো হঠাৎই আগুন হয়ে, সংকেত বহন করে নারীজীবনের বিবিধ ক্ষয়ের, ছিন্নমূলতার, শূন্যতার। সে ‘উন্মাদনার’ ব্যাকরণ আত্মহত্যার রোমহর্ষক রি-টেলিং-কে অতিক্রম করে যাওয়া আগস্টেরও ব্যাকরণ।

→