Robbar

short story

পৃথিবীর শেষ পাখি

সন্ধের মরে ছাই হয়ে যাওয়া আলোয় লেখাগুলো আবছা ঠেকছে। পাশের ঘরে একটা মেয়ে প্রাণপণে চিৎকার করছে, ‘আমাকে আটকাও, কে আছো?’ আমাকে আটকাও তো দেখি...’। নাইট-শিফটের নার্সের কঠিন গলা পেলাম– “লায়লা হানিম, উঠে বসো মা। ছ’টার ইঞ্জেকশন আছে। ওঠো।” বাইরে দূরে কোথাও পুরনো হিন্দি গানের সুর বাজছে। এটা সেই সময়কার গান, যখন হিন্দি সিনেমায় খুব গয়না চুরি যেত।

→

প্রদীপ নিভে গেলে

তা দেখতে এখনও সুন্দর তরুলতাকে। বছর ৪২ বয়স হল তরুলতার, চেহারাটাকে এখন ছিপছিপে রেখেছে কচি মেয়েদের মতো। গায়ের রং ফরসা, চোখ-মুখে টান আছে। আর আছে ভদ্র ও রুচিশীল ব্যবহার। অন্য মেয়েদের মতো খদ্দেরদের দিকে সে তেড়ে যায় না বা গালিগালাজ করে না। প্রথম দিনেই তার সঙ্গে জমে গেল রবীন্দ্রর।

→

প্রেতশিলায় লিখা

আমি তমালের দিকে চেয়ে হাসলাম। কিছুটা বোকা হাসি। কী বলব, ঠিক বুঝতে পারছি না। আমার সব ইনফরমেশন লোকটার কাছে আছে। শুধু যেটা মিলছে না, কখনও মিলবেও না, সেটা হল আমার মৃত্যু তারিখ। আমি পান্ডেজির দিকে তাকালাম। বললাম, ‘ভালো। কী আর করা যাবে? আপনাদের খাতায় থাকুক– আমি মৃত।’

→

সৌন্দর্য

রোসিন্তা দেখভাল করার ছোকরাটার উদ্দেশ্যে হাঁক পেড়ে গাল দেয়। তার নীলচে সবুজ চোখে আলো পড়ে ঠিকরে যায়। ব্যস, কোথায় জেসিন্তা! তার নবীন আলো ঝলমল রূপ ছেড়ে মেদহীন, বাদামি চুলের মায়ের দিকে দৃষ্টি আটকে গেল বাঁধনের।

→

আইসক্রিম ডল

মা এখন আমাকে বিষ দেওয়ার চেষ্টা করে। খাবারে। রোজ। একটু একটু করে। আমি জানি। বুঝি। ক্লাস সিক্সের শেষ থেকেই শুরু হয় এই খেলা। শুধু আমার সঙ্গে নয়। আমার আগের পাঁচ জন ভাইবোনের সঙ্গেও এই একই খেলা খেলেছে মা। সবাই হেরেছে। আমি এখনও হার মানিনি।

→